Showing posts with label বিবাহ ও তালাক. Show all posts
Showing posts with label বিবাহ ও তালাক. Show all posts

Thursday, April 8, 2021

স্বামী-স্ত্রী, বিয়ে এবং দাম্পত্য বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ~শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী হাফিঃ

 স্বামী-স্ত্রী, বিয়ে এবং দাম্পত্য বিষয়ক লিংক-১

(৩০টি লিংক)

 ▬▬▬❂◍▬▬▬

১. পাত্রী নির্বাচনের সঠিক মানদণ্ড

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/907257549693791

২. পাত্র নির্বাচনের মানদণ্ড কী?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/689618094791072

৩. দাম্পত্য জীবনে মধুর সম্পর্ক এবং ভালবাসা ​বিনিময়ের অভাবনীয় মর্যাদা​

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/1155168078236069

৪. স্বামী-স্ত্রী মহান আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত ও অন্যতম নিদর্শন। সুতরাং এ ব্যাপারে যত্নশীল হোন:

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/584508058635410

৫. নবদম্পতির মাঝে মিল-মোহাব্বত সৃষ্টির ১০ উপায়

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/740115226408025

৬. স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায়ের আবশ্যকতা এবং পদ্ধতি

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/584316645321218

৭. স্বামীর আনুগত্য করার আবশ্যকতা এবং তার অনুমতি ছাড়া বাইরে যাওয়ার বিধান

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/738353666584181

৮. প্রশ্ন: স্বামীর আনুগত্য  আমরা কীভাবে করবো? কী কী কাজ করলে স্বামীর আনুগত্য করা হবে?

https://m.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/565174303902119

৯. প্রশ্ন: বিয়ের পরে একটা মেয়ে কতটুকু স্বাধীনভাবে চলতে পারবে?

https://m.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/980150599071152

১০. স্বামীর অনুমতি ছাড়া রক্ত দান করার বিধান

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/1165917473827796

১১. স্বামী-স্ত্রী: কে কোন পাশে হাঁটবে, বসবে বা ঘুমাবে?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/1172735533145990

১২. প্রশ্ন: স্বামী যদি স্ত্রীকে দ্বীনের জ্ঞার্নাজনে নিষেধ করে তাহলে কী করণীয়?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/654349128317969

১৩. স্বামীর আনুগত্য এবং তার সীমা

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/460248137728070/

১৪. প্রশ্ন: আল্লাহর নাফরমানীতে লিপ্ত স্বামীর আনুগত্য করা আবশ্যক কি?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/395489474203937

১৫. স্ত্রীর জন্য কি স্বামীর অসম্মতিতে তার নিকটে না থেকে তার শশুর-শাশুড়ির খেদমতের উদ্দেশ্যে তাদের কাছে থাকা ঠিক হবে?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/577687735984109

১৬. আজানের সময় আজানের জবাব আগে না কি স্বামীর ডাকে সাড়া দেয়া আগে? সহবাসের সময় আজানের জবাব দেয়া যাবে কি?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/765299643889583

১৭. আমার স্বামীর অক্ষমতার দরুন আমি আমার দেবরের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাই। এতে কি আমার জন্য আমার স্বামী হারাম হয়ে গেছে? এখন আমার কী করণীয়?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/1122309534855257

১৮. স্বামীর ইবাদত-বন্দেগিতে অনীহা এবং খারাপ আচরণে স্ত্রী যখন চরম বিরক্ত ও বীতশ্রদ্ধ....​

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/596393254113557

১৯. যে স্ত্রীর স্বামী বিদেশে থাকে তার জন্য ১০টি দিকনির্দেশনা

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/1096286367457574

২০. স্বামী-স্ত্রী কত দিন আলাদা থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/1056548651431346

২১. বিবাহ বিচ্ছেদের কয়েকটি কারণ: বাঁচতে হলে জানতে হবে

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/1044643955955149

২২. দাম্পত্য জীবনে ভালবাসা বৃদ্ধির কয়েকটি সহজ উপায়:

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/826449774441236

২৩. বাসর রাতের বিশেষ নামায ও দুআ

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/629559724130243

২৪. প্রশ্ন: বাসর রাতে কি যৌনমিলন আবশ্যক? যদি তাই হয় তাহলে একজন অপরিচিতার সাথে তা কীভাবে সম্ভব?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/899641537122059

২৫. স্বামী-স্ত্রী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে নিয়ে জামাআতে সালাত আদায় করার পদ্ধতি

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/613329995753216

২৬. নির্জনে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পর্দা কতটুকু?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/767108803708667

২৭. ইসলামের দৃষ্টিতে অন্ত:স্বত্বা স্ত্রীর সাথে সহবাস এবং তার খাওয়া-দাওয়া ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/728353367584211

২৮. স্বামীর সাথে এক বিছানায় শোয়া যাবে?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/1003626313390247

২৯. স্বামী বা মাহরাম পুরুষ ছাড়া মহিলাদের হজ্জ বা উমরা আদায়

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=716449942107887&id=235040300248856

৩০. স্ত্রীর অন্যায় ও পাপাচারে স্বামীর চুপ থাকা নাজায়েজ

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/1179293479156862

 

স্বামী-স্ত্রী, বিয়ে এবং দাম্পত্য বিষয়ক লিংক-

(৩০টি লিংক)

 ▬▬▬❂◍▬▬▬

৩১. প্রশ্ন: মুশরিককে বিয়ে করে সন্তান হলে সে কি জারজ সন্তান হবে?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/878066442612902

৩২. প্রশ্ন: পর্দানশীন মেয়ের সাথে কি প্রেম করা যাবে?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/924294784656734

৩৩. কোনো পুরুষকে পছন্দ হলে তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য দুআ করার বিধান এবং বিয়ের ক্ষেত্রে একজন পুরুষের মধ্যে কোন কোন বৈশিষ্ট দেখা জরুরি

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/679628285790053

৩৪. বাড়িতে স্বামী-সন্তানদের সামনে পর্দা এবং টয়লেট যাওয়ার সময় মাথায় কাপড় দেয়ার বিধান

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/657151451371070

৩৫. তার স্বামী বর্তমানে জেলে... প্রতিবেশী ছেলেরা খারাপ প্রস্তাব দেয়...

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/783662125386668

৩৬. বৃদ্ধ মহিলার স্বামী মারা গেলে তার ইদ্দত পালনের মেয়াদ বিধি-বিধান

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/383852522034299

 ৩৭. কী কী কারণে স্ত্রীর জন্য তার স্বামীর নিকট খোলা  তালাক চওয়া বৈধ?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/595346487551567

৩৮. স্বামী যদি স্ত্রীকে তার ভাই-বোন, খালা, খালাতো বোন ইত্যাদি রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতে নির্দেশ দেয় তাহলে কি তা মানা আবশ্যক?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/579690119117204

৩৯. বদমেজাজি অহংকারী ব্যক্তির পরিণতি এবং এমন স্বামীর সাথে আচরণের ১৫টি কৌশল

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/770243190061895

৪০. ফেসবুক-ইউটিউবেস্বামী-স্ত্রীর ভিডিও আপলোড করার বিধান

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/716913538728194

৪১. স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে কি একে অপরকে দেখতে বা গোসল দিতে পারে?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/571922399893976

৪২. স্বামী -স্ত্রী একত্রে কিভাবে জামাত করে সালাত আদায় করবে?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/937240130028866

৪৩. স্ত্রীর উপর স্বামীর কর্তৃত্ব শাসন: কিভাবে কতটুকু? স্ত্রী অবাধ্য হলে স্বামীর করণীয়

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/1173367909749419

৪৪. প্রশ্ন: স্ত্রী কে জান, কলিজা, পাখি ইত্যাদি বলে সম্বোধন করা যাবে কি?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/1152090295210514

৪৫. বিয়েতে আত্মীয়-অনাত্মীয়: কোনটি উত্তম? নিকটাত্মীয় মেয়েকে বিয়ে করলে সন্তানের কোন ক্ষতির সম্ভাবনা আছে কি?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/1151440211942189

৪৬. নিকটাত্মীয় বা স্বামীর মৃত্যুতে মহিলাদের শোক পালন করার বিধিবিধান:

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/1144113362674874

৪৭. স্ত্রী সহবাসের পর তৎক্ষণাৎ গোসল এবং কিছু ভুল ধারণা

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/889884831431063

৪৮. প্রশ্ন: স্বামী যদি স্ত্রীর কাছে সুন্দর দেখানোর জন্যে দাড়ি শেভ করে তাহলে কি করা উচিৎ?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/884975108588702

৪৯. প্রশ্ন: স্ত্রী যদি গর্ভবতী থাকে তাহলে তার স্বামী কোন জানাজার সালাতে অংশ নিতে পারে না। কথাটা কতটুকু সঠিক?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/587066868379529

 ৫০. ইসলামের দৃষ্টিতে 'গোপন বিয়ে

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/742857852800429

৫১. স্বামী-স্ত্রীর বিনোদনের সময় কখন গোসল ফরয হয় আর কখন হয় না

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/588223221597227

৫২. স্বামী-স্ত্রী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে নিয়ে জামাআতে সালাত আদায় করার পদ্ধতি

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/613329995753216

৫৩. প্রশ্ন: বিবাহ পূর্ববর্তী কোন রিলেশনের কথা স্বামী /স্ত্রী কে জানানোর ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/401697670249784

৫৪. বিবাহ বিচ্ছেদের কয়েকটি কারণ: বাঁচতে হলে জানতে হবে

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/1044643955955149

৫৫. স্বামী অন্য নারীতে আসক্ত

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/591082727977943

৫৬. স্বামীকে পরকীয়া থেকে রক্ষা করার উপায়

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/564442743975275

৫৭. প্রশ্ন: স্বামীর নাম ধরে ডাকা কি জায়েজ?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/898803643872515

৫৮. ‘স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত কথা কি হাদিস সম্মত?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/453732441712973

৫৯. এক মেয়েকে বিয়ে করার পর একটি বাচ্চাও ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তারপর জানা গেছে সে তার দুধবোন!  ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কি?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/869510290135184

৬০. প্রশ্ন: স্বামী যদি পাগল হয়ে যায় তাহলে স্ত্রী কি তালাক দিয়ে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে? না কি তালাক ছাড়াই তা বৈধ হবে?

https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/posts/570467730039443

 ▬▬▬❂◍▬▬▬

Tuesday, January 21, 2020

খুলা তালাক বলতে কী বুঝায়? স্ত্রী কি স্বামীকে তালাক দিতে পারবে?

প্রশ্ন: খুলা তালাক বলতে কী বুঝায়? খুলা তালাক প্রয়োগ করার পদ্ধতি কী? যদি স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিতে না চায় তা সত্ত্বেও কী তালাক সংঘটিত হতে পারে?
আমেরিকান সোসাইটি সম্পর্কে কি বলবেন? যদি স্ত্রীর কাছে তার স্বামী মনপূত না হয় (কোন কোন ক্ষেত্রে; যেহেতু স্বামী দ্বীনদার)। স্ত্রী ধারণা করে যে, তার তালাক দেয়ার স্বাধীনতা রয়েছে।

উত্তরঃ আলহামদুলিল্লাহ।
খুলা হচ্ছে: কোন কিছুর বিনিময়ে স্ত্রী বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। এক্ষেত্রে স্বামী সে বিনিময়টি গ্রহণ করে স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে; এ বিনিময়টি স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত মোহরানা হোক কিংবা এর চেয়ে বেশি সম্পদ হোক কিংবা এর চেয়ে কম হোক।

এ বিধানের দলিল হচ্ছে, আল্লাহ্‌র বাণী: “আর তাদেরকে যা কিছু দিয়েছো (বিদায় করার সময়) তা থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্য বৈধ নয়। তবে এটা স্বতন্ত্র, স্বামী-স্ত্রী যদি আল্লাহ নির্ধারিত সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না বলে আশংকা করে, তাহলে এমতাবস্থায় যদি তোমরা আশংকা করো, তারা উভয়ে আল্লাহ্‌ নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থান করতে পারবে না, তাহলে স্ত্রীর কিছু বিনিময় দিয়ে তার স্বামী থেকে বিচ্ছেদ লাভ করায় উভয়ের কোন গুনাহ নেই।”[সূরা বাক্বারা, আয়াত: ২২৯]

সুন্নাহ্‌ থেকে এর দলিল হচ্ছে, সাবেত বিন ক্বাইস বিন শাম্‌মাস এর স্ত্রী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বললেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! আমি সাবেত বিন ক্বাইসের উপর চারিত্রিক বা দ্বীনদারির কোন দোষ দিব না। কিন্তু, আমি মুসলিম হয়ে কুফরিতে লিপ্ত হতে অপছন্দ করি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি কি তার বাগানটি ফিরিয়ে দিবে? সাবেত মোহরানা হিসেবে তাকে বাগান দিয়েছিল। সে বলল: জ্বি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: বাগানটি গ্রহণ করে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দাও”[সহিহ বুখারী (৫২৭৩)]

এই ঘটনা থেকে আলেমগণ গ্রহণ করেন যে, কোন নারী যদি তার স্বামীর সাথে অবস্থান করতে না পারে সেক্ষেত্রে বিচারক স্বামীকে বলবেন তাকে তালাক দিয়ে দিতে; বরং স্বামীকে তালাক দেয়ার নির্দেশ দিবেন।

এর পদ্ধতি হচ্ছে- স্বামী বিনিময় গ্রহণ করবেন কিংবা তারা দুইজন এ বিষয়ে একমত হবেন; এরপর স্বামী তার স্ত্রীকে বলবেন: আমি তোমাকে বিচ্ছিন্ন করে দিলাম কিংবা আমি তোমাকে খুলা তালাক দিলাম, কিংবা এ জাতীয় অন্য কোন শব্দ।

তালাক হচ্ছে স্বামীর অধিকার। স্বামী তালাক দিলেই তালাক সংঘটিত হবে। দলিল হচ্ছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “তালাক তারই অধিকার যার রয়েছে সহবাস করার অধিকার” অর্থাৎ স্বামীর। [সুনানে ইবনে মাজাহ (২০৮১), আলবানী ‘ইরওয়াউল গালিল’ গ্রন্থে (২০৪১) হাদিসটিকে ‘হাসান’ আখ্যায়িত করেছেন]

এ কারণে আলেমগণ বলেন: যে ব্যক্তিকে তালাক দেয়ার জন্য অন্যায়ভাবে জবরদস্তি করা হয়েছে; সে ব্যক্তি যদি এ জবরদস্তি থেকে বাঁচার জন্য তালাক দেয় তাহলে সে তালাক সংঘটিত হবে না।[দেখুন আল-মুগনী (১০/৩৫২)]

আপনাদের সেখানে মানবরচিত আইনে স্ত্রী নিজেই নিজেকে তালাক দিতে পারার যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন: যদি সেটা এমন কোন কারণে হয় যে কারণে মহিলার জন্য তালাক চাওয়া জায়েয আছে; যেমন- স্ত্রী তার স্বামীকে অপছন্দ করা, স্বামীর সাথে একত্রে থাকতে না পারা, কিংবা স্বামীর দ্বীনদারির ঘাটতি ও হারামে লিপ্ত হওয়ার স্পর্ধাকে অপছন্দ করা ইত্যাদি, তাহলে স্ত্রীর তালাক চাওয়াতে কোন দোষ নেই। তবে, এ অবস্থাতে স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে যে মোহরানা গ্রহণ করেছে সেটা ফেরত দিতে হবে।

আর যদি যথাযথ কারণ ছাড়া স্ত্রী তালাক চায় তাহলে সেটা নাজায়েয। এমতাবস্থায় কোর্ট যদি তালাক কার্যকর করে তাহলে সেটা ইসলামি শরিয়তে গ্রাহ্য হবে না। বরং এ মহিলা এ পুরুষের স্ত্রী হিসেবে বলবৎ থাকবে। এখানে হচ্ছে সমস্যা। সমস্যাটা হলো- এ নারী আইনের দৃষ্টিতে তালাকপ্রাপ্তা; ইদ্দত শেষ হলে সে হয়ত অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। অথচ প্রকৃতপক্ষে সে তালাকপ্রাপ্ত নয়; সে অন্য একজনের স্ত্রী।

শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উছাইমীন এ ধরণের মাসয়ালার ক্ষেত্রে বলেন:

আমরা এখন একটা সমস্যা সংকুল মাসয়ালার সামনে আছি। এ নারী তার স্বামীর বিবাহাধীনে থাকায় অন্য কোন পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না। কিন্তু, বাহ্যতঃ কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে সে তালাকপ্রাপ্তা নারী; যখনি তার ইদ্দত পূর্ণ হবে তার জন্য অন্য স্বামী গ্রহণ করা বৈধ। এ সমস্যা নিরসনে আমার দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে কিছু দ্বীনদার ও ভাল মানুষকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে; যাতে করে তারা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সমঝোতা করতে পারে। সমঝোতা না হলে, স্ত্রী তার স্বামীকে বিনিময় দিতে হবে; যাতে করে এটি ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে খুলা তালাক হিসেবে গণ্য হয়।

শাইখ উছাইমীনের লিকাউল বাব আল-মাফতুহ; নং ৫৪, (৩/১৭৪) দারুল বাছিরা প্রকাশনী, মিশর

Monday, January 20, 2020

ছেলে বা মেয়েকে কারো সাথে বিয়েতে বাধ্য করা কি বৈধ?

ছেলে বা মেয়েকে কারো সাথে বিয়েতে বাধ্য করা কি বৈধ?
▬▬▬●◈●▬▬▬
প্রশ্ন: বিয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যেকেরই একটা পছন্দ-অপছন্দ থাকে এবং অনেক সময় পছন্দ না হলে বিয়ের পর হয়ত ফিতনা হতে পারে। তাহলে বাবা মা কি ছেলে বা মেয়ে কে নির্দিষ্ট কারো সাথে বিয়েতে বাধ্য করতে পারে?
উত্তর:
ইসলামের দৃষ্টিতে পিতা-মাতার জন্য তাদের ছেলে বা মেয়েকে এমন ব্যক্তির সাথে বিয়েতে বাধ্য করা জায়েজ নাই যাকে সে পছন্দ করে না বা যার সাথে তার বিয়েতে আগ্রহ নেই। কারণ বিয়ের ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীর পারষ্পারিক আকর্ষণ ও আগ্রহ বোধ থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তা যদি না থাকে তাহলে এই পবিত্র বন্ধন দ্রুতই দুর্বল হয়ে পড়ে। এই জন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিয়ের পূর্বে বরক ও কনে একে অপরকে দেখে নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
➤ জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمَرْأَةَ فَقَدِرَ أَنْ يَرَى مِنْهَا بَعْضَ مَا يَدْعُوهُ إِلَيْ نكاحها فَلْيَفْعَلْ
“তোমাদের কেউ যখন কোন মেয়েকে বিয়ে করার ইচ্ছা করে তখন যতদূর সম্ভব তাকে দেখে নিয়ে এ মর্মে নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত যে, মেয়েটির মধ্যে এমন কিছু আছে যা তাকে বিয়ে করার প্রতি আকৃষ্ট করে।” (আহমদ ও আবু দাউদ)
➤ অন্য হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন:
انْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا ‏
"তাকে দেখে নাও, তোমাদের মধ্যে এটা ভালবাসার সৃষ্টি করবে।" [তিরমিযী, অনুচ্ছেদ: প্রস্তাবিত পাত্রীকে দেখা, শাইখ আলবানী হাদিসটিকে সহিহ সহিহ বলেছেন]
এ মর্মে আরও একাধিক হাদিস রয়েছে।
বিয়ের পূর্বে দেখাদেখির বিষয়ে ইসলামে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এ কারণে যে, বর-কনে যেন একে অপরকে দেখে তাদের নিজস্ব পছন্দ ও অপছন্দের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু যদি কাউকে তার অপছন্দের ব্যক্তির সাথে জোর করে বিয়ে দেয়া হয় তাহলে সেখানে তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করা হল যা তাদের দাম্পত্য জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে-এ সম্ভাবনাই বেশি।
➤ এ ছাড়া হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-বলেছেন:
لاَ تُنْكَحُ الأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ وَلاَ تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ قَالُوا كَيْفَ إِذْنُهَا قَالَ أَنْ تَسْكُتَ
"বিধবাকে তার মতামত ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারীকে তার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না। তারা বললেন, তার অনুমতি কেমন হবে? তিনি বললেনঃ তার চুপচাপ থাকা।" [সহিহ বুখারি (তাওহীদ) হাদিস নম্বরঃ [6970] অধ্যায়: ৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل) পাবলিশারঃ তাওহীদ]
অর্থাৎ কুমারী মেয়ের নিকট বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার পর সে যদি চুপ থাকে তাহলে তা তার সম্মতি হিসেবে গণ্য হবে। যেমন বাংলা প্রবাদে বলা হয়, নীরবতা সম্মতির লক্ষণ।
এ সব হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়, বিয়ের ক্ষেত্রে বর ও কনের নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারো জন্য আল্লাহ প্রদত্ত তাদের এ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার নাই। সুতরাং তাদের সম্মতি ছাড়া জোর পূর্বক বিয়েতে বাধ্য করা আল্লাহর নাফরমানির শামিল।
✪ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন:
"وليس للأبوين إلزام الولد بنكاح من لا يريد ، فإن امتنع لا يكون عاقاً ، كأكل ما لا يريد"
"الاختيارات" (ص 344)
"বাবা-মার জন্য তাদের সন্তানকে এমন ব্যক্তির সাথে বিবাহে বাধ্য করার সুযোগ নাই যাকে সে বিয়ে করতে চায় না। অত:এব সে যদি এ ক্ষেত্রে বাবা-মার নির্দেশ না মানে তাহলে সে 'অবাধ্য' হিসেবে গণ্য হবে না- বিষয়টি অনিচ্ছা স্বত্বেও খাওয়ার মত।" (উৎস: আল ইখতিয়ারাত, পৃষ্ঠা নং ৩৪৪)
সুতরাং ছেলে হোক অথবা মেয়ে হোক কাউকেই তার ইচ্ছার বাইরে কারো সাথে বিয়েতে বাধ্য করার সুযোগ নেই। কেউ যদি তার প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে অথবা মেয়েকে এমন ব্যক্তির সাথে বিয়েতে বাধ্য করে তাহলে তাদের অধিকার রয়েছে বিয়ে রাখা অথবা ভঙ্গ করার। আর সন্তান যদি এ ক্ষেত্রে বাবা-মার নির্দেশ অমান্য করে তাহলে তাতে তার গুনাহ হবে না বরং বাবা-মা তাদের অনধিকার চর্চার কারণে আল্লাহর নিকট গুনাহগার হবে।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।
আল্লাহু আলাম
▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

অজ্ঞতাবশত দুধবোন বিয়ে করলে এরপরে করণীয় কি?

এক মেয়েকে বিয়ে করার পর একটি বাচ্চাও ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তারপর জানা গেছে সে তার দুধবোন! এ ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কি?
▬▬▬▬◢◯◣▬▬▬▬
প্রশ্ন: আমার পরিচিত এক ভাইয়ের দাম্পত্য জীবন আজ আট বছর প্রায়। তার স্ত্রী সম্পর্কে আপন খালাতো বোন। তাদের তিন বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে জানা গেছে যে, বিশেষ প্রয়োজনে বা নিরুপায় হয়ে আমার সেই ভাইয়ের মা’ র দুগ্ধ পান করেছিলো তার উক্ত খালাতো বোন বর্তমানে যে তার স্ত্রী। তাদের বিয়ের সময় অভিভাবকদের অজ্ঞতা হোক বা ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবের কারণেই হোক বিষয়টি তখন দৃষ্টিগোচর হয় নি। কিন্তু বর্তমানে বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। ইসলাম এক্ষেত্রে কী বলে? পুনরায় উল্লেখ করা যাচ্ছে যে, তাদের তিন বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
তাই এক্ষেত্রে ইসলামের শরিয়ত অনুযায়ী সঠিক করণীয় বলে দিলে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ থাকবো।
উত্তর:
ইসলামের দৃষ্টিতে দুধ ভাই-বোনের মাঝে বিবাহ বন্ধন চিরকালের জন্য হারাম। কেননা আল্লাহ তাআলা যে সকল মহিলার সাথে বিবাহ বন্ধন হারাম করেছেন সেগুলোর মধ্য একজন হল, দুধবোন। যেমন: আল্লাহ বলেন,
وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُم مِّنَ الرَّضَاعَةِ
"(তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে) তোমাদের সে মা’ দেরকে যারা তোমাদেরকে দুধ পান করিয়েছে (দুধ মাগণ) এবং তোমাদের দুধ বোনদেরকে।" (সূরা নিসা: ২৩)
এ ব্যাপারে একাধিক সহিহ হাদিসও বিদ্যমান রয়েছে।
সুতরাং যদি কোন পুরুষ এবং নারী নির্দিষ্ট কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে একই মায়ের ‘দুধ পান’ করেছে বলে সাব্যস্ত হয় তাহলে তাদের মাঝে বিবাহ বন্ধন চিরকালের জন্য হারাম।
সম্মানিত ফকিহগণ উল্লেখ করেছেন যে, রাযআত বা দুগ্ধ পান এর কারণে বিবাহ হারাম হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত হওয়ার জন্য কতিপয় শর্ত রয়েছে। সেগুলো হল:
● ক. দু বছর বয়সের মধ্যে শিশুর দুধ পান করা।
● খ. কমপক্ষে পাঁচ বার তৃপ্তি সহকারে দুধ পান করা।
● গ. পাঁচ বার দুধ পান করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া।
● ঘ. দুধ শিশুর পাকস্থলী পর্যন্ত পৌঁছা।
● ঙ. এবং এ বিষয়ে কমপক্ষে একজন বিশ্বস্ত মহিলা সাক্ষ্য প্রদান করা। (এ বিষয়ে বিস্তারিত আলাদা একটি পোস্ট দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ)
.
যদি উপরোক্ত শর্তাবলী অনুযায়ী কোন শিশু কোন মহিলার দুধ পান করেছে বলে সাব্যস্ত হয় তাহলে তাদের মাঝে রাযআত বা দুধ পান জনিত কারণে মাহরামিয়াত সাব্যস্ত হবে। অর্থাৎ উক্ত শিশুর সাথে ওই মহিলা ও তার স্বামীর সাথে সম্পর্ক হবে হুবহু নিজের জন্মদাতা পিতামাতার অনুরূপ এবং তাদের সন্তানাদির সাথে সম্পর্ক হবে হুবহু জন্মসূত্রের ভাই-বোনের অনুরূপ। অর্থাৎ তাদের মাঝে পর্দা করা আবশ্যক নয় এবং তাদের মাঝে চিরতরে বিবাহ বন্ধন হারাম। (এতে সম্পদের উত্তরাধিকার সাব্যস্ত হবে না।)
কিন্তু যদি কোনো পুরুষ ও নারীর মাঝে বিয়ে সংঘটিত হওয়ার পরে জানা যায় যে, তারা শিশুকালে একই মায়ের দুধ পান করেছিলো (এবং তা যথাযথ শর্তাবলীর আলোকে সুসাব্যস্ত হয়) তাহলে সাথে সাথে তাদের বিয়ে বাতিল বলে গণ্য হবে এবং তাদেরকে তৎক্ষণাৎ পৃথক হতে হয়ে যেতে হবে।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছিলো। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে, তিনি তাদেরকে আলাদা করে দেন। এ মর্মে হাদিস হল:
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّهُ تَزَوَّجَ ابْنَةً لأَبِي إِهَابِ بْنِ عَزِيزٍ، فَأَتَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ قَدْ أَرْضَعْتُ عُقْبَةَ وَالَّتِي تَزَوَّجَ‏.‏ فَقَالَ لَهَا عُقْبَةُ مَا أَعْلَمُ أَنَّكِ أَرْضَعْتِنِي وَلاَ أَخْبَرْتِنِي‏.‏ فَأَرْسَلَ إِلَى آلِ أَبِي إِهَابٍ يَسْأَلُهُمْ فَقَالُوا مَا عَلِمْنَا أَرْضَعَتْ صَاحِبَتَنَا‏.‏ فَرَكِبَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ فَسَأَلَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ كَيْفَ وَقَدْ قِيلَ ‏"‏‏.‏ فَفَارَقَهَا، وَنَكَحَتْ زَوْجًا غَيْرَهُ‏.‏
উকবা ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ইহাব ইবনে আজিজের কন্যাকে বিবাহ করলেন। পরে এক মহিলা এসে বলল, আমি তো উকবাহ এবং যাকে সে বিয়ে করেছে দু জনকেই দুধ পান করিয়েছি। উকবাহ রা. তাকে বললেন, এটা তো আমার জানা নেই যে, আপনি আমাকে দুধ পান করিয়েছেন আর আপনিও এ বিষয়ে আমাকে অবহিত করেন নি।
অতঃপর আবু ইহাব পরিবারের নিকট লোক পাঠিয়ে তিনি তাদের নিকট জানতে চাইলেন। তারা বলল, সে আমাদের মেয়েকে দুধ পান করিয়েছে বলে তো আমাদের জানা নেই। তখন তিনি মদিনার উদ্দেশে সওয়ার হলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “যখন এরূপ বলা হয়েছে তখন এ (বিবাহ) কিভাবে সম্ভব?”
অত:পর উকবাহ রা. তাকে ত্যাগ করলেন। আর সে অন্য জনকে বিয়ে করল।
(সহিহ বুখারি, অধ্যায়: সাক্ষ্যদান, অনুচ্ছেদ: ৫২/৪. অধ্যায়: এক বা একাধিক ব্যক্তি কোন বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করলে আর অন্যরা এ বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করলে সাক্ষ্য দাতার কথা অনুযায়ী ফায়সালা হবে।)
অজ্ঞতা বশত: এমন বিয়ে হওয়ার পর যদি তাদের সন্তান হয় তাহলে তা পিতার সন্তান হিসেবে গণ্য হবে এবং সন্তান হিসেবে বাবার মৃত্যুর পর সে উত্তরাধিকারী সম্পদ ভাগ পাবে। কারণ এখানে বিবাহটি ছিল শুবহা তথা সংশয়পূর্ণ। (যা অজ্ঞতাবশত সংঘটিত হয়েছিল)
এ কথাই বলেছেন ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহ.। তিনি বলেন:
فإن المسلمين متفقون على أن كل نكاح اعتقد أنه نكاح سائغ إذا وطئ فيه فإنه يلحقه فيه ولده ويتوارثان باتفاق المسلمين، وإن كان ذلك النكاح باطلاً في نفس الأمر باتفاق المسلمين. انتهى
আর যেহেতু বিষয়টি তাঁদের অজানা বশত: হয়েছিল সেহেতু ইনশাআল্লাহ তারা গুনাহগার হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا
"হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাওয়ার কারণে কিংবা অনিচ্ছাবশত: অন্যায় করে ফেলি তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না।" (সূরা বাকারা: ২৮৬)
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬◢◯◣▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
Daee at jubail dawah & guidance center. KSA

মুশরিক বিয়ে করে সন্তান হলে সে কি জারজ সন্তান হবে?

প্রশ্ন: মুশরিক বিয়ে করে সন্তান হলে সে কি জারজ সন্তান হবে?
উত্তর:
ইসলামের দৃষ্টিতে কোন মুসলিমের জন্য (চাই পুরুষ হোক অথবা নারী হোক) মুশরিককে বিয়ে করা হারাম।
মহান আল্লাহ বলেন:
وَلَا تَنكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّىٰ يُؤْمِنَّ ۚ وَلَأَمَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ ۗ وَلَا تُنكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّىٰ يُؤْمِنُوا ۚ وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ ۗ أُولَـٰئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ ۖ وَاللَّـهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ ۖ وَيُبَيِّنُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ
“আর তোমরা মুশরিক নারীদেরকে বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। একজন মুসলিম ক্রীতদাসী মুশরেক নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভালো লাগে। এবং তোমরা (নারীরা) কোন মুশরিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে। একজন মুসলিম ক্রীতদাসও একজন মুশরেকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা জাহান্নামের আগুনের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ নিজের হুকুমের মাধ্যমে আহ্বান করেন জান্নাত ও ক্ষমার দিকে। আর তিনি মানুষকে নিজের নির্দেশ বাতলে দেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।" (সূরা বাকারা: ২২১)
আর ইসলামের একটি মূলনীতি হল, “বিয়ে বৈধ হলে সন্তান বৈধ আর বিয়ে অবৈধ হলে সন্তানও অবৈধ।”
সুতরাং কোন মুসলিম যদি কোনও হিন্দু, বৌদ্ধ, অগ্নিপূজক, গাছ, মাছ, কবর পূজারী ইত্যাদি মুশরিককে বিয়ে করে তাহলে তার বিয়ে বাতিল। এভাবে তথাকথিত বিয়ে করে ঘর সংসার করলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে ব্যভিচার হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং তাদের ঔরসজাত সন্তানও হবে অবৈধ (জারজ) সন্তান।

উল্লেখ্য যে, এই সন্তানের কোনও দোষ নেই। সে নিষ্পাপ। তার প্রতি কোনও ধরণের কু ধারণা রাখা যাবে না। মান-মর্যাদা পাওয়ার ক্ষেত্রে তার প্রতি কোনরূপ বৈষম্য করা যাবে না। আলেম হলে তার পেছনে নামাজ পড়তেও কোন সমস্যা নেই।
আল্লাহ আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।
আল্লাহু আলাম।
--------------------------
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

একজন ছেলে আরেকজন মেয়েকে ভালোবাসে কিন্তু ছেলের পরিবার ঐ মেয়েকে মানতে নারাজ

একজন ছেলে আরেকজন মেয়েকে ভালোবাসে কিন্তু ছেলের পরিবার ঐ মেয়েকে মানতে নারাজ...
---------------------------------
প্রশ্ন: একজন আরেকজনকে অনেক ভালোবাসে। ছেলের পরিবার ঐ মেয়েকে মানতে নারাজ। কিন্তু মেয়ে এবং ছেলে কেউই কাউকে ছাড়া এক মুহূর্তও ভাবতে পারেনা।
ছেলেকে না পেলে মেয়ে আত্মহত্যাও করতে পারে। এমন অবস্থায় ছেলের করণীয় কি?
উত্তর:
ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহ বহির্ভূতভাবে তথাকথিত প্রেমের সম্পর্ক সম্পূর্ণ হারাম এবং শয়তানের ফাঁদ। এই ফাঁদে পড়ে ছেলে ও মেয়ে উভয়ে জিনার দিকে ধাবিত হয়। কামনা-বাসনা সহকারে কথাবার্তা, নির্জনে দেখা-সাক্ষাত, ডেটিং, চ্যাটিং, স্পর্শ, হাসাহাসি, দুষ্টামি সবই হারাম।
আল্লাহ আমাদেরকে জিনার নিকটবর্তী হতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا
“আর জিনার কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।”(সূরা ইসরা: ৩২)
তবে দয়াময় আল্লাহ বৈধ উপায়ে বিয়ের মাধ্যমে নিজেদের ভালবাসা প্রকাশ ও জৈবিক চাহিদা মেটানোর সুযোগ দিয়েছেন। মানুষের কর্তব্য, বিয়ের পূর্বে হারাম সম্পর্কের দিকে পা না বাড়িয়ে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিয়ে করা।
এ ক্ষেত্রে পুরুষের জন্য অভিভাবকের অনুমতি নেয়াকে আবশ্যক করা হয় নি। কারণ পুরুষ স্বয়ং সম্পন্ন। পক্ষান্তরে নারীর জন্য অভিভাবকের সম্মতি নেয়াকে অপরিহার্য শর্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া (অধিক বিশুদ্ধ মতানুসারে) বিয়ে শুদ্ধ হবে না। কারণ নারীরা সাধারণত: আবেগ প্রবণ হওয়ায় তারা চক্রান্তকারীদের কবলে পড়ে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকে।
সুতরাং ঐ যুবকের কর্তব্য, হারাম সম্পর্ক থেকে তওবা করে মেয়ের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাকে বিয়ে করা। এ ক্ষেত্রে ইসলামে যেহেতু তার পিতার নিকট অনুমতি নেয়াকে বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত করা হয় নি সেহেতু সে প্রথমত: তার পিতাকে এই বিয়েতে সম্মত করতে চেষ্টা করবে। কিন্তু তিনি সম্মত না হলে নিজ সিদ্ধান্তে উক্ত মেয়ের পরিবারের সাথে কথা বলে দ্রুত বিয়ে করে প্রয়োজনে আলাদা সংসার গড়তে পারে। এতে দোষের কিছু নাই।
প্রশ্ন আসতে পারে, বাবা-মার সম্মতি ছাড়া ছেলে বিয়ে করলে তো তারা কষ্ট পাবে। এতে কি সে গুনাহগার হবে?
উত্তরে বলব, ইসলাম প্রদত্ত অধিকার পালনের ক্ষেত্রে বাবা-মা যদি কষ্ট পায় এতে সন্তান গুনাহগার হবে না। কেননা সে আল্লাহর নিষিদ্ধ কোন কাজ করছে না।
এ ক্ষেত্রে বাবা-মার কর্তব্য, বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলের পছন্দকে অগ্রাধিকার দেওয়া, তাকে সুপরামর্শ দেয়া ও সহযোগিতা করা।
তবে বাবা, মা,‌ ভাই,‌ বোন সবার সাথে পরামর্শ করে যদি বিয়ে হয় তাহলে তা অতি উত্তম। এতে পারিবারিকভাবে ভেজাল কম হবে‌। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ইসলাম তা আবশ্যক করেনি।
দুআ করি, মহান আল্লাহ উক্ত যুবক ও যুবতী দ্বয়কে শয়তানের চক্রান্ত থেকে হেফাজত করুন এবং বিয়ে করার মাধ্যমে বৈধ ও পবিত্র জীবন গঠনের তাওফিক দান করুন। আমীন।

যদি মেয়ের বাবা/অভিভাবক উক্ত ছেলের সাথে বিয়ে দিতে সম্মত না হয় তাহলে পালিয়ে বিয়ে/কোর্ট ম্যারেজ করা বৈধ নয়।
তবে পিতার উচিৎ, মেয়ের পছন্দকে মূল্যায়ন করা এবং তার পছন্দনীয় ছেলের সাথে বিয়ে দেয়া যদি ছেলের চারিত্রগত দ্বীনদারীর ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না থাকে।
কেননা হাদিসে আছে:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِذَا جَاءَكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَأَنْكِحُوهُ إِلاَّ تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الأَرْضِ وَفَسَادٌ
যখন তোমাদের কাছে এমন কারো প্রস্তাব আসে যার দ্বীন ও চরিত্র তোমাদের পছন্দ হয় তাকে বিয়ে দিয়ে দিবে। তা যদি না কর তবে পৃথিবীতে ফিতনা-ফাসা’দ সৃষ্টি হবে। সাহাবীরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি তার মাঝে (কুফূ (সামাজিক, বংশগত ইত্যাদি ক্ষেত্রে সমতর ক্ষেত্রে) কিছু ক্রটি থাকে?

তিনি বললেন, যখন তোমাদের কাছে এমন কারো প্রস্তাব আসে যার দ্বীন ও চরিত্র তোমাদের পছন্দ হয় তাকে বিয়ে দিয়ে দিবে। এই কাথা তিনি তিনবার বললেন। (তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১০৮৫ [আল মাদানী প্রকাশনী] হাদিসের মানঃ হাসান}


শুধু দ্বীন কে অপছন্দ করার কারণে ইসলাম বিদ্বেষী বাবা যদি কোন ছেলেকে ফিরিয়ে দেয় তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে তার অভিভাবকত্ব রহিত হয়ে যাবে। তখন বাবার পরিবর্তে দাদা, ভাই, চাচা প্রমূখদের উপর পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব অর্পিত হবে। তারা কেউ দায়িত্ব পালন না করলে তখন কোর্ট ম্যারেজ বৈধ হবে।

এই প্রক্রিয়া অবলম্বন ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হবে না। এটাই অধিক বিশুদ্ধ কথা।
আল্লাহু আলাম।

---------------------
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

Monday, October 21, 2019

যৌতুক প্রথা কেন হারাম? ও যৌতুক সংক্রান্ত কতিপয় জরুরি বিধিবিধান

👉 যৌতুক বা পণ একটি হারাম ও জাহেলী প্রথা, সামাজিক ব্যাধী এবং দণ্ডণীয় অপরাধ
(সাথে রয়েছে যৌতুক সংক্রান্ত কতিপয় জরুরি বিধিবিধান)
🌀 যৌতুক কাকে বলে?
ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ের শর্ত হিসাবে কনে পক্ষের নিকট বর পক্ষ কর্তৃক ডিমান্ড বা দাবি করে কোনো ধরণের অর্থ-সম্পদ গ্রহণ করাকে যৌতুক বলা হয়।
বাংলা পিডিয়ায় বলা হয়েছে: “বিবাহের চুক্তি অনুসারে কন্যাপক্ষ বরপক্ষকে বা বরপক্ষ কন্যাপক্ষকে যে সম্পত্তি বা অর্থ দেয় তাকে যৌতুক বা পণ বলে।” (বাংলাপিডিয়া ৮/৪৫৫)
🌀 যৌতুক প্রথা কেন হারাম?
ইসলামে কেন যৌতুক প্রথা হারাম ও গর্হিত বিষয় তা নিন্মে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হল:
❖ ১. যৌতুক প্রথা হিন্দুদের রীতি-নীতির অন্তর্ভূক্ত। আর ইসলামের দৃষ্টিতে অমুসলিমদের ধর্মীয় রীতি-নীতি ও কৃষ্টি-কালচার অনুসরণ করা হারাম।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
"যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে।" [সুনানে আবু দাউদ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছেদ হা/৪০৩১-হাসান সহিহ]
এই হিন্দুয়ানী সংস্কৃতিটি দুর্ভাগ্য জনক ভাবে ভারত উপমহাদেশের মুসলিমদের মাঝে অনুপ্রবেশ করেছে।
এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিকগণ বলেন: “হিন্দু সমাজে নারীরা পুরুষদের মতো একইভাবে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতো না। তাই অনেক আগে থেকেই হিন্দু সমাজে নারীদেরকে বিয়ের সময়ে যৌতুক দেবার প্রচলন ছিল। কালক্রমে তা বিয়ের পণ হিসাবে আবির্ভূত হয় যা একসময় কনে পক্ষের জন্য এক কষ্টকর রীতি হয়ে দাঁড়ায়।” (উৎস: কাজী এবাদুল হক (জানুয়ারি ২০০৩)। "যৌতুক"।)
“দীর্ঘদিন যাবত হিন্দু সমাজ ও মুসলিম সমাজ একত্রে বসবাসের কারণে সাম্প্রতিককালে আরো বিভিন্ন কুপ্রথার মতো এই যৌতুক কুপ্রথাটিও মুসলিম সমাজে সংক্রমিত হয়।” [ইসলামের বৈধ ও নৈতিক প্রেক্ষাপট। লেখক: তমিজুল হক (ব্যরিস্টার এট ল.) পৃষ্ঠা নং ৫২৮]
❖ ২. ইসলামের দৃষ্টিতে এটি ‘অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভক্ষণ’ এর নামান্তর। এটি আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ
“তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না।” (সূরা বাকারা: ১৮৮)
❖ ৩. বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে যৌতুক লেনদেন একটি দণ্ডনীয় অপরাধ আর ইসলামের বিধান হল, মানব কল্যাণে প্রণীত সরকারী আইন মান্য করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। কোনভাবেই তা লঙ্ঘন করা বৈধ নয়-যতক্ষণ না তা আল্লাহর নির্দেশ পরিপন্থী হয়।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের যৌতুক নিরোধক আইন অনুসারে যৌতুক গ্রহণের অপরাধ প্রমাণিত হলে এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল বা ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
❖ ৪. যৌতুক প্রথা বিবাহের ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান পরিপন্থী। কেননা ইসলামের বিধান হল, বিয়ের ক্ষেত্রে স্বামী তার স্ত্রীকে দেনমোহর প্রদান করবে। স্ত্রীর পক্ষ থেকে অগ্রিম চুক্তি করে কোনো কিছু নেয়ার বিধান দেয়া হয় নি। কিন্তু এখানে নামকে ওয়াস্তে দেনমোহর রেজিস্ট্রেশন খাতায় লেখা হলেও বাস্তবে স্ত্রীর নিকট যৌতুক গ্রহণ করা হয়। সুতরাং তা সম্পূর্ণ হারাম, জুলুম ও অনৈতিক কাজ। বর বা তার পরিবারের জন্য এ সম্পদ ভক্ষণ করা সম্পূর্ণ হারাম।
পূর্ব যুগের মুসলিমগণ এই যৌতুক প্রথার সাথে পরিচিত ছিল না। কিন্তু বিশেষ করে পাক-ভারত উপমহাদেশে অমুসলিমদের সাহচর্য্যে থাকার ফলে ধীরে ধীরে এই নিকৃষ্ট প্রথা দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ ও অসচেতন মুসলিমদের মাঝে সংক্রামিত হয়েছে। (আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমীন)
🌀 দেনমোহর এবং আমাদের সমাজের বাস্তবতা:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً ۚ فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا
“আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশী মনে। তারা যদি খুশী হয়ে তা থেকে অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর।” (সূরা নিসা: ৪)
দুর্ভাগ্য বশত: কুরআনের এ নির্দেশ বর্তমানে আমাদের সমাজে সরকারী বিয়ে রেজিস্ট্রির খাতায় কেবল লিখে রাখার বিষয়। অনেক মানুষ তাদের স্ত্রীদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবধারিত ও অনিবার্য প্রাপ্য মোহর থেকে শুধু বঞ্চিত করছে না বরং উল্টো স্ত্রীর পরিবার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ-কড়ি এবং আসবাব-পত্র যৌতুক হিসেবে হাতিয়ে নিচ্ছে। এটি নি:সন্দেহে কনের পরিবারের উপর একটি মারাত্মক জুলুম। যে পিতা তার শরীরের রক্তঘাম দিয়ে একটি মেয়েকে প্রতিপালন করল সেই মেয়েকে বিয়ে দিতে গিয়ে তার মাথার উপর যখন যৌতুকের মত এই মহা অভিশাপ চেপে বসে তখন তার মানসিক কী অবস্থা কী হতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এ যৌতুকের কারণে কত অসহায় নারীকে স্বামীর নির্মম নির্যাতনে নিষ্পেষিত হচ্ছে, অপমানিত হতে হচ্ছে, কত নারী তার স্বামী বা স্বামীর আত্মীয়-স্বজনদের অত্যাচারে মৃত্যুমুখেও পতিত হচ্ছে সে সব খবর কয়টা মিডিয়ায় প্রকাশ পায়?
সুতরাং বিধর্মীদের থেকে অনুপ্রবেশকারী এই অপসংস্কৃতি, সামাজিক ব্যাধি ও হারাম প্রথার অবসান হওয়া জরুরি।
🌀 যৌতুক সংক্রান্ত কতিপয় জরুরি বিধিবিধান:
◉ ক. মেয়ের বাবা বা অভিভাবক যদি বরকে বিয়ের পর স্বেচ্ছায় কিছু অর্থ-সম্পদ বা উপহার-সামগ্রী দান করে তা গ্রহণ করায় কোনও দোষ নেই। বরং বাবা বা অভিভাবকের পক্ষ থেকে মেয়ে-জামাইকে এই উপহার দেয়া উত্তম। বিশেষ করে জামাই যদি অভাবী হয়। কেননা এতে একজন অভাবীর নতুন সংসার সাজাতে সাহায্য করা হয় এবং এর মাধ্যমে উভয় পক্ষের মাঝে পারস্পারিক ভালবাসা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলী রা. এর সাথে তাঁর মেয়ে ফাতিমা রা. কে বিয়ে দেয়ার পর তাদেরকে গৃহস্থালির কিছু প্রয়োজনীয় আসবাব-সামগ্রী দিয়েছিলেন। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ جَهَّزَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاطِمَةَ فِي خَمِيلٍ وَقِرْبَةٍ وَوِسَادَةٍ حَشْوُهَا إِذْخِرٌ
আলী রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা রা.-কে কিছু গৃহস্থালির আসবাবপত্র দান করেছিলেন। (সেগুলো হল:) একখানা চাদর, একটা পানির পাত্ৰ (মশক) আর একটা বালিশ, যার ভিতরে ছিল ইযখির ঘাস।”
[এ হাদিসটি আহমদ শাকের সহিহ বলেছেন, মুসনাদ আহমদ ২/৫৭, শুআইব আরনাবুত বলেন, এর সনদ শক্তিশালী-তাখরিজুল মুসনাদ হা/৭১৫। আর শাইখ আলবানীর পক্ষ থেকে দু ধরণের মন্তব্য পাওয়া যায়। এ জায়গায় বলেছেন: সহিহ- দ্রষ্টব্য: সহিহ ইবনে মাজাহ হা/৩৩৬৬। তবে তিনি অন্যত্র যঈফ বলেছেন। দ্রষ্টব্য: সুনানে নাসাঈ হা/৩৩৮৪-আল্লাহ ভালো জানেন কোনটি শাইখের সর্বশেষ মত]
◉ খ. বিয়ের আগেই বিশেষ কোনো কারণে যদি কনের পিতা বা অভিভাবক স্বেচ্ছায় বিবাহে আগ্রহী ব্যক্তিকে অর্থকড়ি বা উপহার-সামগ্রী দেয়ার প্রস্তাব দেয় তাহলে উক্ত ব্যক্তির জন্য তা গ্রহণ করা জায়েয।
উদাহরণ: কোনও কারণে এক ময়ের বিয়ে হচ্ছে না। আর বাড়িতে মেয়ে অবিবাহিত থাকার কারণে নানা ফেতনা-ফ্যাসাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মেয়ের পিতা বা অভিভাবক যদি অগ্রিম ঘোষণা দেয় যে, ‘যে ব্যক্তি আমার মেয়ে বা বোনকে বিয়ে করবে তাকে এত এত টাকা বা এই এই উপহার-সামগ্রী প্রদান দেয়া হবে।’ এখন কোনও ব্যক্তি যদি ঐ মেয়েকে বিয়ে করে এবং মেয়ে পক্ষ তাকে স্বেচ্ছায় টাকা-পয়সা ও উপহার সামগ্রী প্রদান করে তাহলে তা গ্রহণ করা তার জন্য নাজায়েয হবে না। কারণ সে এ অর্থ-সামগ্রী কনে পক্ষের কাছে ডিমান্ড বা দাবি করে নেয় নি। সুতরাং তা যৌতুকের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে আত্মমর্যাদা সম্পন্ন পুরুষের উচিৎ নয় পরিস্থিতির শিকার ও অসহায় কনের বাবা বা অভিভাবকের পক্ষ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করা।
◉ ৩. মেয়ের পিতা বা অভিভাবক যদি মেয়ের ইজ্জত-সম্ভ্রম রক্ষার স্বার্থে বিয়ে দেয়াকে অপরিহার্য মনে করে কিন্তু বিয়ের প্রস্তাব দাতা ব্যক্তি যদি যৌতুক ছাড়া বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় (আর তার বিকল্প উপযুক্ত কোনো বরও খুঁজে না পাওয়া যায়) তাহলে এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে যৌতুক দিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করলে গুনাহ হবে না। কেননা, ইসলামের একটি মূলনীতি হল, الضرورات تبيح المحظورات "জরুরি প্রয়োজন নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে দেয়।"
আল্লাহ বলেন:
لَا يُكَلِّفُ اللَّـهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
“আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যাতীত কোন কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।” (সূরা বাকারা: ২৮৬)
তিনি আরও বলেন:
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ
“অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যতটুকু তোমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকে।” (সূরা তাগাবুন: ১৬)
তবে বিয়ের পূর্বে চুক্তি করে যৌতুক গ্রহণ করার কারণে বর আল্লাহর নিকট অপরাধী ও গুনাহগার হিসেবে সাব্যস্ত হবে। যৌতুকের এ ম্পদ ভক্ষণ করা তার জন্য সম্পূর্ণ হারাম।
পরিশেষে দুআ করি, আল্লাহ তাআলা মুসলিম সমাজকে যৌতুক নামক অভিশাপ থেকে রক্ষা করুন এবং নির্বোধদেরকে সুবুদ্ধি দান করুন। আমীন। আল্লাহু আলাম।
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (আল হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

Friday, September 6, 2019

মুহররম মাসে কি বিয়ে-শাদী নিষিদ্ধ?


▬▬▬◈◆◈▬▬▬
প্রশ্ন: লোকমুখে শোনা যায় যে, মুহররম মাসে না কি বিয়ে-শাদী নিষিদ্ধ? এ কারণে অনেক মানুষ এ মাসে বিয়ে করে না এবং বিয়ে দেয়ও না। এটা কি সঠিক?

উত্তর:
ইসলামের দৃষ্টিতে মুহররম মাসে বিয়ে-শাদি নিষিদ্ধ নয়। বরং বছরের কোন মাসেই কোন সময়ই বিয়ে-শাদী নিষিদ্ধ নয়। এ মর্মে যে সব কথা প্রচলিত রয়েছে সব‌ই ভিত্তিহীন ও কুসংস্কার।

◆◆ মুহররম মাস নিয়ে শিয়াদের বাড়াবাড়ি:

মুহররম মাসে বিয়ে-শাদী করা ঠিক নয়- মর্মে প্রচলিত কথাটি শিয়া-রাফেযী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে মিথ্যা প্রচারণা হতে পারে। কেননা, এ মাসে (মুহররম মাসের ১০ তারিখে) হুসাইন রা. কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে তারা মিথ্যা মায়াকান্না আর অতিভক্তি দেখিয়ে এ মাসে অনেক বিদআতি কার্যক্রম করে থাকে এবং শরীয়তের অনেক বৈধ জিনিসকে অবৈধ করে থাকে। যেমন তারা বলে, মুহররম মাসে নতুন জামা পড়া যাবে না, গোস্ত-মাছ ইত্যাদি ভালো খাবার খাওয়া যাবে না বরং কেবল নিরামিষ খেতে হবে, বিছানায় না শুয়ে মাটিতে শুতে হবে, বিয়াশাদী দেয়া বা করা বৈধ নয়...ইত্যাদি। অথচ এ সব কথা শুধু দলীল বহির্ভূত নয় বরং দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি ও অতিরঞ্জন ছাড়া অন্য কিছু নয়। ইসলামী শরিয়ত যা নিষেধ করে নি তা নিষেধ করা মানে দ্বীনের মধ্যে সীমালঙ্ঘন এবং ধৃষ্টতা প্রদর্শন।

নি:সন্দেহে হুসাইন রা. এর মৃত্যুতে আমরা বেদনাহত ও মর্মাহত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমাদেরকে সবরের পরিচয় দিতে হবে এবং তাদের জন্য দুআ করতে হবে। কারণ হুসাইন রা. এর পূর্বে তার পিতা আলী ইবনে তালিব রা., উসমান বিন আফফান রা., উমর ইবনুল খাত্তাব রা. সহ অসংখ্য সাহাবী শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করে দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করেছেন। অথচ তাদের মৃত্যুতে মুসলিম বিশ্ব মর্মাহত হলেও এ সব নিয়ে কোন ধরণের বাড়াবড়ি মূলক কার্যক্রম করে না। কেননা ইসলাম কারো মৃত্যু/শাহাদতকে কেন্দ্র করে বিলাপ করা, শরীরে আঘাত করা, শরীর রক্তাক্ত করা, পরিধেয় কাপড় ছেঁড়া, মাটিতে গড়াগড়ি করা, উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করা, শোক দিবস পালন করা, কালো পোশাক ও কালো ব্যাজ ধারণ করে শোক র‍্যালী ও তাজিয়া মিছিল করা...ইত্যাদি কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ হারাম ও জাহেলিয়াতের কাজ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

◈ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
لَيْسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ ، وَشَقَّ الْجُيُوبَ ، وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ
“সে ব্যক্তি আমাদের লোক নয় যে গালে চপেটাঘাত করে, জামার পকেট ছিঁড়ে এবং জাহেলিয়াতের মত ডাকে। “ [সহীহ বুখারী: অনুচ্ছেদ: সে আমাদের লোক নয় যে, গালে চপেটাঘাত করে। হাদিস নং ১২৯৭, মাকতাবা শামেলা]

◈ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন:
النِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ
“বিলাপ করা (কারও মৃত্যুতে চিৎকার করে কান্নাকাটি করা, মৃত ব্যক্তির বিভিন্ন গুণের কথা উল্লেখ করে মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি করা, শরীরে আঘাত করা, জামা-কাপড় ছেঁড়া ইত্যাদি) জাহেলী যুগের কাজ। ” [ইবনে মাজাহ, অনুচ্ছেদ: মৃতকে কেন্দ্র করে চিৎকার করে বিলাপ করা নিষিদ্ধ। আল্লামা আলাবানী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন: দেখুন: সহীহ ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১২৮৬, মাকতাবা শামেলা] আল্লাহ হেফাজত করুন। আমীন।

সুতরাং মুহররম মাসকে কেন্দ্র করে, আমাদের সমাজে যে সেকল বাতিল ও বিদআতি কার্যক্রম এবং ভিত্তিহীন বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে সেগুলো থেকে আমাদেরকে অবশ্যই বের হয়ে আসতে হবে এবং সামাজিকভাবে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তাহলে ইনশাআল্লাহ একদিন আমাদের সমাজ বিদআত ও কুসংস্কারের পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ধর্মের নামে সকল অধর্মের বিরুদ্ধে কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
▶উত্তর প্রদানে:আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল (আল্লাহ লেখককে উত্তম বিনিময় দান করুক..)
salafibd.wordpress.com

➡লেখাটি ভালো লাগলে এবং উপকৃত হলে শেয়ার করে পৌঁছিয়ে দিন অন্যের কাছে।
কেননা রাসূল (সাঃ) বলেছেন,“যে ব্যক্তি মানুষকে হিদায়াতের দিকে ডাকে তার জন্য ঠিক ঐ পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে, যে পরিমাণ পাবে তাকে অনুসরণকারীরা।” [সহীহ মুসলিম/২৬৭৪,৬৮০৪]
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬

Tuesday, August 20, 2019

কখনো বিয়ে না করলে কি গুনাহগার হবে?

ইসলামে বিয়ের গুরুত্ব ও বিধান
▬▬▬▬🧡🌀🧡▬▬▬▬
প্রশ্ন: যদি কোনো ছেলে বা মে‌য়ে জীবনেও বি‌য়ে না ক‌রে তাহলে সে কি জাহান্নামে যাবে অথবা সে কি গুনাহগার হবে?

উত্তর:

বিয়ে ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে একাধিক বিয়ে করেছেন এবং তার উম্মতকে বিয়ের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ সন্তান সাহাবায়ে কেরাম বিবাহ করে ঘর-সংসার করেছেন। বিয়ের মাধ্যমে বৈধ সান্তান দ্বারা বংশ বিস্তার হয় এবং এই পৃথিবী আবাদ হয়। এর মাধ্যমে সমাজ থেকে অনেক অন্যায়-অপকর্ম বিদূরিত হয়। গড়ে উঠে একটি সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বৈধ পন্থায় মাুনষ নিজেদের প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ করে।  এতে মানুষের হৃদয়পটে ঈমান ও তাকওয়া অর্জনের পাশাপাশি আল্লাহর ইচ্ছায় ভালবাসা, দয়া ও পারস্পারিক সৌহার্দপূর্ণ সুস্থ ও সুন্দর জীবন লাভে ধন্য হয় মানব সমাজ।
তাই এই চমৎকার বিধানটির ব্যাপারে কোনরূপ অবহেলা প্রদর্শন করা কাম্য নয়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে ইবাদতের ব্যাঘাত সৃষ্টির ওজুহাতে এক ব্যক্তি জীবনে কখনো বিয়ে করবে না বলে ওয়াদা করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে সাবধান করেন। দেখুন নিম্নোক্ত হাদীসটি:
عنْ عِبَادَةِ النَّبِيِّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم ، فَلَمَّا أُخبِروا كأَنَّهُمْ تَقَالَّوْها وقالُوا : أَين نَحْنُ مِنْ النَّبِيِّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم قَدْ غُفِر لَهُ ما تَقَدَّم مِنْ ذَنْبِهِ وما تَأَخَّرَ . قالَ أَحَدُهُمْ : أَمَّا أَنَا فأُصلِّي الليل أَبداً ، وقال الآخَرُ : وَأَنا أَصُومُ الدَّهْرَ أبداً ولا أُفْطِرُ ، وقالَ الآخرُ : وأَنا اعْتَزِلُ النِّساءَ فلا أَتَزوَّجُ أَبداً، فَجاءَ رسول اللَّه صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم إلَيْهمْ فقال : ্র أَنْتُمُ الَّذِينَ قُلْتُمْ كذا وكذَا ؟، أَما واللَّهِ إِنِّي لأَخْشَاكُمْ للَّهِ وَأَتْقَاكُم له لكِني أَصُومُ وَأُفْطِرُ ، وَأُصلِّي وَأَرْقُد، وَأَتَزَوّجُ النِّسَاءَ، فمنْ رغِب عن سُنَّتِي فَلَيسَ مِنِّى: متفقٌ عليه.

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনজন লোক নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের ঘরে আসল। তারা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইবাদত-বন্দেগী সম্পর্কে জানতে চাইল। যখন তাদেরকে এ সম্পর্কে জানানো হল, তখন তারা যেন এটাকে অপ্রতুল মনে করল। আর বলল, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় আর আমরা কোথায়? তাঁর আগের পরের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।
- তাদের একজন বলল, আমি সম্পূর্ণ রাত নামাজ পড়তে থাকব।
- আরেকজন বলল, আমি সারা জীবন রোযা রাখব। কখনো রোযা ছাড়ব না।
- আরেকজন বলল, আমি মেয়েদের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখব, কখনো বিয়ে করব না।
 ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে আসলেন। আর বললেন, তোমরা তো এ রকম সে রকম কথা বলেছ? আল্লাহর কসম! তোমাদের চেয়ে আমি আল্লাহকে বেশী ভয় করি। তাঁর সম্পর্কে বেশী তাকওয়া অবলম্বন করি। কিন্তু আমি রোযা রাখি আবার রোযা ছেড়ে দেই। আমি নামায পড়ি আবার নিদ্রা যাই। আবার মহিলাদেরকে আমি বিয়েও করি।
সুতরাং যে ব্যক্তি আমার আদর্শ (সুন্নাত) থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে সে আমার দলভুক্ত নয়।” (বুখারী ও মুসলিম)

বিয়ে করার বিধান:

ব্যক্তির অবস্থার আলোক বিয়ে করার বিধান ভিন্ন ভিন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য একই কথা।
▪ কেউ যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করে তাহলে তা জন্যে বিয়ে করা ফরয। না করলে গুনাহগার হবে।
▪ এ অবস্থায় কেউ অর্থনৈতিক দিক থেকে সমর্থ না হয় তাহলে সে রোযা পালন করবে। কেননা, রোযা প্রবৃত্তিকে দমন করতে সহয়তা করে। তবে সামর্থ হলে অনতি বিলম্বে বিয়ে করবে। কিন্তু তথাকথিত অর্থনৈতিক দুর্বলতার অজুহাতে বিয়ে বিলম্ব করা অগ্রহনযোগ্য।
▪ কেউ যদি শারীরিক দিক থেকে বিয়ে করতে সমর্থ থাকে কিন্তু বিয়ে না করলেও যৌন সংক্রান্ত বিভিন্ন পাপাচার ও ব্যভিচারে লিপ্ত হবার আশঙ্কা না করে তাহলে তার জন্য বিয়ে করা মুস্তাহাব।
▪ কেউ যদি জৈবিক চাহিদা পূরণে অক্ষম হয় তাহলে তার জন্য বিবাহ করা বৈধ নয়। কেনানা, এতে করে অন্যের অধিকার নষ্ট করা হয়।
▪ কিন্তু যদি কেউ সার্বিক দিক থেকে সমর্থ হওয়া সত্ত্বেও রসূল সা. এর সুন্নাতের প্রতি অনীহা ও অবহেলার কারণে বিয়ে পরিত্যাগ করে, তাহলে সে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর তরীকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গুনাগার হবে।
▪ আর কোন নারী বা পুরুষ যদি ইচ্ছা থাকার পরও বহুচেষ্টা সত্বেও কোন কারণে বিয়ে করতে ব্যার্থ হয় বা বিশেষ কোন ওজরের কারণে বিবাহ করতে না পারে তাহলে ইনশাআল্লাহ এতে সে গুনাহ থেকে বেঁচে যাবে। কেননা, বিয়ের ক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে চেষ্টার ত্রুটি ছিল না।
তবে ইসলামের বিধান এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত পালনের উদ্দেশ্যে বিয়ের চেষ্টা অব্যহত রাখা কতর্ব্য। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬🧡🌀🧡▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

বিয়ের মাধ্যমে কিভাবে দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ হয়?

প্রশ্ন: “বিয়ে করলে অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ হয়” এ হাদিসটি কি সহিহ? সহীহ হলে বিয়ের মাধ্যমে কিভাবে দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ হয়?
উত্তর:
ইসলামী শরিয়তে বিবাহ করার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব এসেছে। এটি নবী-রসূলদের আদর্শ। বিবাহের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে অসংখ্য ফেতনা, ক্ষয়-ক্ষতি, অসুখ-বিসুখ এবং নানা সমস্যা থেকে মুক্তি দান করেন। তাই তো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنْ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ.
‘‘হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি (বিবাহের অর্থাৎ স্ত্রীর ভরণপোষণ ও রতিক্রিয়ার) সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কারণ, বিবাহ চক্ষুকে সংযত করে এবং লজ্জাস্থান হিফাজত করে। আর যে ব্যক্তি ঐ সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোযা রাখে। কারণ, তা যৌনেন্দ্রীয় দমনকারী।’’[বুখারী, মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩০৮০নং)]
🌀 বিবাহের মাধ্যমে দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ হয়:
💠 হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إذَا تَزَوَّجَ العَبدُ فَقَد استَكمَلَ نِصْفَ الدِّين فَلْيَتَّقِ اللهَ في النِّصف البَاقي.
‘‘ বান্দা যখন বিবাহ করে, তখন সে তার অর্ধেক ঈমান (দ্বীন) পূর্ণ করে। অতএব বাকী অর্ধেকাংশে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।’’[সহীহ আল-জামিউস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহ হা/ ৬১৪৮, সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, ইমাম আলবানী বলেন, হাদিসটি হাসান লিগাইরিহ]
💠 আনাস বিন মালিক রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ رَزَقَهُ الله امْرَأَةً صَالِحَةً فَقَدْ أَعَانَهُ عَلٰى شَطْرِ دِينِهِ فَلْيَتَّقِ الله فِي الشَّطْرِ الْبَاقِي
‘‘আল্লাহ যাকে পুণ্যময়ী স্ত্রী দান করেছেন, তাকে তার অর্ধেক দ্বীনে সাহায্য করেছেন। সুতরাং বাকী অর্ধেকের ব্যাপারে তার আল্লাহকে ভয় করা উচিত।’’ (ত্বাবারানীর আওসাত্ব হা/ ৯৭২, হাকেম হা/ ২৬৮১, বাইহাক্বী, সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব হা/ ১৯১৬, ইমাম আলবানী এটিকে হাসান লি গাইরেহী বলেছেন। )
🌀 বিবাহের মাধ্যমে কিভাবে দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ হয়?
কোন পুরুষ যদি কোন সৎ-দ্বীনদার নারীকে বিবাহ করতে পারে তাহলে সে যেন জান্নাতে যাওয়ার অর্ধেক পথ অতিক্রম করল। কেননা, দুনিয়াতে মানুষ যত দ্বীন বিরোধী কার্যক্রম, পাপাচার ও অন্যায়-অপকর্ম করে তা দুটির জিনিসের মাধ্যমে করে।
১. দু চোয়ালের মধ্যস্থিত বস্তু তথা মুখ ও জিহ্বা।
২. দু রানের মধ্যস্থিত বস্তু তথা লজ্জাস্থান।
আর তাই তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
مَنْ يَّضْمَنْ لِيْ مَا بَيْنَ لَـحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الْـجَنَّةَ.
‘‘যে ব্যক্তি আমার জন্য তার দু’ চোয়ালের মধ্যস্থিত বস্তু (তথা মুখ ও জিহ্বা) এবং দু’ পায়ের মধ্যস্থিত বস্তু (তথা লজ্জাস্থান) এর জিম্মাদার হবে আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হবো। (বুখারী ৬৪৭৪)
সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি একজন সৎ নারীকে বিবাহ করে তাহলে এর মাধ্যমে তার লজ্জাস্থান হেফাজত হল। সৎ নারী এ জন্য শর্ত করা হয়েছে যে, অসৎ নারীর কারণে হয়ত সে দ্বীন ও দুনিয়া উভয় ক্ষেত্রে আরও ফেতনা-ফ্যাসাদ ও ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখীন হবে। কিন্তু দ্বীনদার সৎ চরিত্রবান নারী তাকে চরিত্র হেফাযতের পাশাপাশি দ্বীন পালনে সাহায্য করবে। এতে করে সে যেন দ্বীনের পথে টিকে থাকার অর্ধেক অবলম্বন পেয়ে গেলো।
বাকি থাকল আরও অর্ধেক। সুতরাং সে যেন বাকি অর্ধেকের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে। সে মুখকে নিয়ন্ত্রণ করবে। মুখে হারাম খাবার ও পানীয় প্রবেশ করাবে না, ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি মূলক কোন কথা বলবে না। এভাবে সে দ্বীনের বাকি অর্ধেক পূরণ করবে।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল (আল্লাহ লেখককে উত্তম বিনিময় দান করুক..)

লেখাটি ভালো লাগলে এবং উপকৃত হলে শেয়ার করে পৌঁছিয়ে দিন অন্যের কাছে । 
কেননা রাসূল (সাঃ) বলেছেন,“যে ব্যক্তি মানুষকে হিদায়াতের দিকে ডাকে তার জন্য ঠিক ঐ পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে, যে পরিমাণ পাবে তাকে অনুসরণকারীরা।” [সহীহ মুসলিম/২৬৭৪,৬৮০৪]

বাচ্চাদের প্রাথমিক রুকইয়াহ ও বিধিনিষেধ

প্রাথমিক রুকইয়াহ পদ্ধতিঃ  ১।   মানুষ ও জ্বীনের বদনজর ও জ্বীনের আছর থেকে হিফাযত ও শিফার নিয়তে - দুরুদে ইব্রাহিম, সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি,...