Monday, May 22, 2023

বাচ্চাদের প্রাথমিক রুকইয়াহ ও বিধিনিষেধ

প্রাথমিক রুকইয়াহ পদ্ধতিঃ 

১। 

মানুষ ও জ্বীনের বদনজর ও জ্বীনের আছর থেকে হিফাযত ও শিফার নিয়তে -

দুরুদে ইব্রাহিম, সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, ইখলাস, ফালাক ও নাস প্রতিটি ৩বার করে পড়ে ডান কানে হালকা করে ফুঁ দিয়ে অতঃপর সমস্ত শরীরে ফুঁ দিয়ে দিতে হবে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায়। 

আর ঘুমাতে যাওয়ার সময় এগুলো পড়েই নিজ দুই হাতের তালু একত্র করে ফুঁ দিয়ে বাচ্চার শরীরের মাথা থেকে পা পর্যন্ত হাত দিয়ে মুছে/মাসেহ করে দিতে হবে এবং নিজের উপরেও প্রয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে ডান হাত দিয়ে প্রথমে মাথা থেকে সামনের দিকে পা পর্যন্ত আবার মাথা থেকে পেছনের দিকে পা পর্যন্ত। অতঃপর দুই হাত দিয়ে মাথা থেকে দুই পার্শ্ব একই সাথে কিংবা আলাদা ভাবে মুছে দিতে হবে। 

২। 

এই দুআটি সকাল-সন্ধ্যা ৩ বার করে পড়ে ফুঁ দিয়ে দিতে হবেঃ 

রছুল ছঃ হাসান ও হুসাইন রঃ -এর জন্য এই বলে (আল্লাহ্‌র) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন-

أُعِيْذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ

অর্থঃ আমি তোমাদের দু’জনকে আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের আশ্রয়ে নিচ্ছি যাবতীয় শয়তান ও বিষধর জন্তু থেকে এবং যাবতীয় ক্ষতিকর চক্ষু (বদনযর) থেকে।

উচ্চারণঃ উ‘ইযুকুমা বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তাম্মাতি মিং কুল্লি শাইত্ব-নিওঁয়া হা-ম্মাহ্‌, ওয়ামিং কুল্লি য়া'ইনিল্লা-ম্মাহ্‌ 

(বুখারী ৪/১১৯, নং ৩৩৭১; ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীস থেকে) 


৩। 

এই দুআটি সকাল-সন্ধ্যা ১ বার পড়ে ফুঁ দিয়ে দিতে হবেঃ 

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ، اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي، لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা রব্বান্নাসি আযহিবিল বা’স,   ইশফিহি ওয়া আংতাশ শা-ফী-,   লা শিফা-আ ইল্লা শিফা-উক,   শিফা-আন লা-ইউ গ-দিরু সাক্বমা-


৪। 

উত্তমরূপে পানি পড়া তৈরি করে নিতে হবে যা প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ বেলা খাওয়াতে হবে এবং চোখে মুখে ছিটা দিয়ে দিতে হবে। 

গোসলের সময় মগের পানির সাথে পড়া পানি বিসমিল্লাহ বলে একটু মিশিয়ে নিয়ে পানি মাথায় ঢেলে দিতে হবে। 

পানি পড়া তৈরির পদ্ধতিঃ 

ক) অজুসহ পাকপবিত্র অবস্থায় মানুষ ও জ্বীনের বদনজর এবং জ্বীনের আছর ও শয়তানের কুপ্রভাব থেকে হিফাযত ও শিফার নিয়ত মনে মনে করে নিতে হবে।

খ) প্রথমে আউজুবিল্লা বলে শুরু করে দুরুদে ইব্রাহিম (৩বার) এরপর বিসমিল্লাহ সহকারে সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস প্রতিটি ৭বার করে ধীরস্থীর সহিহ উচ্চারণে পড়ে হাত স্পর্শ ব্যতিত পরিস্কার পানিতে ফুঁ দিতে হবে। ফুঁ দেয়ার ক্ষেত্রে একেকবার পড়ার পরেই একবার ফুঁ দিতে হবে। অর্থাৎ দুরুদ একবার পড়া হলে একবার ফুঁ পুনরায় পড়ে আবার ফুঁ এভাবে ফুঁ দিতে হবে। 

গ) সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত ১ বার পড়ে ফুঁ দিতে হবে।  

ঘ) একবার তৈরী করা পানি কয়েকদিন ব্যবহার করা যাবে। এক্ষেত্রে পড়া পানির পাত্র নিচে না রেখে উঁচুতে রাখতে হবে। 



বিধিনিষেধঃ 

১। মাগরিবের ১০-১৫ মিনিট পূর্ব থেকে পরের ১০-১৫ পর্যন্ত বাচ্চাদের নিয়ে বের হওয়া যাবে না। 

২। বাচ্চাদের রুমে (পুরো বাসাতেই রাখা ঠিক না) কোন প্রকাশমাণ প্রাণীর ছবি ও পুতুল রাখা যাবে না।

৩। মাগরিবের ২০মিনিট পুর্বে দরজা ও জানালা বিসমিল্লাহ বলে বন্ধ করে দিতে হবে এবং মাগরিবের ১৫-২০ মিনিট পর খুলে দেয়া যাবে যদি প্রয়োজন হয়। খোলার সময় বিসমিল্লাহ বলে খুলতে হবে। 

৪। রাতের বেলা অযথা বাচ্চাকে বাহিরে নেয়া যাবেনা। 

৫। বাচ্চাকে জাগ্রত অবস্থায় বিশেষ করে রাতে বেলা একাকি রাখা যাবে না। 

৬। ছলাত আদায়ের সময় বাচ্চাকে সাথে নিয়ে ছলাত শুরু করা উচিত এরপরে সে যা করে করুক। 

রুকইয়াহ এবং দোয়া

কেউ যাদু আক্রান্ত হলে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দোয়া করা।

আমরা জানি জাদুর জিনিসগুলো যদি পাওয়া যায় আর সেগুলো নষ্ট করে ফেলা হয়, তাহলে মানুষ খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে যায়। তাই তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত যেন আল্লাহ জানিয়ে দেন, যাদুর জিনিশগুলো কোথায় পাওয়া যাবে, কিভাবে পাওয়া যাবে, কিভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

এটা কিন্তু রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ।

আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে যে ঘটনাটি বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যখন যাদু করা হয়েছিল, উনি কয়েকদিন খুব বেশি বেশি দোয়া করেছেন, এরপর একদিন হঠাৎ বললেন “আয়েশা তুমি কি বুঝতে পেরেছ যে ব্যাপারে আমি দোয়া করছিলাম আল্লাহ আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন?

ওই সময়েই রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রুকইয়ার জন্য সুরা ফালাক সুরা নাস নাযিল হয়। রাসুলুল্লাহকে জানিয়ে দেয়া হয়, আপনাকে এভাবে যাদু করা হয়েছে, অমুক যায়গায় আছে যাদুর জিনিস। ইত্যাদি… (বুখারি ৫৪৩০, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাযাহ, মুসনাদে আহমাদ)

তো এখানে মুল যে বিষয়ে আমি ফোকাস করতে চাচ্ছি, তা হচ্ছে দোয়া করা। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই রুকইয়াহ অসম্পূর্ণ যেখানে দোয়া নেই। তাই আমাদের অবশ্যই দোয়া করা উচিত।

১. বেলাল রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের সম্পদ হিফাজত কর যাকাত প্রদানের মাধ্যমে, তোমাদের রোগের চিকিৎসা কর সাদকার মাধ্যমে, আর তোমাদের বিপদ দূর কর দু’আর মাধ্যমে। (মুজামুল আওসাত ২০০৬, বায়হাক্বি ৩২৭৪)

২. জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবী ﷺ কে বলতে শুনেছি, রাতে এমন একটি সময় রয়েছে যে, কোন মুসলমান ব্যাক্তি আল্লাহর কাছে দুনিয়া-আখিরাতের কোন কল্যাণের প্রার্থনা করা অবস্থায় যদি সময়টি পেয়ে যায়, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে তা দান করবেন। আর এই সময় আছে প্রতিটি রাতেই। (মুসলিম ৭৫৭)

৩. আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমাদের বরকতময় ও মহান প্রতিপালক প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকার সময় পৃথিবীর আসমানে নেমে আসেন এবং বলতে থাকেন, কে আছে আমাকে ডাকবে, তাহলে আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে আমার কাছে চাইবে, তবে আমি তাকে দিয়ে দিব। কে আছে আমার কাছে ইস্তিগফার করবে, তবে আমি তাকে মাফ করে দেব। (বুখারি ৫৯৬২, তিরমিযি)

সংগৃহীত 

বাচ্চাদের রুকইয়াহ করতে লক্ষণীয় বিষয়সমূহ

 বাচ্চাদের জন্য রুকইয়াহ করা বড়দের রুকইয়াহ করার চেয়ে তুলনামূলকভাবে সহজ, আবার ফলাফল পাওয়া যায়ও তাড়াতাড়ি। বাচ্চাদের জন্য রুকইয়াহকে আমরা তিনটি ভাগে ভাগ করতে পারি-


১) বাচ্চার মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো নিশ্চিতভাবে পাওয়া না যায়ঃ


যদি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো নিশ্চিত হওয়া না যায় যেমন- “এমন কোন শারীরিক সমস্যা যেটা “দেখে মনে হয়” মেডিক্যালে এর কোন “ব্যাখা নেই” অথবা “মনে হচ্ছে” যে নজর লেগেছে অথবা বাচ্চারা তাদের স্বাভাবিক আচরণ করছে না” এক্ষেত্রে আমরা বাচ্চাদের জন্য “সার্বজনীন পূর্ণ রুকইয়াহ প্রোগ্রাম” বা দীর্ঘ মেয়াদি কোন রুকইয়ার পরামর্শ দিবো না। বরঞ্চ এই পর্যায়ে আমরা “বদনজরের সাধারণ রুকইয়া” অথবা “৭ দিনের ডিটক্স প্রোগ্রাম” করার পরামর্শ দিবো। বাচ্চার বয়স যদি এক বছরের নিচে হয় তাহলে ডিটক্স প্রোগ্রাম থেকে মধু বাদ দিবেন। ছোট বাচ্চা এক কাপ বা আধা গ্লাস পানি না খেতে পারলে সেটারও অর্ধেক খাওয়ান। আর তিলাওয়াত বাবা অথবা মা করে দিতে পারেন। ৭ দিনের ডিটক্স প্রোগ্রাম সাধারণত সব বয়সের মানুষের জন্যই উপযোগী।


২) বাচ্চার মধ্যে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু জ্বিনও হাজির হচ্ছে না এবং বাচ্চার খুব বেশি ইফেক্টও হচ্ছে নাঃ


যদি আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো নিশ্চিত হওয়া যায় কিন্তু বাচ্চা শক্ত কোন প্রতিক্রিয়াও না দেখায় আবার জ্বিন দ্বারা আসর নাও হয় তাহলে সেটা হতে পারে উপরে উল্লিখিত চিকিৎসা পদ্ধতি নেওয়ার কারণে (৭ দিনের ডিটক্স প্রোগ্রাম)। এক্ষেত্রে আমরা পরামর্শ দিবো সার্বজনীন রুকইয়াহ প্রোগ্রাম করার জন্য। কিন্তু রুকইয়াহ করতে হবে আরমাদায়ক ভাবে। অর্থাৎ বাচ্চাকে জোর করে মূর্তির মত এক জায়গায় বসিয়ে রাখা যাবে না, বাচ্চা ভয় পায় এমন কিছু করা যাবে না। আর এসব ক্ষেত্রে সাধারণত হিজামাও করার দরকার পরে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এত টুকুতেই বাচ্চা ভাল হয়ে যায়। এতে বাচ্চার কোন অসুবিধাও হয় না আবার জ্বিনের আসরের মত কিছুও ঘটে না।


৩) যদি সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে, যেমন বাচ্চা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে বা চিৎকার চেঁচামেচি করে, বাচ্চার ওপর জ্বিন হাজির হয়ে যায় বা আসর করে বসে তাহলে এক্ষেত্রে প্রতিদিন সরাসরি রুকইয়ার পাশাপাশি আমরা সার্বজনীন রুকইয়াহ প্রোগ্রাম অনুসরণ করার পরামর্শ দিবো। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে প্রয়োজনে হিজামাহ করানো যেতে পারে। আর একটু খেয়াল রেখে (সতর্কভাবে) রুকইয়াহ করতে হবে। যেমন বাচ্চাকে কাছে বসিয়ে রাখতে হবে, রুকইয়াহ এর আয়াতগুলোতে বেশি বেশি জোর দিতে হবে।


বিশেষ জ্ঞাতব্যঃ


ক) বাচ্চার নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য সবসময়ই সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে। যেহেতু বাচ্চার আচরণ ও মানসিকতা পূর্ণবয়স্ক মানুষের মত নয়, তাই বাচ্চার সাথে পূর্ণবয়স্ক মানুষের মত আচরণ করা যাবে না। রুকইয়াহ করার সময় বাচ্চা যেন পরিপূর্ণ আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রুকইয়াহ করার সময় একটু পর পরে চেক করতে হবে, বাচ্চারা রিল্যাক্সড ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে কিনা। তাদের সাথে হালকা খেলাধূলাও করতে পারেন, তাদেরকে বলতে পারেন “আমার সাথে সাথে পড়।” যদি আপনি বাচ্চার অপরিচিত কেউ হয়ে থাকেন, তাহলে রুকইয়াহ করার আগে ও পরে তার সাথে কিছু সময় কাটান। যেন সে আপনাকে সহজ ভাবে নিতে পারে।


খ) কখনোই, কখনোই বাচ্চাকে প্রহার বা আঘাত করবেন না। সত্যিকার অর্থে রুগী যেই হোক না কেন, বাচ্চা অথবা পূর্ণবয়স্ক, তাকে প্রহার করা সাধারণত ভালো রেজাল্ট দেয় না। বরং এর কারণে অনেক সময় জ্বিন আরো দীর্ঘ সময় শরীরে ঘাপটি মেরে বসে থাকতে পারে। আর বাচ্চার গায়ে আঘাত করা হলে, বাচ্চা সিরিয়াস ইনজুরিতে পড়ে যেতে পারে। অনেকক্ষেত্রে রুকইয়াহ চলাকালীন সময়ে “জ্বিনকে” প্রহার করার কারণে বাচ্চা মারাও যায়। তাই প্রহার করা এক্ষেত্রে জ্বিনকে সাহায্য করারই নামান্তর।


যদি বুঝতে পারেন জ্বিন শরীরের এখানে সেখানে ছুটোছুটি করছে, তাহলে মৃদুভাবে সেই জায়গায় মালিশ করবেন। ফলে বাচ্চাও আরাম বোধ করবে আর জ্বিনও প্রেশারে থাকবে।


গ) বাচ্চাদের রুকইয়াহ করার সবচেয়ে জটিল বিষয় হচ্ছে, বাচ্চারা বড়দের মত তাদের অনুভূতি আর অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করতে পারে না। স্বভাবগত ভাবেই বাচ্চারা একটু ছুটোছুটি বা দৌড়াদৌড়ি পছন্দ করে। এটাকে জ্বিনের লক্ষণের সাথে গুলিয়ে ফেললে হবে না। সময় নিয়ে বাচ্চার আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে; বিশেষ করে রুকইয়াহ করার সময় ও রুকইয়াহ করার আগে বা পরের সময়ের আচরণে পার্থক্য ভালো করে খেয়াল করতে হবে। তাহলে আপনি বাচ্চার স্বাভাবিক আচরণ আর অস্বাভাবিক আচরণের মাঝে পার্থক্য ধরতে পারবেন।


ঘ) যদি বাচ্চা বয়সে একটু বড় হয়, নিজের কথা বুঝিয়ে বলতে পারে; তাহলে বাচ্চার সাথে তার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, তার মন থেকে শয়ত্বান জ্বিনের ভয় দূর করতে হবে। বাচ্চাদের মনে বড়দের তুলনায় শয়ত্বান জ্বিনের ভয় বেশি প্রভাব ফেলে। এমন যেন না হয়, জ্বিনের ভয়ে বাচ্চা ঘুমাতেই পারছে না। বাচ্চার কাছে শয়ত্বান জ্বিনের দূর্বলতাগুলো তুলে ধরবেন। তাদেরকে বুঝান শয়ত্বান জ্বিন কিভাবে কুর’আনের ভয়ে পালিয়ে বেড়ায়। বাচ্চাদেরকে শয়ত্বান জ্বিন থেকে সুরক্ষার জন্য মাসনূন দু’আ গুলো শিখিয়ে দিন।


ঙ) যদি জ্বিন হাজির হয়েই যায় এবং কথাও বলা শুরু করে, তাহলে জ্বিনের সাথে অপ্রয়োজনীয় ও বেশি কথা বার্তা বলবেন না। জ্বিনকে “ইসলাম গ্রহণ করে বাচ্চার শরীর থেকে বের” হয়ে যেতে বলবেন। আর যদি “ইসলাম” গ্রহণ করতে না চায়, তাহলে বলবেন যেন “চলে যায় এবং আর ফিরে না আসে।” জ্বিনের কোন গাল-গল্পই বিশ্বাস করবেন না, তাদের সাথে কোন বোঝাপড়াতেও যাবেন না।


চ) রুকইয়াহ করার জন্য নির্দিষ্ট কোন সময় ধরাবাঁধা নেই। কিন্তু আপনি যদি দেখেন কোন নির্দিষ্ট সময়ে বাচ্চার মধ্যে লক্ষণগুলো প্রকট হয় (যেমনঃ মাগরিবের পর), তাহলে সে সময়ে রুকইয়াহ করাটাই সবচেয়ে ভালো। অন্যথায় যে সময় বাচ্চা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, সে সময়ই রুকইয়াহ করবেন।


ছ) অবস্থা বুঝে রুকইয়াহ করার পদ্ধতি ও সময় পরিবর্তন করতে পারেন। তবে খুব দ্রুত রুকইয়াহর পদ্ধতি পরিবর্তন করবেন না, কারণ এতে জ্বিন শয়তান আপনাকে নিয়ে খেলা করার বা ম্যানুপুলেট করার সুযোগ পাবে।


আল্লাহই ভালো জানেন।

Collected from Ruqyah Support BD

বাচ্চাদের জন্য সহজ রুকইয়াহ ও নিরাপত্তার প্রেসক্রিপশন

 ১. মাগরিবের ১০-১৫ মিনিট পূর্ব থেকে পরের ১০-১৫ পর্যন্ত বাচ্চাদের নিয়ে বের হবেন না। (updated)

২. বাচ্চাদের রুমে(পুরো বাসাতেই রাখা ঠিক না) কোন প্রকাশমাণ প্রাণীর ছবি ও পুতুল রাখবেন না।

৩. ফজর ও মাগরিবের পর আয়াতুল কুরসি-১ বার, ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩বার করে পড়ে ফুঁ দিবেন।

৪. রাতে ঘুমানোর সময় আয়াতুল কুরসি, ইখলাস, ফালাক ও নাস ১বার করে পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে শরীর মুছে দিবেন -৩বার।

৫. মাগরিবের ২০মিনিট পুর্বে দরজা ও জানালা বিসমিল্লাহ বলে বন্ধ করে দিবেন এবং মাগরিবের ১৫-২০ মিনিট পর খুলে দিতে পারবেন যদি প্রয়োজন হয়। খোলার সময় বিসমিল্লাহ বলে খুলবেন।

৬. মানুষ ও জ্বীনের বদনজর থেকে হিফাযত ও শিফার নিয়তে :- দুরুদে ইব্রাহিম (১বার), সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, ইখলাস, ফালাক ও নাস (প্রতিটি ৭বার করে পড়বেন), দুরুদে ইব্রাহিম (১বার) পড়ে ডান কানে হালকা করে ফুঁ দিয়ে দিবেন এবং সমস্ত শরীরে ফুঁ দিয়ে দিবেন।

৭. পানি(উপরে উল্লেখিত সুরা ও আয়াত পড়ে পানি তৈরি করবেন) অল্প করে পান করাবেন এবং অল্প পানি দিয়ে মাথা, আইভ্রু, হাত ও‌ পায়ের তালুতে মাসেহ করে দিবেন(দিনে কমপক্ষে ৩বার)

৮. এই দুআটি সকাল-সন্ধ্যা ১/৩/৫/৭ বা এর বেশি বেজোড় সংখ্যকবার পড়ে ফুঁ দিবেন:-
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর জন্য এই বলে (আল্লাহ্‌র) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন-
أُعِيْذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ
আমি তোমাদের দু’জনকে আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের আশ্রয়ে নিচ্ছি যাবতীয় শয়তান ও বিষধর জন্তু থেকে এবং যাবতীয় ক্ষতিকর চক্ষু (বদনযর) থেকে।
উ‘ইযুকুমা বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিওঁয়া হা-ম্মাহ্‌, ওয়ামিন কুল্লি আইনিল্লা-ম্মাহ্‌(একজনের ক্ষেত্রে উ’ইযুকা পড়বেন)।
বুখারী ৪/১১৯, নং ৩৩৭১; ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীস থেকে।

Collected from Ruqyah Support BD

বাচ্চাদের সমস্যার জন্য প্রাথমিক রুকইয়াহ

 বাচ্চাদের নজর লাগা ও এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সমস্যার জন্য নিয়ত করে রুকইয়াহ করতে পারেন। দ্রত ফল পাবেন ইনশা আল্লাহ্‌

রুকইয়া করার নিয়মঃ

বাচ্চাকে সামনে বসিয়ে মাথায় হাত রেখে (হাত রাখতে অসুবিধা হলে দরকার নাই) সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস এগুলো বার বার করে পড়ে পড়ে ফুঁ দিতে থাকুন। অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট করেন। সাথে এই দুটি দোয়া পড়তে পারেন-

أُعِيْذُكُمْ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ

উচ্চারণ: উঈযুকুম বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তাম্মাহ। মিন কুল্লি শাইত্বা-নিন ওয়া হা-ম্মাহ ওয়ামিন কুল্লি ‘আইনিন লা-ম্মাহ।

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ، اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي، لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা রাব্বান নাস আযহিবিল বা’স । ইশফিহি ওয়া আনতাশ শা-ফী । লা শিফা-আ ইল্লা শিফা-উক। শিফা-আন লা-ইউগা-দিরু সাকামা ।
এভাবে দিনে দুই-তিনবার রুকইয়াহ করতে পারেন। সমস্যা বেশি থাকলে এর সাথে রুকইয়ার গোসল দেয়াবেন এবং পানি খাওয়াবেন।

রুকইয়াহ গোসলঃ
গোসলের পানিতে সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি আর সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস যতবার ইচ্ছা পড়ে ফুঁ দিয়ে ঐ পানি দিয়ে গোসল করান। গোসল আবশ্যক না, সমস্যা বেশি দেখলে করাবেন।

পানি খাওয়ানোঃ
গোসলের পানি তৈরির মতই পানি তৈরি করে খাওয়ান দিনে ২/৩ বার। পানি খাওয়ানোও আবশ্যক না।

অন্যান্যঃ

  • কারো নজর লেগেছে বলে অনুমান করতে পারলে ঐ ব্যক্তির অযুর পানি নিয়ে বাচ্চার গায়ে ঢেলে দিবেন। দ্রুত উপকার পাবেন ইনশা আল্লাহ
  • বাচ্চার কিছু সমস্যা মায়ের কারনেও হতে পারে। বিশেষ করে মা-র স্তন্যপান না করতে চাইলে মায়ের উচিত নিজেরও সমস্যা আছে কিনা যাচাই করে রুকইয়াহ করা। 
  • অভিভাবকদের ফরজ, ওয়াজিবগুলো ভালভাবে আদায়ের সাথে সাথে সুরক্ষার আমলগুলি করা উচিত। আর নিজে আমলগুলো করার পর বাচ্চাকেও ফুঁ দিয়ে দিবেন। অথবা হিফাজতের নিয়াতে শুধু ৩ কুল পড়ে ফুঁ দিবেন – 
  • সন্ধ্যার আগে দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়া উচিত। সন্ধ্যার খানিক পরে খুলে দিতে পারে। বাচ্চাদের চেহারাওয়ালা পুতুল ইত্যাদির খেলনা দেয়া উচিত না। সন্ধ্যার সময় বাইরে থাকতে দেয়া উচিত না। আরো কিছু বিষয় এখানে জানতে পারবেন –
  • হাদীসে আরো কিছু দুয়ার কথা পাওয়া যায় রুকইয়ার জন্য। সেসব দিয়ে রুকইয়াহ করতে চাইলে এবং বাচ্চাদের সমস্যার জন্য রুকইয়ার ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে এই গাইডটি পড়ুন… 
Collected from Ruqyah Support BD

শিশুদের জন্য যেভাবে রুকইয়াহ করবেন

ছোট বাচ্চাদের ওপর রুকইয়াহ করা বেশ সহজ। উপরন্তু তাদের গুনাহ থাকে না বিধায় রুকইয়াহ করলে অল্পতেই অনেক বেশি উপকার হয়।

প্রথমত: বাচ্চাদের সাথে কোন তাবিজ-কবচ, নজর লাগার টিপ থাকলে নষ্ট করার ব্যবস্থা করুন। কোন সমস্যা না থাকলেও এসব জিনিসের কারণে সমস্যা তৈরি হয়।


দ্বিতীয়ত: ঘরে কোন প্রাণীর ছবি, পুতুল, বাদ্যযন্ত্র বা এমন কিছু যেন না থাকে, যা রহমতের ফেরেশতা প্রবেশে প্রতিবন্ধক।


তৃতীয়ত: বাচ্চাদের সরাসরি জিন বা জাদুর সমস্যা খুব কম হয়, তাই একটু অস্বাভাবিক আচরণ দেখলেই ঘাবড়ানোর কিছু নেই। হ্যা! বদনজর লাগতে পারে, এজন্য বদনজরের রুকইয়াহ করতে পারেন।


আরেকটি বিষয় হলো, যেহেতু সমস্যা অনেক কারণেই হয়, তাই নির্দিষ্টভাবে বদনজরের নিয়াত না করে, যে সমস্যা হচ্ছে সেই নিয়াতে রুকইয়াহ করাই ভালো। তবে নিশ্চিতভাবে বোঝা গেলে ভিন্ন কথা।


বাচ্চাদের রুকইয়ার নিয়ম খুবই সহজ— কাছে ডেকে স্বাভাবিকভাবে বসান, অথবা কোলে নিন। আপনার সম্পূর্ণ মনযোগ বাচ্চার প্রতি নিবদ্ধ করুন। এরপর মাথায় হাত রেখে কয়েকবার রুকইয়ার দোয়া বা আয়াতগুলো পড়ুন। পড়ার মাঝেমাঝে ফুঁ দিন। এতটুকুই!


হাদীসে বর্ণিত এই দোয়াটি পড়তে পারেন:


أُعِيْذُكُمْ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ


উচ্চারণ: উ‘ইযুকুম বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মাহ, মিন কুল্লি শাইত-নিন ওয়াহা-ম্মাহ, ওয়ামিন কুল্লি ‘আইনিন লা-ম্মাহ।


সাথে সূরা ফাতিহা এবং তিন কুল পড়া যায়। এছাড়া এই কিতাবের বিভিন্ন যায়গায় (অথবা ওয়েবসাইটের পিডিএফগুলোতে) লেখা দুআ বা আয়াতগুলো থেকেও পড়তে পারেন।

প্রয়োজনে পরপর কয়েকদিন সকাল বিকাল রুকইয়াহ করুন। পানি বা খাবারে ফুঁ দিয়ে খাইয়ে এবং গোসল করিয়ে দিন।


তবে সমস্যা যদি জটিল হয়, অর্থাৎ জাদু অথবা জিনের আসরের লক্ষণগুলো প্রকট আকারে দেখা যায়। তাহলে বড়দের মত একটু দীর্ঘ সময় রুকইয়াহ করা এবং সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করার প্রয়োজন হতে পারে।

এক্ষেত্রে বাচ্চার বয়স, শারিরীক এবং মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে পরিমাণে কম-বেশি করতে হবে। প্রয়োজনে ৭ দিনের ডিটক্স রুকইয়াও করানো যাবে।


খেয়াল রাখার বিষয় হলো,

১. রুকইয়ার সময় বাচ্চাদের কখনো মারধর করবেন না।

২. একই যায়গায় বা একইভাবে বসে থাকতে বাধ্য করবেন না। এমন কোন কাজ করবেন না, যাতে সে ঘাবড়ে যাবে।

৩. জিন বা শয়তানের ব্যাপারে ভয় না দেখিয়ে সাহস দিন। গল্পে গল্পে আল্লাহর কালামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং শয়তানদের দূর্বলতা বোঝান।

৪. একদম শুরু থেকেই ছোট ছোট জিকির-আজকারগুলো মুখস্ত করান এবং সেগুলো পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৫. সকাল-সন্ধ্যার আমলগুলো সে নিজে না করতে পারলে অন্য কেউ পড়ে ফুঁ দিয়ে দিন।

৬. পরিবারের সবাই পাক-সাফ থাকার প্রতি গুরুত্ব দিন।

৭. আর ছোট থেকেই মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।


Collected from Ruqyah Support BD

Sunday, April 2, 2023

ইফতার কেন দ্রুত করবো?

 ইফতার কেন দ্রুত করবো?

• মহান আল্লাহ বলেন, ثم اتموا الصيام الى الليل অর্থাৎ অতঃপর তোমরা রাতের প্রারম্ভ পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো (২/২৮৭)।

আয়াতে বলা হয়েছে الى الليل (রাত পর্যন্ত), بعد النهار (দিন শেষে) বলা হয়নি। যদি "দিন শেষে" বলা হতো তাহলে দিনের শেষে আপনার যতক্ষণ ইচ্ছা দেরি করার এখতিয়ার থাকতো। কিন্তু যখন বলা হয়েছে "রাত পর্যন্ত" তখন বিনা ওজরে সিয়ামকে রাতে প্রবেশ করানোর সুযোগ নেই। কেননা, الى আসে কোন বিষয়কে সম্বন্ধিত করে উদ্দিষ্ট বিষয়ের অন্তসীমা বুঝানোর জন্য। উদ্দিষ্ট বিষয়কে সম্বন্ধিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নয়। যেমন কেউ বললো, আমার উঠোনের শেষ সীমানা হলো সিটি কর্পোরেশনের দেয়াল পর্যন্ত। এর অর্থ এই নয় যে সে দেয়ালের ওপার থেকেও দুয়েক ফুট দাবি করতে পারবে। কাজেই সূর্য অস্ত যাওয়ার পরপরই ইফতার সেরে নিতে হবে। সতর্কতার বাহানায় ২/৩ মিনিট দেরিতে ইফতারকারী হলো ঐ সমস্ত বোকা দৌঁড়বিদের মত যারা নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করেও মনে করে আমাকে আরো ২/৩ কদম যেতে হবে।

• ইফতারের সঠিক সময়..

 عن عمر بن الخطاب: إذا أقْبَلَ اللَّيْلُ مِن ها هُنا، وأَدْبَرَ النَّهارُ مِن ها هُنا، وغَرَبَتِ الشَّمْسُ فقَدْ أفْطَرَ الصّائِمُ..

"ওমর বিন খাত্তাব (রা.) হতে বর্ণিত, যখন এদিক থেকে রাত ঘনিয়ে আসবে আর ওদিক থেকে দিন চলে যাবে এবং সূর্য ডুবে যাবে সঙ্গে সঙ্গে সিয়াম পালনকারী ইফতার সেরে নিবে।"

صحيح البخاري ١٩٥٤ 

ইমাম ইবনে হাজম (রহ.) বলেন,

وَمِنْ السُّنَّةِ تَعْجِيلُ الْفِطْرِ وَتَأْخِيرُ السُّحُورِ ، وَإِنَّمَا هُوَ مَغِيبُ الشَّمْسِ عَنْ أُفُقِ الصَّائِمِ وَلا مَزِيدَ

"সুন্নাহ হলো দ্রুত ইফতার করা ও দেরিতে সাহরী খাওয়া। আর সাহরীর অন্তসীমা থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্তই হলো সিয়ামের নির্ধারিত সময়। এর অতিরিক্ত নয়।"

المحلى، ٤/٣٨٠

অনেকেই মনে করে আজান হলে পরে ইফতার। অথচ আজানের সাথে ইফতারের কোন সম্পর্কই নাই। আজান যিনি দেন তিনিও ইফতার করেই দেন। তাছাড়া বিশ্বের বহু অমুসলিম দেশে কোন আজানই হয় না। সেখানকার মুসলমানরা কি ইফতার করবে না?

মুলত ইফতারের সম্পর্ক সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে। কোনভাবেই আজানের সাথে নয়। হাফেজ ইবনে হাজার আসক্বলানী (রহ.) এ বিষয়ে ইজমা নকল করে বলেন,

واتَّفَقَ العُلَماءُ عَلى أنَّ مَحَلَّ ذَلِكَ إذا تَحَقَّقَ غُرُوبُ الشَّمْسِ بِالرُّؤْيَةِ أوْ بِإخْبارِ عَدْلَيْنِ وكَذا عدل واحِد فِي الارجح

"সমস্ত ওলামায়ে কেরাম একথার উপর একমত যে ইফতারের সঠিক সময় হলো যখন সূর্যের অস্ত যাওয়া দেখার মাধ্যমে কিংবা দুইজন বিশ্বস্ত লোকের সংবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত জানা যাবে। অনুরূপ গ্রহণযোগ্য মতানুসারে একজন বিশ্বস্ত লোকের সংবাদের মাধ্যমে হলেও চলবে।"

فتح الباري، ٤/١٩٩

তিনি আরো বলেন,

مِنَ البِدَعِ المُنْكَرَةِ ما أُحْدِثَ فِي هَذا الزَّمانِ مِن إيقاعِ الأذانِ الثّانِي قَبْلَ الفَجْرِ بِنَحْوِ ثُلُثِ ساعَةٍ فِي رَمَضانَ وإطْفاءِ المَصابِيحِ الَّتِي جُعِلَتْ عَلامَةً لِتَحْرِيمِ الأكْلِ والشُّرْبِ عَلى مَن يُرِيدُ الصِّيامَ زَعْمًا مِمَّنْ أحْدَثَهُ أنَّهُ لِلِاحْتِياطِ فِي العِبادَةِ ولا يَعْلَمُ بِذَلِكَ إلّا آحادُ النّاسِ وقَدْ جَرَّهُمْ ذَلِكَ إلى أنْ صارُوا لا يُؤَذِّنُونَ إلّا بَعْدَ الغُرُوبِ بِدَرَجَةٍ لِتَمْكِينِ الوَقْتِ زَعَمُوا فَأخَّرُوا الفِطْرَ وعَجَّلُوا السُّحُورَ وخالَفُوا السُّنَّةَ فَلِذَلِكَ قَلَّ عَنْهُمُ الخَيْر وكثير فِيهِمُ الشَّرُّ واللَّهُ المُسْتَعانُ

"এই জমানায় যে গর্হিত বিদাতগুলো প্রবর্তিত হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে রমযান মাসে ফজর হওয়ার ২০ মিনিট আগে দ্বিতীয় আযান দেয়া এবং বাতিগুলো নিভিয়ে দেয়া। যে বাতিগুলো রোযা রাখতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য পানাহার নিষিদ্ধ হওয়ার আলামত হিসেবে রাখা হয়। যে ব্যক্তি এটি প্রবর্তন করেছে সে এই ধারণা থেকে করেছে যে, এতে ইবাদতের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা হবে। গুটি কতেক মানুষ ছাড়া আর কাউকে বিষয়টি জানায় না। একই চিন্তা থেকে তারা সূর্য ডোবার কিছু সময় পরে আযান দেয়; তাদের ধারণা অনুযায়ী যাতে করে সময় হওয়াটা জোরদার হয়। এভাবে তারা দেরিতে ইফতার করে ও তড়িঘড়ি সাহরী সেরে মুলত সুন্নাহ'র বিপরীতে আমল করে যাচ্ছে। তাই তাদের মাঝে কল্যাণ হ্রাস পেয়েছে এবং অকল্যাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আল্লাহ সহায় হোন।"

فتح الباري، ٤/١٩٩

• দ্রুত ইফতার করা সুন্নাহ..

حَدَّثَنا وكِيعٌ، عَنْ أبِي العَنْبَسِ عَمْرِو بْنِ مَرْوانَ، قالَ: سَمِعْتُ إبْراهِيمَ، يَقُولُ: إنَّ مِنَ السُّنَّةِ تَعْجِيلَ الإفْطارِ

"ইব্রাহীম নখয়ী (রহ.) বলেন, সুন্নাহ হলো দ্রুত ইফতার করা।"

مصنف ابن أبي شيبة، ٢/‏٢٧٨ 

ইমাম রাফেয়ী (রহ.) বলেন,

من سنن الصوم تعجيل الفطر قال صلي الله عليه وسلم لا يزال الناس بخير ما عجلوا الفطر

"দ্রুত ইফতার করা হলো রোযার সুন্নাহ। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জাতি ততদিন কল্যাণের উপর থাকবে যতদিন তারা দ্রুত ইফতার করবে।"

الشرح الكبير للرافعي، ٦/‏٤١٧

• দ্রুত ইফতার সুন্নাত হওয়ার উপর ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে..

قال ابن عبد البر وغيره : وأجمع العلماء على أنّ تعجيل الفطر، وتأخير السحور، سنة متبعة، حكاه الوزير ابن هبيرة، وجزم به الشيخ تقي الدين.

"হাফেজ ইবনে আব্দিল বার (রহ.) ও অন্যান্যরা নকল করেন, ওলামায়ে কেরামগণ এ কথার উপর একমত হয়েছেন যে, দ্রুত ইফতার করা ও  দেরিতে সাহরী খাওয়া হলো অনুসরণীয় সুন্নাহ। এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম ওজির ইবনে হুবায়রা (রহ.) এবং শায়খুল ইসলাম তকি উদ্দিন ইবনে তাইমিয়া (রহ.) এটির সত্যায়ন করেছেন।"

توضيح الأحكام من بلوغ المرام، ٣/‏٤٧١

ইমাম ইবনুল আছীর (রহ.) নকল করেন,

وتعجيل الإفطار سنة متفق عليها

"দ্রুত ইফতার করা সুন্নাত এ বিষয়ে সবাই একমত।"

الشافي في شرح مسند الشافعي، ٣/‏١٩٨

• দ্রুত ইফতার আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম..

 عن أبي هريرة: قال اللهُ : أحَبُّ عبادِي إلَيَّ، أعْجَلُهُم فِطْرًا.

"আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, মহান আল্লাহ বলেন আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় বান্দা হলো যারা দ্রুত ইফতার করে।"

سنن الترمذي ٧٠٠ 

ইমাম তিরমিজি (রহ.), বাগভী (রহ.), ইবনে হাজার আসক্বলানী (রহ.), ইবনুল মুলাক্কিন (রহ.), মুনযিরী (রহ.), বিন বায (রহ.) প্রত্যকেই স্ব স্ব গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। ইবনে হিব্বান (রহ.) তাঁর সহিহ'তে উল্লেখ করেছেন। শায়খ শুয়াইব আল আরনাউত (রহ.) ও আহমাদ শাকের উভয়ে সহিহ বলেছেন।

• সাহাবীদের নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর দ্রুত ইফতার..

 عن عبد الله بن أبي أوفى: كُنّا مع رَسولِ اللهِ ﷺ في سَفَرٍ فَقالَ لِرَجُلٍ: انْزِلْ فاجْدَحْ لِي، قالَ: يا رَسولَ اللهِ، الشَّمْسُ؟ قالَ: انْزِلْ فاجْدَحْ لِي، قالَ: يا رَسولَ اللهِ الشَّمْسُ؟ قالَ: انْزِلْ فاجْدَحْ لِي، فَنَزَلَ فَجَدَحَ له فَشَرِبَ، ثُمَّ رَمى بيَدِهِ ها هُنا، ثُمَّ قالَ: إذا رَأَيْتُمُ اللَّيْلَ أقْبَلَ مِن ها هُنا، فقَدْ أفْطَرَ الصّائِمُ، تابَعَهُ جَرِيرٌ، وأَبُو بَكْرِ بنُ عَيّاشٍ، عَنِ الشَّيْبانِيِّ، عَنِ ابْنِ أبِي أوْفى قالَ: كُنْتُ مع النبيِّ ﷺ في سَفَرٍ..

"আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে সফর অবস্থায় ছিলাম। পথিমধ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবীকে বললেন, সওয়ারী হতে নেমে আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সূর্য এখনো অস্ত যায়নি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, সওয়ারী হতে নেমে আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সূর্য এখনো ডুবেনি। রাসুলুল্লাহ (সা.) আবারো বললেন, সওয়ারী হতে নামো এবং আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। অতঃপর সেই সাহাবী সাওয়ারী হতে নেমে ছাতু গুলিয়ে আনলেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) তা পান করলেন। তারপর হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন, যখন দেখবে রাত এদিক হতে ঘনিয়ে আসছে তখন বুঝবে, সওম পালনকারী ব্যক্তির ইফতারের সময় হয়েছে।"

 صحيح البخاري ١٩٤١  

কিছু অজমুজতাহিদ এই হাদীসে সূর্য ডুবার পর ২/৩ মিনিট দেরি করার দলিল খুঁজে পেয়েছে। তাদের দাবি হলো সূর্য ডুবার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কথাবার্তা বলা এবং সাহাবীর সওয়ারী হতে নেমে ছাতু গুলিয়ে আনা, তারপর ইফতার করা এতে ২/৩ মিনিট তো লেগেছেই। তাছাড়া একটু দেরি হলেই যদি সুন্নাহ বিরোধী হয় তাহলে রাসুলুল্লাহ (সা.) সূর্য ডুবার আগে কেন ইফতার তৈরি করলেন না?

হাদীসটি আরেকবার পড়ে আসুন। দেখুন সাহাবী কিন্তু বারবার বলছিলেন হে আল্লাহর রাসুল! সূর্য এখনো ডুবেনি। তাহলে এই অজমুজতাহিদরা এটাকে সূর্য ডুবার পরের ঘটনা কেমনে বানালো? আরেকটা বিষয় লক্ষ্য করুন, সাহাবী বারবার তাগাদা দিচ্ছিলেন হে আল্লাহর রাসুল! সূর্য এখনো ডুবেনি। অর্থাৎ ইফতারের সময় এখনো হয়নি। এত তাড়াহুড়া কেন করছেন? রাসুলুল্লাহ (সা.) চাইলে তৎক্ষনাৎ মাসআলা হল করে দিতে পারতেন। যেহেতু দ্রুত ইফতারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেহেতু তিনি কোন কথাবার্তা ছাড়াই আগে ইফতার করে নিলেন, তারপর মাসআলা বললেন। ২/৩ মিনিট দেরি হলে যদি সমস্যা না থাকতো তাহলে তিনি অবশ্যই আগে মাসআলা সমাধান করতেন। যাতে সবাই নিঃসন্দেহে প্রশান্ত মনে ইফতার করতে পারেন।

আর রাসুলুল্লাহ (সা.) কেন সূর্য ডুবার আগে ইফতার তৈরি করলেন না?

মুলত ইফতার তৈরি প্রক্রিয়া সূর্য ডুবার আগেই হয়েছে। যেই সাহাবী ইফতার তৈরি করেছেন তিনিই বারবার জানান দিচ্ছিলেন হে আল্লাহর রাসুল! সূর্য এখনো ডুবেনি। তাছাড়া সফর অবস্থার হালচাল স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে একটু ব্যতিক্রম হতেই পারে।

স্বাভাবিক অবস্থায় সাহাবায়ে কেরামগণ সূর্য ডুবার আগেই ইফতার তৈরি করে নিতেন।..

عَنْ أبِي رَجاءٍ قالَ: كُنْتُ أشْهَدُ ابْنَ عَبّاسٍ عِنْدَ الفِطْرِ فِي رَمَضانَ، فَكانَ يُوضَعُ طَعامُهُ، ثُمَّ يَأْمُرُ مُراقِبًا يُراقِبُ الشَّمْسَ، فَإذا قالَ: وجَبَتْ قالَ: كُلُوا قالَ: ثُمَّ كُنّا نُفْطِرُ قَبْلَ الصَّلاةِ

"আবু রাজা (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রমযান মাসে ইফতারের সময় ইবনে আব্বাস (রা.) এর সাথে সাক্ষাৎ করতাম। তাঁর খাবার তৈরি করে রাখা হতো। তারপর তিনি একজন পর্যবেক্ষককে সূর্য দেখার নির্দেশ দিতেন। যখন পর্যবেক্ষক বলতো সূর্য অস্ত গেছে, তখন তিনি বলতেন তোমরা খাও। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমরা সালাতের আগে ইফতার করে নিতাম।"

مصنف عبد الرزاق الصنعاني، ٤/‏٢٢٧ 

• সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এর দ্রুত ইফতারের অভ্যাস ও আম্মাজান আয়িশা (রা.) এর ফতোয়া..

 عن مالك بن عامر أبي عطية الوادعي: قلتُ لعائشةَ: فينا رجُلانِ، أحَدُهما يُعَجِّلُ الإفطارَ ويُؤخِّرُ السُّحورَ، والآخَرُ يُؤخِّرُ الفِطرَ ويُعَجِّلُ السُّحورَ. قالت: أيُّهما الذي يُعجِّلُ الإفطارَ ويُؤخِّرُ السُّحورَ؟ قلتُ: عبدُ اللهِ بنُ مَسعودٍ. قالتْ: هكذا كان رسولُ اللهِ ﷺ يَصنَعُ..

"আবু আত্বিয়া (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি আয়িশা (রা.) কে বললাম আমাদের মাঝে দুজন ব্যক্তি এমন আছেন যাঁদের একজন দ্রুত ইফতার করেন এবং দেরিতে সাহরী করেন। অন্যজন দেরিতে ইফতার করেন এবং দ্রুত সাহরী খেয়ে নেন। আয়িশা (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, দ্রুত ইফতার করা এবং দেরিতে সাহরী খাওয়া ব্যক্তিটা কে? আমি বললাম আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)। আম্মাজান আয়িশা (রা.) বললেন, এই আমলটাই রাসুলুল্লাহ (সা.) করতেন।"

سنن النسائي ٢١٥٨ ، اسناده صحيح

• দ্রুত ইফতার নববী চরিত্রের চিহ্ন..

 عن أبي الدرداء: ثلاثٌ من أخلاقِ النُّبوةِ: تَعجيلُ الإفطارِ، وتأخيرُ السُّحورَ، ووضْعُ اليمينِ على الشِّمالِ في الصلاةِ.

"আবু দারদা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনটি বিষয় নববী আদর্শের অন্তর্ভুক্ত। তা হলো দ্রুত ইফতার করা, দেরিতে সাহরী খাওয়া এবং সালাতে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা।"

صحيح الجامع ٣٠٣٨ 

ইমাম মালেক (রহ.) বলেন,

سمعت عبد الكريم بن المخارق يقول: من عمل النبوة تعجيل الإفطار، والاستيناد بالسحور

"আমি আব্দুল কারীম ইবনে মুখারাক (রহ.) কে বলতে শুনেছি যে, দ্রুত ইফতার করা ও ধীরস্থিরে সাহরী খাওয়া নববী কর্মের অন্তর্ভুক্ত।"

شرح الرسالة للقاضى عبد الوهاب، ١/١٧١

• প্রত্যেক নবী-রাসুলের প্রতি দ্রুত ইফতার করার নির্দেশ ছিল..

 عَنِ ابْنِ عَبّاسٍ قالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ: إنّا مَعاشِرَ الأنْبِياءِ أُمِرْنا أنْ نُعَجِّلَ فِطْرَنا، وأنْ نُؤَخِّرَ سُحُورَنا، وأنْ نَضَعَ أيْمانَنا عَلى شَمائِلِنا فِي الصَّلاةِ

"আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি যে, আমাদের সমস্ত নবী-রাসুলদের উপর নির্দেশ  ছিল যাতে আমরা দ্রুত ইফতার করি, সাহরীতে দেরি করি এবং সালাতে আমাদের ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখি।"

مجمع الزوائد ٣‏/١٥٨،  رجاله رجال الصحيح 

• দেরিতে ইফতার করা হলো ইহুদী-খৃস্টানের নীতি..

عن أبي هريرة: لا يزالُ الدِّينُ ظاهرًا ما عجَّل النّاسُ الفِطْرَ إنّ اليهودَ والنَّصارى يؤخِّرونَ.

"আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, দ্বীন ততদিন পর্যন্ত বিজয়ী থাকবে যতদিন পর্যন্ত মুসলমান দ্রুত ইফতার করবে। অবশ্যই ইহুদী খৃষ্টানরা ইফতারে দেরি করে।"

صحيح ابن حبان ٣٥٠٣ 

ইমাম ত্বিবী (রহ.) এই হাদীসের ব্যাখায় বলেন,

قالَ الطِّيبِيُّ: فِي هَذا التَّعْلِيلِ دَلِيلٌ عَلى أنَّ قِوامَ الدِّينِ الحَنِيفِيِّ عَلى مُخالَفَةِ الأعْداءِ مِن أهْلِ الكِتابِ، وأنَّ فِي مُوافَقَتِهِمْ تَلَفًا لِلدِّينِ

"উল্লেখিত কারণে এ কথার দলিল রয়েছে যে, নিশ্চয় দ্বীনে হানীফে প্রতিষ্ঠিত থাকার অর্থ হলো দ্বীনের শত্রু আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করা। আর অবশ্যই দ্বীনের খাতিরে তাদের আনুকূল্যতাকে ঘৃণা করা।"

مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، ٤/‏١٣٨٧

আবেগের জোরে অনেকেই বলে ফেলে তের/চৌদ্দ ঘন্টা না খেয়ে থেকেছি, আর দুই/তিনটা মিনিট পারবো না? তাদেরকে বলবো, কোন কারণ ছাড়া এই ২/৩ মিনিট অপেক্ষা করলে আপনার সিয়ামের আদৌ কোন উপকার হবে কিনা আল্লাহই ভালো জানেন। তবে ঐ ২/৩ মিনিট অপেক্ষা না করলে আপনার সিয়াম নিশ্চিত দ্বীন বিজয়ের সহযোগী হবে। এবার সিদ্ধান্ত আপনার। তাছাড়া তের/চৌদ্দ ঘন্টা না খেয়ে থেকে দিনশেষে বোকার মতো নিজের পুতঃপবিত্র সিয়ামটাকে ইহুদী খৃষ্টানদের সাথে মিলাতে যাবেন কোন দুঃখে? অথচ আমরা আদিষ্ট হয়েছি ইহুদী-খৃস্টানদের রীতি রেওয়াজের বিরোধিতা করার জন্য। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন..

 ليس منا من تشبَّهَ بغيرِنا، ولا تشبَّهوا باليهودِ ولا بالنصارى، 

"যে ব্যক্তি অমুসলিমদের সাথে সাদৃশ্য স্থাপন করবে সে আমার উম্মত নয়। কাজেই তোমরা ইহুদী-খৃস্টানদের সাথে সাদৃশ্য স্থাপন করো না।"

السلسلة الصحيحة ٢١٩٤، قوي بالطرق

• দ্রুত ইফতারেই রয়েছে জাতীয় কল্যাণ..

 عن سهل بن سعد الساعدي: أنّ رَسولَ اللهِ ﷺ، قالَ: لا يَزالُ النّاسُ بخَيْرٍ ما عَجَّلُوا الفِطْرَ..

"সাহল বিন সা'দ আস সায়েদী (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন জাতি ততদিন কল্যাণের উপর থাকবে যতদিন তারা দ্রুত ইফতার করবে।"

متفق عليه

একই হাদীস আবু যর গিফারী (রা.) ও সায়িদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহ.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে।হাফেজ ইবনে আব্দির বার (রহ.) বলেন,

أحاديث تعجيل الإفطار وتأخير السّحور صحاحٌ متواترةٌ.

"দ্রুত ইফতার ও দেরিতে সাহুর সংক্রান্ত যাবতীয় হাদীস মুতাওয়াতির পর্যায়ের সহিহ।"

অনেকে দ্রুত ইফতার করাকে সামাজিকতা রক্ষার অন্তরায়ও বলে থাকেন। আরো বলেন, সবাই যেখানে আজানের জন্য অপেক্ষা করছে সেখানে গুটিকয়েক লোক স্রোতের বিপরীতে গিয়ে সূর্য ডুবার সাথে সাথে ইফতার করবে এটা তো ফেতনা! জানিনা সুন্নাহ'র উপর অবিচল থাকলে সেটা ফিতনা কীভাবে হয়।

অথচ, সমস্ত ইমামদের মতে দেরিতে ইফতার করাই হলো ফিতনা। যেমন ইমাম নববী (রহ.) বলেন,

قال النووي : فيه الحث على تعجيل الفطر بعد تحقق غروب الشمس , ومعناه : لا يزال أمر الأمة منتظماً وهم بخير ما داموا محافظين على هذه السنَّة , وإذا أخروه كان ذلك علامة على فسادٍ يقعون فيه

"এ হাদিসে সূর্য ডুবা নিশ্চিত হওয়ার পর অবিলম্বে ইফতার করার প্রতি উৎসাহ রয়েছে। যতদিন উম্মত এ সুন্নাত রক্ষা করে যাবে ততদিন তারা সুশৃঙ্খল থাকবে এবং তারা কল্যাণে থাকবে। যদি তারা ইফতার করতে বিলম্ব করতে থাকে তাহলে সেটা হবে তাদের ফাসাদে লিপ্ত হওয়ার আলামত।"

شرح مسلم ، ٢/٢٠٨

ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন,

وقال القرطبيّ : إنما كان تعجيل الفطر خيرًا؛ لأنه أحفظ للقوّة، وأرفع للمشقّة، وأوفق للسنّة، وأبعد عن الغلوّ والبدعة، 

"অবশ্যই দ্রুত ইফতার করাতেই রয়েছে কল্যাণ। কেননা এর দ্বারা শক্তি সংরক্ষিত হয়, কষ্ট দূর হয়, সুন্নাহ'র অনুকূলে থাকা যায় এবং অতিরঞ্জন ও বিদআত থেকে দূরে থাক যায়।"

البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج، ٢٠/‏٥٦٧

ইমাম মাজেরী (রহ.) বলেন,

قال المازريّ : أشار هذا الحديث إلى أن تغيير هذه السنة عَلَمٌ على فساد الأمر، ولا يزالون بخير ما داموا محافظين عليها

"এই হাদীসটি ঐ কথার দিকে ইঙ্গিত করে যে, দ্রুত ইফতার করার এই সুন্নাহ'কে পরিবর্তন করা হলো ফাসাদ সৃষ্টির আলামত। জাতি যতদিন এই সুন্নাহ'কে হেফাজত করবে ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।"

البحر المحيط الثجاج، ٢٠/٥٦٩

ইমাম ইবনে দাক্বিক্বীল ঈদ (রহ.) বলেন,

قال ابن دقيق العيد : في هذا الحديث ردّ على الشيعة في تأخيرهم الفطر إلى ظهور النجوم، ولعل هذا هو السبب في وجود الخير بتعجيل الفطر؛ لأن الذي يؤخره يدخل في فعل خلاف السنة

"এই হাদীসে শিয়াদের তারকা প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত দেরি করে ইফতার করার খন্ডন রয়েছে। হতে পারে দ্রুত ইফতারে কল্যাণ নিহিত থাকার কারণও এটাই। কেননা যে ব্যক্তি দেরিতে ইফতার করবে সে সুন্নাহ বিরোধী কাজে প্রবেশ করবে।"

البحر المحيط الثجاج، ٢٠/٥٦٩

হাফেজ জালালুদ্দিন সুয়ূতী (রহ.) বলেন,

لما فِيهِ من المُحافظَة على السّنة فَإذا خالفوها إلى البِدْعَة كانَ ذَلِك عَلامَة على إفْساد يقعون فِيهِ

"দ্রুত ইফতার করাতে যখন সুন্নাহ'র হেফাজতের ব্যাপার রয়েছে, সুতরাং এটার বিরোধিতা করে বিদআতের দিকে ধাবিত হওয়াই হলো ফাসাদ সৃষ্টির আলামত, যেখানে তারা নিপতিত হবে।"

شرح السيوطي على مسلم، ٣/‏١٩٨

ইমাম ইবনুল আছীর (রহ.) বলেন,

وقوله: "بخير" الظاهر أنه أشار إلى أن فساد الأمور يتعلق بتغير هذه السنة التي هي تعجيل الفطر، وأن تأخيره ومخالفة السنة في ذلك كالعَلَم على فساد الأمور

"আর কল্যাণের মধ্যে থাকবে কথাটি সুস্পষ্ট এ কথারই ইঙ্গিত যে, ফাসাদ সৃষ্টির সম্পর্ক মুলত দ্রুত ইফতার করার যে সুন্নাহ সেটাকে পরিবর্তন করার সাথে। অবশ্যই ইফতারে দেরি করা ও ইফতারের সুন্নাহ'র বিরোধিতা করা যেন ফাসাদ সৃষ্টির আলামত।"

الشافي في شرح مسند الشافعي، ٣/‏١٩٨

ইমাম মানাভী (রহ.) বলেন,

(لا يزال الناس بخير ما عجلوا الفطر) أي ما داوموا على هذه السنة لأن تعجيله بعد تيقن الغروب من سنن المرسلين فمن حافظ عليه تخلق بأخلاقهم ولأن فيه مخالفة أهل الكتاب في تأخيرهم إلى اشتباك النجوم وفي ملتنا شعار أهل البدع فمن خالفهم واتبع السنة لم يزل بخير

"(লোকেরা ততদিন কল্যাণের উপর থাকবে যতদিন দ্রুত ইফতার করবে) অর্থাৎ তারা এই সুন্নাহ'র উপর অটল থাকবে। কেননা সূর্যের অস্ত যাওয়া নিশ্চিত হবার পর তাড়াতাড়ি ইফতার করে নেয়া হলো প্রত্যেক নবী-রাসুলের সুন্নাত। কাজেই যে ব্যক্তি এই সুন্নাতের হেফাজত করবে সে হবে নববী আদর্শের অধিকারী। কারণ এই সুন্নাহ পালনে আহলে কিতাবরা যে তারকার সংঘর্ষ হওয়া পর্যন্ত দেরি করে সেটার বিরোধিতা রয়েছে। আর ঐ সমস্ত বিদআতীরা যারা এই সুন্নাহ'র বিরোধিতা করবে তারা অবনতির মধ্যে এবং যারা এই সুন্নাহ'র অনুসরণ করবে তারা সর্বদা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।"

فيض القدير، ٦/‏٤٥٠

অতএব, দেরিতে ইফতার করাই হলো ফিতনা ও সুন্নাহ বিরোধী কর্মকান্ড। জাতীয় কল্যাণের অন্তরায় ও জমিনে ফাসাদ সৃষ্টির আলামত। জঘন্য বাড়াবাড়ি ও নিকৃষ্ট বিদআত। পক্ষান্তরে দ্রুত ইফতার করাই হলো সুন্নাহ এবং এতেই রয়েছে কল্যাণ।

• সাহাবায়ে কেরামগণ দ্রুত ইফতার করতেন..

 عن عمرو بن ميمون: كانَ أصحابُ محمَّدٍ ﷺ أسرعَ النّاسِ إفطارًا وأبطأَهُم سحورًا.

"আমর বিন মায়মুন (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন মুহাম্মদ (সা.) এর সাহাবীরা ছিলেন লোকেদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত ইফতারকারী ও ধীরগতিতে সাহরী আদায়কারী।"

فتح الباري لابن حجر ٤‏/٢٣٤، إسناده صحيح

"দ্রুত ইফতার করা সুন্নাত এ বিষয়ে সবাই একমত।"

الشافي في شرح مسند الشافعي، ٣/‏١٩٨

• দ্রুত ইফতারের তাগিদ দিয়ে ওমর বিন খাত্তাব (রা.) কর্তৃক রাষ্ট্রীয় ফরমান জারি..

عَنِ الثَّوْرِيِّ، عَنْ طارِقِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ ابْنِ المُسَيِّبِ قالَ: كَتَبَ عُمَرُ بْنُ الخَطّابِ إلى أُمَراءِ الأمْصارِ: أنْ لا تَكُونُوا مِنَ المُسَوِّفِينَ بِفِطْرِكُمْ، ولا المُنْتَظِرِينَ بِصَلاتِكُمُ اشْتِباكَ النُّجُومِ

"সায়িদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওমর বিন খাত্তাব (রা.) বিভিন্ন প্রাদেশিক শাসকদের প্রতি ফরমান জারি করেন এই মর্মে যে, আপনারা ইফতার করার ক্ষেত্রে বিলম্বকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। আর সালাতে তারকার সংঘর্ষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।"

مصنف عبد الرزاق الصنعاني، ٤/‏٢٢٥

• ফারুকে আযম (রা.) লোকেরা দ্রুত ইফতার করে কিনা সেটারও খোঁজখবর রাখতেন..

عَبْدُ الرَّزّاقِ قالَ: أخْبَرَنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ المُسَيِّبِ، عَنْ أبِيهِ قالَ: كُنْتُ جالِسًا عِنْدَ عُمَرَ إذْ جاءَهُ رَكْبٌ مِنَ الشّامِ فَطَفِقَ عُمَرُ يَسْتَخْبِرُ عَنْ حالِهِمْ، فَقالَ: هَلْ يُعَجِّلُ أهْلُ الشّامِ الفِطْرَ؟ قالَ: نَعَمْ قالَ: «لَنْ يَزالُوا بِخَيْرٍ ما فَعَلُوا ذَلِكَ، ولَمْ يَنْتَظِرُوا النُّجُومَ انْتِظارَ أهْلِ العِراقِ

"সায়িদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ.) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি ওমর (রা.) এর মজলিসে বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় শামের একজন অশ্বারোহী প্রতিনিধি সেখানে এসে উপস্থিত হন। তারপর ওমর (রা.) তার কাছ থেকে শামবাসীর অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে আরম্ভ করলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, শামের লোকেরা কি দ্রুত ইফতার করে? ঐ ব্যক্তি বললেন, জ্বি হ্যাঁ। ফারুকে আযম (রা.) বললেন, তারা যতদিন এটা করতে থাকবে ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে। আর তারা যেন ইরাকবাসীর মতো তারকার অপেক্ষা না করে।"

مصنف عبد الرزاق الصنعاني، ٤/‏٢٢٥ 

অনেকে ২/৩ মিনিট দেরিতে ইফতার করার পক্ষে নিম্নোক্ত আছারটিও পেশ করে থাকেন।..

أخْبَرَنا مالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أنَّ عُمَرَ، وعُثْمانَ، كانا يُصَلِّيانِ المَغْرِبَ حِينَ يَنْظُرانِ إلى اللَّيْلِ الأسْوَدِ ثُمَّ يُفْطِرانِ بَعْدَ الصَّلاةِ، وذَلِكَ فِي رَمَضانَ

"ওমর (রা.) ও উসমান (রা.) উভয়ে রমযান মাসে এমন সময় মাগরিবের সালাত আদায় করতেন, যখন তাঁরা কালো অন্ধকার দেখতে পেতেন। এরপর সালাত শেষে ইফতার করতেন।"

مسند الشافعي، ١/‏١٠٤ 

প্রথমত, যারা আছারটিকে দলিল বানিয়েছে তারা নিজেরাই এর উপর আমল করে না। কেননা, তারা কালো অন্ধকার ঘনিয়ে আসলে মাগরিবের সালাত, তারপর ইফতার এভাবে ইফতার করে না। কাজেই এতে তাদের পক্ষে কোন দলিল নেই।

দ্বিতীয়ত, এটি হতে পারে তাঁদের বিশেষ কারণ বশত অনিয়মিত একটি আমল; যা কোনভাবেই অভ্যাসগত নয়। কেননা, কোন খুলাফায়ে রাশেদের পক্ষে এটা সম্ভব নয় যে তাঁরা রাসুলুল্লাহ (রা.) এর সুন্নাহ বিরোধী কোন কাজকে অভ্যাসে পরিনত করবেন। যে কারণে সাহাবীদের কেউ তাঁদের এই আমলের গুরুত্ব দেয়নি।

তৃতীয়ত, এটি সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর আমলের সাথে সাংঘর্ষিক। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) ইফতার না করে কখনো সালাতে যেতেন না।..

حَدَّثَنا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زائِدَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أنَسٍ، أنَّ النَّبِيَّ ﷺ كانَ لا يُصَلِّي، حَتّى يُفْطِرَ، ولَوْ بِشَرْبَةٍ مِن ماءٍ

"আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, নিশ্চয় নবী (সা.) ইফতার না করা পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন না। একটু পানি পান করে হলেও আগে ইফতার সেরে নিতেন।"

مصنف ابن أبي شيبة، ٩٧٨٩

চতুর্থত, হতে পারে তাঁদের এই আমল দ্বারা এ কথা বুঝানো উদ্দেশ্য যে, তাড়াতাড়ি ইফতার করা ওয়াজিব নয় এবং বিশেষ কোন ওজর বশত দেরিও করা যেতে পারে। তবে তাতে কোন ফযিলত নেই। যেমন ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন,

كَأنَّهُما يَرَيانِ تَأْخِيرَ ذَلِكَ واسِعًا، لا أنَّهُما يَعْمَدانِ الفَضْلَ لِتَرْكِهِ بَعْدَ أنْ أُبِيحَ لَهُما، وصارا مُفْطِرَيْنِ بِغَيْرِ أكَلٍ وشُرْبٍ، لِأنَّ الصَّوْمَ لا يَصْلُحُ فِي اللَّيْلِ،

"তাঁরা বুঝাতে চেয়েছেন দেরি করাতে প্রশস্ততা রয়েছে (অর্থাৎ বিশেষ কারণ বশত দেরি করা যেতে পারে)। তবে এমন নয় যে তাঁদের (দ্রুত ইফতারের) সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা এটাকে ফযিলতের আশায় ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দিয়েছেন এবং কোন পানাহার ছাড়াই তারা ইফতার করেছেন। কারণ রাতের বেলা সিয়াম শুদ্ধ নয়।"

معرفة السنن والآثار، ٦/‏٢٨٦ 

তিনি তাঁর কিতাবুল উমে আরো বলেন,

ولا يُكْرَهُ تَأْخِيرُهُ إلّا لِمَن تَعَمَّدَهُ ورَأى الفَضْلَ فِيهِ ومُقْتَضاهُ أنَّ التَّأْخِيرَ لا يُكْرَهُ مُطْلَقًا

"ইফতারে দেরি করা তার জন্য মাকরুহ হবে যে এটাতে ফযিলত আছে মনে করে ইচ্ছাকৃত দেরি করবে। যদিও দেরি করাতে সাধারণত মাকরূহ না হওয়ারই দাবি রাখে।"

فتح الباري لابن حجر، ٤/‏١٩٩

তবে ইমাম শাফেয়ী (রহ.) এর উক্ত বক্তব্যকে রদ করে শায়খ মুহাম্মদ আদম আল আছয়ুভী বলেন,

وفيه نظر لا يخفى؛ إذ كونه مكروهًا هو الذي دلّ عليه ظاهر النصّ؛ لأنه نصّ على أن التعجيل فيه مخالفة لليهود والنصارى، كما سلف من حديث أبي هريرة ، وقد أُمِر -ﷺ- بمخالفتهم..  وفي تأخير الفطر موافقة لهم، ومخالفة لهديه -ﷺ-، فكيف يقال: إنه غير مكروه؟ بل الذي يظهر من النصوص المذكورة التحريم، فتأمّل بالإنصاف.

"এতে যে আপত্তি রয়েছে একথা গোপন নয়। যখন এটি মাকরূহ হওয়া সুস্পষ্ট নস দ্বারা সাব্যস্ত, কেননা নস এ কথার উপর প্রতিষ্ঠিত যে দ্রুত ইফতার করার অর্থ হলো ইহুদী-খৃস্টানদের বিরোধিতা করা, যেমনটা আবু হুরায়রা (রা.) এর হাদীসে গত হয়েছে, আর রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাদের বিরোধিতা করার জন্য, এছাড়াও যখন ইফতার দেরি করাতে ইহুদী-খৃস্টানের মুয়াফেক ও রাসুলুল্লাহ (সা.) এর নির্দেশের মুখালেফ হয়, তখন কীভাবে বলা যায় এটি মাকরূহ নয়? বরং এটি উল্লেখিত নস দ্বারা সুস্পষ্ট হারাম হওয়ার দাবি রাখে। অতএব ইনসাফের সহিত বিবেচনা করুন।"

البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج، ٢٠/‏٥٦٨ 

ইমাম মোল্লা আলী ক্বারী (রহ.) বলেন,

فَهُوَ لِبَيانِ جَوازِ التَّأْخِيرِ لِئَلّا يُظَنَّ وُجُوبُ التَّعْجِيلِ

"তাঁরা এটি করেছেন মুলত (ওজর বশত) বিলম্বে ইফতার জায়েয হওয়া বুঝাতে। যাতে লোকেরা দ্রুত ইফতার করাকে ওয়াজিব মনে না করে।"

مرقاة المفاتيح ، ٤/‏١٣٨٥  

ইমাম মাওয়ারদী (রহ.) বলেন,

بِأنَّهُما أرادا بَيانَ جَوازِ ذَلِكَ لِئَلّا يُظَنَّ وُجُوبُ التَّعْجِيلِ

"তাঁরা উভয়ে এ কথা বুঝাতে চেয়েছেন যে (ওজর বশত) এটা জায়েয। যাতে লোকেরা এটাকে ওয়াজিব মনে না করে।"

المجموع شرح المهذب، ٦/٣٦٢

পঞ্চমত, আলোচ্য আছারটি দলিলের উপযুক্তই নয়। কেননা একদিকে আছারটি মুনকাতি। অন্যদিকে উক্ত আছারের বুনিয়াদি রাবী হুমায়দ বিন আব্দুর রহমান (রহ.) থেকেই এ বিষয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত বর্ণনা পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়েছে ফারুকে আযম (রা.) ও জিন্নুরাইন (রা.) উভয়ে সালাতের পূর্বেই ইফতার করতেন। যেমন..

حَدَّثَنا عَبْدُ الأعْلى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أنَّ عُمَرَ، وعُثْمانَ، كانا يُصَلِّيانِ المَغْرِبَ إذا رَأيا اللَّيْلَ، كانا يُفْطِرانِ قَبْلَ أنْ يُصَلِّيا

"নিশ্চয় ওমর বিন খাত্তাব (রা.) ও উসমান বিন আফ্ফান (রা.) উভয়ে অন্ধকার দেখলেই মাগরিবের সালাত আদায় করতেন। তাঁরা উভয়ে সালাতের আগে ইফতার করতেন।"

مصنف ابن أبي شيبة، ٩٧٩٢

এছাড়াও উপরে উল্লেখ করেছি, ওমর বিন খাত্তাব (রা.) দ্রুত ইফতার করার জন্য বিভিন্ন প্রাদেশিক শাসকদের প্রতি রাষ্ট্রীয় ফরমান জারি করতেন। পাশাপাশি লোকেরা দ্রুত ইফতার করে কিনা সে বিষয়েও তিনি খোঁজখবর রাখতেন। কাজেই ফারুকে আযম (রা.) এর মাগরিব পড়ে ইফতার করার ঘটনা সত্য হলেও সেটা কোনভাবেই তাঁর অভ্যাসগত ছিল না। 

• দ্রুত ইফতারের হেকমত..

১। সুন্নাহ'র অনুসরণ করা।

২। নববী আদর্শ ধারণ করা।

৩। ইহুদী-খৃস্টানদের বিরোধিতা করা।

৪। রাফেযীদের রদ করা।

৫। হুদুদে শরিয়ার উপর অটল থাকা।

৬। সিয়ামের সাথে সখ্যতা স্থাপন করা।

৭। যথাসময়ে হালাল নিয়ামত ভোগ করা।

৮। কল্যাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা।

৯। দ্বীন বিজয়ে সহযোগিতা করা।

১০। ইবাদতের জন্য দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করা।

• ফিতনার যুগে সুন্নাহ'কে আঁকড়ে ধরলে বিনিময়ে একশ শহীদের সওয়াব..

عن أبي هريرة: من تمسَّكَ بسنَّتي عندَ فسادِ أمَّتي فلهُ أجرُ مئة شهيدٍ.

"আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উম্মতের বিপর্যয়ের সময় আমার সুন্নাতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য রয়েছে একশত শাহীদের সাওয়াব।"

مشكاة المصابيح، ١‏/١٣٦

• কারোর কথায় সুন্নাহ পরিত্যাগ করা যাবে না..

 قالَ علي بن أبي طالب : ما كُنْتُ لأدَعَ سُنَّةَ النبيِّ ﷺ لِقَوْلِ أحَدٍ..

"আলী ইবনে আবি তালেব (রা.) বলেন, কারোর কথায় আমি নবী (সা.) এর সুন্নাহ পরিহার করতে পারবো না।"

صحيح البخاري ١٥٦٣  

সারকথাঃ রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নাহ'র বিপরীতে তথাকথিত মনুষ্য তৈরি সতর্কতার কোন মূল্য নেই। বরং এটি একটি সম্পূর্ণ শয়তানী ওয়াসওয়াসা, যা থেকে প্রত্যেক মুসলমানের বেঁচে থাকা জরুরী। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

Thursday, March 31, 2022

ইবনে আব্বাস রাঃ বর্ণিত হাদিসে রসুল সঃ এর নির্দেশ টি আসলে কি ছিল?

 #ইবনে আব্বাস রাঃ বর্ণিত হাদিসে "রসুল সঃ এর নির্দেশ" টি আসলে কি ছিল???

আসুন এক হাদিসের ব্যাখ্যা অন্য হাদিস দিয়ে দেওয়ার সালাফ মানহাজ গ্রহন করি। মনগড়া ব্যাখ্যা দেওয়া থেকে বিরত থাকি।

#পোষ্টটি ধৈর্যের সাথে একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ার বিশেষ অনুরোধ রইল। সহি হাদিসের ভিত্তিতে রসুল সঃ এর নির্দেশটি কি ছিল স্বয়ং ইবনে আব্বাস রাঃ বর্ণনা থেকেই দেখুনঃ

আশা করছি, এতদিনের ভুল ব্যখা থেকে উনারা বেড়িয়ে আসতে পারবেন।

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ، فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا الْعِدَّةَ ثَلَاثِينَ»

[حكم الألباني] صحيح

নাসাঈ ২১২৪ঃ ইবনে আব্বাস রা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রসূল সা. বলেছেন: চাঁদ দেখে সিয়াম পালন কর, আর চাঁদ দেখে সিয়াম ভঙ্গ কর। আর যদি চাঁদ তোমাদের নিকট অস্পষ্ট হয় তাহলে মাস ৩০ দিন পূর্ণ কর। শেখ আলবানী হাদিসটি সহীহ বলেছেন। এটাই রসূলের নির্দেশ ছিল যা আরও বহু সংখক সাহাবী থেকেও বর্ণিত হাদিসে রয়েছে। 

এখানে দেখা যাচ্ছে ইবনে আব্বাস রা চাঁদ দেখেননি, তাই হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী মাস পূর্ণ করেছেন।

সম্ভবত সংবাদের হাদিসটি তার কাছ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। তবে এমন ঘটনা কিন্তু আরও সাহাবিদের মধ্যেও ঘটেছে। সালামের একটি হাদিস ওমর রাঃ জানতেন না, তাই আমল করেনি। কিন্তু ঐ হাদিসটি খুব অল্প বয়েস্ক সাহাবি আবু সাইদ খুদরি রাঃ জানতেন। 

মুজতাহিদগনের আরক অংশের মত, ইবনে আব্বাস রা কুরাইবের সংবাদ গ্রহন করেননি কারন সংবাদদাতা কুরাইব ছিলেন একজন, আর রসুল সঃ ২জন সাক্ষীর শর্ত দিয়েছেন। তারা নিম্নের দলিলটি উপাস্থাপন করছেনঃ

আব্দুর রহমান ইবনে জায়েদ রা থেকে বর্ণিত, " নিশ্চয়ই রসুল সঃ বলেছেন, যদি তোমাদের দুজন সাক্ষ্য দেয় যে, তারা চাঁদ দেখেছে তাহলে তোমরা সাওম (রোজা) ও ঈদ পালন কর" নাসাই, সহীহ, দারুস সালাম পাবলিকেশন্স ২১১৬ / ইঃ ফাঃ ২১২০।

#মোট কথা এই ২টি মতই রসুল সঃ এর হাদিস দ্বারা সমর্থিত। #দেশের শর্তটি রসুল সঃ এর কোন হাদিস দ্বারা সমর্থিত নয়, কাজেই এই মতটি বানোয়াট, কোন ক্রমেই গ্রহন যোগ্য নয়।

একটা বিষয়ে লক্ষ্য রাখবেনঃ কোন সাহাবা রসুল সঃ কোন হাদিস গোপন করতে পারেন না। তাই রসুল সঃ এর "এইরূপ নির্দেশ" কোন না কোন হাদিসেই আছে, থাকতে বাধ্য। কিন্তু রসুল সঃ এর সমস্ত হাদিস ঘেঁটে দেশের কোন শর্ত তো দূরে থাক দেশ শব্দটিও খুজে পাওয়া যাবে না, কাজেই এইরূপ নির্দেশটি দেশের শর্ত হওয়ার প্রশ্নই আসে না।


Wednesday, March 30, 2022

কুরাইবের হাদীছের সময়কালে চাঁদের বিষয়ে খলীফাহ 'উছমান (রাঃ)-এঁর সিদ্ধান্ত বা ফরমান কি ছিলো?

কুরাইবের হাদীছের সময়কালে চাঁদের বিষয়ে খলীফাহ 'উছমান (রাঃ)-এঁর সিদ্ধান্ত বা ফরমান কি ছিলো?


এবিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু আমরা বলতে পারবো না, কারণ ঐসময়ে 'উছমান (রাঃ) চাঁদ দেখার বিষয়ে কোনও রাষ্ট্রীয় ফরমান জারী করেছিলেন কিনা বা কোনও সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছিলেন কিনা - তা কোনও বর্ণনাতেই সুস্পষ্টভাবে আসে নি।

এছাড়া সেই সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বর্তমানের মত উন্নত ছিলো না বলেই প্রতীয়মান হয়, কেননা রমাদ্বানের শেষাংশে কুরাইব রাজধানী মদীনাহতে ফিরে আসার আগে ইবন 'আব্বাস (রাঃ)-সহ মদীনাহবাসীগণ শামে চাঁদ দেখার বিষয়ে অবগত হতে পেরেছিলেন বলে জানা যায় নি!!

তবে এতটুকু নিশ্চিতভাবেই জানা যায় যে,

রাষ্ট্রপতি/খলীফাহ 'উছমান (রাঃ)-এঁর আগেই [অর্থাৎ,

রাজধানী/(দারুল খিলাফাহ) মদীনাহ শহরের আগেই] গভর্নর মু'আভিয়া (রাঃ) শামে চাঁদ দেখেছেন এবং স্বাওম শুরু করেছেন!

.

কাজেই যত দিক থেকেই প্রশ্ন করা হোক না-কেন কিংবা যেভাবেই ব্যাখ্যা করা হোক না-কেন, কুরাইবের হাদীছে থেকে পরিস্কারভাবে "একদেশে এক চাঁদ", কিংবা "এক-সরকারে এক চাঁদ" - এধরণের ধারণা/মতামত কিংবা 'আমল বাতিল বা নাকচ হয়ে যায়।

.

আল্লাহ সুমতি এবং সত্য জানার-বুঝার-মানার তৌফিক দিন - আমীন! cld.

ইবনে আব্বাস রঃ এর ইস্তিহাদ মুলক হাদিসের সময়কালে খলিফা কে ছিলেন?

"কুরাইবের হাদীছের সময়কালে 'উছমান (রাঃ) খলীফাহ ছিলেন" - এটার প্রমাণ কি?


হাদীছটির ভাষ্যতেই উল্লেখ আছে যে, কুরাইবকে শামে বা সিরিয়ায় পাঠিয়েছিলেন উম্ম ফাদ্বল বিনতুল হারিছ (রাঃ); আর তিনি 'উছমান (রাঃ)-এঁর খিলাফতকালে ইন্তিকাল করেছেন মর্মে ইবন 'হিব্বান (রহঃ) আছ-ছিক্বাত গ্রন্থে, ইবন মানজুয়াইহ / মানজুইয়্যাহ (রহঃ) রিজাল স্বহীহ মুসলিম গ্রন্থে, ইবন হাজার আসকালানী (রহঃ) আল-ইসাবাহ প্রভৃতি কিতাবে উল্লেখ করেছেন।

কাজেই ঘটনাটা অবশ্যই উম্ম ফাদ্বল (রাঃ)-এঁর জীবদ্দশা কালীন; কারণ মৃত্যুর পরে তো আর তিনি কুরাইবকে মদীনাহ থেকে শামে পাঠাতে পারতেন না!!

.

প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে ঘটনাটা আরও আগের, মানে 'উমার (রাঃ)-এঁর সময়ের কী-না?

এর উত্তর হচ্ছে,

ইবন 'আব্বাস (রাঃ) খলীফাহ 'উমার (রাঃ)-এঁর খিলাফতের শেষাংশে উঠতি 'আলীম হিসেবে প্রসিদ্ধি পেতে শুরু করেন; তিনি পুরোপুরি 'আলীম ও ফাক্বীহ হয়ে উঠেছিলেন 'উছমান (রাঃ)-এঁর খিলাফতকালে।

একারনে, কুরাইবের ঘটনাটি 'উমার (রাঃ)-এঁর সময়ের নহে, কেননা ইবন 'আব্বাস (রাঃ) তখনও পুরোপুরি মুজতাহিদ ফাক্বীহ ও 'আলীম হয়ে উঠেন নি।

.

সুতরাং, যারা মনে করে যে, কুরাইবের হাদীছটির সময়ে মু'আভিয়া (রাঃ) মুসলিম জাহানের খলীফাহ ছিলেন - তাদের ধারণাটি ভুল; আসলে মু'আভিয়া (রাঃ) ঐসময়ে শামের গভর্নর ছিলেন, আর খলীফাহ ছিলেন 'উছমান (রাঃ) এবং রাজধানী/(দারুল খিলাফাহ) ছিল মদীনাহতে! cld.

চন্দ্র দর্শনের হাদিসগুলোতে আসলে বালাদ শব্দ দ্বারা কোন অর্থটা বুঝানো হয়েছে দেশ নাকি শহর?

 بلد (বালাদ) অর্থ শহর, অঞ্চল এবং দেশও হয় তাহলে চন্দ্র দর্শনের ব্যাপারের হাদিসগুলোতে আসলে কোনটা বুঝানো হয়েছে? 


 بلد বালাদ শব্দের অনেক অর্থ হয়ঃ শহর, নগর, অঞ্চল, দেশ ইত্যাদি।

এর মধ্যে বাক্যের প্রয়োগ ভেদে কোথায় কোন অর্থে এসেছে তা বুঝে নিতে হয়।

.

যেহেতু কুরাইব ও ইবন 'আব্বাস (রাঃ)-এঁর হাদীছের সময়ে মদীনাহ ও সিরিয়া (শাম) একই সরকার/খলীফাহ উছমান (রাঃ)-এঁর শাসনাধীন একই দেশ/রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত (তবে আলাদা ২টি শহর) ছিলো, সেহেতু উক্ত হাদীছের প্রেক্ষিতে "বালাদ" শব্দের দেশ/রাষ্ট্র অর্থটি প্রযোজ্য হবেই না, বরং শহর অর্থে প্রয়োগ হবে।

.

ইবন 'আব্বাস (রাঃ)-এঁর হাদীছের প্রেক্ষিতে যদি "বালাদ" বলতে দেশ অর্থ নেওয়া হয়: তবে মদীনাহ ও শাম/সিরিয়া ততকালে একই দেশ/রাষ্ট্র-ভুক্ত ছিলো বিধায় উভয় স্থানেই একই চন্দ্র-দর্শন অনুযায়ী 'আমল হবার কথা ছিল; কিন্তু ইবন 'আব্বাস (রাঃ) তা করেন নি, ফলে প্রমাণ হয় যে, উক্ত কুরাইবের হাদীছের প্রেক্ষিতে "বালাদ" শব্দটি দেশ/রাষ্ট্র অর্থে ব্যবহৃত হয় নি।

.

অন্যদিকে, একই খলীফাহ/সরকার উছমান (রাঃ)-এঁর শাসনাধীন একই দেশ/রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়েও আলাদা আলাদা শহর হবার কারনে ইবন 'আব্বাস (রাঃ) শাম/সিরিয়ার চাঁদ দেখাকে মদীনায় গ্রহণ করেন নি, এর থেকে প্রমাণ হয় যে, কুরাইব ও ইবন 'আব্বাস (রাঃ)-এঁর হাদীছের প্রেক্ষিতে "বালাদ" শব্দটি শহর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

.

আশা করি এখন আরও ক্লিয়ার হয়েছে। cld. 

Tuesday, March 29, 2022

কুরাইবের হাদীছকে "মূল" মুহাদ্দিছীন যে অধ্যায়/অনুচ্ছেদে এনেছেন তার কিছু নমুনা

দেশভিত্তিক ঈদ পালনের একমাত্র দলিল অর্থাৎ কুরাইবের হাদীছকে "মূল" মুহাদ্দিছীন যে অধ্যায়/অনুচ্ছেদে এনেছেন তার কিছু নমুনা,

.

ইমাম আবূ দাউদ [রহঃ] হাদীছটিকে এই অনুচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত করেছেন,

سنن أبي داوود » كتاب الصيام » باب إذا رئي الهلال في بلد قبل الآخرين بليلة

"যখন কোনও শহরে অপরাপর (শহর)-এর আগের রাতে চাঁদ দেখা যায় (সে সম্পর্কিত) অনুচ্ছেদ।"

.

ইমাম তিরমিযী [রহঃ]-এঁর অনুচ্ছেদটির শিরোনাম,

جامع الترمذي » أبواب الصوم » باب ما جاء لكل أهل بلد رؤيتهم

"প্রত্যেক শহরের বাসিন্দাদের জন্য তাঁদের নিজস্ব (অর্থাৎ, নিজ নিজ) চন্দ্র-দর্শন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে (সেপ্রসঙ্গে) অনুচ্ছেদ।"

.

ইমাম ইবন খুঝাইমাহ [রহঃ]-এঁর অনুচ্ছেদ হলো,

صحيح ابن خزيمة » كتاب الصوم » جماع أبواب الأهلة ووقت ابتداء صوم شهر رمضان » باب الدليل على أن الواجب على أهل كل بلدة صيام رمضان لرؤيتهم لا رؤية غيرهم

"অন্যদের চন্দ্র-দর্শনের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রতিটি শহরের অধিবাসীদের জন্য তাঁদের নিজস্ব (অর্থাৎ, স্ব স্ব) চাঁদ দেখা অনুযায়ী রমাদ্বানের স্বিয়াম (পালন) ওয়াজীব হওয়ার দলীল বিষয়ক অনুচ্ছেদ।"

.

ইমাম আবূ নু'আইম আল-আস্ববাহানী [রহঃ] হাদীছটিকে যে অনুচ্ছেদে এনেছেন,

المسند المستخرج على صحيح مسلم لأبي نعيم الأصبهاني » كتاب الصيام » باب من قال لكل قوم رؤيتهم

"যে বলে, প্রত্যেক ক্বওম (সম্প্রদায় / গোষ্ঠী / জাতি-এর জন্য (তাঁদের) নিজস্ব (অর্থাৎ, নিজ নিজ) চন্দ্র-দর্শন – (এবিষয়ের) অনুচ্ছেদ।"

.

ইমাম বাইহাক্বী [রহঃ] (৩৮৪–৪৫৮ হি:)-এঁর অনুচ্ছেদের শিরোনাম হলো,

السنن الكبرى للبيهقي » كتاب الصيام » باب الهلال يرى في بلد، ولا يرى في آخر

"(স্ব স্ব) শহরের চাঁদ দেখার, এবং অন্য / ভিন্ন (শহর)-এর (চাঁদ) না-দেখার অনুচ্ছেদ।"

.

.

এছাড়া ইমাম মুসলিম (রহঃ) নিজে কোনও শিরোনামযুক্ত অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত না-করলেও পরবর্তীতে ইমাম নাওওয়াভী [রহঃ] কুরাইবের হাদীছটির জন্য স্বহীহ মুসলিম-এ অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন এই ভাষায়,

صحيح مسلم » كتاب الصيام » باب بيان أن لكل بلد رؤيتهم وأنهم إذا رأوا الهلال ببلد لا يثبت حكمه لما بعد عنهم

*[شرح صحيح مسلم للنووي]*

"প্রত্যেক শহরের অধিবাসীদের জন্য তাঁদের নিজস্ব (অর্থাৎ, স্ব স্ব) চন্দ্র-দর্শন আবশ্যক হওয়ার, এবং যদি তাঁরা নিজ শহরে চাঁদ দেখে থাকে তবে তাঁরা ব্যতীত অন্য শহরবাসীদের (চন্দ্র-দর্শনের) হুকুম তাঁদের উপরে প্রযুক্ত না-হওয়ার বিবরণ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ।"

.

.

-এই হলো ইবন 'আব্বাস (রাঃ) ও কুরাইবের হাদীছ বর্ণনায় মুহাদ্দিছীনের শিরোনাম – ইমাম আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবন খুজাইমাহ, ইমাম আবূ নু'আইম আল-আস্ববাহানী, ইমাম বাইহাক্বী, ইমাম নাওওয়াভী (রহঃ) প্রমুখগণের বুঝের প্রতিফলন।

.

قال أبو عيسى:

"حديث ابن عباس حديث حسن صحيح غريب؛ والعمل على هذا الحديث عند أهل العلم أن لكل أهل بلد رؤيتهم".

দ্বিতীয়োক্ত অনুচ্ছেদে ইবন 'আব্বাস (রাঃ) ও কুরাইবের হাদীছটি বর্ণনা করতঃ সেটাকে 'হাসান স্বহীহ গারীব বলে উল্লেখের পরে ইমাম তিরমিযী (রহঃ) আরও বলেছেন,

«والعمل على هذا الحديث عند أهل العلم أن لكل أهل بلد رؤيتهم»

“আহলুল 'ইলম-এঁর (তথা, 'আলীমগণের / জ্ঞানীদের) নিকটে (বা, মতে) এই হাদীছের উপর 'আমল হলো, প্রত্যেক শহরের অধিবাসীর জন্য নিশ্চয় তাঁদের চাঁদ দেখা (প্রযোজ্য)।"

.

.

এছাড়াও ইমাম আহ্‌মাদ, ইসমা'ঈল বিন জা'ফর, আবূ দাউদ (অন্যত্র), নাসাঈ, ত্বা'হাভী, দারাক্বুত্বনী, বাইহাক্বী (অন্যত্র), ইবনু আব্দিল বার, ইবন 'আসাকির, ইবনুজ জাওঝী, ক্বুরত্বুবী (রহঃ) প্রমুখ হাদীছটি সংকলন করেছেন, কিন্তু একে রাষ্ট্র-ভিত্তিক, বা দেশ-ভিত্তিক, কিংবা সরকার-ভিত্তিক চন্দ্র-দর্শনের সাথে সম্পর্কিত করেন নি।

.

বস্তুত একজন পূর্ববর্তী মুহাদ্দিছ থেকেও কুরাইবের হাদীছকে

"প্রত্যেক রাষ্ট্রবাসীর/দেশবাসীর (কিংবা) স্ব স্ব রাষ্ট্রের/দেশের চাঁদ (কিংবা সরকারী চাঁদ) দেখা"

–এরকম শিরোনামের অধীনে আনতে আমি দেখতে পাই নি - (ওয়াল্লাহু তা'আলা আ'লাম)!

Wednesday, January 19, 2022

কুরআন খতম পড়িয়ে টাকা দেয়া ও খাওয়ানো কি জায়েজ?

 #প্রশ্ন: কাশ্মীরে লোকজন অধিকাংশ সময় হুজুরদেরকে খতম পড়ার জন্য দাওয়াত করে আনে, খতম করার পর তাদেরকে খাওয়ায় এবং টাকা পয়সাও দেয়। এমন করা কি জায়েজ?

( #Note: এ বিষয়ে বিশ্বখ্যাত ইসলামি বিদ্যাপীঠ ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগে কাশ্মীরের একজন বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। যার প্রশ্নের উত্তরে এ বিষয়ে শরীয়তের আলোকে নিজেদের মতামত জানান দেওবন্দের মুফতিরা। )
.
#উত্তর: প্রচলিত খতমে কুরআন পাঠকারীদের খাবার খাওয়ানো এবং টাকা পয়সা দেওয়া বিদআত ও নাজায়েজ। এভাবে কুরআন তেলাওয়াত করার দ্বারা না পাঠকারী কোনো সওয়াব পায় আর না মৃতব্যক্তিরা।
ফাতাওয়া শামীতে রয়েছে- অর্থ: তাজুশ শরিয়াহ হেদায়াতে লিখেন, বিনিময় নিয়ে কুরআন পড়ার দ্বারা কোনো সওয়াবই হয় না। না মৃতব্যক্তি সওয়াব পায়, আর না তেলাওয়াতকারী।
আল্লামা আইনী হেদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থে লেখেন, দুনিয়া তলব করার কারণে তেলাওয়াতকারীকে এমন তেলাওয়াত থেকে বারণ করা হবে। এভাবে তেলাওয়াত করার বিনিময় দেওয়া হলে গ্রহীতা ও দাতা উভয়ে গুনাহগার হবে।
মোটকথা, আমাদের সময়ে বিনিময় গ্রহণ করে কুরআন তেলাওয়ার করার যে রেওয়াজ চালু হয়েছে তা জায়েজ নয়। কারণ, এর মধ্যে খতমের আয়োজনকারী বা তার আত্মীয়ের জন্য সওয়াব পাঠানো উদ্দেশ্য হয় এবং তেলাওয়াতকারী তেলাওয়াত করে টাকার জন্য।
টাকার জন্য তেলাওয়াত করায় তেলাওয়াতকারী নিজে কোনো সওয়াব না পেলে ভাড়া গ্রহণকারীকে সওয়াব দিবে কোত্থেকে?
বর্তমান সময়ে কুরআন তেলাওয়াত করার বিনিময় না দিলে সাধারণত কেউ তেলাওয়াত করবে না। কুরআনকে তারা উপার্জন এবং দুনিয়া কামানোর মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। ইন্নালিল্লাহ। (ফাতাওয়া শামী ৬/৫৬)
.
দারুল উলুম দেওবন্দ, ফতোয়া নং: ১৮৩৬০১
No photo description available.
Like
Comment
Share

Saturday, January 15, 2022

বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ’র সকল ইবাদত একই দিনে(১ম-৮ম পর্যন্ত)

 

বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ’র সকল ইবাদত একই দিনে(১ম-৮ম পর্যন্ত)

বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ’র সকল ইবাদত একই দিনে(১ম)


সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলার জন্য, যিনি পরিপূর্ণ দ্বীন হিসাবে আমাদেরকে ইসলাম দান করেছেন, যে দ্বীনে মানুষের পক্ষ থেকে কোন সংযোজন বা বিয়োজনের প্রয়োজন হয় না ৷ সালাত ও সালাম তাঁরই রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ৷ তার সাহাবায়ে কিরামের প্রতি আল্লাহর রাহমাত বর্ষিত হোক ৷


পবিত্র কুরআনের সূরা তাওবার ৩৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে- “নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাস ১২টি, আসমানগুলো ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে ।


সূরা ইউনুসের ৫ম আয়াতে বলা হয়েছে- “তিনি (আল্লাহ), যিনি সূর্যকে দীপ্তিমান এবং চন্দ্রকে আলোকময় বানিয়েছেন এবং ওর (গতির) জন্য মঞ্জিলসমূহ নির্ধারণ করেছেন যাতে তোমরা বছরসমূহের সংখ্যা হিসাব জানতে পার


পৃথিবীতে দিন বলতে (রাত্র+দিবা অথবা রাত্র+রাত্র) সময় ২৪ ঘন্টাকে বুঝানো হয় ।


কোন জনগোষ্ঠীর দিন শুরু হয় রাত্র ১২ টা হতে পরবর্তী রাত্র ১২ টা পর্যন্ত । তাদের মাস ফেব্রুয়ারী ব্যতিত সকল মাস ৩০ বা ৩১ দিনে ।


বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মার দিন শুরু হয় সূর্যাস্ত হতে পরবর্তী সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত । মাস ২৯ বা ৩০ দিনে, বছরের দিন নির্দিষ্ট নয় (কারন চাঁদের উদয়ের উপর নির্ভরশীল)


সূর্য পূর্ব দিকে উদিত হয় । তাই পৃথিবীর পূর্ব হতে ক্রমান্বয়ে পশ্চিম দিকে সূর্যদ্বয় এবং সূর্যাস্তের সময়ের পার্থক্য দেখা যায় সর্বোচ্চ প্রায় ১২ ঘন্টা ।


অতএব মুসলিমদের জন্য কোন দেশে রাত্র (দিন শুরু) আবার কোন দেশে দিবা (দিনের অর্ধাংশ) অর্থাৎ একই দিন ।


পাঁচ ওয়াক্ত নামায


নামাজের সময় পৃথিবী-সূর্যের আবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সময়ের পার্থক্যের সাথে সম্পৃক্ত । আল্লাহ তায়ালা বলেন:


আপনার পালন কর্তার সপ্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করুন সূর্যদ্বয়ের পূর্বে (ফজর) সূর্যাস্তের পূর্বে (মাগরীব) এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করুন রাত্রির কিছু অংশ (এশা/তাহাজ্জুদ) ও দিবা ভাগে (যোহর/আছর) (ত্বোয়া হাঃ আয়াত ১৩০)


অতএব তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা স্বরণ কর সন্ধ্যায় (মাগরীব) ও সকালে (এশরাক) এবং অপরাহ্নে (আছর) ও মধ্যাহ্নে (যোহর) (আর রুমঃ আয়াত ১৭, ১৮)


আর দিনের দুই প্রান্তেই নামায ঠিক রাখবে এবং রাতে (এশা) ও প্রান্ত ভাগে (ফজর) (হুদঃ আয়াত ১১৪)


সূর্য্য ঢলে পরার সময় থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত (যোহর, আছর, মাগরীব) নামায কায়েম করুন (বণী ইসরাঈলঃ আয়াত ৭৮)


ফজরঃ-রাসুল (সঃ) ফজরের নামায এমন গালছে পড়তেন যে, নামায শেষে মুসল্লিরা একে অপরকে চিনতে পারতেন না (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত ৬০ পৃঃ)


যোহরঃ-সূর্য্য মাথার উপর হেলে যাওয়ার পর হতে কোন কাঠি বা মানুষের ছায়া তার সমান দীর্ঘ না হওয়া পর্যন্ত (মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ, মেশকাত হাঃ নং ৫৮১)


আছরঃ-বস্তুর মুল ছায়া একগুন হওয়ার পর থেকে হলুদ রং হওয়া পর্যন্ত বাকি থাকে (মুসলিম, মেশকাত, হাঃ নং ৫৩৪)


মাগরীবঃ-সূর্যাস্তের পর থেকে পশ্চিম আকাশে লাল আভা দূর না হওয়া পর্যন্ত থাকে (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত ৫০ পৃঃ)


এশাঃ-মাগরীবের পর হতে অর্ধ রাত্র পর্যন্ত (মুসলিম, মেশকাত ৫৯ পৃঃ)


জুমআঃ-সাহাবী সাহল বিন সাআদ (রাযিঃ) বলেন, আমরা জুমুআর নামাজের আগে দুপুরের বিশ্রামও করতাম না এবং দুপুরের খাবারও খেতাম না বরং পরে করতাম (বুখারী মুসলিম, মেশকাত আলবানী ১/৪৪১ পৃঃ)


উপরের আল্লাহর বাণী এবং হাদিসের আলোকে দেখা যায় আমরা বিশ্বের সকল মুসলিমরা একই দিনে সূর্যের সাথে সম্পর্ক করে (শরিয়া অনুযায়ী) ভিন্ন ভিন্ন সময়ে নামায আদায় করি ।


খুব গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন একই দিনেই, যার যার দেশের সূর্যের সাথে সম্পর্ক করে, আবারও বলছি একই দিনেই ভিন্ন ভিন্ন সময়ে, ফজর, যোহর, আছর, মাগরীব, এশা এমনকি জুমআ সালাতের আওয়াল ওয়াক্ত শুরু হয় ।


সলাতের সঠিক সময় জানার জন্য নীচের লিঙ্ক ক্লিক করে


কম্পিউটার/মোবাইল সফটওয়ার ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিন


http://www.islamicfinder.org/download/index.php


বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ’র সকল ইবাদত একই দিনে (২য়)


চাঁদের উদয়ের উপর নির্ভরশীল ইবাদত


রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন,...... । কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে । আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে, সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে ।...... - আল বাকারা আয়াত ১৮৫


পৃথিবীর সকল জীবিত লোকই এ মাস পাবে । তথাপী উক্ত আয়াতে “যে লোক এ মাসটি পাবে” কেন বলা হল ?


আয়াতে অসুস্থ, মুসাফির ব্যক্তির কথাও আছে । অর্থাৎ দেশের সকলে রমযানের চাঁদ দেখে মাস পেয়ে রোজা রাখলেও অসুস্থ, মুসাফির অন্য মাসে সুস্থ, মুক্বীম অবস্থায় রোজা রাখতে পারবে ।


অর্থাৎ সামগ্রীকভাবে বলা যারা এ মাসে রোজা রাখতে পারবে তারা এ মাস পেল আর যারা রোজা রাখতে পারল না (অসুস্থ, মসাফির) তারা এ মাস পেল না ।


ইসলামে মাসের শুরুর তারিখ নির্ধারিত হয় নতুন চাঁদের উদয়ের উপর নির্ভর করে ।


আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-


তোমার নিকট তারা জিজ্ঞেস করে নতুন চাঁদের বিষয়ে । বলে দাও যে এটি মানুষের জন্য (মাসের) সময় (তারিখ) নির্ধারণ এবং হজ্বের সময় (তারিখ) ঠিক করার মাধ্যম (সূরাহ আল বাকারাহ- ১৮৯)


চাঁদ দেখা


*রসূল সা: বলেন, তোমরা রোজা রাখবে না, যে পর্যন্ত না চাঁদ দেখতে পাও । একইভাবে তোমরা রোজা ভঙ্গ (ঈদ) করবে না, যে পর্যন্ত না শাওয়ালের চাঁদ দেখতে পাও । তবে যদি মেঘের কারনে তা তোমাদের কাছে গোপন থাকে, তবে শাবান মাস পূর্ণ করবে ত্রিশ দিনে (সূত্র: সহীহ বুখারী-৩য় খন্ড, ১৭৮৫-১৭৯০, সহীহ মুসলিম-৩য় খন্ড, ২৩৬৭-২৩৯৪)


মুহাম্মদ (সাঃ) আরো বলেছেন, “ঐ রোযা আরম্ভ হবে যেদিন সকলে রোযা রাখবে, রোযা ভাঙ্গতে হবে ঐ দিন যেদিন সবাই রোযা ভাঙ্গে আর কুরবানী করতে হবে ঐ দিন যে দিন সকলে কুরবানী করে” (তিরমিযী, হাদিস নং ৬৯৭)


উপরের হাদিসে কি বুঝা যায়ঃ-


১) শা’বানের (যে কোন মাসের) ২৯ তারিখের দিবাগত রাত্রে চাঁদ দেখা না গেলে মাস ৩০ দিনে শেষ হবে এবং ৩০ তারিখের দিবাগত রাত্র থেকে (পরবর্তী মাস) রমযান মাসের শুরু হবে (চাঁদ না দেখা গেলেও)


২) “তোমরা, না চাঁদ দেখতে পাও” কথা দ্বারা বুঝা যায় পৃথিবীর সকল মানুষ যারা স্বচক্ষে চাঁদ না দেখবে, রোজা রাখবে না, ঈদ করবে না; যারা দেখবে রোজা রাখবে, ঈদ করবে (এমন নয়) ।


রাসুল (সাঃ) এর সমাধান করে গেছেন নিম্নের হাদিস দ্বারা


এক জন মুসলমানের স্বাক্ষীর উপর রোযা শুরু করা যেতে পারে ।


হযরত ইবনে উমর (রাজিঃ) বলেন, লোকেরা চাঁদ দেখেছে আমি নবী করীম (সাঃ) কে বললাম, আমিও চাঁদ দেখেছি, তখন নবী (সাঃ) নিজেও রোযা রাখলেন এবং লোকজনকেও রোযা রাখার আদেশ দিলেন-সহিহু সুনানি আবিদাউদ ২/৫৫ হাদিস নং ২৩৪২; আবু দাউদ ৩য় খন্ড/২৩৩৫, দারেমী


*এটাও দেখুন আবু দাউদ ৩য় খন্ড/২৩৩৩, ২৩৩৪, তিরমিযী,নাসাঈ, ইবনে মাজাহ,দারেমী)


দুই জন মুসলমানের স্বাক্ষীর উপর রোজা শেষ করা যেতে পারে ।


* “রসূল সা: আমাদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন যে, আমরা যেন শাওয়ালের চাঁদ দেখাকে ইবাদত হিসেবে গুরুত্ব দেই । আর আমরা স্বচক্ষে যদি তা না দেখি তবে দুজন ন্যায় পরায়ন লোক এ ব্যাপারে স্বাক্ষ্য প্রদান করলে তখন আমরা যেন তাদের সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করি (সূত্র: আবু দাউদ-৩য় খন্ড/২৩৩১, ২৩৩২)


*আরোও দেখুন আবু দাউদ ৩য় খন্ড/২৩৩৩, ২৩৩৪)


সুতরাং অধিকাংশ আলেম বলেন যে রোযা রাখার জন্য একজন দর্শক হলেই চলবে তবে রোযা ভঙ্গ করার জন্য দুইজন দর্শক প্রয়োজন ।


বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ’র সকল ইবাদত একই দিনে(৩ম)


চাঁদ দেখার স্বাক্ষী নিজ দেশের লোক, পার্শ্ববতী দেশের লোক, পৃথিবীর যে কোন দেশের লোক, কোথাকার হবে অর্থাৎ “তোমরা” “সবাই” “সকলে” বলতে কাদের বুঝিয়েছেন ?


১) আলোচিত বিষয়ে ফিকহ গ্রন্থ ফাতওয়া-ই-শামী-এর সিদ্ধান্ত হচ্ছে-


প্রথম দিনের দেখার দ্বারাই সমগ্র পৃথিবীতে এক কেন্দ্রিক তারিখ গণনা করে, একই দিনে একই তারিখে আমল করতে হবে । এটাই আমাদের হানাফী মাযহাবের সিদ্ধান্ত । মালেকী এবং হাম্বলী মাযহাবের মতও এটা । তাদের দলীল হচ্ছে আয়াত ও হাদীসে চাঁদ দেখার সম্বোধন সকলের জন্য আম বা সার্বজনীন যা নামাজের ওয়াক্তের সম্বোধন থেকে আলাদা-(ফাতওয়া-ই-শামী, খন্ড-২, পৃঃ-১০৫)


(২) ফাতওয়া-ই-আলমগীরির সিদ্ধান্ত হলো- অর্থাৎ ফিকহের প্রতিষ্ঠিত বর্ণনানুযায়ী চাঁদ ঊদয়ের বিভিন্নতা গ্রহণীয় নয় । ফতুয়াই কাযী খানের ফাতওয়াও অনুরুপ । ফকীহ আবু লাইছও এমনটাই বলেছেন । শামছুল আইম্মা হোলওয়ানী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, যদি পাশ্চাত্যবাসী রমযানের চাঁদ দেখে তবে সে দেখার দ্বারা প্রাচ্য বাসীর জন্য রোযা ওয়াজিব হবে । এমনটাই আছে খোলাছা নামক কিতাবে-(ফাতওয়া-ই- আলমগিরী, খন্ড-১, পৃঃ-১৯৮)


(৩) চার মাযহাবের সমন্বিত ফিকহ গ্রন্থ আল ফিকহ আলা মাযাহিবিল আরবায়া নামক গ্রন্থের ভাষ্য হচ্ছে-অর্থাৎ পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলে সকল স্থানেই উক্ত দেখার দ্বারা রোযা ফরয হবে । চাই চাঁদ নিকটবর্তী দেশে দেখা যাক বা দূরবর্তী দেশে দেখা যাক এতে কোন পার্থক্য নেই । তবে চাঁদ দেখার সংবাদ গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে অন্যদের নিকট পৌছতে হবে । তিন ইমাম তথা ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ), ইমাম মালেক (রাহঃ) এবং ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল (রাহঃ)-এর মতে চাঁদের উদয়স্থলের ভিন্নতা গ্রহণীয় নয় । অর্থাৎ প্রথম দিনের দেখার দ্বারাই সর্বত্র আমল ফরয হয়ে যাবে(আল ফিকহ আলা মাযাহিবিল আরবায়া, খন্ড-১, পৃঃ-৪৪৩)


(৪) ফিকহ গ্রন্থ আল ফিকহুস্‌ সুন্নাহ এর সিদ্ধান্ত হচ্ছে-অর্থাৎ জমহুর ফুকাহা গনের সিদ্ধান্ত অতএব যখনই কোন দেশে চাঁদ দেখা প্রমাণিত হবে তখনই অন্য সকল দেশে রোযা ফরয হয়ে যাবে । কেননা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এরশাদ করেছেন “চাঁদ দেখার প্রমাণ সাপেক্ষে তোমরা রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখার প্রমাণ সাপেক্ষে তোমরা রোযা ছাড়, ঈদ কর”। এখানে তোমরা বলে সম্বোধন দেশ মহাদেশ নির্বিশেষে সকল উম্মতের জন্য عام ব্যাপক অর্থবোধক । অতএব উম্মতের মধ্য থেকে যে কেউ যে কোন স্থান থেকে চাঁদ দেখুক উক্ত দেখাই সকল উম্মতের জন্য দলীল হবে । এ মত পোষণ করেছেন হযরত ইকরামা, কাসেম ইবনে মুহাম্মাদ, সালেম এবং ইসহাক রহমাতুল্লাহি আলাইহিম । হানাফী ফকীহগণের এটাই বিশুদ্ধমত- (আল-ফিকহুস্‌ সুন্নাহ, খন্ড-১, পৃঃ-৩০৭)


(৫) ফিকহ্‌ গ্রন্থ “মুগনী”-এর সিদ্ধান্ত হচ্ছে-অর্থাৎ কোন এক দেশের মানুষ চাঁদ দেখলে সকল দেশের মানুষের জন্যে রোযা রাখা জরুরী হবে (আল-মুগনী, খন্ড-৪, পৃঃ-১২২)


(৬) গ্রন্থ “তাবয়ীনুল হাকায়েক”-এর ভাষ্য হচ্ছে- যদি এক দেশের অধিবাসীরা নুতন চাঁদ দেখেন এবং অন্য দেশের অধিবাসীরা না দেখেন তবে প্রথম দেশবাসীর দেখা দ্বারাই অন্য দেশবাসীদের জন্য রোযা রাখা ফরয হবে । অধিকাংশ মাশাইখ-ই এমত পোষণ করেছেন । এমনকি এক দেশের মানুষ ৩০টি রোযা রাখল, অন্য দেশের মানুষ রোযা রাখল ২৯টি, তাহলে অন্যদেরকে একটি রোযা কাযা করতে হবে (তাবয়ীনুল হাকায়েক, খন্ড-২, পৃঃ-১৬৪/১৬৫)


***অতএব চাঁদের উদয়স্থলের ভিন্নতা গ্রহণীয় নয় । প্রথম দিনের দেখার দ্বারাই সমগ্র পৃথিবীতে এক কেন্দ্রিক তারিখ গণনা করে, একই দিনে একই তারিখে আমল করতে হবে । এমনিভাবে বিভিন্ন জন তাদের ভাষায় বলেছেন, দলিল দেওয়া হল কিতাবগুলো খুলে দেখুন-


(ফতহুল কাদির, খন্ড-২, পৃঃ-৩১৮) (বাহরুর রায়েক, খন্ড-২, পৃঃ-৪৭১) (কাযীখান, খন্ড-১, পৃঃ-৯৫) (হাশিয়া-ই-তাহতাবী শরীফ, পৃঃ-৩৫৯) (মায়ারিফুস্‌ সুনান, খন্ড-৫, পৃঃ-৩৩৭) (ফাতওয়ায়ে ইবনু তাইমিয়্যা, খন্ড-২৫, পৃঃ-১০৭) (ফাতওয়া-ই-দারুল উলুম দেওবন্দ, খন্ড-৬, পৃঃ-৩৯৮) (মায়ারিফুল মাদানিয়্যাহ, খন্ড-৩, পৃঃ-২৩) (মিফতাহুন্‌ নাজ্‌জাহ, খন্ড-১, পৃঃ-৪৩২) (তানযীমুল আশ্‌তাত, খন্ড-১, পৃঃ-৪১) (ফাতওয়া-ই-রশিদিয়া, পৃঃ-৪৩৭) (বেহেশসি- জেওর, খন্ড-১১, পৃঃ-৫১০) (ফাতওয়া-ই-রাজাবিয়্যাহ্‌, খন্ড-৪,পৃঃ-৫৬৭) (তরিকুল ইসলাম, খন্ড-২, পৃঃ-১৮৮) বাজ্জাজিয়া, খন্ড ৪, পৃঃ ৯৫; তাতারখানিয়া, খন্ড ১ পৃঃ ৩৬৯; নুরুল ইযাহ, পৃঃ ১২৭; আল কাফী, খন্ড ১ পৃঃ ৪৬৮; বজলুল মাযহুদ ফি হল্লি আবি দাউদ, খন্ড ১১ পৃঃ ১০৭; শাইখ তুসী তাহযীব খন্ড ৪ পৃঃ ১৫৫; মিলাযুল আখবার, আল্লামা মাজলেসী খন্ড ১ পৃঃ ৬২০; তাহযীবুল আহকাম, ফয়েজ কাশানী খন্ড ৪ পৃঃ ১৫৭; ছালছাবিল আনওয়ারুল মাহমুদ খন্ড ২ পৃঃ ৭১; আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আব্দুল আ’লা সাবযাওয়ারী মুসতানাদ খন্ড ২ পৃঃ ১৩৩; আয়াতুল্লাহ খুয়ী মুসতানাদুল উরওয়া খন্ড ২ পৃঃ ১২২; ফতোয়া-ই-আযীযিয়া খন্ড ৩ পৃঃ ৪৯ (দারুল উলুম দেওবন্দ); তাফসীরে মাজেদা পৃঃ ১০৭; মারাকীহুল ফালাহ পৃঃ ২০৭; মজমুআ ফতোয়া খন্ড ১ পৃঃ ৩৮১; জরুরী মাসায়েল, মাওলানা রুহুল আমীন বর্ধমানী খন্ড ১ পৃঃ ১৪; জামেউর রমুয পৃঃ ১৫৬; নাহরুল ফায়েক মজমুআয়ে ফতোয়া খন্ড ১ পৃঃ ৩৬৯; তাহতাবী পৃঃ ৫৪০; কিতাবুল মাবছুত, আল্লামা ছারাখছী খন্ড ৩ পৃঃ ১৩৯।


***পৃথিবীর একেবারে পশ্চিম প্রান্তে চাঁদ দেখা গেছে, এই সংবাদ যদি নির্ভরযোগ্য সূত্রে পূর্ব প্রান্তের অধিবাসীদের নিকট পৌঁছে, তবে তাদের উপর এই দিনে রমযানের রোযা ফরয হবে (সূত্র: দুররুল মুখতার, ২য় জিলদ, পৃষ্ঠ-১০৮; আলগিরী, ১ম জিলদ, পৃঃ-১৯৮; বাহরুর রায়েক, ২য় জিলদ, পৃঃ-২০৭; মাজমাউল আনহুর, ১ম জিলদ, পৃঃ- ২৩৯)


বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ’র সকল ইবাদত একই দিনে(৪র্থ)


ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর বক্তব্য ও এটাই এবং তিনিই সঠিক ।


পৃথিবী একটা, চাঁদ একটা, কোরআন একটা, সমস্ত মুসলিম একজাতি,


সবাই এক নবীর উম্মাত, তাহলে ঈদ কেন তিন দিনে করব ?


সন্দেহ নিরসনের জন্য বলতে হয় হানাফী মাজহাবসহ তিনটি মাজহাবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো: সর্বপ্রথম হেলালকেই সারা বিশ্বের সকলের অনুসরণ করতে হবে ।


ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর অভিমতঃ-


১. যে কোন একটি দেশে নতুন চাঁদের উদয় প্রমানিত হলে বিশ্বের সকল মানুষের উপর তার অনুসরন জরুরী হয়ে পড়ে [উৎস: আল মুখতার ১ম খন্ড ১২৯ পৃঃ / ফতহুল কাদীর (শেরহে ফাতহুল কাদীয়সহ) ১ম খন্ডঃ পৃ ২৪৩/মারাকীন ফালাহ পৃঃ ৫৪০-৫৪১/ আল-বাহরুর রায়েক ২য় খন্ড পৃঃ ২৯০]


২. আর উদয়ের স্থান ও সময়ের বিভিন্নতার কোন গুরুত্ব নেই । (উৎসঃ কাদী খান ১ম খন্ডঃ পৃঃ ১৯৮/ মাজমাউল আনহুর ১ম খন্ড পৃঃ২৩৯ / আল মুখতার ১ম খন্ড পৃঃ ১২৯ আল-ফাতওয়া আল হিন্দিয়াহ ১ম খন্ড, পৃঃ১৯৮/ আল বাহরুর রায়েক ২য় খন্ড পৃঃ ২৯০/ ফাতহুল কাদীর ২য় খন্ড পৃঃ ২৪৩/রদ্দুল মুহতার (শামী) ২য় খন্ড পৃঃ ৩৯৩)


৩. যদি পৃথিবীর পশ্চিমাংশের বাসিন্দারা রমজান মাসের নতুন চাঁদ দেখেন তাহলে তাদের এ দেখাতেই পূর্বাংশের লোকদের উপর (রোজা ও ঈদ) ওয়াজিব হয়ে যাবে (উৎসঃ আল-বাহুরুর রায়েক ২য় খন্ড পৃঃ ২৯০ / মাজমাউল আনহুর ১ম খন্ড ২৩৯ পৃঃ আল হিন্দিয়াহ (ফাতোয়ায়ে আলমগীরী) ২য় খন্ড ১৯৮-১৯৯ পৃঃ। ফাতহুল কাদীর ২য় খন্ড ২৪৩ পৃঃ। বাজাজিয়াহ ৪/৯৫)


ইমাম মালিক (রহঃ) এর অভিমতঃ-


১. যখন বসরা শহরবাসী রমজানের নতুন চাঁদ দেখবে, অতঃপর তা কুফা, মদীনাও ইয়েমেনবাসীদের কাছে পৌছবে তাহলে ইমাম মালিক (রহঃ) থেকে তাঁর শিষ্যদ্বয় ইবনুল কাসিম ও ইবনে ওয়াহাবের বর্ণনামতে শেষোক্ত দেশবাসীর প্রতিও ওয়াজিব হয়ে যাবে । অথবা যদি বাদ পড়ে তবে সে রোযা কাযা করতে হবে (উৎস আল-মুনতাকা-শরাহল মুয়াত্তা ২য় খন্ড পৃঃ ৩৭)


আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) এর অভিমতঃ-


১. কোন একটি দেশের লোকেরা নয়া চাঁদ দেখবে সকল দেশের লোকদের উপর রোযা ফরজ হয়ে পড়ে (উৎসঃ মুঘনী পৃঃ ৭৯/ আররদুন নাদী শরহ কাফীল মরতাদী পৃঃ ১৬১/ জাদুল মুসতাকনে পৃঃ ৭৮ /আস-সালসাবীল ১ম খন্ড পৃঃ২০২ / উমদাতুল ফিকহ- পৃঃ৪৯)


সুতরাং একমাত্র ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) ছাড়া বাকী সব ইমাম ঐক্যমত পোষন করেছেন । কিন্তু পরবর্তীতে শাফেরী মাযহাবের মুজতাহিদরা (গবেষক) এ নিয়ে গবেষণা করে বিভিন্ন ধরনের মত পোষন করেছেন ।


আল্লাহ তায়ালা বলেন-


“আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না (আল-কুরআন ৩: ১০৩)


ফিকাহ শাস্ত্রের উপরোক্ত বর্ণনা যাহেরে রেওয়ায়াতের ফতোয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে ।


কেন তারা বাস্তবায়ন করেননি বা করতে পারেননি তার কোন ব্যাখা পাওয়া যায় না এবং বর্তমান তাদের অনুসারীরাও সঠীকভাবে জানাতে পারছেনা ।


অনেকে ধারনা করে বলে মতভেদ ছিল অর্থাৎ এর বিপরীত মতের দলিলও ছিল অথবা সমগ্র বিশ্বের সাথে দ্রুত যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল না, চাঁদ দেখার সংবাদ পৌছানোর জন্য ইত্যাদি । তৎকালীন সময়ে মানুষের বাহন ছিল ঘোড়া, গাধা, উট, পদযুগল ইত্যাদি ।


আল্লাহর রাসুল (সঃ) তাঁর যুগে দূরবর্তী স্থানের লোকদের চাঁদ দেখার সংবাদ পাঠানোর জন্য ‘ঘোড়সওয়ার’ এর ব্যবস্থা করেছিলেন ।


তার পরবর্তী ইসলামি রাস্ট্রের খলিফাগণ চাঁদ দেখে বা স্বাক্ষী পেয়ে যেটি করত, তা হল মুসলমানরা বিভিন্ন পাহাড়ের উপরে মশাল বা আগুন জ্বালানোর ব্যবস্থা করতো ।


কোন খিলাফাহ এর সময়, ঘোড়া ছুটিয়ে কিংবা সমুদ্রবক্ষে জাহাজের নিরাপদে দিক চিনে চলাচলের সুবিধার্তে যে সকল লাইট হাউস বা বাতিঘর ছিল, আকাশে চাঁদ দেখা গেলে সেগুলিতে আলো জ্বালিয়ে দেওয়া হত ।


উপরোক্ত প্রক্রিয়ায় যে সকল এলাকার মানুষ চাঁদ দেখার ব্যাপারটি বুঝতে পারত, সে সকল এলাকার মানুষেরা রোজা, ঈদ একসাথে পালন করত ।


এখান আমরা একটু লক্ষ্য করলে বুঝতে পারব যে, আকাশে চাঁদ দেখা গেছে, এ সংবাদটি পায়ে হেটে অন্যদেরকে জানানো, ঘোড়ায় চড়ে জানানো, লাইট হাউসের মাধ্যমে জানানোর মধ্যে বিষয়ভিত্তিক কোনো পার্থক্য নেই বরং প্রযুক্তিগত পার্থক্য রয়েছে, যা প্রথম যুগ থেকেই গ্রহন করা হয়েছে । বেশী সংখ্যক মানুষকে দ্রুততার সাথে জানানোর জন্যে এ মাধ্যমগুলি প্রযুক্তি বিশেষ, যা সময়ের প্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হয়েছে । এখানে উক্ত প্রযুক্তির একটিই উদ্দেশ্য ছিল, তা হলো-দ্রুততার সাথে অন্যদেরকে চাঁদ দেখার সংবাদটি জানানো ।


বর্তমান কালে স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ইন্টারনেটের কল্যানে চাঁদকে পৃথিবীর সকল এলাকাবাসীর সামনে সরাসরি উপস্থাপন করা যায় ।


আধুনিক প্রচার মাধ্যম (টিভি, রেডিও, ইন্টারনেট, মোবাইল…) কে আমরা যাতে কাজে লাগাতে পারি তা বহু আগেই আল্লাহপাক নির্ধারণ করে দিয়েছেন ।


আল্লাহপাক বলেন, ‘আমি বাতাসকে দিয়েছি তোমাদের সুসংবাদ বহনের জন্য’ (সূরা আল ফোরআন-৪৮, নমল-৬৩, রুম-৪৭)


আজকের এই প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সময়ে যদি কেউ এক এলাকাতে চাঁদ দেখতে পায় এবং তা অন্য এলাকার লোকদেরকে টেলিফোনে, ইন্টারনেটে, টেলিভিশনে, রেডিওর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়, তাহলে তা পূর্ববর্তী সময়ের পায়ে হাটা, ঘোড়ায় চড়া, লাইট হাউসের মাধ্যমে ঘটিত প্রচারণার সমপর্যায়েরই হবে । কারণ, এখানে উদ্দেশ্য একই ।


বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ’র সকল ইবাদত একই দিনে (৫ম)


ভিন্ন ভিন্ন মতবাদের ভিত্তিতে মাস শুরুর করায় মুসলিম বিশ্বে বিচ্ছিন্নতা এবং ধর্মীয় উৎসবগুলো সার্বজনীনতা ও ধর্মীয় তাৎপর্য হারাচ্ছে ।


* রাসুল (সাঃ) এর মক্কা থেকে মদিনায় হিযরতের দিন ১ হিজরী সাল ধরে ১ তারিখ নির্ধারণ করে ১২ মাসে বছর এভাবে হিজরী সাল গণনা হয় । বিভিন্ন মানদ্বন্দে চাঁদ দেখা জন্য হিজরী তারিখ একই দিনে বিশ্বে ভিন্ন হয়ে গড়মিল হয়েছে ।


* কুরআন নাযিল হয়েছে লাইতুল ক্বদরে (বাকারা-১৮৫; ক্বদর-১) ।


কোন দেশের কদরের তারিখে কুরআন নাযিল হয়েছে নাকি যার যার দেশ অনুযায়ী নাযিল হয়েছে ?


হযরত আয়েশা (রাজিঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, রমযানের শেষ দশ তারিখের বেজড় রাতসমুহে লাইলাতুল কদরকে তালাশ কর-সহিহ আল বুখারী ২/২৮৪ হাদিস নং ১৮৭৪


বিশ্বে ক্বদরের তারিখ একই দিনে বিভিন্ন হলে কোনটা সঠিক হবে ?


* ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম-হযরত আবু উবাইদা (রাজিঃ) বলেন, আমি হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাজিঃ) এর সাথে ঈদের নামাজ আদায় করেছি । তিনি বলছেন, এ দুই দিনের রোযা রাখা থেকে নবী (সাঃ) নিষেধ করেছেন । প্রথম দিন হলো, যখন তোমরা রোযা শেষ কর, আর দ্বিতীয় দিন হলো, যখন তোমরা কোরবানীর গোস্ত খাবে-সহিহ আল বুখারী ২/২৭২ হাদিস নং ১৮৫১


*আরো দেখুন সূত্র: সহীহ সহীহ বুখারী ৩য় খন্ড/১৮৬৭, ১৮৬৮ ও সহীহ মুসলিম ৩য় খন্ড/২৫৩৭-২৫৪২)


একই দিনে এক দেশে ঈদ হলে, অন্য দেশে রোযা রাখে !!! কে হারাম করে ?


* আরাফা (জিলহজ্ব মাসের নয় তারিখ) ও আশুরার (দশই মুহাররাম) তারিখের ফযিলত- হযরত আবু কাতাদাহ (রাজিঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, আরাফার রোযা আগের পরের দু’বৎসরের গুনাহ মাফ করে দেয় এবং আশুরার রোযা বিগত এক বৎসরের গুনাহ সমুহ ক্ষমা করে দেয়-আহমাদ, আবুদাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মুসলিম শরীফ ৪/১২৬ হাদিস নং ২৬১৪


একই দিনে আশুরা ও আরাফার তারিখ ভিন্ন হলে কোন দেশের আরাফ ও আশুরার তারিখ সঠিক ?


* জিলহজ্বের ১০ তারিখে (সউদীর চাঁদের উপর নির্ভর করে) হাজিগণ কুরবানী করেন । হাদীস অনুযায়ী কিয়ামত হবে ১০ই মুহাররমের শুক্রবার ।


পৃথিবীতে কিয়ামত একই দিনে হবে, না যার যার দেশের তারিখ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন দিনে হবে হবে?


উপরের বিষয়গুলোর যার যার নিজ দেশের চাঁদ উদয়ের উপর নির্ভর করে উক্ত তারিখ গণনা করলে সমগ্র বিশ্বে ভিন্ন ভিন্ন দিন হয় । আবার কোন দেশে ২৯ বা ৩০ দিনে মাস শেষ অন্য দেশে আর ১ দিন বা ২ দিন পরে মাস শেষ হয় । অর্থাৎ উক্ত দুই দেশে একত্র করলে মাসের দিন হয় ৩০ বা ৩১/৩২ যা শরীয়ায় কোন দলিল পাওয়া যায় না ।


সর্বজন স্বীকৃত যে উক্ত দিন (তারিখ) পৃথিবীতে একটাই হবে এবং আরবী মাস ২৯ বা ৩০ দিনে ।


অতএব উক্ত দিনের তারিখ সঠিক না হলে গুনাহ্‌গার বা ফযিলত থেকে বঞ্চিত হতে হবে ।


একথা সকলেরই জানা, শবে ক্বদর, আরাফা, পবিত্র ঈদুল আযহা, আশুরার......দিন তারিখ বেশ কিছু দিন পূর্বেই সংবাদ পাওয়া যায় । যা বিশ্বে একই দিনে পালন করা সম্ভব ।


রমযান মাসের ১ম (যে কোন মাসের ১ম) তারিখ নির্ধারন এবং বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছানোর উপর নির্ভর করে ১ম রোজা এবং ঈদুল ফিতর (পরবর্তী মাস) ।


বিশ্বের যে কোন দেশের প্রথম চাঁদ দেখা অনুযায়ী সারা বিশ্ব একসাথে মাস শুরু করলেই উপরের সকল সমস্যার সমাধান হবে ।


যদি একগুয়েমী করে যার যার দেশের চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করেন, তাহলে আপনি বা আপনার জ্ঞানীর কাছে জেনে উপরের প্রশ্নের দলিল সহ জবাব দিন ??? !!!


বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ’র সকল ইবাদত একই দিনে(৬ষ্ঠ)


সমস্যাঃ-ধরুন এক দেশের সাথে পৃথিবীর অন্য যে কোন স্থানের সময়ের ব্যবধান বার ঘন্টার নিচে (ধরা যাক ১০ ঘন্টা) ।


ঐ দেশে যখন সন্ধ্যা তক্ষণাৎ ১ম চাঁদের খবর প্রচার করা হলে অন্য দেশে তখন সুবহে সাদিক হবে । রমযানের তারাবী, সেহেরী, নিয়ত অন্য দেশের লোকেরা কিভাবে করব ?


সমাধানঃ-তারাবীর জন্য-


রাসুল (সঃ) সাহাবায়ে কেরামদের নিয়ে মাত্র তিন দিন জামাতের সহীত তারাবীর নামায পড়েছেন ।


হযরত আবু যর (রাঃ) বলেন আমরা রাসুল (সঃ) এর সাথে রোযা রেখেছি, নবী (সঃ) আমাদের তারাবীর নামায পড়ালেন না, এমনকি রমযানের আর সাত দিন বাকি ছিল অর্থাৎ তেইশ তারিখ পর্যন্ত । তারপর তেইশ তারিখে রাত্রে আমাদের তারাবীর নামায পড়ালেন তৃতীয়াংশ রাত পর্যন্ত । চব্বিশ তারিখ পড়ালেন না । পঁচিশ তারিখ রাত্রে অর্ধ রাত পর্যন্ত তারাবী পড়ালেন । আমরা বললাম হে আল্লাহর রাসুল (সঃ)! কতইনা ভাল হত যদি আপনি আমাদের সারারাত নামায পড়াতেন । নবী (সঃ) বললেন যে ব্যক্তি ইমাম মসজিদ থেকে চলে আসা পর্যন্ত ইমামের সাথে জামাতে নামায পড়েছে সে সারা রাত ইবাদত করার ছওয়াব পাবে । এরপর যখন সাতাশ তারিখ হয়ে গেছে তখন আবার নামায পড়লেন এবার পরিবারবর্গ এবং মহিলাদেরকেও আহবান করলেন এবং সুবহে ছাদেক পর্যন্ত নামায পড়ালেন (তিরমিযী । নাসাঈ । ইবনে মাযাহ । সহীহু সুনানি আবি দাউদ ১/৩৭৯ হাঃ ১৩৭৫)


তারাবীর নামায ছাড়াও রোযা রাখা যায় । উপরের হাদিসটি কি বলছে ভাল করে বুঝুন, জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিন ?


এছাড়া উক্ত দেশের লোকেরা ব্যক্তিগতভাবে তাহাজ্জুদ নামায পড়তে পারে যা তারাবীর সমতুল্য ।


কেউ বলে কিয়ামু রমযান হলো- তাহাজ্জুদ । কিয়ামু রমাযান অর্থাৎ তারাবীহ (মুসলিম শরীফ ৩য় খন্ড অনুচ্ছেদ ১০৯ অধ্যায় সালাত পৃঃ ৮৯ ইঃ ফাঃ)


আনোয়ার শাহ কাশমিরি হানাফী (রহঃ) লিখেছেন- আমার নিকট এ দুটি নামায (তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ) একই নামায । সাধারণ লোকেরা এটার অর্থ না বুঝে দুটো আলাদা নামায বানিয়ে দিয়েছে (ফয়জুল বারী শরাহ বুখারী ২য় খন্ড ৪২০ পৃঃ)


দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রটিষ্ঠাতা আল্লামা কাসেম নামুতুবী (রঃ) তার কিতাবে লিখেছেন- জ্ঞানীদের নিকট এ কথা গোপন নয় যে, কেয়ামে রমযান (তারাবীহ) ও কেয়ামুল্লায়ল (তাহাজ্জুদ) আসলে এ দুটো একই নামায । যেটা মুসলমানদের সুবিধার জন্য (রমযানের) রাতের প্রথম অংশে নির্দিষ্ট করা হয়েছে । কিন্তু গুরুত্ব হচ্ছে শেষ রাত্রে আদায় করা (ফয়েজে কাসেমিয়া ১৩ পৃঃ)


সেহেরী নিয়তের জন্য-যাদের দেশে চাঁদ দেখা যায় নাই তারা ২৯ শে শা’বান দিবাগত রাত্রে সেহেরী খেয়ে রমযানের নিয়ত করতে পারেন । যদি দিবাভাগে জানতে পারেন বিশ্বে চাঁদ উদয় হয়েছে তাহলে এক সাথে হয়ে গেল ।


আর যদি চাঁদ উদয় হয় নাই জানতে পারেন তাহলে ঐ দিনের রোজা ভেঙ্গে দিবে (যারা নিয়মিত শা’বানের রোজা রাখে না তাদের জন্য)


ঠিক এমনই একটি সন্দেহযুক্ত দিনে একবার প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসীর (রাঃ) এর সামনে একটি ভূনা বকরী উপস্থিত হয় এবং তখন তিঁনি (সাঃ) সকলকে বললেন-খাও । কিন্তু জনৈক ব্যক্তি দূরে সরে গিয়ে বলল-আমি রোজাদার । আম্মার ইবনে ইয়াসীর (রাঃ) বললেন-যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত দিনে রোজা রাখে সে আবুল কাসিমের (রসূল সাঃ) সাথে অবাধ্য আচরণ করেছে (সূত্র: আবু দাউদ ৩য় খন্ড/২৩২৭, তিরমিযী)


নবী করীন (সাঃ) বলেছেন, তোমরা রমজান মাসের একদিন বা দুই দিন আগে থেকে রোযা রেখ না । তবে কারও যদি আগে থেকেই কোনো নির্দিষ্ট দিন রোযা রাখার অভ্যাস থাকে এবং ঘটনাক্রমে সে দিনটি ২৯ ও ৩০ শাবান হয় তাহলে সে ওইদিন রোযা রাখতে পারে (সহিহ বুখারী ১/২৫৬ হাঃ/১৯১৪)


আর যারা একেবারেই অলস অজ্ঞ গুরুত্বহীন চেষ্টা করবেন না ঘুম থেকে জেগে দেখলেন ফজর হয়ে গেছে পরে চাঁদ উদয়ের খবর পেলেন পূর্বে মনে যদি নিয়ত থাকে সম্ভব হলে এ অবস্থায় সেহারী না খেয়েও রোজা রাখতে পারেন ।


না রাখলে একই দিনে এক সঙ্গে ঈদ করে পরে একটি রোজা কাযা করে নিবেন ।


শরীয়া ক্ষেত্রে উদাসীনতার জন্য আল্লাহ’র নিকট খাঁটি তওবা করুন ।


হযরত আসমা বিনতে আবুবকর (রাজিঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) এর জামানায় একদিন আমরা মেঘের কারনে রোযা ইফতার করেছি, কিন্তু পরে সূর্য দেখা গেছে । [হাদিসের রাবি বলেন] আমি হিশামের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম, মানুষদের কি কাজার আদেশ দেয়া হয়েছিল ? হিশাম বলল, কাজা ব্যতীত অন্য কোন পন্থাও তো ছিল না ।-ইবনে মাজাহ, সহিহ আল বুখারী ২/২৫৮ হাদিস নং ১৮২০


অনুরুপে বলা যায়, চাঁদ দেখার খবর সুবহে সাদেকের পূর্বে না পেলে এবং বিশেষ কারনে রোজা রাখতে না পারলে ঈদের পরে কাযা করা যাবে ।


(৬) গ্রন্থ “তাবয়ীনুল হাকায়েক”-এর ভাষ্য হচ্ছে-......এমনকি এক দেশের মানুষ ৩০টি রোযা রাখল, অন্য দেশের মানুষ রোযা রাখল ২৯টি, তাহলে অন্যদেরকে একটি রোযা কাযা করতে হবে (তাবয়ীনুল হাকায়েক, খন্ড-২, পৃঃ-১৬৪/১৬৫)


ইমাম মালিক (রহঃ) এর অভিমতঃ-


১. যখন বসরা শহরবাসী রমজানের নতুন চাঁদ দেখবে, অতঃপর তা কুফা, মদীনাও ইয়েমেনবাসীদের কাছে পৌছবে তাহলে ইমাম মালিক (রহঃ) থেকে তাঁর শিষ্যদ্বয় ইবনুল কাসিম ও ইবনে ওয়াহাবের বর্ণনামতে শেষোক্ত দেশবাসীর প্রতিও ওয়াজিব হয়ে যাবে । অথবা


যদি বাদ পড়ে তবে সে রোযা কাযা করতে হবে (উৎস আল-মুনতাকা-শরাহল মুয়াত্তা ২য় খন্ড পৃঃ ৩৭)


সমস্যাঃ-সব কিছু এক সাথে করা সম্ভব নয় । যেমন সেহেরী ও ইফতারের সময় এবং নামাযের সময় ।


সময় সূর্যের সাথে শয়ীয়া দ্বারা নির্ধারিত । সময় এক না হলেও দিন বা তারিখ (যা চাঁদের সাথে সম্পর্কযুক্ত) এক করা সম্ভব ।


যা লেখার শুরুতে দেখানো হয়েছে । কারো দেশে রাত (দিনের শুরু) কারো দেশে দিবা (দিনের অর্ধাংশ) অর্থাৎ


একই দিন, একই দিন, একই দিন, একই সময় নয় । এটাই অনেকের বুঝের অভাব ।


আল্লাহ তায়ালা বলেন-পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায় । অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত- আল বাকারা আয়াত ১৮৭)


অতএব সেহরী, ইফতার নামায...সকল ইবাদতের সময় যার যার দেশের সূর্যের সাথে সম্পর্ক করে যার যার স্থানীয় সময়ে একই দিনে, একই দিনে, একই দিনে পালিত হবে একই সময় নয় ।


এক সময় ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ একই রাষ্ট্র ছিল । তখন ভারতের আকাশে চাঁদ দেখা গেলেই রোযা ও ঈদ পালন করা হতো । ৪৭ এর পর পাক-ভারত আলাদা হয়ে যায় । তখন থেকে দু’দেশের আকাশও আলাদা হয়ে গেল । ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্দে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ’ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয় । তখন থেকে ‘বাংলাদেশের আকাশ’ নামে একটি আকাশেরও জন্ম হয়েছে । মহান আল্লাহ কি এভাবে পৃথক পৃথক রাষ্ট্রের জন্য পৃথক আকাশ তৈরি করেছেন ? নি:সন্দেহে ‘না’ ।


আমাদের পূর্বপুরুষরা কি ভুল করেছেন ?


এভাবে পবিত্র ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে অত্র মাসয়ালার উপরে কুরআন, সুন্নাহ্‌ এবং ফিকহের ইজমা বা ঐক্যমত থাকা সত্বেও তাৎক্ষনিক সংবাদ দেওয়া-নেওয়ার কোন ব্যবস্থা না থাকায় তারা পারিপার্শিক অবস্থার প্রেক্ষিতে যতদূর পর্যন্ত সংবাদ পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে ততদূর এলাকায় আমল করেছেন । আমি মনে করি তাদের এ আমল সমসাময়িক পরিস্থিতিতে ছহীহ ও যুক্তিপূর্ণ ছিল (আল্লাহ ভাল জানেন)


অপর দিকে বর্তমানে সে ওজর বা সমস্যা না থাকায় এবং তাৎক্ষনিক সংবাদ দেয়া-নেয়ার ব্যবস্থা থাকায় আমাদেরকে অবশ্যই মূল মাসয়ালা অনুযায়ী আমল করতে হবে । এটাই ফিকহের সিদ্ধান্ত এবং বিবেক ও সময়ের দাবী ।


আল্লাহপাক বলেন-


‘প্রত্যেক সংবাদের নির্দিষ্ট সময় রয়েছে প্রকাশের জন্য’ (৬:৬৭)


বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ’র সকল ইবাদত একই দিনে(৭ম)


সমস্যাঃ-বর্তমান সময়ের জ্ঞানীরাও এ বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন কিভাবে সকল ইবাদত বিশ্ব মুসলিম এক হয়ে পালন করা যায় । অনেকে আধুনিক প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে এ বিষয়ে লেকচার, বইয়ের মাহ্যমে প্রচারনা চালাচ্ছে ।


সকলের প্রচারনায় দেখায় যায়-সউদির চাঁদ দেখার খবরের সাথে মিলিয়ে এক করতে চান ! কেন ?


তারিখ চাঁদের উদয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত । মাসের প্রথম দিনের চাঁদ পশ্চিম আকাশে উদিত হয় । সৌদির পশ্চিমের দেশগুলতে আগে চাঁদ দেখা যাবে । প্রথম চাঁদ যে দেশে দেখা যাবে তাদের সাথে এক হওয়া উচিত নয় কি ? তাছাড়া শরীয়ায় সৌদিকে মানদ্বন্দ করার কোন দলিল আছে কি ?


সমাধানঃ-আল্লামা শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায (রহ.)


একই দিনে সারাবিশ্বে ঈদের প্রবক্তাদের কেউ কেউ মক্কা শরীফে চাঁদের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ ও সাওম পালনের যে মত ব্যক্ত করেছেন । কিন্তু খোদ সৌদি আরবের সাবেক প্রধান মুফতি আল্লামা শায়খ বিন বায (রহ.) এটি নাকচ করেছেন ।


তিনি বলেন: ‘বিশেষ করে মক্কার চাঁদ দেখাকে ভিত্তি করে যারা সারা


দুনিয়ায় রামাযান ও ঈদের ফায়সালা করতে বলেন,


***তাদের এ মতের কোন ভিত্তি ও দলীল নেই ।


আর তা হলে অবস্থা এ রূপ হবে যে, মক্কায় চাঁদ দেখা না-হলে, অন্য অঞ্চলের লোকেরা চাঁদ দেখলেও তাদের উপর সাওম ফরজ হবে না’- (আল বা’সুল ইসলামী: জিলহজ্ব ১৩৯৯, সূত্র: ইসলামী মাহ, মওলানা ইয়াক‚ব ঈসমাইল দেওবন্দী, পৃ. ১৩১)


******সুতরাং স্পষ্টভাবে সহীহ সমাধান হল বিশ্বের যে দেশ থেকে প্রথম চাঁদ উদয়ের খবর পাওয়া যাবে তার ভিত্তিতেই একযোগে বিশ্বব্যাপী হিজরী মাস সুরু করতে হবে । এটাই শরিয়ার দাবী ও সময়োপযোগী বাস্তব গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ******


সুতরাং যারা সৌদি সাথে এক হওয়ার কথা বলেন বিষয়টি ভেবে দেখুন । মুসলিম উম্মার কেন্দ্র মক্কার ইসলামিক চিন্তাবিদেরকে বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে ।


***মক্কা ইসলামের কেন্দ্র হিসাবে আমরা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ থেকে একজন খলিফা (যে সহিহ শরীয়া জ্ঞানের অধিকারী) মেনে তার কেন্দ্রীয় কার্যালয় সউদিতে করতে পারি । তার অধিনিস্থ বিভিন্ন দেশের গভর্ণর (প্রত্যেক দেশে একজন) বানাতে পারেন । বিশ্বের যে দেশে প্রথম চাঁদ দেখা যাবে ঐ দেশের গভর্ণর খলিফাকে জানাবে ।


খলিফা অধুনিক প্রচার যন্ত্রের মাধ্যমে প্রথম চাঁদ দেখার খবর বিশ্ব বাসীর নিকট প্রচার করবে । এভাবে মাসের শুরু সমগ্র বিশ্বে এক সাথে করা যেতে পারে । (ইন-শাআ-আল্লাহ) ।


উক্ত খলিফা শির্ক বেদাতেরও সমাধান দিবেন । যারা এতে লিপ্ত তাদের কাছ থেকে লিখিত প্রমাণ নিয়ে সহিহ শরীয়া মতে জানাবেন এটা করা যায়েজ, এটা নাযায়েজ ।


***শুধু চাঁদ দেখার খবর হলে দেশের রাষ্ট্র প্রধান বা তাঁর অধিনস্থ কর্মকর্তাও প্রচার করতে পারবে ।


আমরা যারা পূর্বে না জানার কারনে, দ্রুত প্রচার ব্যবস্থা না থাকার কারনে ভুল করেছি তাদের প্রতি অনুরোধ রইল বিষয়টি যাচাই বাছাই করে দেখুন এবং প্রয়োজনে আপনার পরিচিত শরিয়া জ্ঞানীদের নিকট লেখাটি কপি করে দিন এবং তাদের নিকট মৌখিক না জেনে কুরআন ও সহিহ হাদিসের পূর্ণাঙ্গ দলিল চেয়ে লিখিত চান কেন একই দিনে সিয়াম শুরু এবং শেষ করে ঈদ করব না ?


আল্লাহপাক বলেন- ‘জ্ঞানীরাই চিন্তা-ভাবনা করে’ (সূরা ইব্রাহীম-৫২)


আমার সংগ্রহটি গ্রহণযোগ্য হলে জন সচেনতার জন্য প্রচার করার অনুরোধ জানাচ্ছি । আল্লাহ আমাদের সঠিক পথ বুঝার তৌফিক দিন ।


**আমীণ**


বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ’র সকল ইবাদত একই দিনে(৮ম)


কিছু তথ্যঃ- এ বিশৃঙ্খল অবস্হা সম্পর্কে ১৬ অক্টোবর ২০০৬ তারিখে এক প্রেস রিলিজে ৫৭টি দেশ নিয়ে গঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্হা (ও.আই.সি) এর মান্যবর মহাসচিব একমেলেদ্দীন ইহসানোগলু বলেন,


এ বছর (২০০৬) ঈদুল ফিতর উদযাপনে সময়ের পার্থক্য ৩ দিন পৌছেছে । আধুনিক বিজ্ঞান বিশেষত: জ্যোতির্বিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতির যুগে এই অবস্হা দু:খজনক ।


ইসলামী উৎসবগুলোর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে । এসব উৎসব বিশ্বের সব মুসলিমের হৃদয়ে ঐক্যের বার্তা পৌছে দেয় । এই ঐক্য এসব উৎসবের নির্যাস হিসেবে প্রকাশ পায় । কিন্তু এসব উৎসব বর্তমানে মুসলিমদের মধ্যে ঐক্যের বদলে অনৈক্য ও বিভেদের উপলক্ষ্য হিসেবে উপস্হিত হয়েছে । এতে মুসলিমদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রকাশ পাচ্ছে না । এটি একটি বড় ধরনের ভুল । কারণ এসব ধর্মীয় উৎসব ধর্মের বস্তুনিষ্ঠতা থেকে দূরে সরে যেয়ে একঘেয়েমি ও কুপমন্ডুকতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে ।


এ ব্যাপারে ইসলামী সম্বেলন সংস্হা (ও.আই.সি) ১৯৮০-র দশক হতে লিখিতভাবে এ বিষয় নিয়ে সোচ্চার । ও.আই.সি এ বিষয়ের উপর প্রস্তাব গ্রহণ করেছে এবং বিভিন্ন সম্বেলনে এ বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আসছে । মুসলিম দেশগুলোতে একটি একক ক্যালেন্ডার অবলম্বন করার জন্য হিজরী ক্যালেন্ডারকে ধর্মীয় ও বিজ্ঞানের মুলনীতি প্রয়োগ করে পরিমার্জিত করতে হবে । এব্যাপারে ব্যবস্হা নিতে ইসলামী আইনবিদ্যা কেন্দ্রকে অনুরোদ করছি । পরিমার্জিত এ হিজরী ক্যালেন্ডার বিশ্বের সব মুসলিমকে রোজা ও অন্যান্য উৎসবগুলোতে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করবে । এ বিষয়ে বিভক্তি ও অনৈক্য দুর করতে মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় ও নেতৃস্হানীয় কর্তাব্যক্তিদের এক সাথে কাজ করতে আহবান জানাচ্ছি । জেদ্দা: ২৮ অক্টোবর ২০০৬ দেখুন:


http://www.oci.org/oicold/press/english/2006/october%202006/hilal.htm )


বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম দেশ এবং সকল মুসলিমের প্রতিনিধিত্বকারী বিশ্ব মুসলিম সংগঠন ও, আই, সি-এর ফিকহ একাডেমী ১৯৮৬ সনের ১১-১৬ অক্টোবর জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে শতাধিক শরীয়াহ্‌ বিশেষজ্ঞের সর্ব সম্মতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, “বিশ্বের কোন এক দেশে চাঁদ দেখা গেলে সকল মুসলিমকে ঐ দেখার ভিত্তিতেই আমল করতে হবে”


(দেখুনঃ http://www.newmoonbd.com/oic_decision.php


সারা বিশ্বে একই দিনে ঈদ করার বিষয়ে ও.আই.সি এর বিভিন্ন প্রস্তাব এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছে । দেখুন


http://www.oic-oci.org/home.asp


1. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/11/11%20icfm-cultural-en.htm (RESOLUTION No. 14/11-C)


2. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/12/12%20icfm-cultural-en.htm (RESOLUTION NO. 8/12-C)


3. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/13/13%20icfm-cultural-en.htm (RESOLUTION NO. 11/13-C)


4. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/14/14%20icfm-cult-en.htm (RESOLUTION NO. 19/14-C)


5. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/15/15%20icfm-cult-en.htm (RESOLUTION NO.17/15-C)


6. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/16/16%20icfm-cult-en.htm (RESOLUTION NO.13/16-C)


7. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/17/17%20icfm-cult-en.htm (RESOLUTION NO. 16/17-C)


8. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/18/18%20icfm-cult-en.htm (RESOLUTION 18/18-C)


9. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/19/19%20icfm-cult-en.htm (RESOLUTION NO. 24/19-C)


10. ISTANBUL, REPUBLIC OF TURKEY 24-28 MUHARRAM 1412H, 4-8 AUGUST 1991


11. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/21/21-4th%20resolution.htm


আল-কুরআন- তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি কর না (আশ শুরা আয়াত ১৫);


তোমাদের নিকট যে জ্ঞান পৌঁছেছে তারপরও যদি তোমরা তাদের (কুরআন-হাদিস বহির্ভূত কারো কথা) মনের ইচ্ছা ও বাসনার (দলিল বিহীন মতবাদ) অনুসরণ কর তাহলে নিশ্চিত রুপে তোমরা যালিমদের মধ্যে গণ্য হবে (বাক্বারা আয়াত ১৪৫)


বাচ্চাদের প্রাথমিক রুকইয়াহ ও বিধিনিষেধ

প্রাথমিক রুকইয়াহ পদ্ধতিঃ  ১।   মানুষ ও জ্বীনের বদনজর ও জ্বীনের আছর থেকে হিফাযত ও শিফার নিয়তে - দুরুদে ইব্রাহিম, সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি,...