Showing posts with label আল হাদিস. Show all posts
Showing posts with label আল হাদিস. Show all posts

Tuesday, September 8, 2020

হাদিসের প্রকারভেদ


1.হাদিসের সানাদে যখন মুহাদ্দিসগণের ঐক্যমতে 'মিথ্যুক(كذاب)', 'জাল বর্ণনাকারী(يضع الحديث)', 'মিথ্যায় অভিযুক্ত (متهم بالكذب)' রাবী থাকে, সেক্ষেত্রে হাদিসটি "জাল (موضوع)" হিসেবে গণ্য হবে।

.

2.হাদিসের সানাদের যখন মুহাদ্দিসগণের ঐক্যমতে 'হাদিস বর্ণনায় প্রত্যাখ্যাত/পরিত্যক্ত (منكر الحديث/متروك الحديث)' রাবী থাকে, সেক্ষেত্রে হাদিসের সানাদ "খুবই দূর্বল (ضعيف جدا)" হিসেবে গণ্য হবে। 

.

3.হাদিসের সানাদের যখন মুহাদ্দিসগণের ঐক্যমতে 'হাদিস বর্ণনায় দূর্বল (ضعيف الحديث)',  'হাদিস বর্ণনায় শক্তিশালী নয় (ليس بالقوي،ليس بذاك،ليس بالمتن)', 'হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয় (ليس بثقة)' রাবী থাকে, সেক্ষেত্রে হাদিসের সানাদের "দূর্বল (ضعيف)'' হিসেবে গণ্য হবে।


সানাদে 'অজ্ঞাত (مجهول)' রাবী, 'মুদাল্লিস রাবীর মু'আন'আন রিওয়ায়াত', 'বিচ্ছিন্নতা (إنقطع)', 'রাবী ইখত্বিলারের পর বর্ণনা করে' থাকলেও সানাদ "দূর্বল (ضعيف)'' হিসেবে গণ্য হবে।

.

4.হাদিসের সানাদে যদি 'বিকৃত হিফযের অধিকারী (سيء الحفظ)', 'হাদিস বর্ণনায় শিথিল (لين الحديث)' রাবী থাকে,সেক্ষেত্রে হাদিসের সানাদ ''দূর্বল (ضعيف)'' হিসেবে গণ্য হবে। তবে এক্ষেত্রে হাদিসের সানাদ "কম দূর্বল (أقل ضعيف)" হিসেবে গণ্য হবে।

.

5.হাদিসের সানাদে যখন একইসাথে 'মিথ্যুক-মুনকারুল হাদিস রাবী' বা '২জন মুনকারুল হাদিস/মাতরূকীল হাদিস' বা 'শী'আ (রাফেদ্বী খবিস) থাকে, সেক্ষেত্রে হাদিসের সানাদ ''অত্যাচারিত (مظلم)'' হিসেবে গণ্য হবে।

.

6.হাদিসের সানাদে যদি এমন রাবী থাকে যার ব্যাপারে জারাহ-তা'দীল উভয় আছে। 

সেক্ষেত্রে জারাহ (সমালোচনা) এর সংখ্যা বেশী হলে/ মুফাসসার জারাহ থাকলে সেক্ষেত্রে জারাহ প্রাধান্য পাবে। সেক্ষেত্রে রাবী 'হাদিস বর্ণনায় দূর্বল (ضعيف الحديث)' হিসেবে গণ্য হবে। এবং সেই হাদিসের সানাদ ''দূর্বল (ضعيف)'' হিসেবে গণ্য হবে।

আর তা'দীলের সংখ্যা বেশী হলে তা'দীল প্রাধান্য পাবে।সেক্ষেত্রে রাবী 'হাসানুল হাদিস' হিসেবে গণ্য হবে। এবং সেই হাদিসের সানাদ ''উত্তম (حسن)'' হিসেবে গণ্য হবে।

.

7.হাদিসের সানাদে যখন 'সত্যবাদী (صديق)', 'হাসানুল হাদিস (حسن الحديث)', 'তার মধ্যে কোন সমস্যা নেই (لا بأس فيه)', 'স্বলিহুল হাদিস (صالح الحديث)' এমন তা'দীলের রাবী থাকে, সেক্ষেত্রে হাদিসের সানাদ ''উত্তম (حسن)'' হিসেবে গণ্য হবে।

.

8.হাদিসের সানাদে যদি সকল রাবী 'নির্ভরযোগ্য (ثقة)', 'অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (ثقة ثبت،ثقة ثقة)' হয়,সেক্ষেত্রে হাদিসের সানাদ "বিশুদ্ধ (صحيح)" হিসেবে গণ্য হবে।

© Sysh Sharar

Thursday, November 7, 2019

নাবী সঃ সৃষ্টি না হলে আসমান জমিন কিছুই সৃষ্টি হতো না! -এটা কি সত্য?

“হুজুররা ওয়াজে বলেন, যদি নবী না হতেন তাহলে আসমান জমিন কিছুই সৃষ্টি করা হত না”। এটা কি সহিহ হাদিস??

উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ,
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য আসমান ও জমিন সৃষ্টি করা হয়নি!
নবী সঃ না হলে আসমান যমিন কিছুই সৃষ্টি করা হত না বলে বিশ্বাস করা সুস্পষ্টভাবে কুফরি!
কারন, এটা সরাসরি কোরআন বিরোধী কথা!
বরং আসমান ও জমিন সৃষ্টির কারণ আল্লাহ তা‘আলা নিজেই নিম্নের আয়াতে বলে দিয়েছেন:
اَللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَ سَبۡعَ سَمٰوٰتٍ وَّ مِنَ الۡاَرۡضِ مِثۡلَہُنَّ ؕ یَتَنَزَّلُ الۡاَمۡرُ بَیۡنَہُنَّ لِتَعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ۬ۙ وَّ اَنَّ اللّٰہَ قَدۡ اَحَاطَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عِلۡمًا
“তিনি আল্লাহ, যিনি সাত আসমান এবং অনুরূপ জমিন সৃষ্টি করেছেন, এগুলির মাঝে তার নির্দেশ অবতীর্ণ হয় যেন তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং আল্লাহর জ্ঞানতো সব কিছুকে বেষ্টন করে আছে”।
[সুরা আত তালাক,আয়াত ১২]
অর্থাৎ আমরা যাতে আল্লাহর নির্দেশ জানতে পারি সেই কারনেই আসমান জমিন সৃষ্টি করা হয়েছে নবীর জন্য নয়..
কুরআনের আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ(6
আমার ইবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।
[সুরা যারিয়াত,আয়াত ৫৬]
অর্থাৎ মানুষ ও জিনকে আল্লাহ তার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন নবীর জন্য নয়…
অর্থাৎ আসমান জমিন মানুষ জিন কিছুই আল্লাহ নবীর জন্য সৃষ্টি করেননি …
তাই প্রশ্নে উল্লেখিত হাদিস নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর মিথ্যা অপবাদ, তার কোনো ভিত্তি নেই।
অর্থাৎ নবীর সঃ নামে বানানো জাল হাদিস l

”আপনাকে সৃষ্টি না করলে আমি আসমান জমিন (কোন কিছুই) সৃষ্টি করতাম না” (হাদিসে কুদসি)
-- এই জাল হাদিসটি সাধারন মানুষদের মধ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং এর উপর ভিত্তি করে এই কথাটিকে আকিদাহ তথা মৌলিক বিশ্বাস বানিয়ে রেখেছে, যা অপ্রমাণিত।
হাদীস বিশেষজ্ঞরা এ ব্যপারে একমত যে, এটি ভিত্তিহিন রেওয়ায়েত, মিথ্যুকদের বানানো কথা। রসুল (সঃ) এর হাদীসের সাথে এর সামান্যতম সম্পর্কও নেই।
কাজেই এটি দলিল হিসেবে কখনো গ্রহণযোগ্য হবেনা।
√ ইমাম সাগানী,
√আল্লামা পাটনী,
√মোল্লা আলী কারী হানাফি
√আল-আজুলানী,
√শাওকানি,
√আবদুল হাই লাখনবী হানাফি
√আল্লামা কাওকাজী,
√ইমাম শাওকানী,
√ আল্লামা সুয়ুতি,
√ইবনুল জাওযী,
√আলবানি,
√মুহাদ্দিস আবদুল্লাহ ইবন সিদ্দিক আল-গুমারী এবং
√শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী (রাঃ) প্রমুখ মুহাদ্দিসীনে কেরাম হাদীসটিকে জাল বলেছেন।
তথ্য সূত্র –
√ আল-মাউদু’আত পৃষ্ঠা নঃ ৫২;
√ আল-আসরার, পৃষ্ঠা নঃ ১৯৪;
√ আল-মাসনু ১১৬,১৫০;
√ কাশফুল খাফা ২/২১৪, ২/১৬৪;
√ আল-ফাওয়াইদ, ২/৪৪১;
√ আল-আসারুল মারফুআ, পৃষ্ঠা নঃ ৪৪
√ রিসালাতুল মাওযুআতঃ ৯,
√ তাযকিরাতুল মাওযুআতঃ ৮৬,
√ আল-লু’লু’উল মারসুঃ ৬৬,
√ আল-ফাওয়ায়েদুল মাজমুআঃ ২/৪১০,
√ আল- বুসীরী মাদেহুর রাসুলিল আযম
সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামঃ ৭৫,
√ ফাতাওয়া আযীযিয়াঃ ২/১২৯,
√ ফাতাওয়া মাহমুদিয়াঃ ১/৭৭

হে আল্লাহ আমাদের নাবী, তার পরিবারবর্গ ও তার সকল সাথীর উপর সালাত ও সালাম নাযিল করুন।

Saturday, September 14, 2019

বিদআত সম্পর্কিত হাদিস

বিদআত সম্পর্কিত হাদিসঃ

১। বিদআত কারির ''আল্লাহ তাওবা আল্লাহ কবুল করে না।
যতক্ষণ না বিদআত বর্জন করে। (সহিহ তারগিব হাদিস:৫৪)

২। রাসূল সাঃ বলেন আল্লাহ সেই ব্যক্তি কে অভিশাপ করুন। যে ব্যক্তি বিদআতিকে আশ্রয় দেয়। (মুসলিম হাদিস: ৫২৪১)

৩। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে নতুন আমল) এই সকল আমলেই বিদআত । এবং সকল বিদআত এই ভ্রষ্টতা এবং সকল ভ্রষ্টতার পরিমান জাহান্নাম। (সহিহ মুসলিম হাদিস: ২০৪২,১৫৩৬ ও আবু দাউদ হাদিস: ৩৯৯১)

৩। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা বিদআত কারির কোন ইবাদত (ফরজ, সুন্নাত ও নফল) কবুল করবেন না। (বুখারী হাদীস: ৬৭৫৫)



৪। বিদআত কারিরা হাউযে কাউছারের পানি পান করতে পারবে না। (মিশকাত হাদিস: ৫৫৭১)

Monday, September 9, 2019

হাদিসের মানের সঙ্গা

1.হাদিসের সানাদে যখন মুহাদ্দিসগণের ঐক্যমতে 'মিথ্যুক(كذاب)', 'জাল বর্ণনাকারী(يضع الحديث)', 'মিথ্যায় অভিযুক্ত (متهم بالكذب)' রাবী থাকে, সেক্ষেত্রে হাদিসটি "জাল (موضوع)" হিসেবে গণ্য হবে।
.
2.হাদিসের সানাদের যখন মুহাদ্দিসগণের ঐক্যমতে 'হাদিস বর্ণনায় প্রত্যাখ্যাত/পরিত্যক্ত (منكر الحديث/متروك الحديث)' রাবী থাকে, সেক্ষেত্রে হাদিসের সানাদ "খুবই দূর্বল (ضعيف جدا)" হিসেবে গণ্য হবে।
.
3.হাদিসের সানাদের যখন মুহাদ্দিসগণের ঐক্যমতে 'হাদিস বর্ণনায় দূর্বল (ضعيف الحديث)', 'হাদিস বর্ণনায় শক্তিশালী নয় (ليس بالقوي،ليس بذاك،ليس بالمتن)', 'হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয় (ليس بثقة)' রাবী থাকে, সেক্ষেত্রে হাদিসের সানাদের "দূর্বল (ضعيف)'' হিসেবে গণ্য হবে।
সানাদে 'অজ্ঞাত (مجهول)' রাবী, 'মুদাল্লিস রাবীর মু'আন'আন রিওয়ায়াত', 'বিচ্ছিন্নতা (إنقطع)', 'রাবী ইখত্বিলারের পর বর্ণনা করে' থাকলেও সানাদ "দূর্বল (ضعيف)'' হিসেবে গণ্য হবে।
.
4.হাদিসের সানাদে যদি 'বিকৃত হিফযের অধিকারী (سيء الحفظ)', 'হাদিস বর্ণনায় শিথিল (لين الحديث)' রাবী থাকে,সেক্ষেত্রে হাদিসের সানাদ ''দূর্বল (ضعيف)'' হিসেবে গণ্য হবে। তবে এক্ষেত্রে হাদিসের সানাদ "কম দূর্বল (أقل ضعيف)" হিসেবে গণ্য হবে।
.
5.হাদিসের সানাদে যখন একইসাথে 'মিথ্যুক-মুনকারুল হাদিস রাবী' বা '২জন মুনকারুল হাদিস/মাতরূকীল হাদিস' বা 'শী'আ (রাফেদ্বী খবিস) থাকে, সেক্ষেত্রে হাদিসের সানাদ ''অত্যাচারিত (مظلم)'' হিসেবে গণ্য হবে।
.
6.হাদিসের সানাদে যদি এমন রাবী থাকে যার ব্যাপারে জারাহ-তা'দীল উভয় আছে।
সেক্ষেত্রে জারাহ (সমালোচনা) এর সংখ্যা বেশী হলে/ মুফাসসার জারাহ থাকলে সেক্ষেত্রে জারাহ প্রাধান্য পাবে। সেক্ষেত্রে রাবী 'হাদিস বর্ণনায় দূর্বল (ضعيف الحديث)' হিসেবে গণ্য হবে। এবং সেই হাদিসের সানাদ ''দূর্বল (ضعيف)'' হিসেবে গণ্য হবে।
আর তা'দীলের সংখ্যা বেশী হলে তা'দীল প্রাধান্য পাবে।সেক্ষেত্রে রাবী 'হাসানুল হাদিস' হিসেবে গণ্য হবে। এবং সেই হাদিসের সানাদ ''উত্তম (حسن)'' হিসেবে গণ্য হবে।
.
7.হাদিসের সানাদে যখন 'সত্যবাদী (صديق)', 'হাসানুল হাদিস (حسن الحديث)', 'তার মধ্যে কোন সমস্যা নেই (لا بأس فيه)', 'স্বলিহুল হাদিস (صالح الحديث)' এমন তা'দীলের রাবী থাকে, সেক্ষেত্রে হাদিসের সানাদ ''উত্তম (حسن)'' হিসেবে গণ্য হবে।
.
8.হাদিসের সানাদে যদি সকল রাবী 'নির্ভরযোগ্য (ثقة)', 'অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (ثقة ثبت،ثقة ثقة)' হয়,সেক্ষেত্রে হাদিসের সানাদ "বিশুদ্ধ (صحيح)" হিসেবে গণ্য হবে।

Monday, August 26, 2019

হাদীস সংকলন : রসূল (স.) থেকে বর্তমানকাল

হাদীস সংকলন : রসূল (স.) থেকে বর্তমানকাল

মানুষের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হলো রাসূলের (সা.) জীবন চরিত। তাঁর জীবন চরিত বিবৃত হয়েছে হাদীসের মধ্যে। ইসলামের দৃষ্টিতে কুরআনের পরই হাদীসের স্থান। কুরআন ইসলামী আইনতন্ত্রের প্রধান উৎস এবং হাদীস দ্বিতীয় উৎস। কুরআনের জীবন্ত ব্যাখ্যা হিসেবে হাদীসে রাসূলের (সা.) সংরক্ষণ ও সংকলনের ক্ষেত্রে মুসলিম উম্মাহ যে কঠোর ত্যাগ স্বীকার করেছেন বিশ্ব ইতিহাসে তার কোন নজির নেই। ইসলামী শরীয়াহ সংরক্ষণের জন্য শুধুমাত্র কুরআন সংরক্ষণ ও সংকলনই যথেষ্ট নয়, বরং হাদীসে রাসূল (সা.) ও সংরক্ষিত ও সংকলিত হওয়া দরকার। রাসূলের (সা.) দীর্ঘ তেইশ বছরের নবুওয়তী জিন্দেগীর সকল কথা এবং কর্ম ও অনুমোদন সংক্রান্ত বাণী অবিকল সংরক্ষণ করা, বিশেষত সেই যুগে, যখন কাগজ, প্রেস কিংবা কম্পিউটার ছিল না, এযে কত কঠিন কাজ তা সহজেই অনুমেয়।
কিন্তু রাসূলের (সা.) সাহাবীগণ এ দুরূহ কাজটি সমাধা করেছেন আশ্চর্যজনক কৃতিত্বের সাথে। তাঁরা মহানবীর (সা.) হাদীস অক্ষরে অক্ষরে মুখস্থ রাখেন এবং বিভিন্ন উপকরণে লিখিতভাবে সংরক্ষণ করেন। সাহাবীদের পর তাবেঈগণও অনুরূপভাবে হাদীস সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেন। তাই আল্লাহ্র অশেষ রহমতে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন ও মুহাদ্দিসগণের কঠোর পরিশ্রম ও দীর্ঘ সাধনার বদৌলতে হাদীস সংরক্ষিত ও সংকলিত হয়েছে।
হাদীস সংরক্ষণের পদ্ধতিসমূহ : মুসলিম উম্মাহ রাসূলের নবুওয়তী জিন্দেগীর প্রাথমিক পর্যায় হতে আজ অবধি হাদীসে রাসূলের (সা.) সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রধানত চারটি পন্থা অবলম্বন করে আসছেন :
১. হাদীসের শিক্ষা গ্রহণ ও মুখস্থকরণ
২. হাদীসের শিক্ষাদান
৩. হাদীস মোতাবেক আমল
৪. হাদীস লিপিবদ্ধকরণ
* হাদীসের শিক্ষা গ্রহণ ও মুখস্থকরণ :
হাদীসের প্রথম ধারক ও বাহক ছিলেন রাসূলের (সা.) সান্নিধ্যপ্রাপ্ত সাহাবায়ে কেরাম। তাঁরা প্রিয় নবীর (সা.) মুখ নিসৃত বাণীসমূহ যা শুনেছেন এবং কর্ম ও অনুমোদনসমূহ যা প্রত্যক্ষ করেছেন তা সবই সংরক্ষণ করে পরবর্তী উম্মতের কাছে আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন। সাহাবীগণ হাদীসের শিক্ষা গ্রহণে সর্বদা নিজেদের নিয়োজিত রাখতেন এবং তা মুখস্থ করতেন। আর অন্যদের কাছে তা যথাযথভাবে পৌঁছানো এবং শিক্ষাদানের লক্ষ্যে প্রাণপণ চেষ্টা চালাতেন। রাসূলের (সা.) কাছ থেকে সরাসরি অথবা অন্য সাহাবীদের মাধ্যমে হাদীস বর্ণনা করেছেন এমন সাহাবীদের সংখ্যা ইমাম আবু জুরআ রাজীর মতে এক লাখ চৌদ্দ হাজার। রাসূলের (সা.) ইন্তিকালের সময় কেবল মক্কা ও মদীনায় সাহাবীদের সংখ্যা ছিল ইমাম শাফেয়ীর মতে ষাট হাজার। সাহাবায়ে কেরামের অনেকে হাদীসের শিক্ষা গ্রহণ ও মুখস্থকরণের জন্যে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন। যেমন- আসহাবে সুফফা, সুফফার অধিবাসীগণ দিন-রাত রাসূলের (সা.) দরবারে পড়ে থাকেন। ফলে মসজিদে নববী একটি আবাসিক বিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছিল।
হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন- ‘‘আমি রাত্রিকে তিন ভাগে ভাগ করে নিই। একভাগে ঘুমাই, একভাগ ইবাদতের মধ্যে অতিবাহিত করি, আর একভাগে রাসূলের হাদীস পাঠ ও মুখস্থ করতে থাকি’’। (সুনানে দারমী-১/৮২) আর অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম যারা রাসূলের (সা.) দরবারে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারতেন না তারা অন্যের নিকট রাসূলের (সা.) দরবারে কখন কি ঘটছে তা জেনে নেয়ার চেষ্টা করতেন। কেউ কেউ রাসূলের দরবারে হাজির হওয়ার জন্য একে অন্যের সাথে পালা ঠিক করে নিতেন। যেমন হযরত ওমর ফারুক (রা.) তাঁর এক আনসারী প্রতিবেশীর সাথে পালা ঠিক করে নিয়েছিলেন। একদিন হযরত ওমর (রা.) রাসূলের (সা.) দরবারে উপস্থিত থাকতেন, আরেকদিন উক্ত আনসারী সাহাবী উপস্থিত থাকতেন। (বোখারী শরীফ)
সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে সফর করে রাসূলের দরবারে আসতেন হাদীস শিক্ষার জন্য। অনুরূপভাবে রাসূলের (সা.) ইন্তিকালের পরেও অনেক সাহাবায়ে কেরাম একে অপরের নিকট হাদীস শেখার জন্য শত শত মাইল সফরের কষ্ট স্বীকার করতেন। হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) কেবল একটি মাত্র হাদীস শোনার জন্যে মদীনা থেকে একমাসের পথ সুদূর সিরিয়া সফর করেছিলেন। (বোখারী, কিতাবুল ইলম)। সাহাবায়ে কেরামের হাদীস সংগ্রহ সংক্রান্ত আরও বহু চমকপ্রদ ঘটনা ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
সাহাবায়ে কেরামের অসাধারণ স্মৃতিশক্তি
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরবের যে জনসমাজে আত্মপ্রকাশ করেন তাঁদের চরিত্রে অসাধারণ স্মৃতিশক্তি বিদ্যমান ছিল। একথা অস্বীকারের কোন উপায় নেই যে, নবীজীর হাদীস ও জীবনাদর্শ সংরক্ষণ করতে হবে বলেই যেন এ সমাজটিকে পূর্ব থেকে পরিকল্পিতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল। স্মরণশক্তির আতিশয্য তৎকালীন আরব-মানুষকে আজো ইতিহাস প্রসিদ্ধ বানিয়ে রেখেছে।
একটি সুদীর্ঘ কাব্যগ্রন্থ একবার শোনামাত্র মুখস্থ করে নেয়া কিংবা বিভিন্ন কওমের উর্ধ্বতন বংশ পরম্পরা অতি দূর পর্যন্ত কণ্ঠস্থ রাখা। এমনকি পালের এক একটি বকরি, এক একটি ঘোড়া ও উটের বংশ পরম্পরা কণ্ঠস্থ রাখতে পারা কেবল তৎকালীন আরবদেরই বৈশিষ্ট্য ছিল। (দরসে তিরমিযী, মুকাদ্দমা)।
পূর্ব পরিকল্পিত হওয়ার প্রমাণ এভাবেও দেখানো হয় যে, চৌদ্দশ বছর পূর্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নামও যখন মানুষ জানতো না, তখন মহানবী (সা.) এর হাদীস ও জীবনাদর্শকে যেভাবে অতিশয় নিখুঁত, সর্বাধিক বিশ্বস্ত ও সর্ব ব্যাপকতাসহ সংরক্ষণ করা হয়েছিল বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের শক্তি ও সামর্থ্যকে আরো সহস্রগুণে বৃদ্ধি করে দেয়া সত্ত্বেও কি কোন মানুষের হাদীস ও জীবন চরিত এত ব্যাপক ও বিশ্বস্তভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হতো? প্রাচীন গ্রন্থাবলীতে তৎকালীন আরবদের অসাধারণ স্মৃতিশক্তি সম্পর্কে অনেক কিংবদন্তী আছে। প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত কাতাদা (রা.) স্পষ্টই বলেন, ‘‘আল্লাহ এই জাতিকে স্মরণশক্তির এমন প্রতিভা দান করেছিলেন যা অন্য কোন জাতিকে কখনো দান করা হয়নি।’’ (যুরকানী ৫/৩৯৫)
যেমন- প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) তিনি বিপুল সংখ্যক হাদীসের ‘হাফিয’ ছিলেন। উমাইয়া খলিফা মারওয়ান বিন হাকাম হযরত আবু হুরায়রার (রা.) স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা করার মানসে তাঁকে একবার রাজদরবারে দাওয়াত করলেন। তিনি উপস্থিত হলে খলিফা নিজেই তাঁকে কিছু সংখ্যক হাদীস মুখস্থ শোনানোর অনুরোধ করলেন। আবু হুরায়রা (রা.) তখন কিছু সংখ্যক হাদীস শোনিয়ে দেন। বাৎসারিককাল পরে একদিন ঠিক এ হাদীসসমূহ শোনাবার জন্যে হযরত আবু হুরায়রাকে (রা.) অনুরোধ করা হলো। তিনি সেই হাদীসগুলো এমনভাবে মুখস্থ শোনালেন যে, পূর্বের শোনানোর সাথে এর কোন পার্থক্য হয়নি। (কিতাবুল কুনা-ইমাম বুখারী, পৃ: ৩৩)
হাদীসের শিক্ষা দান :
রাসূলের (সা.) যুগে হাদীস সংরক্ষণে সাহাবায়ে কেরামের হাদীস শিক্ষাদানের ধারাবাহিকতা বিশেষভাবে ভূমিকা পালন করেছিল। কুরআন-হাদীসের শিক্ষাদানের জন্য সাহাবায়ে কেরাম নিজ নিজ এলাকায় শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। নবী করীম (সা.) এর জীবদ্দশাতেই মদীনা শরীফে নয়টি মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাতে যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামায়াতের সাথে পড়া হতো, তেমনি প্রত্যেকটিতে দ্বীনে ইসলাম শিক্ষাদানেরও ব্যবস্থা ছিল। (উলূমুল হাদীস ওয়া মুসতালাহুহু, পৃ: ১৭)
তদুপরি নবী (সা.) তাঁর সাহাবীগণকে দ্বীনের প্রতিটি কথা শিক্ষা দিতেন এবং তাঁকে দেখে দেখে শিক্ষা গ্রহণের জন্য সাহাবীগণকে আদেশ করতেন। সাহাবী হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘‘রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে নামাযের ‘তাশাহুদ’ শিক্ষা দিতেন যেভাবে কুরআনের কোন সূরা শিক্ষা দিতেন’’ (সহীহ মুসলিম)
নবী (সা.) তাঁর সাহাবীগণকে হাতে-কলমে সকল কিছু শিক্ষা দিতেন। প্রয়োজনীয় কোন ছোট-খাট জিনিসের শিক্ষাদান থেকে তিনি পিছিয়ে থাকতেন না। উদাহরণস্বরূপ ইস্তিঞ্জা করার নিয়ম পদ্ধতির কথা বলা যায়। ফলে শত্রুদের কেউ কেউ উপহাস করে একবার প্রসিদ্ধ সাহাবী সালমান ফারসীকে (রা.) বলেছিলেন : ‘‘তোমাদের নবী তোমাদেরকে সব কিছু শিক্ষা দেন এমনকি পেশাব-পায়খানা করার পদ্ধতিও। (তিরমিযী) হযরত সালমান ফারসী (রা.) তখন বিজ্ঞচিত ভাষায় উত্তর দিয়ে বলেছিলেন, হ্যাঁ, আমাদের নবী আমাদেরকে সকল কিছুরই ‘আদর্শ’ শিক্ষা দিয়ে থাকেন।
এ ঘটনা থেকে নবী (সা.) এর শিক্ষাদান কাজের ব্যাপকতা অনুমান করা যায়। নবী (সা.) এর শিক্ষাদান ও তত্ত্বাবধান এবং সাহাবায়ে কেরামের একনিষ্ঠতার ফল দাঁড়াল যে, সাহাবীগণের আমলী জীবন ও নবুয়্যাতী শিক্ষা ও আদর্শের শুধু ‘জীবন্ত কপি’ তাই নয় বরং সাহাবীগণ সেই শিক্ষার এমন কপি হওয়ার মর্যাদা লাভ করেন যা নিখুঁত, ত্রুটিমুক্ত ও যাচাইকৃত। বলাবাহুল্য কোন জীবনাদর্শকে সংরক্ষণ করার জন্য এ অপেক্ষা উচ্চতর আর কোন পদ্ধতি চিন্তা করা যায় না। রাসূলের (সা.) ইন্তিকালের পর সাহাবাদের এ উদ্যমী কাফেলা হাদীস শিক্ষাদান কার্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং সমগ্র আরব ভূমিকে হাদীসের জ্ঞানে উদ্ভাসিত করে দেন।
হাদীস মোতাবেক আমল : রাসূলের (সা.) যুগে তাঁর হাদীসসমূহ সংরক্ষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া ছিল সাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক হাদীসের বাস্তব অনুসরণ তথা সে অনুযায়ী আমল করে তাঁরা হাদীসে রাসূলকে (সা.) জীবন্ত রেখেছেন। নবী করীম (সা.) যখন কোন আক্বীদা ও তত্ত্বমূলক কথা বলতেন, তখন সাহাবায়ে কেরাম তা মুখস্থ করে মন-মগজে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে নিতেন এবং সে অনুসারে স্বীয় আক্বীদা ও বিশ্বাস গড়ে তুলতেন। রাসূল (সা.) এর যাবতীয় আদেশ-নিষেধ সাহাবায়ে কেরাম নিজেদের নৈমিত্তিক অভ্যাসে পরিণত না করা পর্যন্ত চর্চা ও অভ্যাস করতে সর্বোতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: ‘‘আমাদের কেউ যখন ১০টি আয়াত শিক্ষা লাভ করতো তখন এর অর্থ ভালরূপে হৃদয়ঙ্গম ও তদনুযায়ী আমল করার পূর্বে সে অন্য কিছু শেখার জন্যে অগ্রসর হতো না। (জামিউ বায়ানিল ইলুম) মূলত রাসূল (সা.) এর যাবতীয় ইবাদত, মোয়ামালাত, কথাবার্তা, লেবাস-পোশাক, পানাহার, উঠা-বসা, নিদ্রা-জাগরণ এমন কোন বিষয় নেই, যে বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম তাঁর পূর্ণ অনুকরণ ও অনুসরণের চেষ্টা করেননি। সাহাবায়ে কেরামের এরূপ নিরবচ্ছিন্ন অনুসরণের মাধ্যমেই রাসূলের (সা.) প্রতিটি কথা, কাজ ও মৌন সম্মতি কিংবা অনুমোদন এবং যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বিবরণসমূহ চিরদিনের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
হাদীস লিপিবদ্ধ করণ : রাসূলের (সা.) জীবদ্দশায় অনেক সাহাবী লিখিতভাবে হাদীস সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। তবে ইসলাম প্রচারের প্রথম দিকে হাদীস লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে রাসূল (সা.) কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা ছিল। এ প্রসঙ্গে হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণিত হাদীসে রাসূল (সা.) বলেছেন,
‘‘তোমরা আমার হাদীস লিখবে না।
আর যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখে থাকে সে যেন তা মুছে ফেলে।’’ (সহীহ মুসলিম, খ. ২য়, পৃ: ৪১৪) হাদীস লিখনে এ নিষেধাজ্ঞা ছিল মদীনায় হিজরতের পূর্বে মক্কায়। এসময় কোনো কোনো সাহাবী রাসূলের (সা.) মুখ থেকে যা শুনতেন তা একই জায়গায় লিখে রাখতেন। তাতে কুরআন ও হাদীস সংমিশ্রিত হয়ে যাওয়ার আশংকা ছিল প্রবল। তদুপরি তখনও তাঁরা কুরআনের ভাব-গাম্ভীর্য তথা ভাষা- শৈলী আত্মস্থ করতে সক্ষম হননি।
এমতাবস্থায় কুরআনের পাশাপাশি হাদীস লিপিবদ্ধ করা ছিল যুগপৎ কষ্ট কর ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই রাসূল (সা.) সেই সময় হাদীস লিপিবদ্ধ করতে নিষেধ করেন। তারপর যাদেরকে তিনি লিখন কার্যে পারদর্শী দেখেছেন কিংবা যারা কুরআন ও হাদীসকে যথার্থ উপায়ে লেখার যোগ্যতা অর্জন করেছেন বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন তাঁদেরকে লেখার অনুমতি দিয়ে দেন। সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) বলেন, আমি প্রিয় নবীর সব হাদীসই লিখে রাখতাম। একবার আমাকে লোকেরা নিষেধ করে বলেন, নবী (সা.) অনেক কথা মানবীয় ক্রোধ ও অসন্তুষ্টি নিয়েও বলে থাকেন অথচ তুমি কিনা তার সব হাদীসই লিখে ফেলছ? কথাটি নবী (সা.) কে জানানো হলে নবী (সা.) বললেন, আমর! তুমি নির্দ্বিধায় সব কিছু লিখতে পার। কারণ আল্লাহর শপথ! আমার এমুখ থেকে প্রকৃত সত্য ছাড়া অন্য কিছুই বের হয় না। (আবু দাউদ) মক্কা থেকে মদীনায় পৌঁছার পর নবী (সা.) তাঁর হাদীস সমূহ লিখিতভাবে সংরক্ষণের সরাসরি নির্দেশ দিয়ে বলেন; ‘‘তোমরা ইল্মকে লিখনীর মাধ্যমে সংরক্ষণ কর।’’
(মুস্তাদরাক, খ: ১, পৃ: ১০৬) তাছাড়া মদীনার সনদ, সাদাকাতের নেসাব, বিভিন্ন গোত্রের উদ্দেশ্যে প্রেরিত ফরমান ইত্যাদির সবই রাসূলের (সা.) সরাসরি উদ্যোগে লিখিত বিষয় ছিল। নবী করীম (সা.) হাদীস লিপিবদ্ধ করার অনুমতি প্রদান করার পর অনেক সাহাবী নিজস্ব নিয়মে ও নিজেদের পছন্দমতে হাদীস লিপিবদ্ধ করে গ্রন্থাকারে সাজিয়ে রাখেন। যদিও এগুলিতে গ্রন্থের রূপ-বৈশিষ্ট্য পরিপূর্ণ বিদ্যমান ছিল না। সাহাবাদের লিখিত সে সব প্রাচীনকালীন লিখিত সম্পদ আজো বিশ্বের বিভিন্ন মিউজিয়ামে বিদ্যমান।
সাহাবায়ে কেরাম সংকলিত কতিপয় হাদীস গ্রন্থ : ১. আস সহীফাতুস সাদিকা: সাহাবী যুগে সংকলিত সর্বাধিক সংখ্যক হাদীসের গ্রন্থ। বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) এ সংকলন তৈরি করেন।
২. সহীফাতু আলী: এর রচনাকারী ছিলেন স্বয়ং হযরত আলী (রা.)। এটিকে ভাঁজ করে তিনি নিজ তলোয়ারের খাপের মধ্যে সযত্নে রেখে দেন। ৩. কিতাবুস সাদাকাহ: এ গ্রন্থটি স্বয়ং রাসূল (সা.) নিজের তত্ত্বাবধানে ওফাতের মাত্র কয়েকদিন পূর্বে লিখিয়ে ছিলেন। এগ্রন্থে যাকাত, সাদাকাত, উশর ইত্যাদি সম্পর্কীয় নির্দেশ ছিল। ৪. সহীফাতু আমর ইবন হাযম : গ্রন্থটি নবী করীম (সা.) এর জীবদ্দশায় তাঁরই আদেশক্রমে হযরত উবাই ইবন কা’ব (রা.) লিপিবদ্ধ করেুন। রাসূল (সা.) দশম হিজরীতে হযরত আমর ইবনে হাযমকে (রা.) নাজরানের শাসনকর্তা হিসেবে প্রেরণ করার সময় এ হাদীস গ্রন্থ তার নিকট প্রদান করেন। এতে পবিত্রতা, নামায, যাকাত, হজ্ব, উমরা, জিহাদ ও গণীমত ইত্যাদি বিষয়ে অনেক হাদীস সন্নিবেশিত ছিল। ৫. সহীফাতু ইবন আব্বাস ৬. সহীফাতু জাবির ইবন আব্দুল্লাহ ৭. সহীফাতু আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ ৮. সুহুফু (অনেক গ্রন্থ) আনস ইবনে মালিক। ৯. মুসনাদু আবী হুরাইরা ১০. সহীফাতু সাদ ইবন ইবাদা উল্লেখযোগ্য।
খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে হাদীস সংকলন : ক. হযরত আবু বকর (রা.) : হযরত আবু বকর (রা.) নিজে পাঁচ শত হাদীসের একটি সংকলন প্রস্তুত করেছিলেন, তবে শেষ জীবনে তিনি নিজেই তা নষ্ট করে ফেলেন। এর কারণ হিসেবে মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকগণ দু’টি বিষয় উল্লেখ করেছেন-১. তিনি বিশেষভাবে চিন্তিত হয়ে পড়েন যে, তাঁর সংকলিত হাদীসে একটি শব্দও যদি রাসূলের (সা.) মূল বাণীর বিন্দু মাত্র বিপরীত হয়ে পড়ে তবে রাসূলের (সা.) সতর্কবাণী অনুযায়ী তাঁকে জাহান্নামের ইন্ধন হতে হবে।
২. তাঁর মনে এ ভয়ও জাগ্রত হয় যে, তাঁর সংকলিত হাদীস গ্রন্থকে মুসলিম জনগণ যদি কুরআনের সমতুল্য মর্যাদা দিয়ে বসে বা অন্য সাহাবীগণের বর্ণিত হাদীস অপেক্ষা অধিক মর্যাদা দিতে শুরু করে, তাহলে ইসলামের বিশেষ ক্ষতি হবে।
খ. হযরত ওমর ফারুক (রা.) : তিনি অনেক হাদীস সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করে ইসলামী রাজ্যের বিভিন্ন শাসকের নিকট প্রেরণ করেছিলেন এবং সর্বসাধারণ্যে সে সবের ব্যাপক প্রচার করার নির্দেশও দিয়েছিলেন। ইলমে হাদীসের শিক্ষা ব্যাপকতর করার জন্যে তিনি বিভিন্ন অঞ্চলে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও প্রতিষ্ঠা করেন। হযরত ওমর ফারুক (রা.) এর সময়ই বিচ্ছিন্ন থাকা হাদীস সম্পদ সংকলন করার প্রশ্ন প্রথম উত্থাপিত হয়। ওমর ফারুক (রা.) এবিষয়ে অন্যান্য সাহাবীর সাথে পরামর্শ করেন। মুসলমানরা তাঁর অনুকূলেই পরামর্শ দেন।
কিন্তু শেষে তিনি একদিন বললেন-আমি তোমাদের হাদীস লিপিবদ্ধ ও সংকলিত করার কথা বলেছিলাম একথা তোমরা জান। কিন্তু পরে মনে হল তোমাদের পূর্বের আহলে কিতাবরাও এমনিভাবে নবীর কথা সংকলিত করে কিতাব রচনা করেছিল এবং আল্লাহর কিতাব পরিত্যাগ করেছিল। আল্লাহর শপথ, আমি আল্লাহর কিতাবের সাথে কোন কিছুই মিশাবোনা। অত:পর তিনি হাদীস সংকলিত করার সংকল্প ত্যাগ করেন। বস্তুত: সুসংবদ্ধ ও সংকলিত হাদীস গ্রন্থ পেয়ে লোকেরা হয়তো কুরআন থেকে তাকে বেশি গুরুত্ব দিবে এবং কেবল হাদীস অনুযায়ী চলতে শুরু করবে, শুধুমাত্র এভয়েই এমর (রা.) হাদীস সংকলনের সংকল্প পরিত্যাগ করেন। তিনি এটাকে যে নাজায়েয মনে করতেন না, তা তাঁর পূর্বোল্লিখিত কার্যকলাপ থেকে সহজেই অনুমেয়।
গ. হযরত ওসমান (রা.) : হযরত ওসমান (রা.) খুবই কমসংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন। কেন না তিনি ভুল হওয়ার আশংকায় হাদীস বর্ণনা করা থেকে এক প্রকার বিরত ছিলেন বলা চলে। এ বিষয়ে তাঁর নিজের বক্তব্য হচ্ছে: ‘‘রাসূলের (সা.) সাহাবাদের মধ্যে আমি কম হাদীস জানি, এটি রাসূল (সা.) এর হাদীস বর্ণনা থেকে আমার বিরত থাকার কারণ নয়। আসল কারণটি হচ্ছে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি নিজেই রাসূল (সা.) কে বলতে শুনেছি যে, আমি যা বলিনি যদি কেউ তা আমার কথা হিসেবে বর্ণনা করে তবে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।’’ তাই হযরত উসমানের (রা.) বর্ণনা করা কয়েকটি মাত্র হাদীস পাওয়া যায়।
ঘ. হযরত আলী (রা.) : যে কয়জন সাহাবী হাদীস লিপিবদ্ধ করেছিলেন হযরত আলী (রা.) ছিলেন তাঁদের অন্যতম। তিনি তাঁর লিখিত হাদীস ভাঁজ করে তাঁর তলোয়ারের খাপে রেখে দিয়েছিলেন। (বুখারী, মুসনাদে আহমদ)
অবশ্য সাহাবায়ে কেরামের এ সংগ্রহ ও সংকলন ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পর্যায়ে। তবে সামগ্রিকভাবে হাদীস সংকলন হয়েছিল পঞ্চম খলিফা খ্যাত হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীযের শাসনামলে। হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের শাসনামলে হাদীস সংকলন : প্রখ্যাত তাবেয়ী হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ (জন্ম ৬১ হি:, মৃত্যু ১০১ হি:), ৯৯ হিজরী সনে খলিফা নির্বাচিত হন। তাঁর খিলাফতের মেয়াদ ছিল দুই বছর পাঁচ মাস। ঈমান, তাকওয়া ও যোগ্যতার কারণে তিনি ইসলামের পঞ্চম খলিফা হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত। খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন যে ইসলামী জীবন যাপন ও খিলাফত পরিচালনার জন্যে হাদীস এক অপরিহার্য সম্পদ। সাহাবায়ে কেরামের প্রায় সকলে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন।
অধিকাংশ তাবেয়ীও দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। যারা বেঁচে আছেন তারাও আর বেশি দিন থাকবেন বলে মনে হয় না। অতএব, অনতিবিলম্বে এই মহান সম্পদ সংগ্রহ ও সংকলন একান্ত দরকার। এটি ভেবেই তিনি ইসলামী রাজ্যেও বিভিন্ন কেন্দ্রে নিম্নোক্ত ফরমান লিখে পাঠান-‘রাসূলের (সা.) হাদীসের প্রতি দৃষ্টি দাও। তা সংগ্রহ- সংকলন কর।’’ মদীনার শাসনকর্তা ও বিচারপতি আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাযমকেও তিনি নিম্নোক্তভাবে ফরমান লিখে পাঠান- ‘‘রাসূল (সা.)-এর হাদীস বা তাঁর সুন্নাত অথবা হযরত ওমরের বাণী কিংবা অনুরূপ যা কিছু পাওয়া যায় তার প্রতি দৃষ্টি দাও এবং আমার জন্যে লিখে নাও। কেননা আমি ইলমে হাদীসের ধারক-বাহকদের অন্তর্ধান ও হাদীস সম্পদের বিলুপ্তির আশংকা করছি।’’ (বুখারী-কিতাবুল ইল্ম) ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ তাবেয়ী ইমাম জুহরীকে বিশেষভাবে হাদীস সংকলনের কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ হাদীস সংগ্রহ ও সংকলনের ফরমান জারি করার পর বেশি দিন জীবিত ছিলেন না (মৃত্যু: ১০১ হি:) কিন্তু তাঁর ফরমানের ফলে হাদীস সংগ্রহ ও সংকলনের যে প্রবাহ শুরু হয়েছিল তা পরের কয়েকশ বছর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তাবেয়ীগণ বিভিন্ন শহরে উপস্থিত থাকা সাহাবী বা তাবেয়ীদের নিকট থেকে হাদীস সংগ্রহের জন্যে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করতেন। হিজরী ২য় শতকের শুরু থেকে কনিষ্ঠ তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীনদের এক বিশাল কাফেলা সাহাবা ও প্রবীণ তাবেয়ীদের লিখিত হাদীসগুলো ব্যাপকভাবে একত্রিত করতে থাকেন। খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজ (রহ:) এর সরকারী ফরমান এব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হিজরী প্রথম শতকে হাদীস সংকলন : খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আযীযের আদেশক্রমে ইমাম শাবী, ইমাম যুহরী, ইমাম মাকহুল দামেশকী ও কাযী আবু বকর ইবনে হাযম প্রমুখ (রহ:) হাদীস সংকলনে মনোনিবেশ করেন। এ শতকে হাদীস সংকলনের কাজ সামান্য হলেও এরই ফলে যে হাদীস গ্রন্থকারে সংকলনের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছিল তা অনস্বীকার্য।
হিজরী দ্বিতীয় শতকে হাদীস সংকলন :
হিজরী দ্বিতীয় শতকের প্রথম থেকেই হাদীস সংকলনের কাজ শুরু হয়। তবে এ শতকের মাঝামাঝি সময়ে একাজ নিয়মিতভাবে চলতে থাকে। এযুগে সংকলিত গ্রন্থগুলো হলো:
১. কিতাবুল আছার-ইমাম আবু হানিফা, ২.মুয়াত্তা-ইমাম মালেক ৩.আলজামে-সুফিয়ান সাওরী। ৪.কিতাবুস সুনান-ইমাম মাকহুল। ৫.কিতাবুস সুনান-আবু আমর আওযায়ী। ৬.কিতাবুস সুনান-আবু সাঈদ ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া। ৭.কিতাবুল মাগাযী- আবু বক্র ইবনে হাযম। ৮.কিতাবুস সুনান, কিতাবুযযুহ্দ, কিতাবুল মানাকিব-যায়েদ ইবনে কুদামা। ৯.ইমাম শাবী একই বিষয়ের হাদীস একই স্থানে একত্রিত করে একখানি গ্রন্থে রূপ দিয়ে ছিলেন বটে, কিন্তু তা মাত্র কয়েকটি অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। এর বেশি তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি।
হিজরী তৃতীয় শতকে হাদীস সংকলন : হিজরী তৃতীয় শতকে মুসলিম জাহানে যাঁরা হাদীস শিক্ষাদান ও গ্রন্থ প্রণয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন তাঁরা হলেন, আলী ইবনুল মাদিনী, ইয়াহইয়া ইবনে মুয়ীন, আবু জুযয়া রাযী, আবু হাতেম রাযী, মুহাম্মদ ইবনে জারীর তাবারী, ইবনে খোযায়মা, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহে, মুহাম্মদ ইবনে সাদ ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল প্রমুখ। এসময় ‘মুসনাদ’ নামক গ্রন্থ সংকলন করা হয়। এ শতকের শেষ দিকে প্রসিদ্ধ ‘সিহাহ সিত্তাহ’ও সংকলন করা হয় এবং একে হাদীস সংকলনের সোনালী যুগ বলা হয়। হাদীসের এ গ্রন্থসমূহ সংকলিত হওয়ার পর হাদীস সংরক্ষণ ও প্রচারের প্রথম ও দ্বিতীয় যুগের ধারা পরিবর্তন হয়ে যায়। অর্থাৎ মুখস্থ করার মাধ্যমে সংরক্ষণ এবং বক্তব্যের মাধ্যমে প্রচারের ধারা পরিবর্তন হয়ে পুস্তক বা গ্রন্থ আকারে সংরক্ষণ ও পুস্তক পাঠের মাধ্যমে প্রচারের ধারা শুরু হয়ে যায় এবং তা দ্রুত গতিতে প্রসিদ্ধি ও জনপ্রিয়তা লাভ করে।
হিজরী ৫ম শতক থেকে বর্তমান কাল : এ সুদীর্ঘ সময়ে হাদীস সংরক্ষণ, সংকলন ও প্রচারে যে কাজ হয়েছে তার সারসংক্ষেপ হলো:
১. হাদীসের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহের ভাষ্যগ্রন্থ, টীকা ও অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ গ্রন্থ রচিত হওয়া।
২. হাদীস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা নিয়ে অসংখ্য গ্রন্থ এবং এসব গ্রন্থের ব্যাখ্যা ও সারসংক্ষেপ রচিত হওয়া।
৩. বিশেষজ্ঞ আলেমগণ কর্তৃক তৃতীয় যুগের গ্রন্থাবলী থেকে নিজেদের আগ্রহ বা প্রয়োজনে হাদীস চয়ন করে গ্রন্থ প্রণয়ন করা। এধরনের কয়েকটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হচ্ছে:
ক. মিশকাতুল মাসাবীহ-সংকলক : ওয়ালী উদ্দিন খতীব তাবরীযী। খ. বিয়াদুস-সালিহীন-ইমাম আবু যাকারিয়া শরফুদ্দিন নববী। গ. মুলতাকাল আখবার- ঘ. মাসাবীহুস সুন্নাহ ইত্যাদি।
কম্পিউটার আবিষ্কার হওয়ার পর কম্পিউটার ডিস্কের মাধ্যমে হাদীস সংরক্ষণ ও ওয়েব সাইটের মাধ্যমে হাদীস প্রচারের কাজ শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে তা দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
অতএব, রাসূল প্রেমিক জ্ঞান সাধকদের নিরন্তর সাধনা ও অধ্যাবসায়ের বদৌলতে সংকলিত হয়েছে রাসূলের অমূল্য হাদীস ভান্ডার। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার এ যুগে হাদীস সংরক্ষণ ও প্রচার-প্রসারে ভবিষ্যতে উদ্ভাবিত হবে অসংখ্য অত্যাধুনিক পন্থা। তবে পাশাপাশি চালু রাখতে হবে হাদীসের বাস্তব অনুসরণের সনাতন ধারা।

লিখেছেনঃ ড. মুহাম্মদ নুরুল আবছার

হাদিস সংকলন এর ইতিবৃত্ত

বিষয়ঃ হাদিস সংকলন সম্পর্কে সংশয় দূর করুন

= নবী মুহাম্মদ (সা) এবং সাহাবাদের সময়ে হাদিস সংরক্ষণ ধারাঃ
ihadis.com, সহিহ বুখারি, হাদিসঃ ৬৭, সহিহ হাদিসঃ আবূ বাক্‌রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, (মিনায়) তিনি তাঁর উটের উপর উপবেশন করলেন। জনৈক ব্যক্তি তাঁর উটের লাগাম ধরে রেখেছিলো। তিনি বললেনঃ ‘এটা কোন্‌ দিন?’ আমরা চুপ করে রইলাম আর ধারণা করলাম যে, অচিরেই তিনি এ দিনটির আলাদা কোন নাম দিবেন। তিনি বললেনঃ “এটা কি কুরবানীর দিন নয়?” আমরা বললাম, ‘জি হ্যাঁ।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ‘এটা কোন্‌ মাস?’ আমরা নীরব রইলাম আর ধারণা করলাম যে, অচিরেই তিনি এর আলাদা কোন নাম দিবেন। তিনি বললেনঃ ‘এটা কি যিলহাজ্জ মাস নয়?’ আমরা বললাম, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেনঃ ‘তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-সম্পদ, তোমাদের সম্মান তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন আজকের তোমাদের এ দিন, তোমাদের এ মাস, তোমাদের এ শহর মর্যাদাসম্পন্ন। এখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা (আমার এ বাণী) যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট এসব কথা পৌঁছে দেয়। কারণ উপস্থিত ব্যক্তি সম্ভবত এমন এক ব্যক্তির নিকট পৌঁছাবে, যে এ বাণীকে তার চেয়ে অধিক আয়ত্তে রাখতে পারবে।’
ihadis.com, সহিহ বুখারি, হাদিসঃ ৬৮, সহিহ হাদিসঃ ইব্‌নু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে নির্দিষ্ট দিনে নাসীহাত করতেন, আমরা যাতে বিরক্ত বোধ না করি।
ihadis.com, সহিহ বুখারি, হাদিসঃ ৯৯, সহিহ হাদিসঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – কে প্রশ্ন করা হলোঃ হে আল্লাহর রাসূল! ক্বিয়ামতের দিন আপনার সুপারিশ লাভের ব্যাপারে কে সবচেয়ে অধিক সৌভাগ্যবান হবে? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আবূ হুরায়রা ! আমি মনে করেছিলাম, এ বিষয়ে তোমার পূর্বে আমাকে আর কেউ জিজ্ঞেস করবে না। কেননা আমি দেখেছি হাদীসের প্রতি তোমার বিশেষ লোভ রয়েছে। ক্বিয়ামতের দিন আমার শাফা’আত লাভে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান হবে সেই ব্যাক্তি যে একনিষ্ঠচিত্তে (لآ إِلَهَلا إله إلا الله) (আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) বলে।
ihadis.com, সহিহ বুখারি, হাদিসঃ ১১৩, সহিহ হাদিসঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের মধ্যে ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আম্‌র (রাঃ) ব্যতীত আর কারো নিকট আমার চেয়ে অধিক হাদীস নেই। কারণ তিনি লিখতেন, আর আমি লিখতাম না।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ৪, সহিহ হাদিসঃ ইবনু উমার (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কোন হাদীস শুনলে, তাতে তিনি নিজের পক্ষ থেকে কম-বেশি করতেন না।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ২০, সহিহ হাদিসঃ আলী বিন আবু তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আমি তোমাদের নিকট রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস বর্ণনা করলে তোমরা মনে রাখবে যে, তিনি ছিলেন সর্বাধিক ধার্মিক, হিদায়াতপ্রাপ্ত ও আল্লাহ্‌ভীরু।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ২২, হাসান হাদিসঃ আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ এক ব্যক্তিকে (ইবনু আব্বাসকে) বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আমি তোমার নিকট রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস বর্ণনা করলে তুমি তার বিপরীতে কোন দৃষ্টান্ত পেশ করো না।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ২৩, সহিহ হাদিসঃ আমর বিন মায়মূন থেকে বর্ণিতঃ প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে ইবনু মসঊদ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হতে আমার ভুল হতো না। কিন্তু আমি কখনও তাঁকে “রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন” এভাবে কিছু বলতে শুনিনি। এক রাতে তিনি বলেন, “রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন”। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি মাথা নিচু করলেন। রাবী বলেন, আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তিনি এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন যে, তার জামার বোতাম খোলা, তার চক্ষুদ্বয় অশ্রু বিগলিত এবং এর শিরাগুলো ফুলে গেছে। অতঃপর তিনি বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বলেছেন অথবা এর অধিক বা কম বলেছেন অথবা এর কাছাকাছি বা এর অনুরূপ বলেছেন (অর্থাৎ তিনি যা বলেছেন তা আমার হুবহু মনে নেই)।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ২৪, সহিহ হাদিসঃ মুহাম্মদ বিন সীরীন থেকে বর্ণিতঃ আনাস বিন মালিক (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস বর্ণনাকালে ভীত-শংকিত হতেন এবং বলতেন, অথবা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুরূপ বলেছেন।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ২৫, সহিহ হাদিসঃ আবদুর রহমান বিন আবু লাইলা থেকে বর্ণিতঃ আমরা যায়দ বিন আরকাম (রাঃ) কে বললাম, আমাদের নিকট রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদীস বর্ণনা করুন। তিনি বলেন, আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি এবং (অনেক কিছুই) ভুলে গেছি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস বর্ণনা করা খুবই কঠিন দায়িত্ব।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ২৭,সহিহ হাদিসঃ তাঊস বিন কায়সান থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, আমরা হাদীস মুখস্থ করতাম। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছেই হাদীস মুখস্থ করা হতো। কিন্তু এখন তোমরা প্রতিটি কষ্টকর ও আরামদায়ক স্থানে (পর্যালোচনা ব্যতীত) উঠতে শুরু করেছ। তোমাদের জন্য আফসোস হয়।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ২৮,সহিহ হাদিসঃ কারাযাহ বিন কা’ব থেকে বর্ণিতঃ উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ), আমাদেরকে কূফার উদ্দেশ্যে পাঠালেন। তিনি আমাদের বিদায় দিতে আমাদের সাথে সিরার নামক স্থান পর্যন্ত হেঁটে আসেন। তিনি বলেন, তোমরা কি জানো আমি কেন তোমাদের সাথে চলে এসেছি? রাবী বলেন, আমরা বললাম, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্যের কর্তব্য এবং আনসারদের প্রতি কর্তব্যের কারণে। উমার (রাঃ) বলেন, আমি তোমাদের নিকট একটি বিশেষ কথা বলার উদ্দেশ্যে তোমাদের সঙ্গে চলে এসেছি। আমি আশা করি তোমাদের সাথে আমার চলে আসার প্রতি খেয়াল রেখে তোমরা তা মনে রাখবে। তোমরা এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছো, যাদের বক্ষস্থলে ফুটন্ত হাঁড়ির মত কুরআনের আওয়াজ হবে। তারা তোমাদেরকে দেখে তোমাদের প্রতি তাদের আনুগত্যের গর্দান এগিয়ে দিবে এবং বলবে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণ এসেছেন। তোমরা তাদের নিকট রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কম সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করবে। তাহলে আমি তোমাদের সাথে আছি।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ২৩২,সহিহ হাদিসঃ আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি আমার নিকট হতে একটি হাদীস শুনে তা অন্যদের নিকট পৌঁছিয়ে দেয়, আল্লাহ্‌ তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেন। কখনো শ্রোতার চেয়ে প্রচারক অধিকতর স্মৃতিধর হয়ে থাকে।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ২৩৪,সহিহ হাদিসঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, শোন! উপস্থিতরা যেন অনুপস্থিতদের নিকট (আমার কথা) পৌঁছিয়ে দেয়।
ihadis.com, সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব, হাদিসঃ ৮৯, হাসান সহিহঃ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে একথা বলতে শুনেছিঃ “আল্লাহ তা’আলা মুখমন্ডল উজ্জল করুন সেই ব্যক্তির, যে আমাদের থেকে কিছু শুনবে, অতঃপর যেভাবে শুনেছে সেভাবেই অপরের কাছে পৌঁছে দিবে। কেননা যার কাছে পৌছান হয় সে অনেক সময় শ্রোতার চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী হয়।”
ihadis.com, সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব, হাদিসঃ ৯০, সহিহ হাদিসঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “আল্লাহ তা’আলা উজ্জলতা দান করুন সেই ব্যক্তিকে যে আমাদের একটি হাদীছ শ্রবণ করে অতঃপর তা অপরের কাছে পৌঁছে দেয়।
= সাহাবীরা নিজেদের থেকে কিছুই বলতেন না, নবী (সা) থেকে যা শিখতেন তাই তাঁরা বলতেনঃ
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ৩০,সহিহ হাদিসঃ আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে, সে যেন জাহান্নামকে তার আবাস বানালো।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ৩৪,হাসান সহিহঃ আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার নামে মনগড়া কথা রচনা করলো, যা আমি বলিনি, সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করলো।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ৩৫,হাসান হাদিসঃ আবু কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এই মিম্বারের উপর বলতে শুনেছি: তোমারা আমার থেকে অধিক হাদীস বর্ণনার ব্যাপারে সাবধান হও। কেউ আমার সম্পর্কে বলতে চাইলে সে যেন হক কথা বা সত্য কথাই বলে। যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কথা বলে যা আমি বলিনি, সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করলো।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ৩৬,সহিহ হাদিসঃ আবদুল্লাহ ইবনুয-যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আমি (আমার পিতা) যুবায়র ইবনুল আওওয়াম (রাঃ)-কে বললাম, আমি যেমন বিন মাসঊদ (রাঃ) ও অমুক অমুক সহাবীকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনি তদ্রূপ আপনাকে কেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস বর্ণনা করতে শুনি না? তিনি বলেন, ইসলাম গ্রহণের পর থেকে কখনও আমি তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি। কিন্তু আমি তাঁকে একটি কথা বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার বাসস্থান নির্ধারণ করলো।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ৪০,সহিহ হাদিসঃ আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি আমার নামে কোন মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করলো, সে অন্যতম মিথ্যাবাদী।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ৫৩,সহিহ হাদিসঃ আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, দলীল-প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ব্যতীত কাউকে সিদ্ধান্ত (ফাতাওয়া) দেয়া হলে তার পাপের বোঝা ফাতাওয়া প্রদানকারীর উপর বর্তাবে।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ২৬৬,সহিহ হাদিসঃ আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোন ব্যক্তি তার জানা জ্ঞানের কথা জিজ্ঞাসিত হয়ে তা গোপন করলে, কিয়ামাতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে।
ihadis.com, সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব, হাদিস ৪, সহিহ লি গাইরিহিঃ আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জে বলেনঃ ‘আল্লাহ তা’আলা ঐ ব্যক্তির মুখমন্ডল উজ্জল করুন (তাকে সম্মানিত করুন) যে ব্যক্তি আমার কথা শুনে তা মুখস্ত রেখেছে। কেননা এমন কতই না জ্ঞান বহনকারী রয়েছে, অথচ সে ফকীহ (জ্ঞানী) নয়। তিনটি বিষয়ে কোন মুমিন ব্যক্তির অন্তরে হিংসা প্রবেশ করতে পারে না। (১) আল্লাহর জন্য আমলকে একনিষ্ঠ করা। (২) মুসলমানদের নেতৃবৃন্দকে নসীহত করা। (৩) মুসলমানদের জামাতকে আকড়ে ধরা। কেননা তাদের দু’আ তাদের পরবর্তীদেরকেও বেষ্টন করে।’
ihadis.com, সুনানে আবু দাউদ, হাদিসঃ ৩৬৪৬, সহিহ হাদিসঃ আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যা কিছু শুনতাম লিখে রাখতাম। মনে রাখার জন্যই আমি এরূপ করতাম। কুরাইশরা আমাকে সবকিছু লিখতে বারণ করলেন এবং বললেন, তুমি কি রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হতে শোনা সবকিছুই লিখে রাখো? তিনি তো একজন মানুষ, রাগ ও শান্ত উভয় অবস্থায় কথা বলে থাকেন। সুতরাং আমি লেখা স্থগিত রাখলাম। আমি এটা রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি আঙ্গুল দিয়ে তাঁর মুখের দিকে ইশারা করে বললেনঃ তুমি লিখে রাখো, সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! এ মুখ হতে সর্বাবস্থায় সত্য ব্যতীত অন্য কিছু বের হয় না।
ihadis.com, সুনানে আবু দাউদ, হাদিসঃ ৩৬৬০, সহিহ হাদিসঃ যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমার নিকট হতে হাদীস শুনে তা মুখস্থ রাখলো এবং অন্যের নিকটও তা পৌছে দিলো, আল্লাহ তাকে চিরউজ্জ্বল করে রাখবেন। জ্ঞানের অনেক বাহক তার চেয়ে অধিক সমঝদার লোকের নিকট তা বহন করে নিয়ে যায়; যদিও জ্ঞানের বহু বাহক নিজেরা জ্ঞানী নয়।
হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ি রাশিদ্বীনের সুন্নাতের অনুসরণ করা যেহেতু তাঁরা নবী মুহাম্মদ (সা) থেকে ইসলাম শিখেছেনঃ
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ৪২,সহিহ হাদিসঃ ইরবাদ বিন সারিয়াহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় আমাদের নাসীহাত করেন, যাতে অন্তরসমুহ ভীত হলো এবং চোখগুলো অশ্রু বর্ষণ করলো। তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি তো বিদায় গ্রহণকারীর উপদেশ দিলেন। অতএব আমাদের নিকট থেকে একটি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করুন (একটি সুনির্দিষ্ট আদেশ দিন)। তিনি বলেন, তোমরা আল্লাহ্‌ভীতি অবলম্বন করো, শ্রবণ করো ও আনুগত্য করো (নেতৃ-আদেশ), যদিও সে কাফ্রী গোলাম হয়। আমার পরে অচিরেই তোমরা মারাত্মক মতভেদ লক্ষ্য করবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নাত অবশ্যই অবলম্বন করবে, তা দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরবে। অবশ্যই তোমরা বিদ‘আত কাজ পরিহার করবে। কারন প্রতিটি বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা।
কুরআন এবং নবী মুহাম্মদ (সা) সুন্নাহ অনুসরন করতে হবেঃ
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ১২, সহিহ হাদিসঃ আল-মিকদাম বিন মা’দীকারিব আল-কিনদী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, অচিরেই কোন ব্যক্তি তার আসনে হেলান দেয়া অবস্থায় বসে থাকবে এবং তার সামনে আমার হাদীস থেকে বর্ণনা করা হবে, তখন সে বলবে, আমাদের ও তোমাদের মাঝে মহামহিম আল্লাহ্‌র কিতাবই যথেষ্ট। আমরা তাতে যা হালাল পাব তাকেই হালাল মানবো এবং তাতে যা হারাম পাবো তাকেই হারাম মানবো। (মহানবী বলেন) সাবধান! নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা হারাম করেছেন তা আল্লাহ্‌ যা হারাম করেছেন তার অনুরূপ।
ihadis.com, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ১৩, সহিহ হাদিসঃ আবু রাফি' (রাঃ) [রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুক্ত করা দাস] থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি যেন তোমাদের কাউকে এরূপ না পাই যে, সে তার আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে এবং (এই অবস্থায়) আমার প্রদত্ত কোন আদেশ বা আমার প্রদত্ত কোন নিষেধাজ্ঞা তার নিকট পৌঁছলে সে বলবে, আমি কিছু জানিনা, আমরা আল্লাহ্‌র কিতাবে যা পাবো তার অনুসরণ করবো।
উপরের বিশুদ্ধ দলিল প্রমান থেকে আমরা জানতে পারলামঃ
১/ নবী মুহাম্মদ (সা) হাদিস সংরক্ষণের ব্যাপারে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছেন ।
২/ সাহাবীরা হাদিস মুখস্ত করে রাখতো ।
৩/ সাহাবীরা নিজের থেকে কিছু বানিয়ে বলতেন না , বরং নবী মুহাম্মদ (সা) যা শিক্ষা দিতেন তাই তাঁরা নিজে শিখতেন এবং অন্যকে বলতেন ।
৪/ হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ি রাশিদ্বীনের সুন্নাতের অনুসরণ করা যেহেতু তাঁরা নবী মুহাম্মদ (সা) থেকে ইসলাম শিখেছেন।
৫/ কুরআন এবং নবী মুহাম্মদ (সা) এর সুন্নাত অনুরসন করতে হবে অনেকেই বলেন যে আমরা শুদু কুরআন মানি হাদিস মানি না তাদের জন্য এই শেষ পয়েন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারন নবী (সা) নিজেই বলেছেন কুরআন এবং সুন্নাহ অনুসরন করতে ।
এখন আমরা জানব সাহাবীদের থেকে কিভাবে তাবীঈ এরপরে তাবে তাবেইরা হাদিস সংরক্ষণ করেছেনঃ
* হাদিস শাস্রের ইতিহাস, মাওঃ আমিনুল ইহসান মুজাদ্দেসি (রহ), পৃষ্ঠা ২২ এবং তাযকেরাতুল হোফফায এর ১১২ পৃষ্ঠায় আছেঃ সাহাবাদের মধ্যে হাদিসের হাফেজদের সংখ্যা ২২ জন । প্রবীণ তাবেইদের স্তরে হাফেজদের সংখ্যা ৪০ জন । তাবেইদের মাধ্যমিক হাদিসের হাফেজদের সংখ্যা হল ৩০ জন । এ ছাড়া তাঁদের পরবর্তী যুগে বিভিন্ন সময়ে "হোফফাজে হাদিস" মানে যারা হাদিস মুখস্ত করে এদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে । ইমাম যাহাবি (রহ) নিজের "তাযকেরাতুল হোফফাজ" গ্রন্থে আগের বহু হাদিসের হাফেজদের নাম বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন।
* হাদিস শাস্রের ইতিহাস, মাওঃ আমিনুল ইহসান মুজাদ্দেসি (রহ), পৃষ্ঠা ৩০, হযরত সাদ বিন ইবরাহীম (রা) বর্ণনা করেছেন, হযরত ওমর বিন আব্দুল আযিয (রা) আমাদেরকে হাদিস সংগ্রহ করার জন্য আদেশ প্রদান করেছেন । তাঁর নির্দেশক্রমে আমরা স্বতন্ত্র দফতরে হাদিস লিপিবদ্ধ করেছিলাম । ঐ দফতরগুলো খলিফার আদেশে সাম্রাজ্যের প্রত্যেক প্রদেশে প্রেরিত হয়েছিল।
* হাদিস শাস্রের ইতিহাস, মাওঃ আমিনুল ইহসান মুজাদ্দেদি (রহ), পৃষ্ঠাঃ ৪০, ইমাম মালেক (রহ) এক লক্ষ হাদিস থেকে বাছাই করে প্রথমে ১০ হাজার হাদিস সংকলন ও লিপিবদ্ধ করেন । অতপর এ বাছাই করা হাদিস থেকে ছাটাই করতে করতে বর্তমানের বইয়ের রুপ ধারন করে তথা "মুয়াত্তা ইমাম মালেক" গ্রন্থ । ইমাম মালেক (রহ) তাঁর বইটি তিনি মদিনার ৭০ জন ফকিহদের নিকট পেশ করেন সম্পাদনা করার জন্য । তাঁরা সকলেই এই বইয়ের নির্ভরযোগ্যতা এবং গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয় । এর জন্য ইমাম মালেক (রহ) নিজেই বলেছেনঃ হাদিসবেত্তাগন সকলেই এই বইটি সমর্থন করেছেন এই কারনে আমি এই বইয়ের নাম দিলাম মুয়াত্তা বা সমর্থিত ।
* হাদিস শাস্রের ইতিহাস, মাওঃ আমিনুল ইহসান মুজাদ্দেদি (রহ), পৃষ্ঠাঃ ৫৩, হাদিস সংকলনের যুগ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত যত নির্ভরযোগ্য হাদিসের কিতাব লেখা হয়েছে তার বিস্তারিত উল্লেখ আছেঃ "কাশফুয জুনুন" এবং "ইতেহাফুন নোবালা" ।
* হাদিস শাস্রের ইতিহাস, মাওঃ আমিনুল ইহসান মুজাদ্দেদি (রহ), পৃষ্ঠাঃ ৫৭, ইমাম বুখারি (রহ) লিখিত "বুখারি শরীফ" এর পূর্ণ নাম হলঃ আল জামেউস সহিহ আল মুসনাদু মিন হাদিসির রাসুলে (সা) ওয়া আইমামিহি। ইমাম বুখারি (রহ) এর কাছে ৬ লক্ষ হাদিস সংরক্ষিত ছিল অর্থাৎ তিনি ৬ লক্ষ হাদিসের হাফেজ ছিলেন । তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর সময় ধরে বুখারি শরীফ লেখার কাজ সমাপ্ত করেন । "বুখারি শরীফে" হাদিসের সংখ্যা ৭০০০ এর অধিক ।
* এ ছাড়া আরও যেসব বিখ্যাত হাদিসের কিতাব আছে যেমনঃ
= সহিহ বুখারি = হাদিস সংখ্যাঃ ৭৫৬৩ টি হাদিস ।
= সহিহ মুসলিম = হাদিস সংখ্যাঃ ৭৪৫৩ টি হাদিস ।
= সুনানে নাসায়ি = হাদিস সংখ্যাঃ ৫৭৫৮ টি হাদিস ।
= সুনানে আবু দাউদ = হাদিস সংখ্যাঃ ৫২৭৪ টি হাদিস ।
= জামে আত তিরমিজি = হাদিস সংখ্যাঃ ৩৯৫৬ টি হাদিস ।
= সুনানে ইবনে মাজাহ = হাদিসের সংখ্যাঃ ৪৩৪১ টি হাদিস ।
= মুয়াত্তা ইমাম মালেক = হাদিসের সংখ্যাঃ ১৮৩২ টি হাদিস ।
= মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা = হাদিসের সংখ্যাঃ ৩৯ হাজারের বেশি হাদিস আছে এই গ্রন্থে ।
ইত্যাদি ইত্যাদি আরও বিশাল বিশাল কিতাব আছে যা এখানে উল্লেখ করলে লেখা আরও বেশি হয়ে যাবে তাই সেগুলা আর উল্লেখ করা হচ্ছে না । হাদিস সংকলন বিষয় আমার এই লেখাটি খুবই সংক্ষেপ করা হয়েছে কারন বিস্তারিত আপনাদের সাথে শেয়ার করতে গেলে আরেকটি বিশাল বই হয়ে যাবে তাই আমি এখানে আপনাদের সুবিধার জন্য খুবই সংক্ষেপে বিষয়টি বুঝানোর চেষ্টা করেছি যাতে হাদিস সংকলন নিয়ে আপনাদের মনে কোন বাজে সংশয় না আসে । হাদিস সংকলন নিয়ে একটি সোজা কথা স্মরণ রাখুন তা হলঃ নবী মুহাম্মদ (সা) থেকে তাঁর সাহাবীরা হাদিস সংরক্ষণ করে লিখে অথবা মুখস্ত করে। এরপরে সাহাবীদের থেকে তাঁদের ছাত্ররা তথা তাবেইরা হাদিস শিক্ষা লাভ করেন এরপরে তাবেইদের ছাত্ররা ্‌............এভাবে এভাবে আমাদের পর্যন্ত .....................হাদিস সংকলন বিষয় বিস্তারিত জানতে যেই কিতাব গুলো আপনাদের পড়া উচিৎ তা হলঃ

১/ হাদিস শাস্রের ইতিহাস । লিখেছেনঃ মাওঃ আমিনুল ইহসান মুজাদ্দেদি (রহ) ।
২/ হাদিস সংকলনের ইতিহাস । লিখেছেনঃ মাওঃ মোহাম্মদ আব্দুর রহিম (রহ) ।
৩/ রিজাল শাস্র ও জাল হাদিসের ইতিবৃত্ত । লেখকঃ ডঃ মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন।
৪/ আসমাউর রিজাল (প্রসিদ্ধ কয়জন রাবির জীবনী) । লেখকঃ মুফতি গোলাম রব্বানি ভুইয়া (রহ) ।
৫/ ছিহা ছিত্তাহর রাবি পরিচিতি । লেখকঃ হাফেজ মুহাম্মদ উসমান গনি ।
৬/ হাদিস শরিফ শাস্র । লেখকঃ মুহাম্মদ আব্দুল হাই নদভি ।
৭/ হাদিসের তত্ব ও ইতিহাস । লেখকঃ মাওঃ নুর মুহাম্মদ আজমি (রহ) ।
৮/ হাদিস চর্চায় ইমাম আবু হানিফা (রহ)এর অবদান । লেখকঃ মোঃ আবুল কাসেম ভুইয়া ।
৯/ ইসলামী ফিকহের ঐতিহাসিক পটভূমি । লেখকঃ মাওঃ মুহাম্মদ তাকি আমিনি (রহ) ।
১০/ হাদিসের পরিভাষা । লেখকঃ ডঃ মুহাম্মদ আত তাহহান (রহ) ।
কিছু প্রশ্নঃ
* নবী মুহাম্মদ (সা) সবসময়ের জন্য হাদিস সংরক্ষণ করতে নিসেধ করেছেন এমন একটি সহিহ হাদিস দেখান ?
* সাহাবীরা হাদিস সংরক্ষণ করতে পারেন নাই এমন একটি সঠিক তথ্য প্রমান দেন ?
* তাবেইরা কেউই হাদিসের হাফেজ ছিলেন না এই দাবির পক্ষে একটি প্রমান দিন ?
* ইসলামের এমন একটি যুগ দেখান যেই সময়ে হাফেজে হাদিস ছিল না ?
* হাদিস মানা যাবে না এই শব্দে পারলে একটি সহিহ হাদিস দেখান ?
* হাদিস সংরক্ষণ করা হয় নি এর পক্ষে একটি প্রমান দেন ?
* নবী মুহাম্মদ (সা) থেকে তাঁর সাহাবীরা এরপরে তাবেইরা এরপরে তাবে তাবেইরা এরপরে ... এইভাবেই ধিরে ধিরে হাদিস আমাদের কাছে এসেছে বিস্তারিত উপরেই লিখেছি এখন আপনি প্রমান করুন এই সুত্র অথবা সনদ ভুল?

লিখেছেনঃ এম ডি আলী

বাচ্চাদের প্রাথমিক রুকইয়াহ ও বিধিনিষেধ

প্রাথমিক রুকইয়াহ পদ্ধতিঃ  ১।   মানুষ ও জ্বীনের বদনজর ও জ্বীনের আছর থেকে হিফাযত ও শিফার নিয়তে - দুরুদে ইব্রাহিম, সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি,...