Showing posts with label কুরআন ও বিজ্ঞান. Show all posts
Showing posts with label কুরআন ও বিজ্ঞান. Show all posts

Monday, April 13, 2020

ইসলামে কি ছোঁয়াচে বা সংক্রামিত রোগকে অস্বীকার করা হয়েছে?

ইসলামে ছোঁয়াচে রোগকে অস্বীকার করা হয় নি
▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬
প্রশ্ন: ইসলামে কি ছোঁয়াচে বা সংক্রামিত রোগকে অস্বীকার করা হয়েছে?
উত্তর:
এ উত্তরটি ভালোভাবে জানার জন্য নিম্নোক্ত লেখাটি পড়ুন:

আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
 لا عَدْوَى وَلا طِيَرَةَ وَلا هَامَةَ وَلا صَفَرَ "
“রোগ সংক্রমণ, কুলক্ষণ, পেঁচা এবং সফর মাস বলতে কিছু নাই।” (সহীহু বুখারী, হা/৫৭০৭)
মুহাদ্দিসগণ বলেন, উক্ত হাদীসে পেঁচা ও সফর মাসের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হয় নি বরং জাহেলী যুগে পেঁচার ডাক এবং সফর মাসকে কুলক্ষণে মনে করা হত (বর্তমানেও মূর্খ লোকদের মাঝে এ কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে) এই বাতিল ও ভ্রান্ত বিশ্বাসকে অস্বীকার করা হয়েছে। অনুরূপভাবে সংক্রমন রোগের অস্তিত্বকেও অস্বীকার করা হয় নি বরং একটি ভ্রান্ত বিশ্বাসের অনোদন করা হয়েছে। তা হল, জাহেলী যুগে কোনো কোন ব্যাধিকে এমন মনে করা হত যে, তা নিজে নিজেই সংক্রমিত হয়। কিন্তু ইসলামের সৃষ্টিভঙ্গী হল, রোগ কখনও নিজে নিজে সংক্রমিত হতে পারে না। বরং তা আল্লার ইচ্ছার সাথে সংম্পৃক্ত। তার লিখিত তাকদীর ছাড়া কোন কিছুই ঘটে না।

❑ উক্ত হাদীসের এই ব্যাখ্যাটি নিন্মোক্ত হাদীস থেকে স্পষ্ট হয়:

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নাই বললে জনৈক বেদুঈন আরব জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রসূলুল্লাহ! তবে সেই উটপালের অবস্থা কি যা কোনো বালুকাময় প্রান্তরে অবস্থান করে এবং সুস্থ-সবল থাকে? অতঃপর তথায় কোনো খুজলী-পাঁচড়ায় আক্রান্ত উট তাদের মধ্যে এসে পড়ে এবং সবগুলোকে ঐ রোগে আক্রান্ত করে ছাড়ে?
(এর জবাবে) তিনি বললেন, তাহলে প্রথম উটটিকে কে রোগাক্রান্ত করেছিলো?” (সহীহ মুসলিম)

এ হাদীসের অর্থ হল, যে মহান আল্লাহ প্রথম উটটিকে আক্রান্ত করেছিলেনে তিনিই অন্যান্য উটকেও আক্রান্ত করেছেন। অর্থাৎ রোগ-ব্যাধী নিজে নিজে সংক্রমিত হয় না যদি আল্লাহর হুকুম না থাকে।

মোটকথা, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে রোগাক্রান্ত হওয়া একটি বাস্তব বিষয়। তবে সংক্রমনের এই ক্ষমতা রোগের নিজস্ব নয়; বরং আল্লাহপ্রদত্ত। তাই তিনি চাইলে সংক্রমণ হবে নতুবা হবে না এবং এটি যেহেতু রোগাক্রান্ত হওয়ার একটি বাস্তব কারণ তাই রোগাক্রান্ত হওয়ার অন্যান্য কারণ থেকে বেঁচে থাকতে যেমনিভাবে কোনো দোষ নেই তেমনি এক্ষেত্রেও উপযুক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা দোষের নয়। বরং কিছু হাদীসে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। [বাযলুল মাজহূদ ১৬/২৪২; শরহুন নববী ২/২৩০; ফয়যুল কাদীর ৬/৪৩৩)

❑ ইসলামে ছোঁয়াচে রোগকে অস্বীকার করা হয় নি:

ইসলামে ছোঁয়াচে রোগকে অস্বীকার করা হয় নি তার প্রমাণে অনেক হাদীস রয়েছে। তন্মধ্যে নিচের হাদীসগুলো অন্যতম:
💠 আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
لا يورد ممرض على مصح
“অসুস্থ উটগুলোর মালিক তার উটগুলোকে সুস্থ পশুর দলে পাঠিয়ে দেবে না। (কারণ এতে ঐসুস্থ প্রাণীগুলো রোগাক্রান্ত হতে পারে।) [সহীহ মুসলিম]
💠 তিনি আরও বলেন:
فر من المجذوم فرارك من الأسد
“সিংহের আক্রমণ থেকে যেভাবে পলায়ন কর কুষ্ঠরোগী থেকেও সেভাবে পলায়ন করো।” (সহীহ আল বুখারী)
আবার তিনি কুষ্ঠরোগীর সাথে বসেও খাবার খেয়েছেন আর বলেছেন:
كل بسم الله ثقة بالله
“আল্লাহর উপর আস্থা রেখে আল্লাহর নামে খাওয়া শুরু করো।” (তিরমিযী, অধ্যায়: খাদ্যদ্রব্য, অনুচ্ছেদ: কুষ্ঠরোগীর সাথে খাবার খাওয়া)
এটা তিনি এ জন্য করেছেন যে, কুষ্ঠ রোগীর কাছে গেলেই যে, সে রোগে আক্রান্ত হতে হবে তা জরুরি নয়। বরং কখনও হতে পারে আবার কখনও নাও হতে পারে। এটা আল্লাহ ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।

সারাংশ:

পোস্টের সারাংশ হল, সংক্রমণ ব্যাধি আছে কিনা এ বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে দুই ধরণের হাদিস পাওয়া যাচ্ছে। উভয় প্রকার হাদিসের মাঝে সমন্বয় পূর্বক যা প্রমাণ করা হয়েছে তা হল, জাহিলী যুগের ধারণা ছিল যে, রোগ-ব্যাধি নিজে নিজেই সংক্রমিত হয়। এখানে আল্লাহর ইচ্ছা বা ক্ষমতা নেই নেই। ইসলাম কেবল এই ধারণাকে রদ করেছে।

সঠিক ইসলামী বিশ্বাস হল, অবশ্যই সংক্রামক ব্যাধি আছে কিন্তু তা নিজে নিজেই সংক্রমিত হয় না বরং তা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাতেই ঘটে। অর্থাৎ রোগ-ব্যাধির নিজস্ব শক্তি নেই মহান আল্লাহ যদি ইচ্ছা না করেন।

অতএব, কেউ যদি সংক্রামক ব্যাধিকে অস্বীকার করে তাহলে অনেকগুলো হাদিসকে অস্বীকার করা হবে। এটা নিছক অজ্ঞতা অথবা ইসলাম সম্পর্কে ভুল বুঝ। তবে বিশ্বাস রাখতে হবে, রোগ-ব্যাধি নিজে নিজে সংক্রমিত হয় না বরং তা হয় আল্লাহর নির্দেশ ক্রমে।
এ বিশ্বাসের অর্থ হল, কোন ব্যক্তি আক্রান্ত রোগীর কাছে গেলেই যে, সেও নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হবে তা জরুরি নয়। বরং হতে পারে আবার নাও হতে পারে। এটা আল্লাহ ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।
এ ক্ষেত্রে এটাই হল, মুসলিম এবং অমুসলিমদের মাঝে মূল পার্থক্য। আল্লাহু আলাম।
✒✒✒✒✒
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল  দাওয়াহ সেন্টার , সৌদি আরব

ইসলাম কি ছোঁয়াচে বা সংক্রামিত রোগের অস্তিত্ব অস্বীকার করে?

ইসলাম কি ছোঁয়াচে রোগের অস্তিত্ব অস্বীকার করে?

.
আল্লাহর সৃষ্টি এ পৃথিবীতে নানা উপকারী নিয়ামতের পাশাপাশি আছে বহু রোগ-ব্যাধি, অসুখ-বিসুখ। ইসলামবিরোধীরা দাবি করে যে, রোগ সংক্রমণ সম্পর্কে নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) এর হাদিসের বক্তব্য বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। এ দাবি প্রমাণের জন্য তারা কিছু হাদিস দেখায়। ---
 .
আনাস(রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল(ﷺ) বলেছেন, ‘‘রোগের সংক্রমণ ও অশুভ লক্ষণ বলতে কিছুই নেই। তবে শুভ লক্ষণ মানা আমার নিকট পছন্দনীয়।”
[লোকেরা] বলল, শুভ লক্ষণ কী?
তিনি বললেন, উত্তম বাক্য।’’ [1]
 .
আমরা দেখছি যে এ হাদিসে বলা হচ্ছে রোগের সংক্রমণ(عدوى) বলতে কিছু নেই। এটা দেখিয়ে অনেকে বলতে চায় – আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের জানায় জীবাণুর বিস্তারের দ্বারা এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীতে রোগের সংক্রমণ ঘটে; কাজেই হাদিসের বক্তব্য সঠিক নয়। যারা এরূপ বলে, তারা আসলে অর্ধেক সত্য উপস্থাপন করে। আমরা যদি এ সংক্রান্ত আরো হাদিস সামনে আনি তাহলে দেখব যে, এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীতে রোগের জীবাণু ছড়ানো – এই প্রাকৃতিক নিয়মকে ইসলাম অস্বীকার করে না।
 .
আবু হুরাইরা(রা) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসু্লুল্লাহ(ﷺ) বলেছেনঃ সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই। কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই সফর মাসকেও অশুভ মনে করা যাবে না এবং পেঁচা সম্পর্কে যেসব কথা প্রচলিত রয়েছে(هَامَّةَ) তাও অবান্তর। তখন এক বেদুঈন বললো, হে আল্লাহর রাসুল! আমার উটের পাল অনেক সময় মরুভূমির চারণ ভূমিতে থাকে, মনে হয় যেন নাদুস-নুদুস জংলী হরিণ। অতঃপর সেখানে কোনো একটি চর্মরোগে আক্রান্ত উট এসে আমার সুস্থ উটগুলোর সাথে থেকে এদেরকেও চর্মরোগী বানিয়ে দেয়। তিনি বললেনঃ প্রথম উটটির রোগ সৃষ্টি করলো কে?
মা‘মার (রহ.) বলেন, যুহরী (রহ.) বলেছেন, অতঃপর এক ব্যক্তি আবূ হুরাইরা(রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি নবী(ﷺ)কে বলতে শুনেছেনঃ রোগাক্রান্ত উটকে যেন সুস্থ উটের সাথে একত্রে পানি পানের জায়গায় না আনা হয়।’’ ... [2]
 .
“…কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাকো, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাকো।” [3]
 .
এক উট থেকে অন্য উটে রোগের জীবাণু সংক্রমিত হয়। এ ছাড়া কুষ্ঠ রোগীর নিকটে গেলে এর জীবাণু সংক্রমিত হবার সম্ভাবনা খুবই বেশি থাকে। [4] উপরের হাদিসগুলোতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, “সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই” বলবার সাথে সাথে এটাও বলা হচ্ছে যে, রোগাক্রান্ত উটকে যেন সুস্থ উটের কাছে না আনা হয় এবং কুষ্ঠ রোগীর থেকে যেন দূরত্ব বজায় রাখা হয়। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, রোগের জীবাণু সংক্রমিত হবার প্রাকৃতিক এ প্রক্রিয়া হাদিসে উপেক্ষিত হয়নি। এ প্রক্রিয়া যদি হাদিসে অস্বীকারই করা হত, তাহলে , নবী(ﷺ) কেন কুষ্ঠ রোগীর থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বললেন? আর কেনইবা রোগাক্রান্ত উটকে সুস্থ উটের কাছে আনতে নিষেধ করলেন?
 .
আমরা আরো একটি হাদিস দেখতে পারি—
“যখন তোমরা কোন্ অঞ্চলে প্লেগের বিস্তারের সংবাদ শোন, তখন সেই এলাকায় প্রবেশ করো না। আর তোমরা যেখানে অবস্থান কর, সেখানে প্লেগের বিস্তার ঘটলে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো না।”[5]
 .
কতই না উত্তম ও কার্যকর একটি ব্যবস্থা। মহামারী আক্রান্ত অঞ্চল থেকে রোগীরা যদি বেরিয়ে না যায় এবং সে অঞ্চলে যদি বাইরে থেকে লোক না আসে, তাহলে রোগের জীবাণু ছড়িয়ে যাবার সুযোগ অনেক কমে যায়। এটা দেখে কি আদৌ মনে হচ্ছে যে হাদিসে রোগের জীবাণু ছড়িয়ে যাবার প্রাকৃতিক নিয়মকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে?
 .
এখানে একটি প্রশ্ন আসতে পারে –তাহলে হাদিসে কেন এ কথা বলা হল “সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই” ? এর উত্তর হাদিসের মূল বক্তব্যের মাঝেই লুকিয়ে আছে।
.
পূর্বে উল্লেখিত সুনান আবু দাউদ ৩৯১১ নং হাদিসে সাহাবীগণ যখন এক উটের সংস্পর্শে অন্য উটের রোগাক্রান্ত হবার ঘটনার কথা উল্লেখ করলেন, তখন নবী(ﷺ) বললেন, “প্রথম উটটির রোগ সৃষ্টি করলো কে?”
.
অর্থাৎ এই রোগের সৃষ্টিকর্তা হচ্ছেন আল্লাহ। যখন কেউ রোগাক্রান্ত ছিল না, তখন এই রোগ তিনি সৃষ্টি করেছেন। প্রথম রোগাক্রান্ত প্রাণী তো কারো নিকট থেকে সংক্রমণের শিকার হয়নি। রোগের জীবাণু সংক্রমিত হয় বটে, কিন্তু জীবাণু সংক্রমিত হওয়া মানেই রোগ সংক্রমিত হওয়া না। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সুস্থ রাখেন, যাকে ইচ্ছা রোগাক্রান্ত করেন। যদি আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুমতি না থাকে, তাহলে জীবাণু সংক্রমিত হলেও রোগ হয় না। আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিত জীবাণুর সংক্রমিত হবারও যেমন সামর্থ্য নেই, আবার সংক্রমিত হয়েও কারো দেহে রোগ সৃষ্টি করার ক্ষমতা নেই। বিষয়টি তাকদিরের সাথে সম্পর্কিত। [6] সাধারণ পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিও এটাই বলে যে – জীবাণু সংক্রমিত হওয়া মানেই রোগ সংক্রমিত হওয়া না। জীবাণু সংক্রমিত হলেও অনেক সময়েই মানুষ রোগাক্রান্ত হয় না। যেমনঃ বসন্ত রোগীর সংস্পর্শে থাকলে কেউ কেউ এ রোগে আক্রান্ত হয়, আবার কেউ কেউ আক্রান্ত হয় না।
 .
এ প্রসঙ্গে শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমিন(র) বলেছেনঃ
 .
“....সুতরাং যদি জানা যায় যে, কোন বস্তু সংঘটিত হওয়াতে সঠিক কারণ রয়েছে, তাহলে তাকে কারণ হিসাবে বিশ্বাস করা বৈধ। কিন্তু নিছক ধারণা করে কোন ঘটনায় অন্য বস্তুর প্রভাব রয়েছে বলে বিশ্বাস করা ঠিক নয়। কোন বস্তু নিজে নিজেই অন্য ঘটনার কারণ হতে পারে না। ছোঁয়াচে রোগের অস্তিত্ব রয়েছে। নবী(ﷺ) বলেছেন, “অসুস্থ উটের মালিক যেন সুস্থ উটের মালিকের উটের কাছে অসুস্থ উটগুলো নিয়ে না যায়।” সুস্থ উটগুলো অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ভয়ে নবী(ﷺ) এ রকম বলেছেন।
.
নবী(ﷺ) আরো বলেনঃ “সিংহের ভয়ে তুমি যেমন পলায়ন কর, কুষ্ঠ রোগী দেখেও তুমি সেভাবে পলায়ন কর।” আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে নবী(ﷺ) কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। এখানে রোগের চলমান শক্তির কথা স্বীকার করা হয়েছে। তবে রোগ নিজস্ব ক্ষমতাবলে অন্যজনের কাছে চলে যায় তা অনিবার্য নয়। নবী(ﷺ) সতর্কতা অবলম্বনের আদেশ দিয়েছেন।
আল্লাহ বলেনঃ “তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না।” (সূরা বাক্বারাহ ২:১৯৫)
এটা বলা যাবে না যে, নবী(ﷺ) রোগের সংক্রমন হওয়াকে অস্বীকার করেছেন। কেননা বাস্তব অবস্থা ও অন্যান্য হাদিসের মাধ্যমে এ রকম ধারণাকে খণ্ডন করা হয়েছে।

যদি বলা হয় যেঃ--- নবী(ﷺ) যখন বললেন, রোগ সংক্রামিত হয় না, তখন একজন লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল(ﷺ)! মরুভূমিতে সম্পূর্ণ সুস্থ উট বিচরণ করে। উটগুলোর কাছে যখন একটি খুজ্‌লিযুক্ত উট আসে, তখন সব উটই খুজ্‌লিযুক্ত হয়ে যায়। তিনি বললেন, প্রথম উটটিকে কে খুজ্‌লিযুক্ত করল?
.
উত্তর হলঃ--- নবী(ﷺ) এর উক্তি “প্রথমটিকে কে খুজ্‌লিযুক্ত করল?” এর মাধ্যমেই জবাব দিয়েছেন। আল্লাহর ইচ্ছাতেই রোগের জীবাণু অসুস্থ ব্যক্তির নিকট থেকে সুস্থ ব্যক্তির নিকট গমণ করে থাকে। তাই আমরা বলব যে, প্রথম উটের উপরে সংক্রামক ব্যতীত আল্লাহর ইচ্ছাতেই রোগ নাযিল হয়েছে। কোন ঘটনার পিছনে কখনো প্রকাশ্য কারণ থাকে। আবার কখনো প্রকাশ্য কোন কারণ থাকে না। প্রথম উট খুজ্‌লিযুক্ত হওয়ার পিছনে আল্লাহর নির্ধারণ ব্যতীত অন্য কোন কারণ পাওয়া যাচ্ছে না। দ্বিতীয় উট খুজ্‌লিযুক্ত হওয়ার কারণ যদিও জানা যাচ্ছে, তথাপি আল্লাহ চাইলে খুজ্‌লিযুক্ত হত না। তাই কখনো খুজলিতে আক্রান্ত হয় এবং পরবর্তীতে ভা্লোও হয়ে যায়। আবার কখনো মারাও যায়। এমনিভাবে প্লেগ, কলেরা এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রেও একই কথা। একই ঘরের কয়েকজন আক্রান্ত হয়। কেউ মারা যায় আবার কেউ রেহাই পেয়ে যায়। মানুষের উচিৎ আল্লাহর উপর ভরসা করা। বর্ণিত আছে যে, ‘একজন কুষ্ঠ রোগী লোক নবী(ﷺ) এর কাছে আসলো। তিনি তার হাত ধরে বললেন, আমার সাথে খাও।’ আল্লাহর উপর তাঁর অগাধ বিশ্বাস ও ভরসা থকার কারণেই তিনি তাকে খানায় শরীক করেছিলেন। ...” [7]
 .
এখানে আরো একটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে যে, নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) যে যুগের মানুষ ছিলেন, সে যুগে পুরো পৃথিবী ছিল কুসংস্কারাচ্ছন্ন। বিভিন্ন প্রকার কুলক্ষণ, কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাস সে যুগে প্রচলিত ছিল। জাহেলী যুগে আরবরা হাম্মাহ(هَامَّةَ) বলতে কুসংস্কারপূর্ণ বিশ্বাসকে বুঝে থাকতো। তাদের ধারণামতে ‘হাম্মাহ’ ছিল হুতুম পেঁচা যা গভীর রাতে নিহত ব্যক্তির বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তার পরিবারের লোকদেরকে ডাকাডাকি করে এবং প্রতিশোধ নেয়ার উৎসাহ দেয়। তাদের কেউ কেউ ধারণা করত যে, নিহত ব্যক্তির আত্মা পাখির আকৃতি ধরে উপস্থিত হয়েছে। তৎকালিন আরবরা এ পাখির ডাককে কুলক্ষণ মনে করত। কারো ঘরের পাশে এসে এ পাখি ডাকলে তারা বিশ্বাস করত যে, সে মৃত্যু বরণ করবে।  আরবরা সফর মাসকে অপয়া মাস মনে করত। কোন জিনিস দেখে, কোন কথা শুনে বা জানার মাধ্যমে কুলক্ষণ মনে করাকে ‘ত্বিয়ারাহ’(طِيَرَةَ) বলা হয়। নবী(ﷺ) এর যুগে এই সমস্ত ভ্রান্ত জিনিস আরবরা বিশ্বাস করত। [8]যে হাদিসগুলো দেখিয়ে ইসলামবিরোধীরা বলতে চায় যে এগুলোতে ছোঁয়াচে রোগ সম্পর্কে ‘ভুল’(!) তথ্য আছে, সেই হাদিসগুলোতেই প্রাচীন আরবদের এই সমস্ত কুসংস্কারের অপনোদন করা হয়েছে। ভুল তথ্য থাকা তো অনেক দূরের কথা, এই হাদিসগুলোতে কুসংস্কারের মূলোৎপাটন করা হয়েছে। এমনকি কুলক্ষণ বিশ্বাস করার মত জিনিসকে ইসলামে শির্ক বলে অভিহীত করা হয়েছে। [9] কিন্তু যাদের অন্তরে ব্যধি আছে, তাদের অন্তর এই হাদিসগুলো থেকে শুধু ভুল(!)ই খুঁজে বের করে।
 .
অতএব হাদিসের বক্তব্য থেকে যারা ভুল বের করার চেষ্টা করে, তাদের উদ্যেশ্য আবারও ব্যর্থ হল। ‘ছোঁয়াচে রোগ’ তো তাদের অন্তরে, যা তারা তাদের অপ্রপচারের দ্বারা মানুষের ভেতর ছড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সফলকাম করেন, আর যাকে ইচ্ছা ব্যর্থ করে দেন।
.
.

তথ্যসুত্রঃ
[1]  সহীহ বুখারী ৫৭৭৬, সহীহ মুসলিম ৫৯৩৩-৫৯৩৪
[2]  সুনান আবু দাউদ ৩৯১১
[3]  সহীহ বুখারী ৫৭০৭
[4]  ‘Park's preventive and social medicine’ by K. Park; Page 316;
স্ক্রীনশটঃ https://goo.gl/P4RuRS
[5]  সহীহ বুখারী ৫৭২৮
[6]  তাকদির প্রসঙ্গে বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য পূর্বের প্রবন্ধটি পড়ুন
[7]   ‘ফতোওয়া আরকানুল ইসলাম’ — শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমিন(র), পৃষ্ঠা ১১৪-১১৬
[8]  “What did the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) mean by “No contagion (‘adwa)”?” --- islamQA(Shaykh Muhammad Saalih al-Munajjid)
https://islamqa.info/en/45694
[9]  আল্লাহর রাসুল(ﷺ) বলেন, ‘‘কিছুকে অশুভ লক্ষণ বলে মনে করা শির্ক। কিছুকে কুপয়া মনে করা শির্ক, কিছুকে কুলক্ষণ মনে করা শির্ক। কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার মনে কুধারণা জন্মে না। তবে আল্লাহ (তাঁরই উপর) তাওয়াক্কুল (ভরসার) ফলে তা (আমাদের হৃদয় থেকে) দূর করে দেন।’’ [মুসনাদ আহমাদ ১/৩৮৯, ৪৪০, আবু দাউদ ৩৯১২, তিরমিজী, ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান, হাকিম প্রমুখ, সিলসিলাহ সহীহাহ ৪৩০]

Monday, January 20, 2020

কুরআন কোলে নিয়ে হেলান দিয়ে শুয়ে পাঠ, রাখা, দাগ দেওয়া, থুথু লাগানো, হাত থেকে পরে গেলে ইত্যাদি বিষয়ে করণীয় সমূহ

১.  কুরআন কোলে নিয়ে পড়া যাবে কি?
২. মাসজিদের ফ্লোরের উপর কুরআন রাখা যাবে কিনা বা ভুলে রাখলে পাপ হবে কি?
৩. হেলান দিয়ে বা শুয়ে মোবাইল দেখে কুরআন পাঠ করা যাবে কি? এতে কি সওয়াবের কিছু কমতি হবে?
৪. আমরা অনেক সময় কুরআনের আয়াত মুখস্থ রাখার সুবিধার্থে কলম দিয়ে দাগ দিয়ে থাকি। এটা কি ঠিক হবে?
৫. কুরআনের পৃষ্ঠা উল্টানোর সময় হাতে মুখ থেকে থুথু নিয়ে পৃষ্ঠা উল্টিয়ে থাকি। এতে কি কুরআনের অসম্মান হবে?
৬. কুরআনে কারীম হাত থেকে পরে গেলে করণীয় কি?
৭.  কুরআন সম্পর্কে কতিপয় ভুল বিশ্বাস ও আচরণ
⏬⏬⏬⏬⏬

🌀 প্রশ্ন: কুরআন কোলে নিয়ে পড়া যাবে কি?
উত্তর:
কোলের উপরে কুরআন রেখে আদবের সাথে পড়তে কোন আপত্তি নেই ইনশাআল্লাহ।
سئل الشيخ ابن عثيمين رحمه الله عن وضع المصحف على الحجر وهو يتلو القرآن، هل يتنافى مع الأدب؟
فأجاب : " لا "
কুরআন তিলাওয়াত অবস্থায় মুসহাফ (কুরআন) কোলে রাখা সম্পর্কে আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমিন রাহ. কে জিজ্ঞেস করা হয় যে, এটি কি আদবের খেলাপ?
জবাবে তিনি বলেছেন: “না।” (উৎস: ইসলামকিউএ ইনফো)।

🌀 প্রশ্ন: মাসজিদের ফ্লোরের উপর কুরআন রাখা যাবে কিনা বা ভুলে রাখলে পাপ হবে কি?
উত্তর:
কুরআন মাটি থেকে একটু উপরে রাখা উত্তম। যেমন: রেহাল, টেবিল, চেয়ার, তাক, আলমারি, দেয়াল, দেয়ালের ছিদ্র, অন্য সাধারণ বইয়ের উপর ইত্যাদি।
এটি কুরআনের প্রতি সম্মান প্রদর্শের জন্য অধিক উপযোগী।
তবে যদি দরকার বশত: ــــযদি কুরআনকে অপমান করার উদ্দেশ্যে না থাকেـــــপবিত্র মাটির উপর কুরআন রাখা হয় তাহলে ইনশাআল্লাহ গুনাহ নেই। যেমন: যদি উঁচু স্থানে রাখার কোন ব্যবস্থা না থাকে অথচ তিলাওয়াতে সেজাদা দিতে হবে। তাহলে এ অবস্থায় পবিত্র মাটির উপর রাখা জায়েয আছে। দরকার বশত: পবিত্র মাটির উপর রাখা নিষেধ এমন কোন হাদিস পাওয়া যায় না। তবে নি:সন্দেহে কুরআনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে মাটি থেকে উঁচুতে রাখা অধিক উত্তম। আল্লাহু আলাম
(বিন বায রহ. এর ফতোয়ার সারমর্ম)

🌀 প্রশ্ন: হেলান দিয়ে বা শুয়ে মোবাইল দেখে কুরআন পাঠ করা যাবে কি? এতে কি সওয়াবের কিছু কমতি হবে?
উত্তর:
দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে বা হেলান দিয়ে কুরআন পড়তে কোন অসুবিধা নেই। এমনকি হাঁটতে হাঁটতে পড়লেও কোন অসুবিধা নেই। চাই তা মুসহাফ হাতে নিয়ে হোক, ল্যাপটপ কিংবা মোবাইল থেকে হোক।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, আয়েশা রা. বলেন, রাসূল সা. আমার কোলে হেলান দিয়ে (অর্থাৎ কোলে মাথা রেখে) কুরআন তিলাওয়াত করতেন। সে সময় আমি ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম।” (সহীহ বুখারী, অধ্যায়, হায়েয, অনুচ্ছেদ: ঋতুস্রাব চলাকালীন সময় স্ত্রীর কোলে হেলান দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা)
পড়াটাই মূল কথা। কী দেখে পড়ছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সুতরাং মুসহাফ দেখে হোক, মোবাইল হোক বা ল্যাপটপ দেখে পড়া হোক তাতে সওয়াবের মধ্যে কমবেশি হবে না ইনশাআল্লাহ।
হাঁটতে হাঁটতে, রান্না করতে করতে বা সাংসারিক কাজের মধ্যে থেকেও মুখস্থ তিলাওয়াত করতে পারেন। এতেও ইনশাআল্লাহ সওয়াব পাবেন।
আল্লাহ তাওফিক দান করুন।
•••••••••••••••••••••
🌀প্রশ্ন: আমরা অনেক সময় কুরআনের আয়াত মুখস্থ রাখার সুবিধার্থে কলম দিয়ে দাগ দিয়ে থাকি। এটা কি ঠিক হবে?
উত্তর :
কুরআনের সম্মান বজায় রাখার স্বার্থে কুরআনের মধ্যে এমন কোনো চিহ্ন বসানো উচিৎ নয় যাতে তার সৌন্দর্যের বিকৃতি ঘটে। কুরআনে কারীমকে সর্বোচ্চ পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে সচেতন থাকা জরুরি।
তবে একান্ত দরকারে (যেমন, মুখস্থ করার সুবিধার্থে) চিহ্ন দেয়ার প্রয়োজন হলে, আয়াতের নিচে বা উপরে সাধারণ কাঠ পেন্সিল ব্যাবহার করা যেতে পারে, যেন তা প্রয়োজন শেষে মুছে ফেলা যায়। এ ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন রাবার ব্যাবহার করা উচিৎ।
কিন্তু বলপেন, সাইনপেন বা এমন কালি ব্যবহার করা উচিৎ নয় যা পরে উঠিয়ে ফেলা সম্ভব হয় না। আল্লাহু আলাম
•••••••••••••••••••••••
♦🌀প্রশ্ন : কুরআনের পৃষ্ঠা উল্টানোর সময় হাতে মুখ থেকে থুথু নিয়ে পৃষ্ঠা উল্টিয়ে থাকি। এতে কি কুরআনের অসম্মান হবে?
উত্তর :
কুরআনের পৃষ্ঠাগুলোকে সহজে উল্টানোর সুবিধার্থে এমনটি করা হয়। এটা দরকারে জায়েয হলেও যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা উত্তম। কেননা, তা কুরআনের আদবের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই এমনটি না করাই ভালো। আল্লাহু আলাম।
•••••••••••••••••••••••
♦🌀প্রশ্ন: কুরআনে কারীম হাত থেকে পড়ে গেলে করণীয় কি?
উত্তর :
অসতর্কতা বশত: হাত থেকে কুরআনুল কারীম পড়ে গেলে আল্লাহর নিকট ইস্তিগফার করাই যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ।
তবে আগামীতে সর্তক থাকতে হবে যেন, কোনোভাবেই কুরআনের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন না করা হয়।
উল্লেখ্য যে, আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে যে, কুরআন হাত থেকে পড়লে এর ওজন বরাবর চাল সদকা করতে হবে। এটি একটি ভুল কাজ। কেননা, ইসলামী শরিয়তে এমন কোন নির্দেশনা আসে নি। তাই তা বর্জনীয়।
•••••••••••••••••••••••
♦🌀কুরআন সম্পর্কে কতিপয় ভুল বিশ্বাস ও আচরণ:
🔘 ১) অর্ধ শাবানের রাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে বলে বিশ্বাস করা। অথচ তা অবতীর্ণ হয়েছে রমাযান মাসের কদরের রাতে। (সূরা বাকারা: ১৮৫ ও সূরা কদর)
🔘 ২) কবর জিয়ারত করতে গিয়ে কুরআন (সূরা ফাতিহা, নাস, ফালাক, ইখলাস ইত্যাদি সূরা) পাঠ করা। এটি দলীল বহির্ভূত কাজ হওয়ার কারণে বিদয়াত।
🔘 ৩) মৃত শয্যায় শায়িত ব্যক্তির পাশে কুরআন পাঠ করা। এটি বিদআত। অথচ সুন্নত হচ্ছে, মৃত্যু পথযাত্রীকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ র তালকিন দেয়া বা তাকে শুনিয়ে কালিমা পাঠ করা।
🔘 ৪) কুরআন খতম (শবিনা খতম) করে তার সওয়াব মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে বখশীয়ে দেয়া। এটিও দলীল বহির্ভূত হওয়ার কারণে বিদআত।
🔘 ৫) অসতর্কতা বশত: হাত থেকে কুরআন পড়ে গেলে তার ওজন বরাবর চাল সদকা করা। এটি শরীয়তের কোন বিধান নয়। বরং এজন্য জন্য আল্লাহর নিকট ইস্তিগফার করা প্রয়োজন।
🔘 ৬) না বুঝে কুরআন তিলাওয়াত করলে সওয়াব হবে না বলে ধারণা করা। এ ধারণা ঠিক নয়। সঠিক কথা হচ্ছে, বুঝে হোক অথবা না বুঝে হোক কুরআন পাঠ করলে প্রতিটি অক্ষরে ১টি করে (যা ১০টি নেকীর সমান) সওয়াব অর্জিত হবে। তবে কুরআন বুঝার চেষ্টা করা ও কুরআন নিয়ে গবেষণা করা নি:সন্দেহে উত্তম কাজ।
🔘 ৭) কুরআন তেলাওয়াতের শেষে ‘সাদাকাল্লাহুল আযীম’ "আল্লাহ সত্য বলেছেন" বলাকে সুন্নত মনে করা ঠিক নয়। কারণ, এর কোন শরঈ ভিত্তি নাই। সুতরাং এটিকে নিয়ম করে পাঠ করা ঠিক নয়।
🔘 ৮) কুরআন হাতে নিয়েই তাতে চুমু খাওয়া। এটিকে নিয়ম করে নেয়া ঠিক নয়। তবে হঠাৎ আবেগে চুমু খেলে তাতে সমস্যা নাই।
🔘 ৯) এ বিশ্বাস করা যে, হাদিস মানার প্রয়োজন নাই। কেবল কুরআন মানাই যথেষ্ট। এটি মুসলিম উম্মাহকে পথভ্রষ্ট করার এক গভীর ষড়যন্ত্র। হাদিস ব্যতিরেকে কুরআন বুঝা আদৌ সম্ভব নয়।
🔘 ১০) সিডি, ক্যাসেট, মোবাইল ইত্যাদিতে কুরআন তিলাওয়াত চালু করে গল্প-গুজবে ব্যস্ত থাকা বা তার প্রতি অমনোযোগিতা প্রকাশ করা। এটি কুরআনের প্রতি অবহেলার শামিল। আল্লাহ তাআলা কুরআন তিলাওয়াত হলে চুপ থেকে মনোযোগ সহকারে শুনার নির্দেশ নিয়েছেন। (সূরা আরাফ: ২০৪)
🔘 ১১) মোবাইলে রিংটোন হিসেবে কুরআন তিলাওয়াত রাখা উচিৎ নয়। কারণ, তা টয়লেট বা অপবিত্র স্থানে বেজে উঠতে পারে। তাছাড়া রিং বাজলে আল্লাহর কথাকে কেটে দিয়ে মানুষের সাথে কথা বলা শুরু হয়। আল্লাহর বাণীর সাথে এরূপ আচরণ শোভনীয় নয়। অনুরূপভাবে মোবাইলের ওয়াল পেপার হিসেবে কুরআনের আয়াত সম্বলিত ছবি সেট করা উচিৎ নয়। কারণ, নাপাক স্থানে তা প্রকাশিত হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।
🔘 ১২) কুরআনের আয়াতকে ঘরের শোভা বর্ধন, বরকত নাজিল বা জিন-ভুত, যাদু, অসুখ-বিসুখ বা কোন কিছুর ক্ষতির আশংকা থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে লটকিয়ে রাখা নাজায়েজ। তবে শিক্ষা, মুখস্ত বা স্মরণ করার উদ্দেশ্য হলে তা জায়েজ আছে।
🔘 ১৩) কুরআনের আয়াত দ্বারা ক্যালিগ্রাফি (Calligraphy) বানানো উচিৎ নয়। কারণ, তা মানুষের ভুল পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া মানুষ তা ঘরের শোভা বর্দ্ধনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে থাকে।
🔘 ১৪) কুরআন আয়াত লিখে তাবিজ ব্যবহার করা জায়েজ নয়। যদিও এটি মত বিরোধপূর্ণ বিষয়। তবে সঠিক হল তা জায়েজ নয়। কারণ, এ মর্মে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে মৌখিক, কর্মগত বা সম্মতি জ্ঞাপক কোন অনুমোদন পাওয়া যায় না। অনুরূপভাবে তথাকথিত ‘কুরআনের নকশা’ দ্বারা তাবিজ ব্যবহার করা হারাম। অবশ্য, অসুখ-বিসুখ, জিনের আক্রমণ, যাদু-টোনা ইত্যাদির প্রভাব কাটাতে কুরআনের আয়াত পড়ে ঝাড়-ফুঁক দেয়া শুধু শরীয়ত সম্মতই না বরং তা সর্বোত্তম চিকিৎসা।
----------------------
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

Saturday, November 30, 2019

মহাকাশ নিয়ে আল কুরআনের ১০টি বিস্ময়কর তথ্য

★ মহাকাশ নিয়ে আল কুরআনের বিস্ময়কর ১০ তথ্য:

মহান আল্লাহর সৃষ্টিতত্ত্ব বিশ্লেষণ নিঃসন্দেহে একটি বড় ইবাদত। পবিত্র কোরআনে মানুষকে তার নিজের সৃষ্টি ও আশপাশের সৃষ্টিজগতের প্রতি অনুসন্ধিত্সু দৃষ্টিদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর পবিত্র কোরআন এ জন্য অদ্বিতীয় নির্ভরযোগ্য উৎস। চলুন দেখি মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে মহাকাশবিষয়ক কী কী বিস্ময়কর তথ্য রয়েছে।
মহাকাশ কক্ষপথবিশিষ্ট
পবিত্র কোরআনের ভাষায় এর আলোচনা এসেছে সুরা জারিয়াতের ৭ নম্বর আয়াতে ‘জাতুল হুবুক’ তথা রাস্তা বা পথবিশিষ্ট শব্দে। মহাকাশের ছোট-বড় গ্রহ-উপগ্রহগুলো প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে ঘূর্ণমান। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সূর্য তার নির্ধারিত পথে ছুটে চলে। চাঁদেরও রয়েছে নির্ধারিত কক্ষপথ।’ (সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ৩৮, ৩৯)
মহাকাশ তারকাবেষ্টিত
মহাকাশবেষ্টিত তারকাগুলো প্রধানত দুই ধরনের। রাতের ঝলমলে আকাশে আমরা যেগুলো মিটমিট করে জ্বলতে দেখি কোরআনের ভাষায় এগুলো ‘কাউকাব’ তথা স্টার শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে। এ ছাড়া মহাকাশে একধরনের বৃহৎ আকৃতির তারকা রয়েছে, যেগুলো স্বয়ং বিলিয়ন বিলিয়ন গ্রহ, উপগ্রহ ও তারকার সমষ্টি। কোরআনের ভাষায় এগুলো ‘বুরুজ’ তথা গ্যালাক্সি শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথম প্রকারের বিবরণে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আমি দুনিয়ার আকাশ অসংখ্য তারকারাজির দ্বারা সুসজ্জিত করেছি। (সুরা : সাফফাত, আয়াত : ৬)
দ্বিতীয় প্রকার প্রসঙ্গে কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, পবিত্র সেই মহান সত্তা, যিনি মহাকাশে অসংখ্য গ্যালাক্সি স্থাপন করেছেন যাতে সূর্য ও আলোকোজ্জ্বল চন্দ্রও স্থাপন করেছি। (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬১)
বহুরূপী মহাকাশ
আকাশের রং কী? নীল আকাশ বলে মানুষের মুখে পরিচিত হলেও বাস্তবে আকাশের সুনির্দিষ্ট কোনো রং নেই। বায়ুমণ্ডলের ক্ষুদ্র অণুগুলো দৃষ্টিসীমার প্রান্তে নীল হয়ে দেখা দেয়। অবস্থাভেদে আকাশ বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করে। আবার রংধনুর মেলায় একই সঙ্গে সাত রঙেও সেজে ওঠে। আকাশের এই বহুরূপী সজ্জার বর্ণনা পবিত্র কোরআনে এভাবে এসেছে। ‘কসম ওই আকাশের, যা বিভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করে। (সুরা : তারিক, আয়াত : ১১)
মহাকাশ সপ্তস্তরে বিন্যস্ত
সাম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞান মহাকাশের সাতটি স্তর আবিষ্কার করেছে। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় এগুলোর নামকরণ করা হয়েছে এ রকম—১. ট্রাপোস্ফিয়ার। ২. স্ট্রাটোস্ফিয়ার। ৩. ওজনোস্ফিয়ার। ৪. মেসোস্ফিয়ার। ৫. থার্মোস্ফিয়ার। ৬. আয়নোস্ফিয়ার। ৭. এক্সোস্ফিয়ার।
অথচ পবিত্র কোরআনে এক হাজার ৫০০ বছর আগেই একাধিক আয়াতে এ তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। সুরা মুমিনুনের ১৮ নম্বর আয়াতে ‘সাবআ তরাইক’ শব্দে, সুরা মুলকের তিন নম্বর আয়াতে ‘তিবাকা’ শব্দে এবং সুরা নাবার ১২ নম্বর আয়াতে ‘সিদাদা’ শব্দে মহাকাশের সপ্তস্তরের বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে।
ক্রমবিস্তৃত মহাকাশ
সাম্প্রতিক সময়ে সর্ববৃহৎ মহাকাশ গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান নাসা এ তথ্য আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে যে ভূপৃষ্ঠের পরিধি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে এবং মহাকাশের পরিধি ক্রমেই বিস্তৃতি লাভ করছে। চাঞ্চল্যকর এ তথ্যে অনেকেই চোখ কপালে তুলেছিল। কিন্তু আজ থেকে এক হাজার ৫০০ বছর আগে মরুভূমির বালুতে দাঁড়িয়ে পবিত্র কোরআন থেকে এ তথ্য সরবরাহ করেছিলেন মুহাম্মাদে আরাবি (সা.)। মহান আল্লাহ বলছেন, আমি নিজ হাতে আসমান সৃষ্টি করেছি এবং আমিই এর বিস্তৃতি ঘটাই। (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৪৭)। অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা কি দেখে না আমি ভূপৃষ্ঠের পরিধি ক্রমশ সংকুচিত করে আনছি, এর পরও কি তারাই বিজয়ী!’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৪৪)
খুঁটিহীন আসমান
যেখানে শূন্যের ওপর এক টুকরা টিস্যু পেপারের অস্তিত্বও কল্পনা করা যায় না। সেখানে এত বিশাল মহাকাশ মহাশূন্যের মাঝে কিভাবে ভাসমান থাকতে পারে? জবাব আল্লাহ তাআলা নিজেই দিচ্ছেন, ‘তার নিদর্শনাবলি থেকে এটাও একটি যে আসমান-জমিন কেবলমাত্র তাঁর আদেশের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে। (সুরা : রোম, আয়াত : ২৫)। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সাত আসমান আমি খুঁটিবিহীন ভাসমান অবস্থায় সৃষ্টি করেছি, যা তোমরা দেখছ।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১০)
মহাকাশ দরজাবিশিষ্ট
পবিত্র কোরআনের বেশ কিছু আয়াত পাশাপাশি রাখলে বিষয়টি সহজে অনুধাবন করা সম্ভব হবে। সুরা আম্বিয়ার ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, আমি সুদৃঢ় ছাদরূপে আসমান সৃষ্টি করেছি। আর আকাশের এপার-ওপার সংযোগের জন্য রয়েছে দরজা। কালামে পাকে ইরশাদ হচ্ছে, ‘যারা অহংকারবশত আমার নিদর্শনাবলি অস্বীকার করে তাদের জন্য আকাশের দরজা উন্মোচিত হবে না। আবার এসব দরজায় রয়েছে শক্ত পাহারার ব্যবস্থা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মহান আল্লাহ, যিনি মাত্র দুই দিনে মহাকাশে সপ্তস্তর নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করেছেন। প্রতিটি স্তরের কার্যক্রম বিন্যস্ত করেছেন। এবং পৃথিবীর আকাশ অসংখ্য আলোকবাতি দ্বারা সুসজ্জিত করেছেন এবং সুদৃঢ় নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।’ (সুরা : ফুসিসলাত, আয়াত : ১২)
ধোঁয়াশাঘেরা মহাকাশ
প্রথমবারের মতো আমেরিকান মহাকাশ গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান নাসা এ তথ্য সরবরাহ করেছিল যে মহাশূন্য খুব গভীর ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। খুব সকালে সূর্যের রশ্মি ও রাতে তারার আলোতে যে বিচ্ছুরণ সৃষ্টি হয় তা মূলত এই ধোঁয়াশার কারণেই হয়। যেমন—কুয়াশাঘেরা পরিবেশে বাতির আলো ভিন্ন ধরনের রশ্মি বিচ্ছুরণ সৃষ্টি করে। পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘ভূপৃষ্ঠ নির্মাণের কাজ সমাধার পর তিনি আকাশ নির্মাণের দিকে মনোনিবেশ করলেন আর তখন তা ছিল ধোঁয়াশাঘেরা।’ (সুরা : ফুসিসলাত, আয়াত : ১১)
মহাকাশের বাসিন্দা
ভূপৃষ্ঠের এই ক্ষুদ্র পরিধিতে কয়টা জীব-জানোয়ারই বা বসবাস করে। অথচ এই বিশাল আকাশজুড়ে আল্লাহর অসংখ্য সৃষ্টি জীব রয়েছে। যারা সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহকে সিজদা করে এবং তাঁর গুণগানে মগ্ন। যাদের সংখ্যা শুধু আল্লাহই ভালো জানেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর আমি আসমানের দিকে দৃষ্টি দিয়ে দেখলাম তা শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা পরিবেষ্টিত।’ (সুরা : জিন, আয়াত : ৮)
সব শেষে মহাকাশ
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন যে একমাত্র তাঁর পবিত্র সত্তা ছাড়া মহাবিশ্বের সব কিছুই ধ্বংসশীল। বিন্দু থেকে শুরু হওয়া এই বৃহৎ বিস্তৃত মহাবিশ্ব আবার শুরুতে ফিরে আসবে। আর সাত আসমান বইপত্র গোটানোর মতো গুটিয়ে নেওয়া হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সেদিন আমি আকাশমণ্ডলী গুটিয়ে নেব যেমন লিখিত কাগজপত্র গুটিয়ে রাখা হয়।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০৪)

Saturday, September 28, 2019

পৃথিবী আগে সৃষ্টি নাকি মহাকাশ ?

পৃথিবী আগে সৃষ্টি নাকি মহাকাশ ?
খগেন কুমীনদের দাবীঃ মহাকাশ আগে সৃষ্টি করা হয়েছে এরপরে পৃথিবী এটাই বিজ্ঞান আমাদের বলছে আর ইসলাম আমাদের বলছে আগে পৃথিবী সৃষ্টি করা হয়েছে এরপরে মহাকাশ সুতরাং ইসলাম বিজ্ঞান অনুযায়ী ভুল প্রমান হচ্ছে ।
আমরা প্রথমে "পৃথিবী আগে সৃষ্টি নাকি মহাকাশ" এর পক্ষে বিপক্ষে কিছু পয়েন্ট দাড় করাব এবং সেগুলা বিভিন্ন তথ্য প্রমানের আলোকে নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করব এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পোঁছানর পরে একটি ফলাফল উল্লেখ করব । এবং যুক্তির খাতিরে ধরে নিলাম বিজ্ঞান যা বলছে সেটাই সত্য এবং ইসলাম যেটা বলছে সেটাও সত্য কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফলাফলে ফাইনাল রেজাল্ট প্রকাশ পেয়ে আসলে বুঝা যাবে যে আসলে ইসলাম নাকি বিজ্ঞান সত্য । চলুন শুরু হল ।
১/ প্রথমে মহাকাশ সৃষ্টি এরপরে পৃথিবী । - বিজ্ঞান এটাই বলে ।
২/ আগে বিস্তৃত না করা অবস্থায় পৃথিবীকে সৃষ্টি করা হয় এরপরে মহাকাশ এরপরে কমপ্লিট ভাবে পৃথিবীকে সৃষ্টি করা হয় । - এটি ইসলাম বলে।
৩/ যদি দুটিই দৃষ্টি সত্য হয় সত্য হয় তাহলে !
৪/ সিদ্ধান্ত ফলাফল ?
উপরের উল্লেখিত পয়েন্ট আমরা যাচাই করব বিশ্লেষণ করব ওকে । ফাইন ।
১/ প্রথমে মহাকাশ সৃষ্টি এরপরে পৃথিবী । - বিজ্ঞান এটাই বলে ।
বিশ্লেষণঃ বিজ্ঞান মামা আমাদেরকে বলেন যে একটি মহাবিস্ফোরণের ফলে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে এবং আজ থেকে প্রায় ৪৫৪ কোটি বছর আগে পৃথিবী গঠিত হয়েছিল। তার মানে পৃথিবী পরে সৃষ্টি হয়েছিল আগে মহাকাশ সৃষ্টি হয়েছিল । কিন্তু প্রশ্ন মনে আসে যখন বিস্ফোরণ হয়েছিল এবং পৃথিবী সৃষ্টি হচ্ছিল তখন কি বিজ্ঞানীরা কেউ সেখানে উপস্থিত ছিল ? উত্তর হচ্ছে না । কিন্তু যিনি মহাকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি কিন্তু তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ । আচ্ছা বিজ্ঞান কি পরিবর্তনশীল ? হ্যাঁ । ইসলামের কোন বিধান কি পরিবর্তনশীল ? না । আচ্ছা যেহেতু মহাকাশ অথবা পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার সময় কোন বিজ্ঞানী সেখানে ছিলেন না তাহলে খামাখা প্রথমে মহাকাশ এবং পরে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল এর আগে পৃথিবীর অস্তিত্ব ছিল না এই দাবী কি শক্তিশালী নাকি দুর্বল ? উত্তর দুর্বল এবং শুধুই ধারনা ।
আচ্ছা ধরে নিলাম আগেই মহাকাশ সৃষ্টি হয়েছে এবং পরে পৃথিবী । কিন্তু মহাকাশ অস্তিত্বে আসার আগে আল্লাহর কাছে আগেই থেকেই পৃথিবীর অস্তিত্ব ছিল পরে আল্লাহ মহাকাশ সৃষ্টির পরে পৃথিবীকে সেখানে ফিট করে দেন এটি কি আল্লাহর কাছে পসিবল ? উত্তর হল হ্যাঁ । একে বারেই সহজ কিন্তু ।
২/ আগে বিস্তৃত না করা অবস্থায় পৃথিবীকে সৃষ্টি করা হয় পরে মহাকাশ এরপরে পৃথিবী সৃষ্টি কমপ্লিট করা হয়েছে । - এটি ইসলাম বলে ।
বিশ্লেষণঃ এই বিষয় ইসলামের তথ্য প্রমান সমূহ দেখে নেই চলুন ।
= সুরা বাকারা ২:২৯ = তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু পৃথিবীতে (আরবি শব্দ "উলআরদ্দ") রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।
* ডঃ মুজিবুর রহমান অনুবাদকৃত, তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/২১৩ = মহান আল্লাহ প্রথমে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তারপরে সাতটি আকাশ নির্মাণ করেছেন ।
* ডঃ মুজিবুর রহমান অনুবাদকৃত, তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/২১৫ = হযরত মুজাহিদ (রহ) বলেন যে মহান আল্লাহ পৃথিবীকে আকাশের পূর্বে সৃষ্টি করেছেন । ওটা হতে যে ধোয়া উপরের দিকে উঠেছে তা হতে আকাশ নির্মাণ করেন - যা একটির উপর আর একটি এভাবে সাতটি এবং যমীনও একটির নিচে আরেকটি এভাবে সাতটি । এ আয়াত দ্বারা স্পষ্টভাবে জানা যাচ্ছে যে পৃথিবীকে আকাশের পূর্বে সৃষ্টি করা হয়েছে । যেমন সুরা সিজদাহর মধ্যে রয়েছে । আলেমগন এ বিষয়ে একমত ।
* ই,ফা, তাফসীরে ইবনে আব্বাসের ১/২৬ = আগে পৃথিবী এরপরে আকাশ সৃষ্টি করার কথা বলা হয়েছে ।
= আকাশের পরে পৃথিবীকে বিকশিত করা হয়েছেঃ কুরআনের আয়াতসমূহ প্রমাণ করে যে, পৃথিবীকে বিস্তৃত করা হয়েছে আকাশ সৃষ্টির পরে। আল্লাহ বলেনঃ
* সুরা ফুসসিলাত ৪১:৯ থেকে ১২ = বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা। তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম। অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।
* নাযিআত ৭৯ : ২৭ থেকে ৩০ = “তোমাদেরকে সৃষ্টি করা অধিক কঠিন, নাকি আকাশ সৃষ্টি? তিনিই আল্লাহ তা বানিয়েছেন।”এরপরে আল্লাহ বলেছেন, “এবং পৃথিবীকে এরপরে বিস্তৃত করেছেন।”
এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে পৃথিবীর বিস্তৃতকরণ প্রক্রিয়া সম্পাদন করা হয়েছে আকাশমণ্ডলী সৃষ্টির পরে।
এ প্রসঙ্গে আদওয়াউল বায়ানে হযরত আশ শানকিতী (রহ) তাঁর তাফসিরে লিখেছেন,
“ইবন আব্বাস(রা.)কে সুরা ফুসসিলাত এবং সুরা নাযিআতের আয়াতগুলো সমন্বয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উত্তর দেন – আল্লাহ তা’আলা প্রথমে বিস্তৃত না করা অবস্থায় পৃথিবীকে সৃষ্টি করেন। এরপরে তিনি আকাশ সৃষ্টি করেন এবং ২ দিনে (বা পর্যায়কালে) একে ৭ আকাশে পরিনত করেন। এরপর তিনি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেন এবং এতে পাহাড়, নদী এবং অন্যান্য জিনিস সৃষ্টি করেন। অতএব পৃথিবীর সৃষ্টি আকাশের আগে, কিন্তু পাহাড়-পর্বত, গাছ এবং অন্যান্য বস্তুসহ একে বিস্তৃত করা হয়েছে আকাশ সৃষ্টির পরে। এর প্রমাণ সুরা নাযিআত ৭৯:৩০ = আল্লাহ তা’আলার বক্তব্য তথা এবং পৃথিবীকে এরপরে বিস্তৃত করেছেন” - এখানে তিনি বলেননি “সৃষ্টি করেছেন” (বরং বলেছেন “বিস্তৃত করেছেন”। এরপর আল্লাহ ব্যাখ্যা করেছেন তিনি কিভাবে তিনি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন –নাযিআত ৭৯:৩১ = তিনি এর (পৃথিবী) ভিতর থেকে বের করেছেন এর পানি ও এর তৃণ। ইবন আব্বাস(রা.) কর্তৃক আয়াত ২টির এই সমন্বয়ে কোনো প্রকারের অস্পষ্টতা নেই বরং কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ ও ইঙ্গিত থেকেই এই ব্যাপারটি বোঝা যাচ্ছে। ।
৩/ যদি দুটিই দৃষ্টি সত্য হয় সত্য হয় তাহলে !
বিশ্লেষণঃ দেখুন বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিজ্ঞান সঠিক কারন মহাবিশ্বের আগে পরিবেশ কেমন বস্তু ছিল সেটি বিজ্ঞান গ্যারান্টি সহকারে আমাদের পেশ করতে অক্ষম কলিকাতা হারবাল সেবন করালেও বিজ্ঞান এই প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হবে না । যেহেতু বিজ্ঞান প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে না তাই বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সে বলতেই পারে যে আগে মহাবিশ্ব হয়েছে এরপরে পৃথিবী । "মহাবিশ্বর আগে পৃথিবীও ছিল" - এটিকেও বিজ্ঞান অস্বীকার করার ক্ষমতা রাখে না যেহেতু সে জানেই না যে মহাবিশ্বর আগে কিছু ছিল ।
আবার ইসলামের দৃষ্টিতেও ইসলাম সঠিক । আল্লাহ হলেন সময়ের সৃষ্টিকর্তা এমনকি সব কিছুই তিনি সৃষ্টি করেছেন তাই মহাবিশ্বর আগে পৃথিবী সৃষ্টি করা কি তাঁর পক্ষে ইম্পসিবল ? উত্তর হচ্ছে না । আল্লাহ মহাবিশ্বর আগে পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন পরে সেটিকে বিকশিত করে দিয়েছেন ব্যাস কিন্তু বিজ্ঞানের এই ক্ষমতা নেই যে ইসলামের এই তথ্যকে ভুল দাবী করার যেহেতু বিজ্ঞান নিজেই জানে না আসলে মহাবিশ্বর আগে কি ছিল কিনা !
= আল্লাহ্‌ সর্বশক্তিমানঃ তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবানঃতিনি সব কিছু করতে সক্ষমঃ
* সুরা বাকারা ২:২৮৪
* সুরা আল ইমরান ৩:১৮৯
* সুরা মায়দা ৫:১
* সুরা মায়দা ৫:১২০
* সুরা আনাআম ৬:৬৫
* সুরা আনআম ৬:৭৩
* সুরা নাহল ১৬:৭০
* সুরা হজ ২২:৬
* সুরা নুর ২৪:৪৫
* সুরা আনকাবুত ২৯:২০
* সুরা রুম ৩০:৫০
* সুরা ফাতির ৩৫:১
* সুরা ফাতির ৩৫:৪৪
* সুরা ফুসসিলাত ৪১:৩৯
* সুরা শুরা ৪২:৯
* সুরা হাদিদ ৫৭:২
* সুরা তাগাবুন ৬৪:১
৪/ সিদ্ধান্ত ফলাফল ?
* কাহফ ১৮ : ৫১ = “আমি তাদেরকে আসমানসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টির সাক্ষী করিনি আর না তাদের নিজেদের সৃষ্টির।
মনোযোগের সাথে এই আয়াত পড়লে আমরা পরিস্কার বাস্তবতা বুঝতে পারি যে আমরা মানুষ আর আমরা বাস্তবেও তখন ছিলাম না শুধুই তাই নয় এমনকি আমাদের বিজ্ঞানও তখন ছিল না যখন আল্লাহ আসমান অথবা পৃথিবী সৃষ্টিকরছিলেন । তাহলে বিজ্ঞান যেহেতু সেখানে ছিল না তাই বিজ্ঞান কখনো বলার ক্ষমতা রাখে না যে "মহাবিশ্বর আগে পৃথিবী ছিল না এটি ভুল" । তারপরে মজার ব্যাপার হল মহাকাশ আর পৃথিবী যেহেতু আল্লাহর সৃষ্টি তাই আল্লাহ একটিকেই আগেই বানাক অথবা পরেই তৈরি করুক এটি আল্লাহর কাছে খুবই সহজ ।
নর্মাল কথা যা আমরা প্রাই বলে থাকি যে বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত সত্য গবেষণা ইসলাম সম্মত এটি সত্য কিন্তু বিজ্ঞান যে বিষয়ে গ্যারান্টি দিতে পারে না অথবা বিজ্ঞান যেই বিষয়ে গবেষণাই করতে অক্ষম সেই বিষয়ে বিজ্ঞানের রায় নিঃসন্দেহে অযৌক্তিক । উদাহরণ স্বরূপ ধরুন আপনি অংকই করতে জানেন না তাহলে অংক নিয়ে কেন আপনি রায় দিতে যাবেন । আরও মজার কথা হল কুরআন ও সুন্নাহ মুসলিমদের নিকট সর্বাধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। যেখানে বিজ্ঞান ও কুরআন-সুন্নাহর তথ্য একমত হয় না, সেখানে আমরা মুসলিমরা কুরআন-সুন্নাহর দিকেই ফিরে যাই। বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, বিজ্ঞানের তথ্য নিয়ত পরিবর্তনশীল।
আর নাস্তিক ধর্মের অন্ধ বিশ্বাসীরা বিজ্ঞানের উপর অন্ধ বিশ্বাস করলেও আমরা মুসলিমরা কখনোই বিজ্ঞানের উপর অন্ধ বিশ্বাস করি না । কারন মরহুম গ্রীক জ্যোতির্বিজ্ঞানী টলেমী হুজুর আমাদের ফতয়া দিয়েছিলেন যে সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে । বিজ্ঞান ফতয়া বিভাগে এই ভুল মিথ্যা ফতোয়া টিকে ছিল পুরো ২৫০ বছর । এই ২৫০ বছরে ধরে পৃথিবীর মানুষ , যাদের মধ্যে আবার বড় বড় বিজ্ঞানী , ডাক্তার , ইঞ্জিনিয়ার ছিল তারাও বিশ্বাস করত যে সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে । এই ২৫০ বছরে তাদের মধ্যে যারা ইন্তেকাল করেছেন তারা এই ভুল বিশ্বাস নিয়েই মারা গিয়েছেন যে সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে ।
আবার মরহুম টলেমী হুজুরের বৈজ্ঞানিক ফতোয়ার বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন আরেক মরহুম বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপারনিকাস কিন্তু এই মরহুম বিজ্ঞানীও ঘাবলা করে গেছেন সেটি হল সে বলেছে "সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে না বরং পৃথিবীই সূর্যের চারপাশে ঘোরে আর সূর্য ঘোরে না কিন্ত আজ আজকের জীবিত বিজ্ঞানীরা আমাদের বলছে যে সূর্য স্থির নয় বরং সূর্যও নিজের কক্ষপথে অবিরাম ঘুরছে । শুনলে অবাক হবেন মরহুম বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপারনিকাস হুজুরের ফতোয়া টিকে ছিল ৫০ বছর ।
সুতরাং আমরা বিজ্ঞানের উপর অন্ধ বিশ্বাস করে খগেনদের মত হতে চাই না তবে আমরা এটাই মানি যে বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত সত্য গবেষণা ইসলাম সম্মত হলে আমরা স্বীকার করতে দ্বিধাবোধ করি না আর করবোও না - হ্যাঁ এটাই আমাদের প্রস্তাব ।
উপরের আলোচনার সারমর্ম হলঃ
১/ বিজ্ঞান বলে প্রথমে মহাকাশ সৃষ্টি হয়েছে এরপরে পৃথিবী ।
২/ বিজ্ঞান জানে না মহাবিশ্বর আগের পরিবেশ কেমন ছিল ।
৩/ বিজ্ঞান এটাও জানে না যে পৃথিবী মহাবিশ্বর আগে থাকতে পারে কিনা ।
৪/ ইসলাম বলে আগে বিস্তৃত না করা অবস্থায় পৃথিবীকে সৃষ্টি করা হয় এরপরে মহাকাশ এরপরে কমপ্লিট ভাবে পৃথিবীকে সৃষ্টি করা হয় ।
৫/ ইসলাম বলে যেহেতু আল্লাহ আমাদের সৃষ্টিকর্তা তাই আল্লাহর পক্ষে পৃথিবীকে বিস্তৃত না করা অবস্থায় মহাবিশ্বর আগে সৃষ্টি করা একেবারেই সহজ।
৬/ যখন মহাবিশ্ব অথবা পৃথিবী সৃষ্টি করা হচ্ছিল তখন বিজ্ঞানীরা সেখানে কেউই ছিলেন না কিন্তু স্রষ্টাই এসব সৃষ্টি করছিলেন তাই স্রষ্টা যা বলবেন সেটাই সত্য বলে প্রমানিত হয়ে যাচ্ছে ।
৭/ বিজ্ঞান ইসলামের দৃষ্টি কখনো ভুল প্রমান করতে সক্ষম হবে না কারন মহাবিশ্ব পৃথিবী ইত্যাদি সৃষ্টিতে বিজ্ঞানীরা সেখানে ছিল না । যেখানে বিজ্ঞানীরাই ছিল না সেখানে বিজ্ঞান কি ভাবে ফতোয়া দিবে ?
৮/ বিজ্ঞানের উপর নাস্তিক ধর্মের অন্ধ বিশ্বাসী অনুসারীরা অন্ধ বিশ্বাস করলেও মুসলিমরা বিজ্ঞানের উপর অন্ধ বিশ্বাস করে না ।
৯/ বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত সত্য ইসলাম সম্মত হলে সেখানে মুসলিমরা বিজ্ঞান মানতে কোন আপত্তি নেই ।
১০/ বিজ্ঞান কখনো ইসলামের প্রস্তাব ভুল প্রমান করতে সক্ষম হবে না । এটাই ফাইনাল ।

লিখেছেনঃ এম ডি আলী

Monday, September 23, 2019

দুশ্চরিত্রা নারীরা দুশ্চরিত্র পুরুষদের জন্য- আয়াতের শানে নূযূল

দুশ্চরিত্রা নারীরা দুশ্চরিত্র পুরুষদের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষরা দুশ্চরিত্রা নারীদের জন্য। আর সচ্চরিত্রা নারীরা সচ্চরিত্র পুরুষদের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষরা সচ্চরিত্রা নারীদের জন্য; লোকেরা যা বলে, তারা তা থেকে মুক্ত। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিয্ক। সুরা নূর আয়াত ২৬। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এইরূপ মন্দ কথা মন্দ লোকদের জন্যেই শোভা পায়। ভাল কথা ভাল লোকদের জন্যেই শোভনীয় হয়ে থাকে। অর্থাৎ মুনাফিকরা হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ)-এর উপর যে অপবাদ আরোপ করেছে এবং তাঁর সম্পর্কে যে জঘন্য কথা উচ্চারণ করেছে তার যোগ্য তারাই। কেননা, তারাই অশ্লীল ও ম্লেচ্ছ। হযরত আয়েশা (রাঃ) সতী-সাধ্বী বলে তিনি পবিত্র কথারই যোগ্য। এ আয়াতটিও হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। আয়াতটির পরিষ্কার অর্থ এই যে, আল্লাহর রাসূল (সঃ), যিনি সব দিক দিয়েই পবিত্র, তাঁর বিবাহে যে আল্লাহ তা'আলা অসতী ও ম্লেচ্ছা নারী প্রদান করবেন এটা অসম্ভব। কলুষিতা নারী কলুষিত পুরুষের জন্যে শোভনীয়। এজন্যেই মহান আল্লাহ বলেনঃ লোকে যা বলে তারা তা হতে পবিত্র। এই দুষ্ট লোকদের মন্দ ও ঘৃণ্য কথায় তারা যে দুঃখ ও কষ্ট পেয়েছে এটাও ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা লাভের কারণ। তারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর স্ত্রী বলে জান্নাতে আদনে তাঁর সাথেই থাকবে।

একদা হযরত উসায়েদ ইবনে জাবির (রাঃ) হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট এসে বলেন- “আজ আমি ওয়ালীদ ইবনে উকবা (রাঃ)-এর এক অতি মূল্যবান ও উত্তম কথা শুনেছি।” তখন হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) তাকে বলেনঃ “ঠিকই বটে। মুমিনের অন্তরে একটি কথা আসে। তারপরে ওটা তার বক্ষের উপর চলে আসে এবং এরপর সে ওটা মুখ দ্বারা প্রকাশ করে। কথাটি ভাল বলে ভাল কথা শ্রবণকারী ওটাকে নিজের অন্তরে বসিয়ে নেয়। অনুরূপভাবে মন্দ কথা মন্দ লোকদের অন্তর হতে বক্ষের উপর এবং বক্ষ হতে জিহ্বা পর্যন্ত চলে আসে। মন্দ লোক ওটাকে শোনা দ নিজের অন্তরে বসিয়ে নেয়।” অতঃপর হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) (আরবি)-এই আয়াতটি পাঠ করেন। (এটা ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি বহু কিছু কথা শোনার পর ওগুলোর মধ্যে যে কথা সবচেয়ে নিকৃষ্ট ওটাই বর্ণনা করে তার দৃষ্টান্ত হলো ঐ ব্যক্তি যে কোন বকরীর মালিকের কাছে একটি বকরী চাইলো। তখন বকরীর মালিক তাকে বললোঃ “তুমি বকরীর যুথ বা খোয়াড়ে গিয়ে তোমার ইচ্ছামত একটি বকরী নিয়ে নাও।” তার কথামত সে যুথে গিয়ে বকরীর (প্রহরী) কুকুরের কান। ধরে নিয়ে আসলো।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন) অন্য হাদীসে রয়েছেঃ “জ্ঞানের কথা মুমিনের হারারো সম্পদ। সে ওটা যেখানেই পাবে নিয়ে নিবে।”

মুনাফিকরা যখন আয়িশাহ -কে মিথ্যা অপবাদ দিল তখন আল্লাহ তা‘আলা অভিযোগ থেকে মুক্ত করার জন্য এ আয়াতটি নাযিল করেন।

উক্ত আয়াতে মূলত বলা হচ্ছে যে, নাবী-রাসূলগণ যেমন সৎ ও পূতঃপবিত্র, তাদের স্ত্রীগণও কখনো অসৎ হতে পারে না। সুতরাং তাদের স্ত্রীগণও সৎ ও সতী-সাধ্বী। আর অসৎ স্ত্রীগণ তো অসৎ লোকদের জন্য, কোন সৎ লোকদের জন্য অসৎ স্ত্রী নয়।

আয়িশাহ (رضي الله عنها) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)‎-এর অভ্যাস ছিল যে, সফরে যাওয়ার সময় তিনি তাঁর স্ত্রীদের নামে লটারী করতেন। লটারীতে যার নাম উঠতো তাকে তিনি সাথে নিয়ে যেতেন। ঘটনাক্রমে তাঁর এক যুদ্ধে গমনের সময় লটারীতে আমার নাম উঠে আসে। আমি তাঁর সাথে গমন করি। আর এটা ছিল পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পরের ঘটনা। আমি আমার হাওদাতে বসে থাকতাম। যখন যাত্রীদল কোন জায়গায় নামতো তখন আমার হাওদা নামিয়ে নেয়া হত। আমি হাওদার মধ্যেই বসে তাকতাম। আবার যখন কাফেলা চলতে শুরু করত তখন আমার হাওদাও উটের ওপর উঠিয়ে দেয়া হত।
এভাবে আমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাই। যুদ্ধ শেষে আমরা মদীনায় ফিরতে শুরু করি। আমরা মদীনার নিকটবর্তী হলে রাতে গমনের ঘোষণা দেয়া হয়। আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজন পুরণের উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়ি এবং সেনা বাহিনীর তাঁবু থেকে বহু দূরে চলে যাই। প্রয়োজন পুরো করে আমি ফিরে এসে গলায় হাত দিয়ে দেখি যে, গলায় হার নেই। তখন হার খুঁজতে পুনরায় সেখানে যাই। আর তখন সেনাবাহিনী যাত্রা শুরু করে দিল। যে লোকগুলো আমার হাওদা উঠিয়ে দিত তারা মনে করল যে, আমি ঐ হাওদার মধ্যেই আছি, তাই তারা আমার হাওদাটি উটের পিঠে উঠিয়ে দিল এবং চলতে শুরু করল। ঐসময় পর্যন্ত স্ত্রীলোকেরা বেশি পানাহার করত না, ফলে তাদের দেহ বেশি ভারী হতো না। তাই আমাকে বহনকারীরা হাওদার মধ্যে আমার থাকা না থাকার কোন টেরই পেল না। তাছাড়া আমি ছিলাম ঐ সময় খুবই অল্প বয়সের মেয়ে। দীর্ঘক্ষণ পর আমি আমার হারানো হারটি খুঁজে পেলাম। সেনাবাহিনীর বিশ্রামস্থলে পৌঁছে সেখানে কাউকে পেলাম না। আমি যেখানে আমার উটটি ছিল সেস্থানে পৌঁছলাম। সেখানে আমি এ অপেক্ষায় বসে পড়লাম যে, সেনাবাহিনী সামনে অগ্রসর হয়ে যখন আমার না থাকার খবর জানবে তখন অবশ্যই এখানে লোক পাঠাবে। এমতাবস্থায় আমি ঘুমিয়ে পড়ি। আর সফওয়ান বিন মুআত্তাল আস-সুলামী আয-যাকওয়ানী যিনি সেনাবাহিনীর পিছনে ছিলেন এবং শেষ রাত্রে চলতে শুরু করলেন সকালে এখানে পৌঁছেন। তিনি একজন ঘুমন্ত মানুষকে দেখতে পেয়ে আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে দেখে চিনতে পারলেন।

তার শব্দ শুনে আমি ঘুম থেকে জেগে উঠে নিজেকে চাদর দ্বারা সামলিয়ে নেই। তৎক্ষণাৎ তিনি তার উটটি বসিয়ে দেন এবং ওর হাতের ওপর নিজের পা রেখে সওয়ারীর ওপর আরোহণ করি। তিনি উটকে উঠিয়ে চালাতে শুরু করেন। আল্লাহ তা‘আলার শপথ! তিনি আমার সাথে কোন কথা বলেননি এবং আমিও তার সাথে কোন কথা বলিনি। প্রায় দুপুর বেলায় আমরা আমাদের যাত্রীদলের সাথে মিলিত হই। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যুকেরা অপবাদের ঘটনা রটিয়ে দেয়। আর এই افك বা মিথ্যা অপবাদের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সূরা নূরের ১১-২০ নং আয়াত পর্যন্ত নাযিল হয় এবং প্রমাণিত হয় যে, আয়িশাহ  সম্পূর্ণরূপে নির্দোষ। (সহীহ বুখারী হা: ৪৭৫০, সহীহ মুসলিম হা: ২৭৭০)
الْإِفْكِ বলতে সে মিথ্যা অপবাদ রটনার ঘটনাকে বুঝানো হয়েছে, যে ঘটনায় আয়িশাহ -কে অপকর্মের অপবাদ দেয়া হয়েছে।
(عُصْبَةٌ مِّنْكُمْ)
অর্থাৎ যারা এ মিথ্যা অপবাদ দানে জড়িত তারা তোমাদের মধ্যকার একটি জামাত, যারা নিজেদেরকে মু’মিন বলে থাকে। এদের মধ্যে কেউ মুনাফিক, আর কেউ প্রকৃত মু’মিন, কিন্তু মুনাফিকদের প্ররোচনায় সে সব হয়েছে। তারা হলেন হাসসান বিন সাবেত যিনি রাসূলের কবি বলে পরিচিত, মিসত্বাহ বিন আসাসাহ ও হামনাহ বিনতে জাহাশ।

এ মিথ্যা অপবাদ রটানোর ঘটনাকে নিজেদের জন্য খারাপ মনে করো না। মান-সম্মানের ব্যাপার বলে যদিও বাহ্যিকভাবে খারাপ দেখা যাচ্ছে, কিন্তু এর মাধ্যমে যাকে অপবাদ দেয়া হয়েছে তাকে অপবাদ থেকে মুক্ত করা হবে, তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেয়া হবে এবং এর মাধ্যমে এ বিষয়ে শরীয়তের বিধান দেয়া হবে যা তোমাদের উপকারে আসবে। আর যারা অপবাদ দিয়েছে তাদের মধ্যে কে সত্যবাদী আর কে মিথ্যাবাদী এবং কে মূল হোতা তা চিহ্নিত করা হবে।
(وَالَّذِيْ تَوَلّٰي كِبْرَه)
‘এবং তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছে’ প্রধান ভূমিকা পালন করেছে মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ বিন উবাই বিন সুলুল। সে এ অপবাদ রটনার ব্যাপারে অন্যদেরকে প্ররোচিত করেছে।
(لَوْلَآ إِذْ سَمِعْتُمُوْهُ ظَنَّ....)
মু’মিনরা যখন নিজেদের মাঝে এরূপ অপবাদমূলক কথা শুনবে তখন কী করণীয় হবে সে দিক নির্দেশনা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে মু’মিনগণ! যখন তোমরা এরূপ অপবাদমূলক কথা শুনলে কেন নিজেদের ব্যাপারে ভাল ধারণা করলে না? তা হলন যে অপবাদ দেয়া হয়েছে তা থেকে তিনি মুক্ত, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অপবাদ। অথচ অপবাদের জন্য চারজন সাক্ষী উপস্থিত করা উচিত তাও তারা করতে পারেনি, তারপরেও তোমরা মিথ্যা বলনি। উক্ত আয়াতগুলো অবতীর্ণ হওয়ার পরে হাসসান, মিসত্বাহ ও হামনাহ বিনতে জাহাশকে অপবাদের শাস্তি প্রদান করা হয়। (তিরমিযী হা: ৩১৮১, আবূ দাঊদ হা: ৪৪৭৪, হাসান) কিন্তু আব্দুল্লাহ বিন উবাইকে শাস্তি দেয়া হয়নি। বরং তার জন্য আখেরাতের শাস্তি প্রস্তুত রাখা হয়েছে, অপর দিকে মু’মিনদেরকে শাস্তি দিয়ে দুনিয়াতেই পবিত্র করা হয়েছে। ফলে আখিরাতে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে না।
অর্থাৎ তোমরা যে মিথ্যা অপবাদ রটিয়েছ, তার জন্য আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে পাকড়াও করতেন যদি তোমাদের প্রতি দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহ তা‘আলার রহমত না থাকত।

তোমরা বিষয়টি সত্য-মিথ্যা না জেনে, না বুঝে মুখে মুখে প্রচার শুরু করছ, আর বিষয়টিকে খুবই তুচ্ছ মনে করছ অথচ এটা আল্লাহ তা‘আলার নিকট খুবই বড় ধরণের অপরাধ। তোমাদের উচিত ছিল প্রচার না করে আল্লাহ তা‘আলার দিকে সোপর্দ করা। যেমন হাদীসে এসেছে: কোন কোন সময় মানুষ আল্লাহ তা‘আলার অসন্তুষ্টির এমন কথা উচ্চারণ করে ফেলে যার কোন গুরুত্ব তার কাছে নেই। কিন্তু ঐ কারণে সে জাহান্নামের এত নিম্নে পৌঁছে যায় যত নিম্নে আকাশ হতে জমিন রয়েছে। এমনকি তার চেয়েও নিম্নে চলে যায়। (সহীহ বুখারী হা: ৬৪৭৮,
এখানে মু’মিনদেরকে দ্বিতীয়বার শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে যে, যখন তারা এ অপবাদের কথা শুনেছিল তখন এ ব্যাপারে কোন কথা না বলে তাদের এমনটি বলা উচিত ছিল যে, আমাদের এ ব্যাপারে কিছুই বলা উচিত নয়। যখন তারা এমনটি করেনি তখন তাদের প্রথম বারের ঘটনার জন্য সর্তক করে বলা হচ্ছে যে, দ্বিতীয়বার যেন তারা আর এমনটি না করে। মূলত তাদেরকে এ বিষয়ে সর্তক করে হচ্ছে।
‘নিশ্চয়ই‎ যারা পছন্দ করে যে, মু’মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার হোক’ এটা তৃতীয় সতর্ক বাণী যে, যারা এ ধরণের কথা শুনবে তার জন্য ওটা ছড়ানো হারাম। কারণ যারা ছড়ায় তাদের মূল উদ্দেশ্য হল মু’মিনদেরকে কষ্ট দেয়া এবং তাদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার করা। যারা এ রকম জঘন্য কথা ছড়িয়ে বেড়ায় তাদেরকে পার্থিব জীবনে শাস্তি (হদ) এবং পরলৌকিক শাস্তি জাহান্নামে দেয়া হবে। হাদীসে এসেছে:
সাওবান (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: তোমরা আল্লাহ তা‘আলার বান্দাদেরকে কষ্ট দিও না। এবং তাদের গোপনীয় দোষ অনুসন্ধান করো না। যে তার মুসলিম ভাইয়ের গোপনীয় দোষ অনুসন্ধান করবে আল্লাহও তার গোপনীয় দোষের পিছনে লাগবেন এবং তাকে এমনভাবে লাঞ্ছিত করবেন যে, তাকে তার বাড়ির লোকেরাও খারাপ দৃষ্টিতে দেখতে থাকবে। (মুসানাদ আহমাদ ৫/২৭৯)

Wednesday, August 7, 2019

কুরআন অনুযায়ী কে বেশি মর্যাদাবান মুমিন নাকি মুসলিম?

এক ভাইয়ের সাথে কমেন্টে এ নিয়ে কথা হচ্ছিল।সেখানে আমি নিজেকে মুমিন দাবি করাতে তারা এটাকে নিয়ে অট্রহাসিতে লুটিয়ে পড়ে।
যাই হোক তাদের মুখে কুলুপ এটে দিতেই এই লেখা।
আমরা কোরআন  থেকে জানবো কে বেশি মর্যাদাবান মুমিন নাকি মুসলিম??
.

অতি স্বস্তায় যে জিনিস পাওয়া যায় সেটার প্রতি মানুষের চাহিদা কম।
আমরা জন্মসুএে মুসলিম হয়েছি তাই মনে করি ব্যসস আমাদের কাজ শেষ।
যেহেতু আমরা মুসলিম তাহলে একদিন না একদিন আমরা জান্নাতে যাবোই।
আর নতুন করে মুসলিম হবার দরকার কি।
সকল মোল্লারা আজ মুমিন হবার কথা বলে বাট কেউ প্রকৃত মুসলিম হতে চায় না।তাদের ধারনা মুমিনের মর্যাদা মুসলিমের থেকেও বেশি।
.
.
#প্রত্যক মুসলিম মুমিন কিন্তু প্রত্যকে মুমিন মুসলিম নয়
.
এবার আসুন দেখি কোরআন এই বেপারে কি বলে
কে বেশি মর্যাদাবান মুসলিম নাকি মুমিন।
.
মুমিন=বিশ্বাসি/মেনে নেওয়া/স্বীকার করা।
মুসলিম=যে নিজের সকল ইচ্ছাকে পুরোপুরি ভাবে আল্লাহর কাছে সমর্পন করে।
এক কথায় আত্নসমর্পনকারি।
.
কোরআনে এমন একটা আয়াত ও খোজে পাবেন না যেখানে আল্লাহ আমাদের মুমিন বলে পরিচয় দিতে বলেছেন।
বরং আল্লাহ বলেছেন তোমরা মুসলিম পরিচয় দাও।
আমাদের মুসলিম বলা হয়েছে
২২:৭৮
৪১:৩৩
৩:৬৭
এ ছাড়া আরো অনেক আয়াত আছে।
এবার যদি ৩:৬৭ লক্ষ করেন তবে দেখবেন ইব্রাহিম আ: কে আল্লাহ মুমিন না বলে হানীফ মুসলিম বলেছেন।
মুসলিমের থেকে যদি মুমিন বেশি মর্যাদাবান হতো তাহলে আল্লাহ তাকে মুমিন বলেই ঘোষনা করতেন।
আল্লাহ কিস্তু এমন টা করেনন নি।
.
আপনি যখন একনিষ্ঠ মুসলিম হবেন তখন অটোমেটিক ভাবে আপনি মুমিন হয়ে যাবেন
মুমিন হওয়া ব্যতিত কেউ মুসলিম হতে পারেনা।
প্রক্ষান্তরে মুসলিম হওয়া ব্যতিত মুমিন হতে পারে।
.
একমাএ স্রষ্টাতে অবিশ্বাসি ছাড়া সবাই মুমিন বাট সবাই মুসলিম না।
আগে বলেছি মুমিন মানে বিশ্বাসি।
জান্নাত;জাহান্নাম;হাশর;মিজান;প
ুলসিরাত;পরকাল ফেরেস্তা;এই সব বিশ্বাস করাকেই মুমিন বলে।;
.
এখন মনে প্রশ্ন উদয় হতে পারে যে তাহলে কি খৃষ্টানরাও মুমিন???
কারন তারাও এ গুলা বিশ্বাস করে।
এর সহজ জবাব হল হ্যা তারাও মুমিন
বাট তারা মুমিন মুসলিম নয়।
সামগ্রিকভাবে খৃষ্টানদের সাথে আমাদের বিশ্বাস বেশ মিল রেয়েছে।
তারাও জান্নাত/heaven
জাহান্নাম/hell
জিব্রাইল/holy sprit
নবি/রাসুল/prophet;messenger
এ গুলা বিশ্বাস করে।
তবে আমাদের আর তাদের অমিলের জায়গাটা হল ঈসা/যীশু কে নিয়ে।
আমরা তাকে রাসুল ভাবি আর তারা ঈশ্বর বা ঈশ্বরের পুএ।
তাই তারা মুমিন হয়েও মুসলিম না।
.
যাই হোক মুল প্রসংগে আসি....
.
আল্লাহ পবিএ কোরআনে বেশ কয়েকটি আয়াতে মুমিন তথা বিশ্বাসিদের কেও মুসলিম হয়ে মরতে বলেছেন।
আল্লাহ জানতে তারা বিশ্বাসি কিন্তু তারা প্রকৃত মুমিন নয়।
তার সাথে তারাও শরিক করবে।
১২:১০৬
.
আল্লাহ স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন মুমিনদের কেও মুসলিম হয়ে মরতে।
আল্লাহ ৩ নং সুরার ১০২ নং আয়াতে বলেন...
হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যথাযথ ভয়। আর তোমরা মুসলমান হওয়া ছাড়া মারা যেও না(৩:১০২)
.
অপর আরেক সুরা ২ নং সুরার ১৩২ নং আয়াতে আল্লাহ এমন কথাই বলেন।
.
আর এরই উপদেশ দিয়েছে ইবরাহীম তার সন্তানদেরকে এবং ইয়াকূবও (যে,) ‘হে আমার সন্তানেরা, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দীনকে চয়ন করেছেন। সুতরাং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মারা যেয়ো না।(২:১৩২)
.
আয়াত ২ টা ভাল করে লক্ষ করলেই বুজতে পারবেন যে মুমিন দের কেও আল্লাহ মুসলিম হওয়া ব্যতিত মরতে নিষেধ করেছেন।
মুমিন মানেই যদি মুসলিম হতো তাহলে মুসলিমদের কে কেন মুমিন না হয়ে মরতে বললেন না?????
সকল নবি রাসুল ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম।
মানে মুমিন না হয়ে কেউ ই একনিষ্ঠ মুসলিম হতে পারেনা।
.
যদি সহজ করে বলি মুসলিম হল ফাইনাল স্টেপ।
মুমিন হল সেই ফাইনাল স্টেপে পৌছার প্রথম স্টেপ মাএ। ।
অনেক বিশ্বাসি মুসলিম হয়ে নাও মৃত্যু বরন করতে পারে
৪:১৩৭
তাই আল্লাহ পরার আগ পর্যন্ত মুমিনদের কেও ইসলাম তথা মুসলিম হতে বলেছেন।
.
কাজেই মুসলিমেরর মর্যাদা হল সবার উপরের
মুমিন কখনোই মুসলিমের উপরে মর্যাদাবান হতে পারেনা।
মনে রাখবেন আমি এখানে জন্মসুএে মুসলিম হবাব কথা বলছিনা।
আমি বলছি কর্মসুএে মুসলিম হবাব কথা মানে আল্লাহর আদেশ নিষেদ সর্বক্ষেএে আল্লাহর কাছে নিজের ইচ্ছাকে সমর্পন করা।
.
অবশেষে এটাই বলতে চাই যে...
প্রত্যক মুসলিমই মুমিন
কিন্তু
প্রত্যকে মুমিন একনিষ্ঠ মুসলিম নয়।

Tuesday, July 30, 2019

আল্লহ কুরআনে নিজেকে বুঝাতে "আমরা" শব্দ কেন ব্যবহার করলেন

কুরআনে বিভিন্ন স্থানে আল্লহ নিজেকে বোঝাতে “আমরা” শব্দটি ব্যবহার করেছেন কেন?
.
পবিত্র কুরআনে বহুবচনের ব্যবহার এবং একটি সন্দেহের জবাব
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লহর জন্য।
আমরা এমন একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি যে বিষয়টি শুধু অমুসলিম নয়, অনেক মুসলিমের কাছেও স্পষ্ট নয়। অনেক অমুসলিম প্রশ্ন করে থাকেন, ইসলাম কি একের চেয়ে অধিক সংখ্যক আল্লহতে বিশ্বাসী? কারণ পবিত্র কুরআনে প্রায়ই আল্লহ সুবহানুওয়া তায়ালার বক্তব্যে "আমরা" শব্দটির বহুল প্রচলন প্রদর্শিত হয়।
এবিষয়ে অনেকের বাড়াবাড়ি তো এ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, তারা বলে, কুরআনে আসলে ত্রিতত্ত্ব বা ট্রিনিটির কথা বলা হয়েছে আর মুসলিমরা নাকি গত ১৪০০ বছর ধরে এর ভুল ব্যাখ্যা করে যাচ্ছে! আবার অামেরিকার একদল ভ্রান্ত লোক এতে নাকি এশিয়ান কালো মানুষদের প্রতি ইংগিত খুঁজে পাচ্ছেন! আসলে ব্যাপারটা কি?
আমরা তো জানি ইসলাম একটি কঠিন মনোথিস্টিক (শুধুমাত্র একজন আল্লহতে গভীর বিশ্বাস)
ধর্ম। ইসলাম বিশ্বাস করে যে- আল্লহ তাঁর যোগ্যতায় এক এবং অদ্বিতীয় । তাহলে? এর ব্যাখ্যা কি?
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবন তাইমিয়্যা এর ব্যাখ্যয় বলেছেন, "আরবি সাহিত্যের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, কোন ব্যক্তি নিজের সম্মান বা গৌরব বুঝাতে নিজেকে নাহনু (আমরা) সর্বনাম দিয়ে প্রকাশ করতে পারেন। আবার তিনি একত্ব বুঝাতে আনা (আমি) অথবা তৃতীয় পুরুষ হুয়া (সে) সর্বনামগুলোও ব্যবহার করতে পারেন। আল্লহ আরবদের যখন তাদের ভাষাতেই সম্বোধন করছেন, তিনি কুরআনে এই তিন ধরনের স্টাইলই ব্যবহার করেছেন।
আল্লহ সুবহানুওয়া তায়ালা নিজেকে কিংবা নিজের নাম এবং গুণসমূহ প্রকাশ করার জন্য কখনো একবচন আবার কখনো বহুবচন ব্যবহার করেছেন। যেমন, "নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি।" [সূরা ফাতহ্ ৪৮:১] বা এধরনের আরো অনেক আয়াত। কিন্তু আল্লহ কখনোই দ্বৈত বা দ্বিবচন ব্যবহার করেননি। কারণ বহুবচন যেখানে আল্লহর মর্যাদা, তাঁর নাম এবং গুণসমূহের মাহাত্ম্যকে প্রকাশ করে, দ্বিবচনাত্মক শব্দ সেখানে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সংখ্যাকেই (দুই) নির্দেশ করে, যা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে। [আল আকিদাহ আল তাদমুরিয়্যা, পৃষ্ঠা ৭৫]
ইমাম তাইমিয়্যা আরো বলেন, "ইন্না (নিশ্চয়ই আমরা) বা নাহনু (আমরা) এবং বহুবচনাত্মক অন্যান্য শব্দগুলোর বিভিন্ন রূপ যেমন একটি দল বা সমষ্টির পক্ষে একজনের বক্তব্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় তেমনি কোন ব্যক্তির সম্মান এবং মর্যাদা প্রকাশেও ব্যবহৃত হয়। যেমন কোন সম্রাট যখন কোন আদেশ জারি করেন, তখন সেখানে বলা হয়, 'আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে … …' এক্ষেত্রে যদিও একজন মানুষই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিন্তু তার সম্মানার্থে বহুবচন ব্যবহার করা হচ্ছে। যিনি সবার চেয়ে বেশি সম্মানিত হবার যোগ্য, তিনি হলেন আল্লহ সুবহানুওয়া তায়ালা। তাই তিনি যখন কুরআনে ইন্না বা নাহনু ব্যবহার করেন তা তাঁর সম্মান আর মর্যাদাকেই প্রকাশ করে, সংখ্যাধিক্যকে নয়।
যদি এধরনের কোন আয়াত কারো মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে তাহলে তার উচিত হবে অন্যান্য স্পষ্ট এবং পরিষ্কার আয়াতগুলোর দিকে দৃষ্টি দেয়া। যেমন একজন খৃষ্টান যদি উদাহরণস্বরূপ কুরআনের এই আয়াত সামনে নিয়ে আসে যে, "আমরাই উপদেশ (সম্বলিত কুরআন) নাজিল করেছি এবং আমরাই তার সংরক্ষণকারী।" [সূরা হিজর ১৫:৯] এখানে বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে। তাহলে আমরা "বলো, তিনি আল্লহ, এক ও অদ্বিতীয়।" [সূরা ইখলাস ১১২:১] এবং এধরনের আরো যেসব সুস্পষ্ট আয়াত রয়েছে সেগুলো দ্বারা এসব যুক্তি খন্ডন করবো, যে আয়াতগুলোর অন্য কোন ব্যাখ্যা সম্ভব নয়। এর ফলে যে আসলেই সত্যের সন্ধান করছে তার মনের সব সন্দেহ দূর হয়ে যাবে। প্রতিবার আল্লহ যখন বহুবচন ব্যবহার করেন, তা তাঁর মহান মর্যাদা আর তাঁর অসংখ্য নাম এবং গুণকেই বুঝায়।" [আল আকিদাহ আল তাদমুরিয়্যা, পৃষ্ঠা ১০৯]
আমরা এই সম্মানসূচক বহুবচন কিন্ত অন্যান্য ভাষায়ও দেখতে পাই। যেমন বৃটেনের রাণী এলিজাবেথের লিখিত বক্তব্যগুলোতে সবসময় We এর ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়। ইংরেজিতে একে Royal We বলা হয়। এছাড়া অন্যান্য দেশের প্রধানদের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগুলো জানানোর সময়ও বহুবচন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
আল্লহই সর্বজ্ঞানী এবং তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন।

Friday, July 5, 2019

আল্লহ ও রসুলুল্লহ সঃ এর আনুগত্যের আয়াতসমূহ

🙏যারা আল্লহ ও নাবী (সা:) কে বুঝে না এবং আল্লহর বানী/আদেশ সম্পর্কে অবগত নয় তাদের জন্য
কুরআন মাজীদের কিছু  গুরুত্বপুর্ন আয়াতের সংক্ষিপ্ত বাংলা রুপ/অর্থ। পড়ে দেখুন অন্তর নড়েচড়ে উঠবে। আল্লহু আকবর।

👉তোমাদের মধ্যে যদি কেউ আল্লহ তায়ালা এবং তাঁর রসূলকে অমান্য করে, তার জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।” (সূরা জ্বিন ২৩)

👉“ রসূল তোমাদের যা কিছু দেয় তা তোমরা গ্রহণ করো এবং সে যা কিছু নিষেধ করে তা থেকে বিরত থাকো, আল্লহ তায়ালাকেই ভয় করো; অবশ্যই আল্লহ তায়ালা কঠোর শাস্তিদাতা।” (হাশর ৭)

👉বলুন, যদি তোমরা আল্লহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। [সুরা ইমরান: ৩১]

👉 বলুন, আল্লহ ও রসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুতঃ যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লহ কাফিরদিগকে ভালবাসেন না। [সুরা ইমরান: ৩২]

👉 আল্লহ এবং তার রসূলের আনুগত্য কর এবং পরস্পরে বিবাদ করো না। তাহলে তোমাদের মধ্যে দুর্বলতার সৃষ্টি হবে এবং তোমাদের অবস্থার অবনতি ঘটবে। (সূরা-আনফাল-৪৫-৪৬)

👉হে ঈমানদারগণ, আল্লহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ মান্য কর এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না।
আর তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা বলে যে, আমরা শুনেছি, অথচ তারা শোনেনা।
[আল কুরআন (৮); ২০,২১]

👉"যে আল্লহ্ ও তাঁর রসূলের আনুগত হবে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
(সুরা নিসা - ১৩)

👉 যে ব্যক্তি আল্লহ এবং তাঁর রসূলের নাফরমানি করবে এবং নির্ধারিত সীমালংঘন করবে,আল্লহ তাকে জাহান্নামে দাখিল করাবেন,সে তাতে চিরকাল থাকবে।
(সূরা আন-নিসা-১৪)

👉 হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লহ্ আনূগত্য করো এবং রসূলের আনূগত্য করো এবং তোমদের মধ্যে যারা বিচারক (নির্দেশ দাতা) যদি তোমরা কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহনে বিবাদে লিপ্ত হও - তাহলে উক্ত বিষয়টির ফায়সালা আল্লহ্ ও তাঁর রসূলের কাছে ন্যাস্ত করো।
(সূরা নিসা - ৫৯)

👉 যে রসূলের আনূগত্য করে, সে মূলত আল্লহর আনূগত্য করলো (সূরা নিসা - ৮০)।

👉 যারা আল্লহ ও তার রসূলের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী তদুপরি আল্লহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাসে তারতম্য করতে চায় আর বলে যে, আমরা কিছু বিশ্বাস করি কিন্তু কিছু প্রত্যাখ্যান করি এবং এরই মধ্যবর্তী কোন পথ অবলম্বন করতে চায় । প্রকৃতপক্ষে এরাই সত্য প্রত্যাখ্যাকারী। আর যারা সত্য প্রত্যাখ্যানকারী তাদের জন্য তৈরী করে রেখেছি অপমানজনক আযাব।   [সুরা নিসা: ১৫০-১৫১]

👉 "যারা আল্লহ ও তাঁর রসূলের অবাধ্য হয়, নিঃসন্দেহে (তাদের জন্য) আল্লহ শাস্তি অতি কঠোর। ( সূরা আনফাল - ১৩)

👉আল্লহ এবং তাঁর রসূলকে রাজী রাখাই অত্যাবশ্যক - যদি তারা মুমিন হয়ে থাকে।
(সুরা তওবা - ৬২)।

👉 তারা কি একথা অবগত নয় যে, যারা আল্লহ ও তাঁর রসূলের সাথে শত্রুতা করেছে- তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। (সূরা তওবা - ৬৩)

👉 কোন বিষয়ে আল্লহ ও তাঁর রসূল নির্দেশ দেয়ার পর ঐ বিষয়ে কোন ঈমানদার পুরুষ এবং কোন ঈমানদার নারীর ভিন্নমত পোষন করার অধিকার নেই। (সূরা আহযাব - ৩৬)।

👉 আর যারা আল্লহ ও তাঁর রসূলের অবাধ্য হবে - তারা স্পষ্ট গোমরাহীর মধ্যে পতিত হয়ে গিয়েছে।
( সুরা আহযাব - ৩৬)।

👉 যারা আল্লহ ও তাঁর প্রিয় রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লহ তাদেরকে দুনিয়া ও পরকালের লা'নত করবেন বা অভিশপ্ত করবেন। (সুরা আহযাব - ৫৭)।

👉 যারা আল্লহ ও তাঁর প্রিয় রসূলের বিরুদ্ধাচরন করেছে - তারা অপদস্ত হয়েছে। (সূরা - মুজাদালাহ্ - ৫)।

👉 হে প্রিয় রসূল, যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী - এমন কাউকে আপনি আল্লহ ও তাঁর প্রিয় রসূলের বিরুদ্ধাচারণকারীর সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনকারী রুপে পাবেন-না। (সূরা মুজাদালাহ্ - ২২)।

Friday, June 21, 2019

রসুল সঃ বলেছেন ছোয়াচে রোগ নেই কিন্তু বিজ্ঞান বলছে আছে

প্রশ্ন: রসূল (ছাঃ) বলেন, ছোঁয়াচে কোন রোগ নেই। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, বসন্ত, চোখ ওঠা ইত্যাদি ছোঁয়াচে রোগ। উভয়ের মধ্যে সমন্বয় কি?

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই, কোন কিছুতে অশুভ নেই, পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণ নেই এবং ছফর মাসেও কোন অশুভ নেই। একথা শুনে জনৈক বেদুঈন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তাহ’লে পালের মধ্যে একটা চর্মরোগী উট আসলে বাকীগুলি চর্মরোগী হয় কেন? জবাবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তাহ’লে প্রথম উটটিকে চর্মরোগী বানালো কে? (বুখারী হা/৫৭৭০; মুসলিম হা/২২২০; মিশকাত হা/৪৫৭৭-৭৮ ‘চিকিৎসা ও মন্ত্র’ অধ্যায় ‘শুভ ও অশুভ লক্ষণ’ অনুচ্ছেদ-১)। উক্ত হাদীছে ছোঁয়াচে রোগ নেই তা বলা হয়নি। বরং জাহেলী যুগে মানুষ বিশ্বাস করত যে কিছু ছোঁয়াচে রোগ আছে যেগুলি প্রকৃতিগতভাবেই অন্যকে সংক্রমিত করে। এ বিশ্বাস অপনোদনের জন্যই রাসূল (ছাঃ) বলেছেন যে, ছোঁয়াচে রোগ থাকলেও তা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত অন্যের দেহে সংক্রমিত হয় না।

যেমন একই হাদীছে তিনি বলেছেন, তবে কুষ্ঠরোগী হ’তে এমনভাবে পলায়ন কর, যেভাবে তোমরা বাঘ থেকে পলায়ন কর’ (বুখারী হা/৫৭০৭)। তিনি আরো বলেছেন, তোমরা সুস্থ উটকে অসুস্থ উটের সাথে মিশ্রিত করবে না (বুখারী হা/৫৭৭৪)।

ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করা শিরক। কিন্ত আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার মনে অশুভ লক্ষণের ধারণার উদ্রেক হয় না। অথচ আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে আল্লাহ তা দূরীভূত করে দেন’ (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৪৫৮৪)। অতএব ছোঁয়াচে রোগ আছে। তবে আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত কোন রোগই ছড়ায় না। অতএব রাসূল (ছাঃ)-এর বাণী ও বিজ্ঞানের মধ্যে কোন বিরোধ নেই।

Wednesday, June 19, 2019

লিংক

মহাবিশ্ব কে সৃস্টি করেছে

হাজার বছর আগে মুসা নবীকে বনী ইসরাইলিরা নানা ধরনের প্রশ্ন করত: “আল্লাহ ﷻ কোথায়? দেখাও আমাদেরকে। আল্লাহকে ﷻ নিজের চোখে না দেখলে, নিজের কানে তাঁর আদেশ না শুনলে বিশ্বাস করব না।” তার শত বছর পরে নবী মুহাম্মাদ-কেও ﷺ একই ধরনের প্রশ্ন করা হত: “সাফা পাহাড়কে সোনার পাহাড় বানিয়ে দেখাও দেখি? আকাশ থেকে একটা বই এনে দেখাও দেখি?”[১৪] হাজার বছর পরে আজকে বিংশ শতাব্দীতে এসে এখনও আল্লাহর ﷻ সম্পর্কে একই ধরনের প্রশ্ন করতে যায়। শুধু প্রশ্নগুলো আগের থেকে আরও ‘আধুনিক’ এবং ‘বৈজ্ঞানিক’ হয়েছে, এবং কথা ও যুক্তির মারপ্যাঁচে একটু বেশি গম্ভীর শোনায় —এই যা!!! “যেভাবে মুসাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তোমরাও কি সেভাবেই তোমাদের নবীকে প্রশ্ন করতে চাও? যে ঈমানকে কুফরি দিয়ে বদল করে, সে সঠিক পথ থেকে একেবারেই হারিয়ে গেছে। [আল-বাক্বারাহ ১০৮]” আজকের যুগে আল্লাহর ﷻ অস্তিত্বকে অস্বীকার করে বিভিন্নধরনের নাস্তিকদের কিছু প্রশ্ন এবং দাবি দেখা যাক—
মহাকাশ বিজ্ঞানী: মহাবিশ্ব শূন্য থেকে নিজে থেকেই সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে কিছু ছিল না। মহাবিশ্বের কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই। Quantum Vaccum কোয়ান্টাম শূন্যতা থেকে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে। মহাবিশ্ব কোনো স্রস্টা বানিয়েছে, তার প্রমাণ কী?
পদার্থবিজ্ঞানী: মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে এক অতি-মহাবিশ্ব থেকে। একে কোনো সৃষ্টিকর্তা বানায় নি। এক অতি-মহাবিশ্ব, যাকে মাল্টিভার্স বলা হয়, সেখানে প্রতিনিয়ত সকল ধরনের সৃষ্টি জগত তৈরি হয়। সকল সম্ভাবনা সেখানে বিদ্যমান। এরকম অসীম সংখ্যক মহাবিশ্বের একটিতে আমরা রয়েছি। আরেকটি মহাবিশ্বে হয়ত আমারই মত একজন রয়েছে, যে আমার থেকে একটু লম্বা। আরেকটিতে আমার থেকে একটু খাটো। মোট কথা যত কিছুই ঘটা সম্ভব, তার সবই ঘটেছে, ঘটছে এবং ঘটবে। এই মহাবিশ্বই একমাত্র মহাবিশ্ব, যাকে কোনো একক সত্তা সৃষ্টি করেছে, এর প্রমাণ কী?
দার্শনিক: মহাবিশ্ব অনন্তকাল থেকে রয়েছে। পদার্থ এবং শক্তি অবিনশ্বর। এদের সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না। এদের শুধু রূপান্তর হয়। সময় অসীম। মহাবিশ্ব যে একদিন ছিল না, সময় যে একসময় শুরু হয়েছে, এবং একে যে কোনো এক অতিসত্তা সৃষ্টি করেছে, তার প্রমাণ কী?
জীববিজ্ঞানী: কোনো অতিবুদ্ধিমান সত্তা মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ সৃষ্টি করেনি। এগুলো সবই প্রাকৃতিক নিয়মের ফলাফল। বিবর্তনের ফলে এক কোষী প্রাণী থেকে বহুকোষী প্রাণী তৈরি হয়েছে এবং কোটি কোটি বছর ধরে তা উন্নত হতে হতে একসময় বানর বা শিম্পাঞ্জি থেকে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণী তৈরি হয়েছে। মানুষ কোনো বিশেষ প্রাণী নয়, শুধুই বানর থেকে বিবর্তনের ফলে একটু উন্নত প্রাণী। প্রমাণ কী যে, কোনো অতিবুদ্ধিমান সত্তা নিজের ইচ্ছা মত ডিজাইন করে সমস্ত প্রাণী এবং উদ্ভিদ তৈরি করেছে?
ঐতিহাসিক: যদি কোনো বুদ্ধিমান সত্তা মহাবিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করতই, তাহলে ইতিহাসে অনেক ঘটনা থাকতো, যা থেকে বোঝা যেত: কোনো বুদ্ধিমান সত্তা সেগুলো ঘটিয়েছে, যা কোনোভাবেই প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে ঘটা সম্ভব নয়। এরকম ঘটনা ঘটতে তো দেখা যাচ্ছে না। তাহলে প্রমাণ কী যে, আল্লাহ বলে সত্যিই কেউ আছে?
উঠতি নাস্তিক: আল্লাহ ﷻযদি সবকিছু সৃষ্টি করে থাকে, তাহলে তাকে সৃষ্টি করলো কে?
হতাশাগ্রস্থ নাস্তিক: সত্যিই যদি আল্লাহ ﷻথাকে, তাহলে পৃথিবীতে এত দুঃখ, কষ্ট, মুসলিমদের উপর এত অত্যাচার, এত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি হয় কেন? আল্লাহ ﷻএগুলো হতে দেয় কেন?
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নাস্তিক: আল্লাহ ﷻবলে কেউ আছে —এর পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।এখন পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞান সম্মত প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, সৃষ্টিজগৎ কোনো অতিবুদ্ধিমান সত্তা বানিয়েছে। সুতরাং আল্লাহ ﷻবলে কেউ নেই।
আঁতেল নাস্তিক: আল্লাহ ﷻধারণাটা আসলে মানুষের কল্পনা প্রসূত। মানুষ যখন কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা ব্যাখ্যা করতে পারত না, তখন তারা মনে করত: নিশ্চয়ই কোনো অতিপ্রাকৃত সত্তা রয়েছে, যে এসব ঘটাচ্ছে। একারণে মানুষ এমন কোনো সত্তাকে কল্পনা করে নেয়, যার কোনো দুর্বলতা নেই। যেমন: তার ক্ষুধা, ঘুম পায় না; সে মারা যায় না; কেউ তাকে জন্ম দেয় নি। এরকম অবিনশ্বর, অসীম ক্ষমতা ইত্যাদি যত সব কল্পনাতীত গুণ মানুষ চিন্তা করে বের করতে পেরেছে, তার সবকিছু ব্যবহার করে সে এক স্রষ্টা সৃষ্টি করেছে। এর মানে তো এই না যে, স্রষ্টা বলে আসলেই কেউ আছে?
ঘৃণাস্তিক: ধর্মের নামে যে পরিমাণ মানুষ হত্যা হয়েছে, আর অন্য কোনোভাবে এত মানুষ মারা যায়নি। ধর্মের কারণে মানুষে মানুষে ঝগড়া, ঘৃণা, মারামারি, দলাদলি, এক জাতি আরেক জাতিকে মেরে শেষ করে ফেলা —এমন কোনো খারাপ কাজ নেই যা হয় না। পৃথিবীতে যদি কোনো ধর্ম না থাকতো, তাহলে মানুষে-মানুষে এত ভেদাভেদ, এত রক্তারক্তি কিছুই হতো না। যদি আল্লাহ বলে আসলেই কেউ থাকে, তাহলে ধর্মের নামে এত হত্যা কেন হয়? ধার্মিকরা এতঅসাধু হয় কেন? যতসব চোর, লম্পট, প্রতারকরা দেখা যায় টুপি-দাঁড়ি পড়ে মসজিদে নামাজ ঠিকই পড়ে।
এবার আসুন এই প্রশ্নগুলোর কিছু উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি—
মহাকাশবিজ্ঞানী: মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে শূন্য থেকে সবচেয়ে অবৈজ্ঞানিক এবং ফিলসফির দিক থেকে অবাস্তব দাবি হলো: মহাবিশ্ব নিজে থেকেই, শূন্য থেকে সৃষ্টি হয়েছে, এর কোনো কারণ/উৎপাদক নেই। এর মানে দাঁড়ায়: কোনো জিনিস একই সাথে অস্তিত্ব থাকতে পারে, আবার অস্তিত্ব নাও থাকতে পারে। একে সহজ ভাষায় বললে, আপনার মা নিজেই নিজেকে জন্ম দিয়েছেন, কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। একদিন তিনি ছিলেন না। তারপর হঠাৎ করে তিনি নিজেই নিজেকে জন্ম দিলেন। P. J. Zwart তার বইয়ে দেখিয়েছেন, এটা কত অবাস্তব একটা দাবি— “If there is anything we find inconceivable it is that something could arise from nothing.” যদি অবিশ্বাস্য বলে কিছু থাকে, তাহলে সেটা হলো যে, কোনো কিছু শূন্য থেকে উৎপত্তি হতে পারে।[২১৬] এরপর বিজ্ঞানীরা তাদের খেলা পালটিয়ে ফেলেন। প্রফেসর স্টিফেন হকিন্স, লরেন্স ক্রাউস-এর মতো বিখ্যাত বিজ্ঞানীরা বলেন, শূন্য বলতে আসলে Quantum Vaccum বা কোয়ান্টাম শূন্যতা বোঝানো হচ্ছে। কোয়ান্টাম শূন্যতা হলো ভৌত কোনো কিছুর অনুপস্থিতি। এটি সব জায়গায় বিরাজমান একটি স্পন্দিত শক্তির ক্ষেত্র। “…is not‘nothing’; it is a structured and highly active entity.” “এটা ঠিক ‘শূন্য’ নয়; এটি বিশেষ গঠনের অত্যন্ত সক্রিয় অস্তিত্ব”[২১৭] মহাবিশ্ব তৈরি হয়েছে একদম শূন্য থেকে, কোয়ান্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশানের মাধ্যমে। তখন 'সময়' (Time) এর আচরন আজকের সময়ের মতো ছিলো না। তখন সময়ের আচরন ছিলো 'স্থান' (Space) এর মতো। কারন, এই ফ্ল্যাকচুয়েশান হবার জন্য প্রাথমিকভাবে সময়ের দরকার ছিলো না, স্থানের দরকার ছিলো।কিন্ত এর সমস্যা হল, তারা এই কথা বলেন নি যে,যে সময় (Time) মহাবিশ্বের একদম শুরুতে 'স্থান' এর মতো আচরন করেছে, সেই 'সময়' পরবর্তীতে ঠিক কেন আবার Time এর মতো আচরন শুরু করল। তারা বলেছেন প্রকৃতি শূন্যস্থান পছন্দ করেনা। তাই, শূন্যস্থান পূরণ করতে আপনা আপনি কোয়ান্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশান হয়ে মহাবিশ্ব তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন হলো- যেখানে শূন্যস্থান নিয়ে কথা হচ্ছে, যখন সময় ছিলো না,স্থান ছিলো না, তখন প্রকৃতি কোথা থেকে আসল? এই কোয়ান্টাম শূন্যতা আসলো কোথা থেকে? কে একে সৃষ্টি করলো? কীভাবে এটি এমন সব গুণ পেল, যা থেকে এটি এক বিশাল মহাবিশ্ব বিশেষভাবে ডিজাইন করে তৈরি করতে পারে? কোয়ান্টাম শুন্যতার কি কনশাসনেস বা বুদ্ধিমত্তা রয়েছে? কোয়ান্টাম বিজ্ঞানের সেই নিয়মগুলো আসলো কোথা থেকে? এগুলো সবই হচ্ছে স্রস্টাকে অস্বীকার করার জন্য নানা অজুহাত। মহাবিশ্বের যে সৃষ্টি হয়েছে, সেটার কোনো সঠিক ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীরা দিতে পারছে না।আবার একই সাথে মানতে পারছে না যে, স্রস্টা বলে কেউ আছে। তাহলে কী করা যায়? ‘কোয়ান্টাম ভ্যাকুয়ম’ নামের এক মহাজটিল অস্তিত্ব জন্ম দেই। তাহলে বেশ কিছুদিন এটানিয়ে মানুষকে ঘোল খাওয়ানো যাবে। আপনি মহাবিশ্বের অনেক বৈজ্ঞানিক ব্যাখা দিতে পারেন। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে আপনার ব্যাখা গুলো শুধু কিভাবে হয়েছে তা নিয়ে। কিন্তু কেন হয়েছে তার ব্যাখা আজ পর্জন্ত বিজ্ঞ্যান দিতে পারেনি। আপনাকে জিজ্ঞেস করা হল আপনি কেন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গেলেন। আপনি বললেন ঢাকা-চট্ট রুটের বাসে উঠেছি। বাস এসে নামিয়ে দিয়ে গেছে। তাহলে তো উত্তর হল না।
পদার্থবিজ্ঞানী: মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে এক অতি-মহাবিশ্ব Multiverse (মাল্টিভার্স)থেকে আজকাল মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে নতুন এক ধারণার প্রচারণা শুরু হয়েছে – মাল্টিভার্স থিওরি। বিজ্ঞানীরা দাবি করছে এই মহাবিশ্বের কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই। আমাদের মহাবিশ্বটি এক মহা-মহা-মহাবিশ্বের বা মাল্টিভার্স-এর মধ্যে থাকা ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন মহাবিশ্বের মধ্যে একটি। বিজ্ঞানীরা কোনোভাবেই ব্যাখ্যা করতে পারছেন না: কীভাবে আমাদের এই মহাবিশ্বটি এত নিখুঁতভাবে, এত পরিকল্পিতভাবে প্রাণের সৃষ্টির জন্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করে তৈরি করা হয়েছে। অভিকর্ষ বল যদি ১০০ কোটি ভাগের এক ভাগ বেশি বা কম হতো, তাহলে কোনো গ্রহ সৃষ্টি হতো না, প্রাণের সৃষ্টির কোনো সম্ভাবনাই থাকতো না। বিগ ব্যাংগের সময় যে শক্তির প্রয়োজন ছিল, সেটা যদি ১০^৬০ ভাগের এক ভাগ এদিক ওদিক হতো, তাহলে অভিকর্ষ বলের সাথে অসামঞ্জস্য এত বেশি হতো যে, এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়ে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারতো না। ১০^৬০ হচ্ছে ১ এর পরে ৬০টি শূন্য বসালে যে বিশাল সংখ্যা হয়, সেটি। বিগ ব্যাংগের মুহূর্তে প্ল্যাঙ্ক সময়ের পর মোট পদার্থের যে ঘনত্ব ছিল, সেটা যদি ১০^৫০ ভাগের এক ভাগও এদিক ওদিক হতো, তাহলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হতো না, যাতে আজকের মতো নক্ষত্র, গ্রহ এবং প্রাণ সৃষ্টি হতো।[১০২] — এরকম শত শত ভারসাম্য কীভাবে কাকতালীয় ভাবে মিলে গেলো? কীভাবে এগুলো সব অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করা হল, যেন নক্ষত্র, গ্রহ, পানি, ভারী মৌলিক পদার্থ সৃষ্টি হয়ে একদিন প্রাণের সৃষ্টি হয়, যেই প্রাণ বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়ে একদিন মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীর জন্ম দিবে? — এর পক্ষে তারা কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছে না। এতগুলো সূক্ষ্ম ভারসাম্য এক সাথে মিলে যাওয়া যে কোনোভাবেই গাণিতিক সম্ভাবনার মধ্যে পড়ে না —এটা তারা বুঝে গেছে। তারা এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এক নতুন থিওরি নিয়ে এসেছে: আমাদের মহাবিশ্ব আসলে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন মহাবিশ্বের মধ্যে একটি। একেক মহাবিশ্বে পদার্থ বিজ্ঞানের ধ্রুবকগুলোর একেক মান রয়েছে। কিছু মহাবিশ্ব বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না, কারণ সেই মহাবিশ্বে পদার্থবিজ্ঞানের ধ্রুবকগুলোর মানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য থাকে না। আর কিছু মহাবিশ্বে পদার্থবিজ্ঞানের ধ্রুবকগুলোর মান এমন হয় যে, সেখানে কোনোদিন সূর্যের মতোএকটি তারা এবং পৃথিবীর মতো একটি গ্রহ তৈরি হতে পারে না। যার ফলে সেই সব মহাবিশ্বে কোনো প্রাণ সৃষ্টি হয় না। পদার্থবিজ্ঞানের সুত্রগুলোর যতগুলো সম্ভাব্য সম্ভাবনা হওয়া সম্ভব, সেটা যতই কল্পনাতীত, অবাস্তব একটা ব্যাপার হোক না কেন, যা কিছু হওয়া সম্ভব তার সবকিছুই সেই মাল্টিভারসের ‘ল্যান্ডস্কেপ’-এ কোথাও না কোথাও হয়েছে এবং হয়ে যাচ্ছে। আমরা মানুষেরা, সেই অসীম সংখ্যক সম্ভাবনাগুলোর একটি, যেখানে পদার্থবিজ্ঞানের হাজার হাজার নিয়ম কাকতালীয়ভাবে, কল্পনাতীত সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করে কোনোভাবে মিলে গেছে এবং যার কারণে আজকে আমরা এই মহাবিশ্বে দাঁড়িয়ে নিজেদেরকে উপলব্ধি করতে পারছি।[১০৩] তাদের দাবিটা হচ্ছে এরকম: ধরুন কোনো এক সমুদ্রের তীরে বালুতে আপনি একটি মোবাইল ফোন পড়ে থাকতে দেখে তাদেরকে জিগ্যেস করলেন, এই মোবাইল ফোনটা নিশ্চয়ই কোনো বুদ্ধিমান সত্ত্বা বানিয়েছে। তারা বলবে, “না, কোটি কোটি বছর ধরে সমুদ্রের পানি বালুতে আছড়িয়ে পড়তে পড়তে এবং ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাতের ফলে বালুতে রায়ায়নিক বিক্রিয়া হয়ে একসময় এই মোবাইল ফোনটি তৈরি হয়েছে। এটি কোনো বুদ্ধিমান সত্ত্বা বানায়নি, এটি পদার্থবিজ্ঞানের সুত্রগুলোর অসীম সব সম্ভাবনাগুলোর একটি। এরকম কোটি কোটি সমুদ্রের তীর আছে যেগুলোর একটিতে হয়তো শুধুই একটা প্লাস্টিকের বাক্স তৈরি হয়েছে, পুরো মোবাইল ফোন তৈরি হতে পারেনি। কিছু তীর আছে যেখানে হয়তো একটা স্ক্রিন পর্যন্ত তৈরি হয়েছে, কিন্তু কোনো বাটন তৈরি হয়নি। আপনি, আমি আসলে সেই অসীম সব সমুদ্রের তীরগুলোর বিশেষ একটিতে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে পদার্থ বিজ্ঞানের সব সম্ভাবনা কাকতালীয় ভাবে মিলে গেছে, যে কারণে এইতীরে একটি সম্পূর্ণ মোবাইল ফোন সৃষ্টি হয়েছে।” এই হচ্ছেমাল্টিভার্স থিওরি। মাল্টিভার্সথিওরির পক্ষে বিন্দুমাত্র প্রমাণ নেই। কিন্তু এনিয়ে শত শত বই, ডিসকভারি চ্যানেলে শত শত প্রোগ্রাম, হাজার হাজার লেকচার এমন ভাবে দেওয়া হচ্ছে যে, এটা বিগ ব্যাং থিওরির এর মতই একটা ফ্যাক্ট। বিজ্ঞানীদের এক বিশেষ দল, যাদের মধ্যে সবাই নাস্তিক, এবং শুধু নাস্তিকই নয়, এদেরকে বিশেষ ভাবে Militant Atheist বলা হয়, এরা উঠে পড়ে লেগেছে ডারউইনের বিবর্তনবাদের মতো মাল্টিভার্স থিওরিকেও মানুষের মধ্যে গলার জোরে ফ্যাক্ট বলে চালিয়ে দেওয়ার। কারণ একমাত্র মাল্টিভার্স থিওরিই পারে – “মহাবিশ্বের কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই” – সেটার পক্ষে কোনো ধরণের ‘বিশ্বাসযোগ্য’ চমকপ্রদ ব্যাখ্যা দিতে, যেটা পড়ে সাধারণ মানুষ, যার মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে ভালো জ্ঞান নেই, অবাক হয়ে ভাবে, “আরে! এতো দেখি চমৎকার এক ব্যাখ্যা! মহাবিশ্বের দেখি সত্যিই কোনো সৃষ্টিকর্তার দরকার নেই!” একারণেই আল্লাহﷻ আমাদেরকে মু’মিন হবার জন্য প্রথম শর্ত দিয়েছেন – "যারা মানুষের চিন্তার ক্ষমতার বাইরে এমন সব বিষয়ে বিশ্বাস করে।" [আল-বাক্বারাহ: ৩] আমাদেরকে মানতে হবে যে, আমরা কোনোদিন প্রমাণ করতে পারবো না: কীভাবে, কী কারণে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে। আমরা কোনোদিন কোনো রেডিও এন্টেনা দিয়ে জান্নাত, জাহান্নাম খুঁজে পাবো না। আমরা কোনোদিন এক্সরে করে ফেরেশতাদেরকে দেখতে পারবো না। আমরা কোনোদিন পদার্থ বিজ্ঞানের কোনো সুত্র দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারবো না: কীভাবে আমরা মরে, ধ্বংস হয়ে, মহাবিশ্বে ছড়িয়ে যাওয়া আমাদের দেহের অণু পরমাণুগুলো থেকে একদিন আমাদেরকে আবার একই অবস্থায় ফেরত আনা হবে। আমাদেরকে এই সব কিছু বিশ্বাস করতে হবে, কোনোই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া, শুধুই কু’রআনের প্রমানের উপর ভিত্তি করে এই শর্তে যে কু’রআন সন্দেহাতীত ভাবে আল্লাহর ﷻ বাণী। যদি কোনো প্রমাণ না থাকার পরেও বিবর্তনবাদ, ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, স্ট্রিং-থিওরিতে ঠিকই বিশ্বাস করতে পারি, তাহলে কু’রআনের বাণীর উপর বিশ্বাস না করার পেছনে কোনো যুক্তি থাকতে পারে না, যেখানে কি না কু’রআন যে মানুষের পক্ষে তৈরি করা সম্ভব না, এর পক্ষে শত শত প্রমাণ আছে। একারণে আমরা যদি অদেখায় বিশ্বাস করতে না পারি, তাহলে আমরা কোনোদিন মু’মিন হতে পারবো না।
দার্শনিক: মহাবিশ্ব অনন্তকাল থেকে রয়েছে Bertrand Russell এর মতো কিছু বিখ্যাত ফিলসফার এই ধারণাটিকে বেশ জনপ্রিয় করার চেষ্টাকরেছেন। তাদের দাবি হচ্ছে, মহাবিশ্ব আদি এবং অনন্ত। এটি অসীম সময় ধরে চলবে, এবং চলছে। ‘অসীম’ ধারণাটি আসলে একটি ধারণা মাত্র। বাস্তব জীবনে কোনো ‘অসীম’ বলে কিছু নেই, কারণ অসীম ধারণাটি নানা সমস্যার জন্ম দেয়— ১) ধরুন আপনার অসীম সংখ্যক বল রয়েছে। যদি সেখান থেকে দুটি বল নিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে কীদাঁড়ায়? “অসিম – ২ = ?” সংখ্যক বল রয়েছে? যদি তাই হয়, তাহলে আমাদের গুণতে পারা উচিত কয়টা বল বাকি থাকলো। যদি গুণতে পারি, তার মানে দাঁড়ায় সেটাএমন একটা সংখ্যা, যার সাথে ২ যোগ করলে হঠাৎ করে সেটা অসীম সংখ্যা হয়ে যায় —যা অবাস্তব। আর যদি গুণতে না পারি, তাহলে অসীম ধারণাটাই অবাস্তব। সুতরাং, অসীম ধারণাটা একটি ধারণা মাত্র, প্রকৃতিতে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। বিখ্যাত জার্মান গণিতবিদ David Hilbert বলেছেন— “The infinite is nowhere to be found in reality. It neither exists in nature nor provides a legitimate basis for rational thought…the role that remains for the infinite to play is solely that of an idea.” বাস্তবতায় অসীমের কোনো অস্তিত্ব নেই। এর প্রকৃতিতে কোনো অস্তিত্ব নেই, এটা কোনো যুক্তিযুক্ত চিন্তাভাবনার গ্রহণযোগ্য ভিত্তিও দেয় না… অসীমের একমাত্র ভূমিকা হলো এটি একটি ধারণা মাত্র।[২১৮] ২) ধরুন আপনি একজন সৈনিক। আপনাকে গুলি করার আগে আপনার পেছনের একজন সৈনিকের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু তাকেও তার পেছনের সৈনিকের অনুমতি নিতে হবে, আপনাকে অনুমতি দেওয়ার আগে। এভাবে পেছনের দিকে অসীম সময় পর্যন্ত অনুমতি নেওয়া চলতে থাকবে। যদি তাই হয়, তাহলে আপনি কি কোনোদিন গুলি করতে পারবেন? পারবেন না। এটা প্রমাণ করে যে, এরকম পেছনের দিকে অসীম পর্যন্ত চলতে থাকা — এটি একটি অবাস্তব ধারণা। এরকম হলে কোনোদিন কোনো ঘটনা ঘটতো না। সুতরাং, কখনই অসীম পর্যন্ত কোনো ঘটনার পেছন দিকে যাওয়া যায় না। ৩) আপনাকে এক মিটার লম্বা একটা লাঠি দেওয়া হলো। এখন আপনাকে বলা হলো, তাকে সমান দুইভাগ করতে। তার একটি ভাগকে আবার সমান দুই ভাগ করতে। তার একটি ভাগ নিয়ে আবার সেটাকে সমান দুই ভাগ করতে। এভাবে অসীম সময় পর্যন্ত ভাগ করে যেতে হবে। আপনিকি কোনোদিন অসীম-ক্ষুদ্রতম ভাগটি পর্যন্ত যেতে পারবেন? সুতরাং দেখা যায়, অসীম একটি অবাস্তব ধারণা। এর কোনো বাস্তবতা নেই। এরিস্টটল বলেছেন— “…the infinite is potential, never actual” “অসীম একটি সম্ভাবনা মাত্র, এর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই”[২১৯] সুতরাং আমরা দেখতে পাই, কোনো ঘটনার পেছন দিকে অসীম সময় পর্যন্ত যাওয়া যায় না। সুতরাং মহাবিশ্ব কখনই অসীম সময় পর্যন্ত ছিল না, মহাবিশ্ব সসীম। সুতরাং মহাবিশ্বের একটি সূচনা রয়েছে। "সত্য অস্বীকারকারীরা কি দেখে না যে, সবগুলো আকাশ এবং পৃথিবী একসময় একসাথে একটি সত্তা ছিল, তারপর আমি তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করেছি? তারা কি দেখে না: আমি প্রতিটি প্রাণ সৃষ্টি করেছি পানি থেকে? এরপরও কি তারা বিশ্বাস করবে না?" [আল-আম্বিয়া ২১:৩০]
জীববিজ্ঞানী: সকল প্রাণী বিবর্তনের ফসল প্রথমে ভেবে দেখুন, আপনি কীভাবে জন্ম নিলেন? আপনি এসেছেন আপনার বাবা-মা’র কাছ থেকে। আপনার বাবা-মা এসেছেন তাদের বাবা-মা’র কাছ থেকে। এভাবে যদি পেছন দিকে যেতে থাকেন, একসময় আপনি পৃথিবীর সর্বপ্রথম বাবা এবং মা পর্যন্ত পৌঁছে যাবেন, যাদেরকে কেউ জন্ম দেয়নি। এখন প্রশ্ন হলো, তারা কোথা থেকে এলেন? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে গত দুশো বছরে পৃথিবীতে তোলপাড় হয়ে গেছে। একদল মানুষ বিশ্বাস করে: সৃষ্টিকর্তা সেই প্রথম মানব এবং মানবীকে অন্য কোথাও বানিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, অথবা তিনি পৃথিবীতেই তাদেরকে কোনো অতিপ্রাকৃত প্রক্রিয়ায় বানিয়েছেন। আরেকদল মানুষ মনে করে, সেই প্রথম আধুনিক মানব-মানবী এসেছেন কোনো গরিলা/শিম্পাঞ্জীর মতো দেখতে আদি পিতা-মাতা থেকে, যারা ঠিক আজকের মানুষের মতো ছিলেন না। কোনো কারণে প্রথমবারের মতো সেই আদি পিতা-মাতা একটি আধুনিক মানব এবং মানবী শিশুর জন্ম দেন এবং তাদের থেকে পৃথিবীতে আজকের যত মানুষ রয়েছে সবার জন্ম হয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই আদি পিতা-মাতারা এসেছেন আরেকটু বেশি বানরের কাছাকাছি দেখতে আদিমানব, আদিমানবী থেকে, যারা নাকি এসেছেন আরও বেশি বানরের মতো দেখতে আরও আদিমানব এবং আদিমানবী থেকে—এই হচ্ছে ডারউইনের বিখ্যাত বিবর্তনবাদ, যা পৃথিবীর মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছে—আস্তিক ও নাস্তিক। ডারউইনের বিবর্তনবাদ ডারউইনের বিবর্তনবাদ অনুসারে একজন আদি পিতা ও মাতা—যারা ঠিক আজকের মানুষের মতো মানুষ ছিলেন না—বিশেষ কোনো জেনেটিক মিউটেশনের কারণে তারা প্রথম একজন আধুনিক মানব শিশুর জন্ম দেন। এটি দৈব চক্রে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা মাত্র: এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য নেই, কোনো সৃষ্টিকর্তার হাত নেই। প্রকৃতির হাজার খেলার মধ্যে এটি ছিল একটি খেলা। এই একই প্রক্রিয়ায় পৃথিবীতে সকল প্রাণের উদ্ভব হয়েছে। বিবর্তনবাদ অনুসারে প্রাণের সৃষ্টি হয়েছে দৈব চক্রে। কোনো কারণে ৩.৬ বিলিয়ন বছর আগের আদি পৃথিবীতে, কোনো এক জায়গার কাদা মাটিতে কিছু অজৈব পদার্থ কাকতালীয়ভাবে একসাথে মিশে প্রথম অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি করে। এরকম অনেকগুলো অ্যামাইনো অ্যাসিড কোনো কাকতালীয় কারণে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে একসাথে হয়ে প্রোটিন তৈরি হয়। তারপর কয়েকটি বিশেষ প্রোটিন কোনো কাকতালীয় কারণে একসাথে হয়ে ডিএনএ তৈরি হয় এবং তারপর সেখান থেকে আরও বিরাট কোনো কাকতালীয় কারণে প্রথম এককোষী প্রাণীর সৃষ্টি হয়। সেই এককোষী প্রাণীরা বহু বছর ধরে বিবর্তিত হয়ে একসময় কোনো কাকতালীয় কারণে বহুকোষী প্রাণীতে পরিণত হয়। তার বহু বছর পরে সেই বহুকোষী প্রাণীরা বিবর্তিত হয়ে আরও জটিল জলচর প্রাণীতে পরিণত হয়। তারপর সেই জলচর প্রাণীগুলো একসময় হাত-পা গজিয়ে ডাঙায় উঠে এসে নানা ধরনের স্থলচর প্রাণীতে পরিণত হয়। এরপর সেই স্থলচর প্রাণীগুলো কোটি কোটি বছর ধরে বিবর্তিত হয়ে একসময় গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগির মতো প্রাণীতে পরিণত হয়। এবং সবশেষে একই প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে বানররূপী আদিমানব থেকে উদ্ভব হয়েছে আধুনিক মানুষের। এখানে লক্ষ্য করুন: এই গোটা প্রক্রিয়ায় কতগুলো কাকতালীয় ব্যাপার রয়েছে। এই প্রতিটি কাকতালীয় ঘটনা ঘটার সম্ভাব্যতা হচ্ছে কমপক্ষে কোটি কোটি কোটি সম্ভাবনার মধ্যে একটি। যেমন ৩০০ অণু দিয়ে গঠিত একটি প্রোটিন তৈরি হবার সম্ভাবনা হচ্ছে ১০^৩৯০ এর মধ্যে একটি। ১০ এর পরে ৩৯০টি শূন্য দিলে যে বিরাট সংখ্যা হয় ততগুলো সম্ভাবনার মধ্যে একটি।যার অর্থ হচ্ছে— এটা গাণিতিকভাবে দেখলে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বিবর্তনবাদ কি আসলেই কোনো প্রমাণিত বিজ্ঞান? বিবর্তনবাদ যদি সত্যি হতো তাহলে— ১) আমরা এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীতে বিবর্তিত হওয়ার সময়, তার মাঝামাঝি অবস্থার অনেক নিদর্শন প্রকৃতিতে দেখতে পারতাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা যে লক্ষ লক্ষ ফসিল পেয়েছি, তার কোথাও কোনোদিনও এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীতে বিবর্তিত হওয়ার সময় মাঝামাঝি অবস্থার কোনো প্রাণী দেখা যায়নি।[২২০] যেমন, এখনও পর্যন্ত এমন কোনো বানর বা গরিলার ফসিল পাওয়া যায়নি—যেটার মাথা ছিল মানুষের মতো, বা যেটার গায়ের লোম মানুষের মতো একদম ছোট, বা যেটার হাত মানুষের হাতের মতো—যেগুলো দেখে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, গরিলা বা বানর থেকে ধীরে ধীরে বিবর্তন হয়ে মানুষ এসেছে। ২) প্রাণীদের মধ্যে সূক্ষ্ম বিবর্তনের (Microevolution) নিদর্শন মিললেও বড় ধরনের বিবর্তনের কোনো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি, যেখানে এক প্রজাতির প্রাণী বিবর্তিত হয়ে আরেক প্রজাতির প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। Macroevolution বা স্থূল বিবর্তনের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে মাছির বিবর্তন করার চেষ্টা করেছিলেন। অনেক চেষ্টার পরে দেখা গেল তিন ধরনের মাছি তৈরি হলো—১) আগে যেরকম ছিল সেরকমই, ২) মিউটেটেড বাবিকৃত, অথবা ৩) মৃত।[২২১] ২০১০ সালে একটিগবেষণায় মাছির ৬০০ প্রজন্ম পরীক্ষা করেও কোনো বিবর্তনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।[২২২] একইভাবে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার ৪০,০০০ প্রজন্মের উপর বিবর্তনের চেষ্টা করেও বিবর্তনবাদের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।[২২৩] সুতরাং অতীতেও বিবর্তন হয়ে একটি প্রজাতির প্রাণী অন্য প্রজাতির প্রাণীতে রূপান্তরের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, বর্তমানেও না। ৩) বিবর্তনবাদ দাবি করে যে, জেনেটিক মিউটেশনের মাধ্যমে প্রাণীদের মধ্যে বিবর্তন হয়ে উন্নততর এবং বেশি টেকসই প্রাণীর সৃষ্টি হয় এবং এইভাবেই আদি-মানুষ থেকে আধুনিক মানুষ এসেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় উলটো প্রমাণ পাওয়া গেছে। উদ্ভিদ এবং মানুষ উভয়েরই উপর গবেষণায় দেখাগেছে বেশিরভাগ মিউটেশনের ফলে দেহে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না।কিন্তু খারাপ মিউটেশন হয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এবং এগুলো কোষের বংশ পরম্পরায় টিকে থাকে। একে বলা হয় জেনেটিক এনট্রপি। প্রত্যেক মানুষ তার নিজের মিউটেশন এবং তার পূর্ব পুরুষদের মিউটেশন বহন করে এবং তারপর তার বংশধরের মধ্যে দিয়ে দেয়।[২২৪] সাম্প্রতিক কালে হিউমেন জিনোম গবেষণার উন্নতির ফলে বিজ্ঞানীরা ২১৯ জন মানুষ এবং ৭৮ জন বাবা-মা এবং তাদের সন্তানদের মধ্যে গবেষণা করে দেখেছেন, প্রতি বংশ পরম্পরায় ৬০টি নতুন মিউটেশন যোগ হয়![২২৫] বিবর্তনবাদীরা দাবি করে: ২.৪ মিলিয়ন বছর আগে, এক বানর/গরিলার কাছাকাছি দেখতে আদি মানুষ থেকে আধুনিক মানুষের উদ্ভব হয়েছে। যার অর্থ দাঁড়ায় এই পর্যন্ত মানুষের প্রায় ১২০,০০০ প্রজন্ম এসেছে। এখন প্রতি প্রজন্ম যদি ৬০টি মিউটেশন যোগ করে, তাহলে ১২০,০০০ প্রজন্মে আজকে মানুষের মধ্যে ৭,২০০,০০০ মিউটেশন থাকার কথা। এতো মিউটেশন হলে মানুষ আর মানুষ থাকত না, এবং অনেক আগেই মানব জাতি পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। ৪) এক প্রজাতির প্রাণীর থেকে অন্য প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে ধাপে ধাপে বিবর্তন কখনও সম্ভব নয়। যেমন, সরীসৃপের দ্বিমুখী ফুসফুস কখনই পাখির একমুখী ফুসফুসে বিবর্তিত হতে পারে না। সেটা হতে হলে বিবর্তন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরীসৃপকে শ্বাস নেওয়া বন্ধ করে দিতে হবে—যেটা কেবল হাস্যকরই নয়, বরং অযৌক্তিক। সুতরাং বিবর্তনবাদীরা যে-দাবি করে সরীসৃপ থেকে পাখির বিবর্তন হয়েছে, সেটা ভুল।[২২৬] একইভাবে উভচর প্রাণীর তিন-কক্ষ-বিশিষ্ট হৃদপিণ্ড থেকে স্তন্যপায়ী প্রাণীর চার-কক্ষ-বিশিষ্ট হৃদপিণ্ডের বিবর্তন হওয়া কখনও সম্ভব নয়, কারণ সেটা হতে হলে প্রথমে উভচর প্রাণীর হৃদপিণ্ডের মধ্যে নতুন দেওয়াল সৃষ্টি হতে হবে, যা রক্ত চলাচল ব্যহত করবে, না হয় নতুন রক্তনালীর সৃষ্টি হতে হবে, যা রক্ত চলাচলকে ব্যহত করবে। এরকম অনেক প্রমাণ রয়েছে, যা থেকে সহজেই দেখানো যায় যে, এক প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে ধীরে ধীরে বিবর্তন হয়ে অন্য প্রজাতির প্রাণী সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়। কারণ বিবর্তনের সময় মাঝামাঝি যেই অবস্থাগুলো হতে হবে, সেগুলো প্রাণীর জন্য কোনোভাবেই কল্যাণকর নয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এইধরনের অর্ধেক বিবর্তন সেই প্রাণীর জন্য মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং বিবর্তনবাদ শুধুই একটি থিওরি। এর পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিকপ্রমাণ নেই। প্রকৃতিতে কী ধরনের বিবর্তন হয়? একটি ব্যাপার পরিষ্কার করা দরকার: Microevolution বা সূক্ষ্ম-বিবর্তন অবশ্যই প্রকৃতিতে হয়। এবং সেটা হয় একই প্রজাতির মধ্যে, অল্প কিছু জেনেটিক পরিবর্তন থেকে। আর এভাবেই একসময় উপ-প্রজাতির সৃষ্টি হয়।[২২৭] কিন্তু এই সূক্ষ্ম বিবর্তন হতে হতে একসময় Macroevolution বা স্থুল-বিবর্তন হয়ে একপ্রজাতির প্রাণী সম্পূর্ণ অন্য প্রজাতির প্রাণীতে পরিণত হয় না—যেটা বিবর্তনবাদীরা প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। মজার ব্যাপারহচ্ছে এটা নিয়ে বিবর্তনবাদীদের মধ্যেই দ্বিমত রয়েছে।[২২৮] কাজেই বলা যায়, বানরের মধ্যে সূক্ষ্ম বিবর্তন হয়ে বিভিন্ন প্রজাতির বানর তৈরি হয়, কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত বানরই থাকে; মানুষ হয়ে যায়না। বিবর্তনের টেক্সট বইগুলোতে বিবর্তনবাদের পক্ষে যে সব উদাহরণ দেখানো হয়— যেমন ডারউইনের পাখির ঠোটের ‘বিবর্তন’, ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার ‘বিবর্তন’ হয়ে এন্টিবায়োটিকের প্রতি রেজিস্টেন্স, এইচআইভি ভাইরাসের ‘বিবর্তন’—এগুলো সবই হয় একই প্রজাতির মধ্যে। পাখি বিবর্তনের পরে পাখিই থাকে, ডাইনোসর হয়ে যায় না। একইভাবে ব্যাকটেরিয়া শেষ পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়াই থাকে, ফাঙ্গাস হয়ে যায় না।[২২৯]
ঐতিহাসিক: প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে ঘটা ঘটনার বাইরে কোনো ঘটনা নেই মানুষের চিন্তাশীল মস্তিষ্কে তালা দিতে নাস্তিক মহল একটা শব্দ আবিষ্কার করেছে, তার নাম হল “প্রকৃতি”। প্রথমত আমাদের বুঝতে হবে প্রকৃতি কি জিনিস। আমাদের চারপাশে গাছপালা, পশুপাখি যা আছে তা সবই প্রকৃতি। মানুষ যা করে তাও প্রকৃতি। পিপড়া বাসা বানালে সেটা প্রাকৃতিক আর মানুষ কম্পিউটার বানালে সেটা অপ্রাকৃতিক এ কথা যৌক্তিক নয়। দ্বিতীয়ত প্রকৃতির “স্বাভাবিক” নিয়ম বলে কিছু নেই। কোন কিছুই স্বাভাবিক না, কারন কোন কিছুই হওার কথা ছিল না। আপনি বিজ্ঞান দিয়ে কোন কিছু কিভাবে কাজ করে সেটা ব্যাখ্যা করতে পারলেই সেটা স্বাভাবিক আর তা পেছনে কারো হাত নেই এই কথা ঠিক না। কারন, বিজ্ঞান দিয়ে আমি ব্যাখ্যা করতে পারি ঘড়ি কিভাবে কাজ করে; তার মানে এই না যে ঘড়ির কোন সৃষ্টি করতা নেই। আমি বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারি সুপার কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে; তার মানে এই না সুপার কম্পিউটার কেউ বানায় নি। তবে আমাদের প্রাত্যহিক পারসেপশনের বাইরেও অনেক ঘটনা ঘটে যেগুলো সচরাচর ঘটে না। ফিরাউন যখন মুসা ﷺ নবীর দাবি অস্বীকার করলো এবং বনী ইসরাইলকে মুক্ত করে দিতে অস্বীকার জানালো, তখন আল্লাহ ﷻ মিশরে একের পর এক অতিপ্রাকৃত দুর্যোগ পাঠালেন, যা কোনো স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা ছিল না। কু’রআনের কিছু আয়াতে এই ঘটনাগুলো বর্ণনা করা হয়েছে— আমি ফিরাউনের লোকদের উপর বছরের পর বছর খরা, ফসলহানি দিলাম, যাতে করে তারা নির্দেশ শোনে। … কিন্তু তারা বলল, “তুমি আমাদের উপর জাদু করার জন্য যতই অলৌকিক ঘটনা দেখাও, আমরা তোমাকে বিশ্বাস করব না।” তাই আমি ওদের উপর বন্যা, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ, রক্ত পাঠালাম — একদম পরিষ্কার নিদর্শন। কিন্তু ওরা ছিল এক অহংকারী সম্প্রদায় এবং দুর্নীতিবাজ। [আল-আরাফ ৭:১৩০-১৩৩] ১৯ শতকের শুরুর দিকে মিশরে একটি প্রাচীন ফলক আবিষ্কার হয়, যা হল্যান্ডের মিউজিয়ামে অনুবাদ করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এই প্রাচীনফলকের নাম ‘ইপুয়ের-এর ফলক’ যেখানে মিশরের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর ঘটনা বর্ণনা করা আছে। ফলকটি ইপুয়ের নামের একজন প্রাচীন মিশরীয় লিখেছেন, এবং ধারণা করা হয় তিনি এই ঘটনাগুলো নিজের চোখে দেখেছেন। তিনি কী লিখেছেন দেখা যাক— সারাদেশে মহামারি, চারিদিকে রক্ত… পুরো নদীতে রক্ত… সবগুলো শহর ধ্বংস হয়ে গেছে… চারিদিকে চিৎকার, হাহাকার… সব গাছপালা ধ্বংস হয়ে গেছে… কোথাও কোনো ফল, শাকসবজি নেই… কোথাও কোনো আলো নেই… দেখ! এক বিশাল আগুন… [২৩০] এধরনের ঘটনা প্রকৃতির কোনো স্বাভাবিক নিয়মে ঘটে না। থামুদ নামে কু’রআনে এক জাতির কথা বলা আছে, যারা আল-হিজর নামে একটি জায়গায় পাহাড় কেটে বিশাল সব প্রাসাদ, বাড়ি বানিয়েছে। তাদের এই বিশেষ ক্ষমতা অন্য কোনো জাতির দেখা যায়নি। শক্ত পাহাড়ের পাথর কেটে বানানো তাদের বিশাল সব প্রাসাদ, স্তম্ভ, বাড়িঘর আজও অটুট রয়েছে। কিন্তু সেই থামুদ জাতির মানুষরা কোনো কারণে ধ্বংস হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তাদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এরকম প্রযুক্তিতে অগ্রসর, বিত্তশালী, শক্তিশালী জাতি কীভাবে রাতারাতি বিলুপ্ত হয়ে গেল, অথচ তাদের বানানো বাড়িঘরগুলো ঠিকই থাকলো — সেটা আজও একটা বিস্ময়। কু’রআনে বলা আছে সেদিন কী ঘটেছিল— আল-হিজরের বাসিন্দারা আমার রাসুলদের অস্বীকার করেছিল। আমি ওদেরকে আমার নিদর্শন দেখিয়েছিলাম, কিন্তু ওরা মানল না। ওরা পাহাড় কেটে বাড়িঘর বানাত, নিরাপদে বসবাস করত। সকাল বেলা এক প্রচণ্ড আঘাত ওদেরকে শেষ করে দিল। ওরা কতকিছু অর্জন করেছিল, যার কিছুই ওদের কোনো কাজে আসলো না। [আল-হিজর ১৫:৮০-৮৫] এই সব রহস্য প্রমাণ করে যে, পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক ঘটনা রয়েছে, যার কোনো স্বাভাবিক প্রাকৃতিক কারণ নেই, যা কোনো প্রচলিত প্রাকৃতিক নিয়মে ব্যাখ্যা করা যায় না। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, যে সব জাতিগুলো এরকম রহস্যময়ভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে, তাদের প্রত্যেকের ধ্বংসাবশেষ ঘাঁটলে দেখা যায় যে, এরা সবাই সম্পদে, প্রাচুর্যে অন্ধ হয়ে নৈতিকভাবে একেবারেই নিচে নেমে গিয়েছিল এবং জঘন্য সব কাজ করত তারা। এদের শহরগুলো ভর্তি মদের পাত্রের ছড়াছড়ি। রাস্তার মোড়ে মোড়ে পতিতালয়। দেওয়ালে দেওয়ালে সমকামিতার ছবি। উদ্ধার করা প্রাচীন লিপিগুলোতে বর্ণনার যোগ্য নয় এমন নোংরা সবঘটনার বর্ণনা। তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখাযায় যে, এই সব অতিপ্রাকৃত ঘটনাগুলো ঘটেছে পরিকল্পিতভাবে। এগুলো কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। কেউ একজন আছেন, যিনি চরমভাবে দুর্নীতিগ্রস্থ, নৈতিকভাবে একেবারেই নষ্ট হয়ে যাওয়া এই ধরনের জাতিগুলোকে বার বার ধ্বংস করে দেন।
উঠতি নাস্তিক: আল্লাহ যদি সবকিছু সৃষ্টি করে থাকে, তাহলে তাকে সৃষ্টি করলো কে? প্রথমত প্রশ্নটা মহাবিশ্বের সৃষ্টির কোনো সমাধান নয়, বরং একটা পালটা প্রশ্ন। দিতীয়ত প্রশ্নটা অনেক সমস্যার সৃস্টি করে। স্টিফেন হকিংস এর মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব আমাদের বলে যে, বিগ ব্যাং এর আগে কোন ম্যাটার, এনার্জি; স্থান, সময় কিছুই ছিল না। একদম শুন্য। তাই স্রষ্টাকে কখন, কোথায়, কে সৃষ্টি করল প্রশ্নটি অবান্তর। কেননা যেহেতু স্রস্টা সময় এবং স্থান সৃষ্টি করেছেন তাই স্রস্টার কোন এক নির্দিষ্ট 'স্থানে' বা 'সময়' এর মদ্ধে সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়। স্রস্টা স্থান ও কাল এর উর্ধে। এবং তিনি অতিত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সব কিছু একইসাথে দেখেন। আল্লাহকে ﷻ যে সৃষ্টি করেছে, তাকে তাহলে কে সৃষ্টি করেছে? সেই মহাসত্তাকে যে সৃষ্টি করেছে, সেই মহা-মহাসত্তাকে কে সৃষ্টি করেছে? সেই মহা-মহাসত্তাকে যেই মহা-মহা-মহাসত্তা সৃষ্টি করেছে, তাকে কে সৃষ্টি করেছে?… এই প্রশ্নের শেষ নেই। এটা চলতেই থাকবে। তৃতীয়ত, এই প্রশ্নটা একটা ভুল প্রশ্ন। কারণ এখানে সৃষ্টিকর্তা অর্থ ‘যে সৃষ্ট নন বরং যিনি সৃষ্টি করেন।’ সুতরাং কেউ যখন জিজ্ঞেস করে, “সৃষ্টিকর্তাকে কে বানিয়েছে?”, সে আসলে জিজ্ঞেস করছে— “যাকে কেউ সৃষ্টি করেনি, তাকে কে সৃষ্টি করেছে?” এধরনের অনেক প্যাঁচানো প্রশ্ন আপনারা ফিলোসফার এবং নাস্তিকদের কাছ থেকে পাবেন, যারা ভাষার মারপ্যাচ দিয়ে এমন সব প্রশ্ন তৈরি করে, যা পড়ে আপনার মনে হবে – “আসলেই তো! এর উত্তর কি হবে? হায় হায়! আমি কি তাহলে ভুল বিশ্বাস করি?” তাদের আসল সমস্যা হচ্ছে তারা ভাষা এবং বিজ্ঞান ঠিকমত বোঝে না এবং তাদের প্রশ্নগুলো যে ভাষাগতভাবে ভুল এবং বৈজ্ঞানিকভাবে অবাস্তব, সেটা তারা নিজেরাই ঠিকমত চিন্তা করে দেখেনি। এরা আপনাকে ভাষাগত ভাবে ভুল বাক্য তৈরি করে, বৈজ্ঞানিক ভাবে অবৈজ্ঞানিক একটা প্রশ্ন করে, তারপর আপনার কাছে দাবি করবে একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার। আগের পর্বে আমরা বিস্তারিত দেখিয়েছি, কেন এরকম অসীম পর্যন্ত পুনরাবৃত্তি হওয়া সম্ভব নয়। অসীম একটি ধারণা মাত্র, এর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই।
হতাশাগ্রস্থ নাস্তিক: আল্লাহ ﷻ থাকলে এত খারাপ কিছু হয় কেন? নাস্তিকদের দেওয়া তর্কটি এরকম—
• স্রষ্টা একজন পরম করুণাময়, ন্যায়পরায়ণ সত্তা, যিনি সবকিছু করতে পারেন।
• সৃষ্টিজগতে অন্যায় হয়।
• সুতরাং সৃষ্টিকর্তা ন্যায়পরায়ণ নন, তিনি পরম করুণাময়ও নন, এবং তিনি অন্যায় প্রতিরোধ করতে পারেন না। সুতরাং স্রষ্টা বলে কেউ নেই।
যুক্তিটা বেশ ভালোই। কিন্তু এর মধ্যে দুটো ব্যাপার ধরে নেওয়া হয়েছে, যা প্রকাশ করা হয়নি—
• স্রষ্টা এমন একটি জগৎ সৃষ্টি করতে বাধ্য, যেখানে কোনো অন্যায় থাকবে না।
• স্রষ্টা পরম করুণাময়, ন্যায়পরায়ণ হলে তিনি কোনোভাবেই অন্যায় হতে দিতে পারেন না।
আল্লাহ ﷻ যদি এমন একটা জগৎ সৃষ্টি করেন, যেখানে কেউ কোনো অন্যায় করতে পারে না, তাহলে সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা বলে কিছু থাকবে না। মানুষ হয়ে যাবে ফেরেশতা অথবা অন্যান্য পশুদের মত আরেকটি সৃষ্টি, যাদের সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা নেই। যারা নিজেদের ইচ্ছামত কিছুই করতে পারেনা। মানুষকে সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য সেটা ছিল না।
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নাস্তিক: স্রষ্টার অস্তিত্বের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই এই ধরনের নাস্তিকদের দাবি, “স্রষ্টার অস্তিত্বের পক্ষে কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি। সুতরাং স্রষ্টা নেই।” ফিলসফির ভাষায় একে বলে Ad Ignorantiam। যারা এই ধরনের প্রশ্ন করে, তাদেরকে আপনি প্রশ্ন করুন:
• মানুষ কি এখন পর্যন্ত যা কিছু প্রমাণ করা সম্ভব, তার সব কিছু প্রমাণ করে দেখেছে?
• মানুষ কি এখন পর্যন্ত সমস্ত ‘বিজ্ঞান সম্মত’ ঘটনা দেখেছে? ‘বিজ্ঞান সম্মত’-এর সংজ্ঞা কি বাকি জীবন পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে?
• মানুষ কি এখন পর্যন্ত যা জানা সম্ভব, তার সব কিছু জেনেছে?
• মানুষ কি এখন পর্যন্ত সৃষ্টিজগতের ১%-ও বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি ‘না’ হয়, তাহলে কেবল মাত্র একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মানুষের পক্ষেই বলা সম্ভব যে, স্রষ্টার অস্তিত্বের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। কেউ যদি এই ধরনের দাবি করে, তবে তাকে আগে দেখাতে হবে যে, সৃষ্টিজগতে যাকিছু প্রমাণ করা সম্ভব, তার সব প্রমাণ হয়ে গেছে। সৃষ্টিজগতে যা কিছু জানা সম্ভব, তার সব সে জেনেছে। মানুষের আর জানার, বোঝার, প্রমাণ করার কিছুই বাকি নেই। যেহেতু আর কিছু বাকি নেই, তাই তখনও যদি স্রষ্টার পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া না যায়, তখন নিশ্চিতভাবে দাবি করা যাবে: স্রষ্টা বলে কেউ নেই। “মানুষ কি নিজে থেকেই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই নিজেদেরকে সৃষ্টি করেছে? মানুষ কি আকাশগুলো এবং পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? না! ওদের একেবারেই কোনো জ্ঞান নেই।” [আত-তুর ৫২:৩৫-৩৬] বৈজ্ঞানিকভাবে যন্ত্র দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা বা প্রমাণ করাটার যে কত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, এবং সেটি যে মোটেও যথেষ্ট নয়, তার জ্বলন্ত প্রমাণ হচ্ছে Quantum Entanglement বা কোয়ান্টাম আঁতাত।[২৩২] বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে প্রমাণ করেছেন যে, উপপারমানবিক কণিকাগুলো, যেমন ইলেকট্রন, কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে পারে, যদিও কিনা তাদের মধ্যে বিশাল দূরত্ব থাকে। তাদের মধ্যে দূরত্ব ১ মিটার হোক, বা কোটি কোটি আলোকবর্ষ হোক না কেন, তারা কোনো ভাবে জানে অন্যরা কী করছে। এটি আইনস্টাইনের বিখ্যাত তত্ত্ব: কোনো যোগাযোগ আলোর গতিবেগকে অতিক্রম করতে পারে না — এর বিরুদ্ধে যায়। এই গবেষণা থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে, এই কণিকাগুলোর কোনো এক বিশেষ জগৎ বা স্তরে আলাদা একটি অস্তিত্ব রয়েছে, যেখানে তারা সবাই ‘একসাথে’ থাকে এবং একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। আমাদের এই সৃষ্টিজগতে আমরা এই সব উপপারমানবিক কণাগুলোর একটি প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই মাত্র। এটাই তাদের একমাত্র অস্তিত্ব নয়। শুধু তাই না, এটা তাদের মুল অস্তিত্বও নয়। তাদের মুল অস্তিত্ব রয়েছে অন্য কোথাও। সেটা কোথায়, সেটা কী —আমরা তা জানি না। এই তত্ত্বকে Holographic Universe বলা হয়।[২৩১] এই তত্ত্ব অনুসারে আমাদের চারপাশে আমরা এই যে বিশাল সৃষ্টিজগৎ দেখতে পাচ্ছি, সেটা হচ্ছে একটি প্রতিচ্ছবি মাত্র। এই মহাবিশ্বের প্রতিটি কণিকা, শক্তি অন্য কোনো জগতে আরেকটি অস্তিত্ব রয়েছে। এর অর্থ হলো, ভৌত বিজ্ঞান যেভাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করে: কোনো কিছুর এই মহাবিশ্বে যে ভৌত অস্তিত্ব রয়েছে, সেটাকে ভৌত পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্তে পৌছা — সেটা সঠিক নয়। কোনো কিছুকে এই মহাবিশ্বে পর্যবেক্ষণ করতে না পারলেই যে আর সেটার অস্তিত্ব নেই, এটা এখন আর সঠিক নয়। কোয়ান্টাম বিজ্ঞানে এরকম অনেক কিছুই আছে, যার কোনো ‘বৈজ্ঞানিক’ ব্যাখ্যা নেই, প্রচলিত ভৌত বিজ্ঞানের নিয়ম অনুসারে। বিজ্ঞান একটি পদ্ধতি, আর এই পদ্ধতির কাজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কোনো কিছু কিভাবে কাজ করে সেটির ব্যাখ্যা দেয়া। আধুনিকতার তথাকথিত বেড়াজালে পড়ে আমরা এখন দাবী করি: যেহেতু আমরা জানি এটা কীভাবে কাজ করে, সেহেতু এর কোনো স্রষ্টার প্রয়োজন নেই। অথচ আমরা ভুলে যাই: কীভাবে কাজকরে, আর কেন এভাবে কাজ করে —এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কোনো কিছু এভাবে কাজ করে বলে এটিকে কেউ সৃষ্টি করেনি —এই ধারণায় বিজ্ঞান কখনোই আসে না। কারণ সেটি বিজ্ঞানের পদ্ধতির আওতায় পড়ে না। বিজ্ঞান আমাদেরকে বলে “কীভাবে”, কিন্তু সে কখনো “কেন” প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয় না, আর সেটি নিয়ে মাথা ঘামানো বিজ্ঞানের কাজ নয়। যেমন, আপনি রাস্তায় একটা বরফের টুকরো পড়ে থাকতে দেখে সেটা নিয়ে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ শুরু করলেন। বিজ্ঞান আপনাকে বলতে পারবে সেটা কী দিয়ে তৈরি, কীভাবে তৈরি, কখন তৈরি হয়েছে ইত্যাদি। কিন্তু বিজ্ঞান কখনোই আমাদেরকে বলতে পারবে না: কে সেটিকে কেন তৈরী করেছে? সেটি কোনো প্রাকৃতিক কারণে শিলা হয়ে মেঘ থেকে পড়েছে, নাকি কেউ তার ফ্রিজ থেকে এক টুকরো বরফ নিয়ে এসে রাস্তায় ফেলে রেখেছে?
আঁতেল নাস্তিক: আল্লাহ ধারণাটা আসলে মানুষের কল্পনা প্রসূত এই ধরনের নাস্তিকদের দাবি হচ্ছে: মানুষ নিজে থেকেই চিন্তাভাবনা করে একজন স্রষ্টার ধারণা বের করেছে। যেহেতু মানুষের সীমাবদ্ধতা আছে, মানুষ অনেক কিছুই করতে পারে না, তাই একরকম অবিনশ্বর, অসীম ক্ষমতা ইত্যাদি যত সব কল্পনাতীত গুণ মানুষচিন্তা করে বের করতে পারে, তার সবকিছু ব্যবহার করে সে এক স্রষ্টাকে সৃষ্টি করেছে। কিন্তু বাস্তবে এরকম কোনো স্রষ্টা নেই। এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য ধাপে ধাপে কিছু যুক্তি দাঁড় করাতে হবে এবং একটি লম্বা কল্পনা-অনুশীলন করতে হবে— কল্পনা করুন: একটা বিশাল খালি ঘর, যার ভেতরটা একদম শূন্য। এর ভেতরে কিছুই নেই। কোনো আলো, বাতাস, পদার্থ, শক্তি, ক্ষেত্র — কিছুই নেই। ভেতরটা হচ্ছে ঘুটঘুটে অন্ধকার, পরম শূন্যতা। এখন আপনার উদ্দেশ্য হচ্ছে: এই ঘরের ভেতরে কিছু একটা তৈরি করার। কিন্তু শর্ত হচ্ছে: আপনি বাইরে থেকে কিছু ব্যবহার করতে পারবেন না। ধরুন, আপনি সেই ঘরের ভেতর এক মুহূর্তের জন্য একটা আলো জ্বালাতে চান। কিন্তু আপনি তা করতে পারবেন না, কারণ আলো জ্বালানোর জন্য যা কিছু দরকার, তা আপনাকে বাইরে থেকে দিতে হবে। এখন আপনি দাবি করতে পারেন যে, আমরা যদি কোটি কোটি বছর অপেক্ষা করি, তাহলে একদিন হয়ত সেই ঘরের শূন্যতার মধ্যে একটা ক্ষুদ্র কণা, অণু, বা পরমাণু আপনা আপনিই তৈরি হবে। তারপর আরও কয়েক কোটি বছর পার হলে তা থেকে একসময় তেল, ম্যাচ, কাঠ তৈরি হয়ে একসময় আগুন ধরে যাবে এবং আলো তৈরি হবে। কিন্তু এই দাবির সমস্যা রয়েছে। প্রথমত, সময় নিজে থেকে কিছু করে না। কোনো ঘটনা ঘটলে, তা ঘটে সময়ের মধ্যে, কিন্তু সময় সেই ঘটনা ঘটায় না। যেমন, আপনি যদি চুলায় ডাল দিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করেন, তাহলে সেই পনের মিনিট কিন্তু ডাল রান্না করে না, বরং চুলার তাপ ডাল রান্না করে। আপনি যদি চুলা না জ্বালিয়ে চুপচাপ ১৫ মিনিট বসে থাকতেন, তাহলে আপনা আপনি ডাল রান্না হয়ে যেত না। সুতরাং আমরা যদি অসীম সময় পর্যন্তও অপেক্ষা করি, সেই ঘরের ভেতরে কিছুই আপনা থেকে সৃষ্টি হবে না। সেটা একটা অত্যন্ত ক্ষুদ্র কণিকা হোক, বা একটা বড় ফুটবল হোক না কেন। তাহলে এখন প্রশ্ন আসে, যদি কোটি কোটি বছর আগে মহাবিশ্ব সৃষ্টির আগে শূন্যতা বিরাজ করছিল, তাহলে এখনও কেন শূন্যতা নেই? শূন্যতা থেকে তো কোনো কিছু আসতে পারেনা। তাহলে তো এখনও শূন্যতা বিরাজ করার কথা। কিন্তু যেহেতু আপনি আছেন এবং আপনি এই আর্টিকেল পড়ছেন, তার মানে দাঁড়ায় এখন শূন্যতা নেই, কিছু একটা আছে। এর মানে দাঁড়ায়: শূন্যতা কখনই ছিল না। কিছু একটা সবসময় ছিল। এখন প্রশ্ন হলো: সেটা কী? সেটা কি একটা কণিকা ছিল? এক ধরনের শক্তি? একটা না হয়ে অনেক কিছু কি ছিল? আমাদের কল্পনার ঘরে ফেরত যাই। ধরে নেই: সেই ঘরে পাঁচটি বল রয়েছে। সেই বলগুলো চিরকাল থেকে সেই ঘরের ভেতরে ছিল। এখন আমরা যদি আরও দশ বছর অপেক্ষা করি, তাহলে কি আরেকটা বল তৈরি হবে? যদি কয়েক কোটি বছর অপেক্ষা করি, তাহলে কি হবে? হবে না। যদি পাঁচটি বলের বদলে কোটি কোটি বল থাকে, তাহলে কি সেই বলগুলো থেকে আরেকটি বল সৃষ্টি হবে? হবে না। সুতরাং সংখ্যা এখানে কোনো ব্যাপার নয়। সময় কোনো ব্যাপার নয়। নিষ্প্রাণ বস্তু কখনো অন্য কোনো বস্তুর জন্ম দেবে না, তার সংখ্যা যতই হোক না কেন এবং যতই সময় দেওয়া হোক না কেন। এখন ধরুন বলের বদলে সেই ঘরে একটা মোরগ রয়েছে। এখন আমরা যদি কয়েক বছর অপেক্ষা করি, তাহলে কি একটা মুরগির বাচ্চার জন্ম হবে? হবে না। কিন্তু যদি একটা মোরগ এবং মুরগি রাখা হয়, তাহলে একটা বাচ্চা মুরগির জন্ম হতে পারে। সুতরাং, আমরা দেখছি এখানে সংখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। বলের বেলায় সংখ্যার কোনো গুরুত্ব নেই, কিন্তু মুরগির বেলায় সংখ্যার গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, সেই ঘরের শূন্যতার মধ্যে যেই জিনিস রয়েছে তার গুণ কী। তার গুণ নির্ধারণ করে যে, সে অন্য কোনো কিছু সৃষ্টি করতে পারে, কি পারে না। মুরগির উদাহরণটাতে কিছু সমস্যা আছে। একটা মোরগ এবং মুরগি যদি একটা ঘরের শূন্যতার মধ্যে ভাসতে থাকে, তাহলে তারা কোনোদিনও একটা মুরগির বাচ্চার জন্ম দিতে পারবে না। কারণ সেই ঘরের মধ্যে কোনো প্রকৃতি নেই। কোনো বাতাস নেই, কোনো খাবার নেই, হাটার মত মাটি নেই। ওরা কিছুই খেতে পারে না, হেঁটে একজন আরেকজনের কাছে আসতে পারে না। ওদের পক্ষে কিছুই জন্ম দেওয়া সম্ভব নয়। এমনকি তাদের পক্ষে সেখানে বেঁচে থাকাও সম্ভব নয়। সুতরাং সেইঘরের শূন্যতার মধ্যে যদি কিছুর অস্তিত্ব থাকে, তবে সেটি হতে হবে এমন একটা কিছু, যার কোনো বাতাস, আলো, শক্তি — কিছুরই দরকার নেই। সেটা এমন একটা কিছু, যার সাথে আমাদের পরিচিত কোনো প্রাণীর কোনোই মিল নেই। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, কোনো প্রাণী না থাকুক, কোনো জড় বস্তু তো থাকতে পারে? তাদের তো কোনো খাবার, পানি, আলো-বাতাসের দরকার নেই? আমরা আগেই দেখেছি বলের উদাহরণটা। ধরুন, বলের বদলে পাঁচটি অণু রয়েছে। তাহলে কী দাঁড়াবে? যতই সময় যাক না কেন, সেই পাঁচটি অণুই থাকবে। নতুন কিছুই সৃষ্টি হবে না। এখন চিন্তা করে দেখুন, সেই অণুগুলো থাকার জন্য কী দরকার। কয়েক বছর আগে সরকারি পর্যায়ে কয়েকটি পশ্চিমা দেশের উদ্যোগে Large Hadron Collider নামে একটি বিশাল যন্ত্র তৈরি করা হয়, যা কয়েক মাইল চওড়া একটি যন্ত্র। এর মধ্যে দুটো অণুকে প্রচণ্ড গতিবেগে চালিয়ে একে অন্যের সাথে সংঘর্ষ ঘটানো হয়। উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি অতি ক্ষুদ্র কণিকা জন্ম দেওয়া। বিপুল পরিমাণ শক্তি খরচ করে এই সংঘর্ষ থেকে একটি মাত্র অতি ক্ষুদ্র কণিকা তৈরি করা হয়। সুতরাং আমাদের সেই কল্পনার ঘরে যদি পাঁচটি অণু থাকতে হয়, তাহলে এক বিশাল পরিমাণের শক্তির প্রয়োজন। এতক্ষণে আমরা যা জানলাম, তা থেকে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়— প্রথমত, সৃষ্টির আগে যদি কিছু থেকে থাকে, তাহলে সেটি হবে এমন একটি কিছু, যার অস্তিত্বের জন্য অন্য কিছুর দরকার নেই। যেটি একটি একক সত্তা। এর অস্তিত্বের জন্য অন্য কোনো কিছুর দরকার নেই। সেটি অমুখাপেক্ষী, কোনো কিছুর উপর নির্ভরশীল নয়। দ্বিতীয়ত, সেটির ক্ষমতা থাকতে হবে অন্য কোনো কিছুর সৃষ্টি করার। কারণ যদি সেটির সৃষ্টি করার ক্ষমতা না থাকে, তাহলে আমাদের চারপাশে এই যে বিশাল সৃষ্টিজগৎ, এর কিছুরই অস্তিত্ব থাকার কথা নয়। যেহেতু আপনি, আমি আছি, তাই সৃষ্টির আগে কিছু একটা ছিল, যার সৃষ্টি করার ক্ষমতা রয়েছে। তৃতীয়ত, সেই কিছু একটার অকল্পনীয় ক্ষমতা থাকতে হবে। আজকে আমরা একটি অতি ক্ষুদ্র কণিকা তৈরি করতে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করে যন্ত্র বানিয়ে, লক্ষ মেগাওয়াট শক্তি খরচ করি। এই পরিমাণ শক্তি যদি একটি মাত্র অতি ক্ষুদ্র কণিকা তৈরি করতে লাগে, তাহলে আপনি, আমি, আমাদের চারপাশ, এই বিশাল পৃথিবী, লক্ষ পৃথিবীর সমান বিরাট সূর্য, কোটি কোটি সূর্যের মত বিশাল তারা দিয়ে ভরা প্রকাণ্ড ছায়াপথ, এরকম কয়েকশ কোটি প্রকাণ্ড ছায়াপথসহ মহাবিশ্বের সবকিছু সৃষ্টি করতে কী পরিমাণ শক্তির দরকার? সুতরাং এই পর্যায়ে এসে আমরা কয়েকটি ব্যাপার প্রমাণ করলাম—
• সৃষ্টির আগে ‘কিছু একটা’ ছিল।
• সেই কিছু একটার অকল্পনীয় ক্ষমতা।
• সেই কিছু একটার ‘অন্য কিছু’ সৃষ্টির ক্ষমতা আছে।
• সেই কিছু একটা ‘অন্য কিছু’ অবশ্যই সৃষ্টি করেছে।
• সেই কিছু একটা অন্য কিছুর উপর নির্ভরশীল নয়।
• অন্য কোনো কিছুই সেটার সাথে তুলনা করার যোগ্য নয়।
এখন চলুন সৃষ্টির আগে চলে যাই। শুধুই সেই অবিনশ্বর জিনিসটা রয়েছে। আর কিছুই নেই। এখন যদি অন্য কোনো কিছুর সৃষ্টি করতে হয়, তাহলে সেটা শুধুমাত্র সেই অবিনশ্বর জিনিসটাকে দিয়েই সম্ভব। আর অন্য কোনো কিছু নেই, যা কিনা তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা সেই জিনিসটাকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে কিছু একটা সৃষ্টি করার জন্য। এখন সেই জিনিসটার কোনো কিছু সৃষ্টি করার কোনোই প্রয়োজন নেই, কারণ সে নিজে থেকেই অস্তিত্ব নিয়ে থাকতে পারে, এবং সবসময়ই ছিল। যেহেতু সেটার কোনোই প্রয়োজন নেই অন্য কোনো কিছু সৃষ্টি করার, তার মানে হলো: যদি কিছু সৃষ্টি হয়, তাহলে সেটা সৃষ্টি হয়েছে সেই অবিনশ্বর জিনিসটার ‘ইচ্ছা’র কারণে। এমনটা নয় যে, সেই অবিনশ্বর জিনিসটার প্রকৃতি হচ্ছে এমন যে, সেটি ‘কিছু সময়’ পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য কোনো কিছু সৃষ্টি করা শুরু করবে। কারণ ‘কিছু সময়’ হচ্ছে একটা ‘অন্য কিছু’, যা এখনো সৃষ্টি হয়নি। যদি সেই জিনিসটা ‘কিছু সময়’ সৃষ্টি না করে, তাহলে ‘কিছু সময়’-এর কোনো অস্তিত্ব হবে না। এখন আমরা একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার উপলব্ধি করলাম: সেই জিনিসটার ‘ইচ্ছা’ আছে। সুতরাং সেই জিনিসটা কোনো ‘জিনিস’ নয়, সেটা ‘কেউ একজন’ — কোনো চেতন সত্তা। আমরা আর সেটাকে ‘সেটা’ বলতে পারব না, বলতে হবে ‘তিনি’। এখন অনেকে দাবি করতে পারেন: যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে, সেটা তো দৈবক্রমে, বা ঘটনাচক্রেও সৃষ্টি হতে পারে? ‘ইচ্ছা’-এর দরকার নাও থাকতে পারে? যদি ইচ্ছা’র দরকার না থাকে, তাহলে আর কোনো চেতন সত্তার দরকার নেই। তখন সেটা অচেতন ‘কোনো জিনিস’ হতেই পারে। যেহেতু ‘দৈবক্রম’ বা ‘ঘটনাচক্র’ হচ্ছে ‘অন্য কিছু’ একটা, যা সেই অবিনশ্বর জিনিসটা নয়, এবং আমরা এর আগে দেখেছি যে, ‘অন্য কিছু’ সৃষ্টি হওয়া শুধুমাত্র সেই অবিনশ্বর জিনিসটার পক্ষেই করা সম্ভব, সুতরাং এই ‘দৈবক্রম’ বা ‘ঘটনাচক্র’ সেই অবিনশ্বর জিনিসটাকেই সৃষ্টি করতে হবে। ‘দৈবক্রম’ বা ‘ঘটনাচক্র’ কখনই সেইঅবিনশ্বর জিনিসটার বাইরে নিজে থেকেই থাকতে পারে না। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম অবিনশ্বর সত্তাটি একটি অতি পরমাণু, সেটি কোনো চেতন সত্তা নয়। সেটির সৃষ্টি করার ক্ষমতা রয়েছে। সেই অণুটির যতই ক্ষমতা থাকুক, যত কিছুই সৃষ্টি করার সামর্থ্য থাকুক না কেন, সৃষ্টি করার ‘ইচ্ছা’ না থাকলে সেই অণুটা চিরজীবন যেমন ছিল, তেমনই থাকবে।যেহেতু এর অন্য কোনো কিছু সৃষ্টি করার কোনোই প্রয়োজন নেই, সেটি কখনই কিছু সৃষ্টি করবে না। কিন্তু অন্য কিছু সৃষ্টি অবশ্যই সৃষ্টি হয়েছে, কারণ আপনি-আমি আজকে আছি। সুতরাং দৈবক্রম, বা ঘটনাচক্র বলে কিছু নেই। থাকলে সেটা সেই অবিনশ্বর সত্তারই সৃষ্টি। যদি তাই হয়, তার মানে সেই অবিনশ্বর সত্তা ‘ইচ্ছা’ করেন বলেই অন্য কিছু সৃষ্টি হয়। যদি ‘ইচ্ছা’ না থাকত, তাহলে যতই ক্ষমতা থাকুক না কেন, যতই সময় পার হোক না কেন, অন্য কোনো কিছুই সৃষ্টি হতো না। এথেকে আমরা এটা দাবি করতে পারি, সেই অবিনশ্বরসত্তার ‘ইচ্ছা’ আছে। এখন আমরা আগে দেখেছি, সেই অবিনশ্বর সত্তা অন্য কোনো কিছু ছাড়াই থাকতে পারেন। সুতরাং, তিনি সময় কিংবা পার্থিব জগতে আবদ্ধ নন, কারণ তিনি সময় এবং স্থান সৃষ্টি করেছেন। একইভাবে যেহেতু তিনিই স্থান সৃষ্টি করেছেন, তাই তিনি ইচ্ছা করলেই স্থানের বাইরে অদৃশ্য থাকতে পারেন, যেন তাঁকে কোনোভাবেই বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষণ এবং পরিমাপ করা না যায়। আবার তিনি ইচ্ছা করলেই স্থানের ভেতরে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেন, যেন তাঁর সৃষ্টি তাঁকে দেখতে এবং শুনতে পারে। এবার ধরি সেই অবিনশ্বর সত্তা একটি অণু সৃষ্টি করলেন। তিনি কি সেই অণুটির ব্যাপারে যা কিছু জানা সম্ভব তার সবকিছু জানেন? অবশ্যই, কারণ তিনি শূন্য থেকে সেই অণুটি সৃষ্টি করতে পারেন। শূন্য থেকে কোনো কিছুবানানো, আর তেল ময়দা মাখিয়ে পরোটা বানানোর মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য রয়েছে। আমরা যা কিছুই বানাই, আমরা কখনই তা শূন্য থেকে বানাই না। একারণে কোনো কিছুর ব্যাপারে যা কিছু জানা সম্ভব, তার সব কখনই আমরা জানতে পারবো না। আমাদের জ্ঞান সবসময়ই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। এখন ধরুন তিনি দুটি ভিন্ন ধরনের অণু সৃষ্টি করলেন। তিনি কি সেই দুটো অণুর ব্যাপারে যা কিছু জানা সম্ভব, তার সবকিছু জানেন? অবশ্যই, একটার ব্যাপারে জানলে, দুটোর বেলায় কেন হবে না? সুতরাং আমরা দেখছি তাঁর সৃষ্ট কোনো কিছুর ব্যাপারে তাঁর জ্ঞান, কয়টি সৃষ্টি হয়েছে, তার সংখ্যার উপর নির্ভর করে কমে না বা বাড়ে না। এভাবে তিনি যদি কোটি কোটি কোটি অণুও সৃষ্টি করেন, তারপরেও তিনি সেগুলোর প্রত্যেকটির ব্যাপারে যা কিছু জানা সম্ভব, তার সবকিছুই জানবেন। সুতরাং আমরা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যে, তিনি শুধুই অকল্পনীয় জ্ঞানের অধিকারীই নন, তাঁর সবকিছুর ব্যাপারে সবরকম জ্ঞান রয়েছে। তিনি পরমজ্ঞানী, সকল জ্ঞানের অধিকারী। যদি সেই সত্তা প্রতিটি অণুর ব্যাপারে যা কিছু জানা সম্ভব, তাঁর সব কিছু জানেন, তার মানে দাঁড়ায় সেই অণুগুলো যা কিছু ঘটাচ্ছে, ঘটিয়েছে, এবং ঘটাবে, অর্থাৎ সৃষ্টিজগতে যা কিছুই ঘটে, সবকিছুর ব্যাপারেই জানেন। সুতরাং তিনি প্রতিটি শব্দ শোনেন, প্রতিটি ঘটনা দেখেন। শুধু তাই না, যেহেতু তিনি প্রতিটি অণু বানিয়েছেন, তাই প্রতিটি অণু যা কিছুই ঘটাতে পারে, তার সবকিছুই তিনিই নির্ধারণ করেদিয়েছেন। সুতরাং মহাবিশ্বের প্রতিটি ঘটনা তাঁর অনুমতিতে ঘটে। তিনিই সবকিছু ঘটান। তাঁর ঘটানো ঘটনার বাইরে অন্য কোনো কিছু ঘটে না।
• সৃষ্টির আগে ‘কোনো একজন’ ছিলেন।
• সেই ‘কোনো একজন’-এর অকল্পনীয় ক্ষমতা।
• সেই ‘কোনো একজন’-এর ‘অন্য কিছু’ সৃষ্টির ক্ষমতা আছে।
• সেই ‘কোনো একজন’ ‘অন্য কিছু’ অবশ্যই সৃষ্টি করেছেন।
• সেই ‘কোনো একজন’ অন্য কিছুর উপর নির্ভরশীল নন।
• অন্য কোনো কিছুই সেই ‘কোনো একজন’-এর সাথে তুলনা করার যোগ্য নয়।
• সেই ‘কোনো একজন’ সবকিছুর ব্যাপারে সব জানেন, সব দেখেন, সব শোনেন।
• মহাবিশ্বের প্রতিটি ঘটনা ঘটে সেই ‘কোনো একজন’-এর ইচ্ছায়।
উপরের এই যুক্তিগুলো ব্যবহার করে আমরা যে সত্তার অস্তিত্বকে প্রমাণ করলাম, তিনি কোনো কাল্পনিক সত্তা নন। তিনি থাকতে বাধ্য। না হলে উপরের সবগুলো যুক্তিমিথ্যা। যদি উপরের যুক্তিগুলো মিথ্যা হয়, তাহলে আপনার কোনো অস্তিত্ব নেই। যেহেতু আপনার অস্তিত্ব আছে, তাই উপরের যুক্তিগুলো ধারাবাহিকভাবে সবগুলো সত্যি। সুতরাং এরকম একজন সত্তা অবশ্যই আছেন। এই মহান সত্তাকে আমরা ‘আল্লাহ’ নামে ডাকি, কারণ তিনি অনুগ্রহ করে আমাদেরকে তাঁর সম্পর্কে জানিয়েদিয়েছেন— قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ বল, তিনিই আল্লাহ, অদ্বিতীয়। তিনি অমুখাপেক্ষী, সবকিছু তাঁর উপর নির্ভরশীল। তিনি কোনো উত্তরসূরি জন্ম দেন নি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। তাঁর সমকক্ষ আর কিছুই নেই! [সুরা ইখলাস] তিনিই আল্লাহ, যিনি অবিনশ্বর, পরম অস্তিত্বধারী। তন্দ্রা বা ঘুম তাকে আচ্ছন্ন করতে পারে না। আকাশগুলো এবং পৃথিবীতে যা কিছুই আছে, সব তাঁর। কে আছে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর সামনে সুপারিশ করতে পারে? তাদের আগে কী ঘটেছে এবং পরে কী ঘটবে — তিনি সব জানেন। তিনি নিজে থেকে তাদেরকে যা শেখান, তার বাইরে তাঁর জ্ঞানের কিছু জানার কোনো ক্ষমতাই তাদের নেই। তার নিয়ন্ত্রণ-সিংহাসন সবগুলো আকাশ এবং পৃথিবীর উপরে বিস্তৃত। এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে তিনি মোটেও ক্লান্ত হন না। তিনি সর্বোচ্চ সত্তা, প্রচণ্ড ক্ষমতাবান। [আয়াতুল কুরসি, আল-বাক্বারাহ ২:২৫৫] তিনি যেটা করতে ইচ্ছা করেন, সেটাই করেন। [আল-বুরুজ ৮৫:১৬] ওদেরকে জিজ্ঞেস করো, “কে তোমাদেরকে আকাশ এবং পৃথিবী থেকে তোমাদের বেঁচে থাকার জন্য যা দরকার, সবকিছু দেন? তোমাদের শোনা এবং দেখাকে কে নিয়ন্ত্রণ করেন? কে তোমাদেরকে নিষ্প্রাণ অবস্থা থেকে প্রাণ দেন এবং জীবিত থেকে মৃত করেন? সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন কে?” ওরা নির্দ্বিধায় বলবে, “আল্লাহ!” তাহলে ওদেরকে জিজ্ঞেস করো, “তবে কেন তোমরা তাঁর ব্যাপারে সাবধান থাকো না?” তিনিই আল্লাহ, তোমার পালনকর্তা, শাশ্বত সত্য। এই সত্য ছাড়া যা কিছু আছে, তার সব মিথ্যা ছাড়া আর কী? তাহলে কিসের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছো তোমরা? [ইউনুস ১০:৩১] তিনি আল্লাহ, যিনি ছাড়া উপাসনার যোগ্য কোনো সত্তা নেই। গোপন এবং প্রকাশ্য সব জ্ঞানের অধিকারী। পরম করুণাময়, নিরন্তর করুণাময়। তিনি আল্লাহ, যিনি ছাড়া উপাসনার যোগ্য কোনো সত্তা নেই। একমাত্র অধিপতি, পবিত্র সত্তা, সকল শান্তির উৎস, নিরাপত্তাদাতা, সবকিছুর অভিভাবক, সব ক্ষমতা কর্তৃত্বের অধিকারী, যে কোনো কিছুকে বাধ্য করতে সক্ষম, সবার থেকে উপরে। ওরা আল্লাহর সাথে যা কিছুরই তুলনা করে, ওসবের থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে। তিনি আল্লাহ, একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক, রূপদায়ক। সমস্ত সুন্দর নামগুলো তাঁর। আকাশ এবং পৃথিবীতে সবকিছু তাঁর মহিমা প্রকাশ করছে। তিনি সকল ক্ষমতা কর্তৃত্বের অধিকারী, পরম প্রজ্ঞাময়। [আল-হাশর ৫৯:২২-২৪]
ঘৃণাস্তিক: যদি আল্লাহ বলে আসলেই কেউ থাকে, তাহলে ধর্মের নামে এত অন্যায় হয় কেন? Encyclopedia of Wars নামের তিনখণ্ডের এক বিশাল বইয়ে ১৭৬৩টি যুদ্ধের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এর মধ্যে ১২৩টি যুদ্ধকে ধর্ম [2]সম্পর্কিত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার অর্থ এই পর্যন্ত যত যুদ্ধ হয়েছে, তার মধ্যে মাত্র ৬.৯৮% যুদ্ধধর্ম সম্পর্কিত। ৯৩% যুদ্ধের সাথে ধর্মের কোনোই সম্পর্ক নেই। R. J. Rummel এর বিখ্যাত Lethal Politics এবং Death by Government বইয়ে দেখানো হয়েছে, নাস্তিকদের কারণে হত্যার পরিমাণ কতখানি—
Non-Religious-Dictator Lives Lost Joseph Stalin 42,672,000 Mao Zedong 37,828,000 Adolf Hitler 20,946,000 Chiang Kai-shek 10,214,000 Vladimir Lenin 4,017,000 Hideki Tojo 3,990,000 Pol Pot 2,397,000 মহিলা এবং শিশুকে গুলি করে, পিটিয়ে, নির্যাতন করে, কুপিয়ে, পুড়িয়ে, অভুক্ত রেখে, বরফে জমিয়ে, পিষে বা জোর করে কাজ করিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। জীবন্ত পুঁতে, পানিতে ডুবিয়ে, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে, বোমা মেরে, বা অন্য আরও নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে সরকারগুলো নিরস্ত্র, অসহায় দেশবাসী এবং বিদেশীদের হত্যা করেছে। মোট মৃতের সংখ্যা ৩০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যেতে পারে। মানব জাতি যেন এক কালো মহামারির শিকার। কিন্তু এই মহামারি কোনো জীবাণু থেকে মহামারি নয়, বরং শক্তির মোহ থেকে সৃষ্ট মহামারি। নাস্তিকরা এই বিংশ শতাব্দীতে ১৫ কোটির বেশি মানুষ খুন করেছে। পুরো বাংলাদেশের জনসংখ্যার সমান মানুষতারা এই বিংশ শতাব্দীতেই মেরে শেষ করেছে। (সূত্রঃ The Irrational Atheist, TheodoreBeale-এর লেখা বই) ১৯১৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত মোট ১৪.৮ কোটি মানুষ মারা গেছে ৫২ জন নাস্তিকের[২৩৩] কারণে, যা পুরো বিংশশতাব্দীতে যুদ্ধ, গৃহ যুদ্ধ এবং সকল অন্যয়ের কারণে মারা যাওয়া মোট জনসংখ্যার চেয়ে ৩ গুণ বেশি! নোবেল পুরস্কার জয়ী Aleksandr Solzhenitsyn পঞ্চাশ বছর ধরে গবেষণা করে বের করেছেন যে রাশিয়াতে যে ৬কোটি মানুষ মারা গেছে কমিউনিজমের কারণে, তার আসল কারণ নাস্তিকতা।[২৩৩] দুঃখজনকভাবে আজকে আধুনিক যুগের মানুষরা মিডিয়ার গণমগজ ধোলাইয়ের শিকার। মিডিয়া বেশিরভাগ মানুষকে সফলভাবে বোঝাতে পেরেছে যে, যত মারামারি, খুনাখুনি, হত্যা হয়, তার বেশিরভাগ হয় ধর্মের কারণে। ধর্ম না থাকলে মানুষ অনেক শান্তিতে বাস করতে পারত। মিডিয়ার নানা ধরনের মগজ ধোলাইয়ের শিকার হয়ে মানুষ এতটাই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়ে গেছে যে, তারা জানে মিডিয়া যা বলে তার বেশিরভাগই উদ্দেশ্য প্রণোদিত, বিকৃত, কিন্তু তারপরেও তারা মিডিয়াকেই বিশ্বাস করে, যখন তা ধর্মের ব্যপারে কিছু বলে।
সূত্র:
• [১৪] তাফসির আল কুরতুবি।
• [২১৬] P. J. Zwart, About Time (Amsterdam and Oxford: North Holland Publishing Co., 1976), pages 117-19
• [২১৭] John Polkinghorne and Nicholas Beale. Questions of Truth. 2009, page 41
• [২১৮] David Hilbert. On the Infinite, in Philosophy of Mathematics, ed. with an Intro. by P. Benacerraf and H. Putnam. Prentice-Hall. 1964, page151. • [২১৯] Aristotle, “Physics 207b8″ http://classics.mit.edu/Aristotle/p...
• [২২০] Appendix in Morris, J. and F. Sherwin. 2009. The Fossil Record. Dallas, TX: Institute for Creation Research.
• [২২১] Nüsslein-Volhard, C. and E. Wieschaus. 1980. Mutations affecting segment number and polarity in Drosophila. Nature. 287 (5785): 795-801.
• [২২২] Burke, M. K. et al. 2010. Genome-wide analysis of a long-term evolution experiment with Drosophila. Nature. 467 (7315): 587-590.
• [২২৩] Barrick, J. E. et al. 2009. Genome evolution and adaptation in a long-term experiment with Escherichia coli. Nature. 461 (7268): 1243- 1247.
• [২২৪] Sanford, J. 2008. Genetic Entropy & the Mystery of the Genome. Waterloo, NY: FMS Publications.
• [২২৫] Kong, A. et al. 2012. Rate of de novo mutations and the importance of father’s age to disease risk. Nature. 488 (7412): 471-475.
• [২২৬] Thomas, B. Do New Dinosaur Finger Bones Solve a Bird Wing Problem? ICR News. Posted on icr.org July 9, 2009, accessed March 9, 2012.
• [২২৭] Leonard, B. Critical Analysis of Evolution — Grade 10. Draft Reflecting Changes Made at March 2004 State Board of Education Meeting, page 314. Ohio Department of Education. www.texscience.org.
• [২২৮] Allaby, M. (ed.) 1992. The Concise Oxford Dictionary of Zoology. New York: Oxford University Press.
• [২২৯] Nathaniel T. Jeanson, Ph.D. “Is Evolution an Observable Fact?” http://www.icr.org/article/7165/
• [২৩০] Henry, Roger “Synchronized Chronology: Rethinking Middle East Antiquity” http://goo.gl/kDfpHK, page 24.
• [২৩১]Cowen , Ron “Simulations back up theory that Universe is a hologram” http://www.nature.com/news/simulati...
• [২৩২]Merali, Zeeya “Quantum effects brought to light” http://www.nature.com/news/2011/110...
Special Thanks to- www.quranerkotha.com

বাচ্চাদের প্রাথমিক রুকইয়াহ ও বিধিনিষেধ

প্রাথমিক রুকইয়াহ পদ্ধতিঃ  ১।   মানুষ ও জ্বীনের বদনজর ও জ্বীনের আছর থেকে হিফাযত ও শিফার নিয়তে - দুরুদে ইব্রাহিম, সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি,...