Monday, August 26, 2019

খাতনা বা মোসলমানী করা কি সৃষ্টির বিকৃতি নাকি ধর্মিয় রীতি?

খাতনা করা কি সৃষ্টির বিকৃতি? 
নাকি ধর্মিয় রিতি? 

আসুন এই বিসয়ে আলোচনা করা জাক, অনেক ভাই কোরআন থেকে একটি আয়াত তুলে ধরে প্রমান করতে চান খাতনা করা নাকি সৃষ্টির বিকৃতি সেই আয়াতটি হলো এই।।
সূরা নিসা আয়াত ১১৯
তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে আশ্বাস দেব; তাদেরকে পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ দেব। যে কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়।

# এখানে পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব,,এই কথাটি আল্লাহ রুপক অর্থে ব্যবহার করেছেন,,জেই সমস্ত অনলি কোরআনের অনুসারী ভাইয়েরা বলে থাকেন কোরআন নাকি সহজ দয়া করে তারা এই রুপক অর্থের ব্যাখ্যাটা করে জাবেন,,এই ৪:১১৯ নং আয়াত দ্বারা প্রমান করতে চান খাতনা করা নাকি সৃষ্টির বিকৃতি আসুন কোরআন থেকে আরেকটি আয়াত পেশ করি দেখাযাক সেই আয়াত কি বলে??
সূরা আল ইমরান (آل عمران), আয়াত: ৬
অর্থঃ তিনিই সেই আল্লাহ, যিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করেন মায়ের গর্ভে, যেমন তিনি চেয়েছেন। তিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। তিনি প্রবল পরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাময়।

###পাঠক বৃন্দ ভালো করে লক্ষ করুন উক্ত আয়াতে আল্লাহ বলেন, যিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করেন মায়ের গর্ভে যেমন তিনি চেয়েছেন,,আপনারা দেখেছেন অনেক মানুষ ঠোট কাটা হয়ে জন্ম গ্রহন করেন,হাতের আঙ্গুল, পায়ের আঙ্গুল, জোরা লাগানো ও জমজ শিশু ইত্যাদি জন্ম গ্রহন করে পরবর্তিতে তাদেরকে অপারেশনের মাধ্যমে সেপারেট করা হয় বা আলাদা করা হয় তাহলে খাতনা করানো যদি সৃষ্টির বিকৃতি হয় তবে এগুলো কেন সৃষ্টির বিকৃতি হবেনা?? ৩:৬ আয়াত মতে আল্লাহ বলেছেন যেমন তিনি চেয়েছেন,তবে কেন আপনারা এইগুলোকে সৃষ্টির বিকৃতি বলেন না?? মুলত মানুষ বেচে থাকার জন্য মানুষের ভালোর জন্য মানুষ অনেক কিছুই করতে পারে একটা বিসয় মাথায় রাখতে হবে অনন্যপায় হলে আল্লাহ মানুষকে শুকরও খেতে বলেছেন মোট কথা মানুষের সুবিধার জন্য আল্লাহ সরবচ্য ছার দিয়েছেন,, #প্রকৃত পক্ষে এগুলি সহ খাতনা করানো সৃষ্টির বিকৃতি নয়,,,
#আসুন দেখাজাক সৃষ্টির বিকৃতি কাকে বলে সৃষ্টির বিকৃতি হচ্ছে তাই জা আল্লাহ করেননি তা মানুষ চেন্জ করে তাকে পরিবর্তন করেছে,, যেমন কোন পুরুষ তার হরমোন চেন্জ করে ও তার লিঙ্গ পরিবর্তন করে মহিলা হওয়া,তেমনি ভাবে নারির ক্ষেএেও প্রযোয্য,,আবার কোন নারি বা পুরুষ হরমোন চেন্জ করে হিজরা হওয়া,,,আবার কোন পুরুষ বা নারী নিজের শরির সারজারির মাধ্যমে কালো থেকে সাদা করা বা সাদা থেকে কালো করা ইত্যাদি বিঃদ্রঃ আমার দৃষ্টিতে এইগুলো হলো সৃষ্টির পরিবর্তন,,খাতনা করানো সৃষ্টির পরিবর্তন নয়

হাজারে আওয়াদে চুমু খাওয়া বা স্পর্শ করার ফযিলত কি

কাবা ঘরে স্থাপিত হাজারে আসওয়াদ (কালো পাথর) সম্পর্কে জরুরি কিছু জ্ঞাতব্য
▬▬▬◢◢🕋◣◣▬▬▬
প্রশ্ন: ক. কাবা গৃহের হাজারে আসওয়াদ কি জান্নাতের পাথর? এটি কালো কেন?
খ. হাজারে আওয়াদে চুমু খাওয়া বা স্পর্শ করার ফযিলত কি?
গ. শুনেছি যে, “হাজারে আসওয়াদটি একটি ফেরেশতা ছিল। আল্লাহ তাকে পাথর বানিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।” এটি কি সত্য?
ঘ. এ পাথর সম্পর্কে বানোয়াট হাদিস।
উত্তর:
নিম্নে উপরোক্ত প্রশ্ন সমূহের উত্তর দেয়া হল:
 ক. কাবা গৃহের হাজারে আসওয়াদ কি জান্নাতের পাথর? এটি কালো কেন?
উত্তর: হ্যাঁ, কাবা ঘরের এক কর্নারে স্থাপিত হাজারে আসওয়াদ বা কালো পাথরটি জান্নাতের পাথর। এ মর্মে হাদিস একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যেমন:
 ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
نزل الحجر الأسود من الجنة وهو أشد بياضا من اللبن فسودته خطايا بني آدم "
“হাজারে আসওয়াদ বা কালো পাথরটি জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। তখন এটি ছিল দুধের চেয়েও সাদা। কিন্তু মানুষের গুনাহ তাকে কালো করে দিয়েছে।” (তিরমিযী, হা/৮৭৭, মুসনাদ আহমদ, হা/২৭৯২, ইবনে খুযাইমা হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন, ৪/২১৯)
আল্লামা মুবারক পুরী রহ. মিরকাত গ্রন্থে বলেন, “অর্থাৎ যে সকল মানুষ এই পাথরকে স্পর্শ করে তাদের পাপের কারণে এটি কালো হয়ে গেছে।”
 অন্য হাদিসে এসেছে:
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছি:
إِنَّ الرُّكْنَ وَالْمَقَامَ يَاقُوتَتَانِ مِنْ يَاقُوتِ الْجَنَّةِ طَمَسَ اللَّهُ نُورَهُمَا وَلَوْ لَمْ يَطْمِسْ نُورَهُمَا لأَضَاءَتَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ
“হাজারে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীম জান্নাতের দুটো ইয়াকুত পাথর। আল্লাহ তা'আলা এই দুটির আলোক প্রভা নিষ্প্রভ করে দিয়েছেন। এ দুটির প্রভা যদি তিনি নিষ্প্রভ না করতেন তাহলে তা পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে যা কিছু আছে সব আলোকিত করে দিত।
(তিরমিযী, অধ্যায়: হজ্জ, অনুচ্ছেদ: হাজারে আসওয়াদ, রোকন ও মাকামে ইবরাহীমের ফযিলত। শাইখ আলবানী বলেন: সহিহ তিরমিযী হা/৮৭৮। এ ছাড়াও এটি সহিহ ইবনে খুযায়মা, ইবনে হিব্বান ও হাকিমে বর্ণিত হয়েছে)
 খ. হাজারে আওয়াদে চুমু খাওয়া বা স্পর্শ করার ফযিলত কি?
উত্তর:
হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ করলে স্পর্শকারীর গুনাহ মোচন হবে এবং কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করবে:
যেমন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ مَسْحَ الْحَجَرِ الْأَسْوَدِ، وَالرُّكْنِ الْيَمَانِيِّ يَحُطَّانِ الْخَطَايَا حَطًّا
ইবনে ওমর রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,:
“যে ব্যক্তি রোকনে ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদ (কালো পাথর) স্পর্শ করবে, এ দু’টি তার গুনাহগুলো ঝরিয়ে দিবে।”
[সহিহুল জামে-শাইখ আলবানী, হা/২১৯৪, সহিহুত তারগীব হা/১১৩৯]
 অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
وَاللهِ لَيَبْعَثَنَّهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَهُ عَيْنَانِ يُبْصِرُ بِهِمَا وَلِسَانٌ يَنْطِقُ بِهِ يَشْهَدُ عَلَى مَنِ اسْتَلَمَهُ بِحَقٍّ
“আল্লাহর কসম, আল্লাহ কিয়ামতের দিন হাজারে আসওয়াদকে উঠাবেন এমন অবস্থায় যে, তার দু’টি চোখ থাকবে, যা দিয়ে সে দেখবে ও একটি জবান থাকবে, যা দিয়ে সে কথা বলবে এবং ঐ ব্যক্তির জন্য সাক্ষ্য দিবে, যে ব্যক্তি খালেস অন্তরে তাকে স্পর্শ করেছ”। সহিহুল জামে হা/৫৩৪৬-ইবনে মাজাহ- ইবনে আব্বাস রা. থকে বর্ণিত-সহিহ)
 গ. প্রশ্ন: শুনেছি “হাজারে আসওয়াদটি একটি ফেরেশতা ছিল। আল্লাহ তাকে পাথর বানিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।” এ কথা কি সত্য?
উত্তর:
পূর্বোল্লিখিত হাদীসদ্বয় দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, এটি জান্নাত থেকে আসা একটি পাথর।
সুতরাং "এটি আগে ফেরেশতা ছিল" এ কথা যে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট এতে কোনো সন্দেহ নাই।
 ঘ. হাজারে আসওয়াদ প্রসঙ্গে বানোয়াট হাদিস:
এ প্রসঙ্গে নিচে দুটি হাদিস পেশ করা হল:
➤ যেমন:
الحَجَرُ الأسودُ يمينُ اللهِ في الأرضِ؛ فمَن صافَحَه وقبَّلَه، فكأنَّما صافَحَ اللهَ وقبَّل يمينَه
“হাজারে আসওয়াদ ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর ডান হাত। সুতরাং যে তাতে হাত লাগাল এবং চুমু খেলো সে যেন আল্লাহর সাথে মুসাফাহা করলো এবং তার ডান হাতে চুমু খেলো।”
হাদিসটি বানোয়াট
- বিখ্যাত হাদিস বিশারদ শুআইব আরনাবুত বলেন, এ হাদিসের সনদে ইসহাক বিন বিশর আল কাহেলী নামক একজন বর্ণনাকারী আছে যাকে একাধিক মুহাদ্দিস মিথ্যুক বলে চিহ্নিত করেছেন।
- ইবনুল জাওযী বলেন, এ হাদিসটি সহিহ নয়।
- আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন রহ. বলেন, এ হাদিসটি বানোয়াট-বাতিল।
➤ অন্য বর্ণনায় এসেছে,
الحجَرُ الأسوَدُ يمينُ اللَّهِ في الأرضِ يصافحُ بِها عبادَهُ
“হাজারে আসওয়াদ ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর ডান হাত। তিনি তা দ্বারা বান্দাদের সাথে মুসাফাহা করেন।”
হাদিসটির মান: মুনকার/বাতিল।
- শাইখ আলবানী বলেন, এটি মুনকার বা মারাত্মক পর্যায়ের দুর্বল। (সিলসিলা যঈফা হাদিস নং ২২৩)
- শুওয়াইব আরনাউত বলেন: এটি বাতিল। (তাখরীজ সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ১৯/৫২৩)
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬🔹🔹▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

স্বামী স্ত্রী সর্বোচ্চ কতদিন পরস্পর দূরে থাকতে পারবে?

যায়দ বিন আলমাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনএক রাতে উমর রা. জনগণের খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য প্রহরী বেশে বের হলেন। এক বাড়ির পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় ঘর থেকে নারী কন্ঠে কবিতা আবৃত্তি শুনতে পেলেন। ঘরের ভিতরে এক মহিলা কবিতা আবৃত্তি করছিল। কবিতার অর্থ : রজনি দীর্ঘ হয়েছে এবং তার এক পার্শ কৃষ্ণ বর্ণ ধারন করেছে। এদিকে দীর্ঘ দিন যাবত আমার বন্ধু আমার কাছে নেই যে তার সাথে আমোদ-প্রমোদ করবো। আল্লাহর শপথ! যদি এক আল্লাহর ভয় না থাকত তাহলে এ খাটের চার পাশ নড়ে উঠত। যখন ভোর হলো উমর রা. রাতের কবিতা আবৃত্তি কারিনী মহিলাকে ডেকে পাঠালেন। মহিলা রাজ দরবারে এসে উপস্থিত হলে উমর রা. তাকে জিজ্ঞেস করলেনতুমি কি গত রাতে এ জাতীয় কবিতা আবৃত্তি করেছিলে
মহিলা বললহ্যাঁ। উমর রা. বললেনকেনউত্তরে মহিলা বললদীর্ঘ দিন যাবত আমার স্বামী জিহাদের ময়দানে আছে। উমর রা. এ কথা শুনে একজন মহিলাকে তার সাথে পাঠিয়ে দিলেন। এবং বললেনতার স্বামী আসা পর্যন্ত তুমি তার সাথে থাকবে। এদিকে উমর রা. ঐ মহিলার স্বামীর নিকট ফিরে আসার নির্দেশনা দিয়ে শাহী ফরমান প্রেরণ করে দিলেন। এরপর তিনি তার কন্যা হাফসা রা. এর নিকট গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেনহে মেয়ে! নারীরা তাদের স্বামী থেকে কতদিন ধৈর্য ধারণ করে থাকতে পারে
হাফসা রা. বললেনআব্বা আপনার মত ব্যক্তি আমার মত মানুষের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারে
তখন উমর রা. বললেনপ্রজাদের স্বার্থ রক্ষার ইচ্ছা যদি না হতো তবে আমি তোমার নিকট এ বিষয়ে প্রশ্ন করতাম না। তখন হাফসা রা. বললেনমেয়েরা তাদের স্বামী থেকে চার মাস পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করে থাকতে পারে। এরপর থেকে উমর রা. চার মাস অন্তর তার মুজাহিদ বাহিনীকে ফেরত নিয়ে আসতেন এবং নতুন বাহিনী পাঠিয়ে দিতেন। সুনানে সাঈদ ইবনে মানসূরহাদীস ২৪৬৩মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাকহাদীস ১২৫৯৪, মারেফাতুস সুনান ওয়াল আছার লিল বায়হাক্বীঃ ১৪/২৪৯।
উল্লেখ্য কোন বর্ণনামতে ৪ মাসের স্থলে ৬ মাস বলা হয়েছে।  এজন্য ইসলামী শরীয়তের বিধান হলোবিবাহ করে যুবতী স্ত্রী রেখে দীর্ঘ দিনের জন্য বিদেশ-বিভূইয়ে যাবে না। তবে যদি স্ত্রী মন থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদেশ যাত্রার সন্তোষজনক অনুমতি প্রদান করে এবং এ দীর্ঘ সময়ে স্ত্রী নিজেকে কন্ট্রোলে রাখতে পারবে বলে প্রবল ধারণা হয় কেবল তখনই দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদেশে গমন করতে পারবে। 
সারকথাএকজন স্বামী তার স্ত্রী থেকে ৪ বা ৬ মাস দূরে থাকতে পারবে। এর বেশি সময় দূরে থাকতে হলে স্ত্রীর সন্তোষজনক অনুমোদন প্রয়োজন হবে। আর স্বামী স্ত্রীর সাথে ছয় মাস দৈহিক সম্পর্ক না রাখলে আপনা আপনি তালাক হয়ে যায় না। তবে স্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে ছয় মাস দৈহিক সম্পর্ক না রাখা বৈধ আছে। আর সন্তোষজনক অনুমতি ব্যতীত ছয় মাস দৈহিক সম্পর্ক না রাখলে গুনা হবে।-সুনানে সাঈদ ইবনে মানসূরহাদীস ২৪৬৩মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাকহাদীস ১২৫৯৪সুনানে নাসায়ীহাদীস ৩৪৬৫আদ-দুররুল মুখতার ৪/১৪৪রদ্দুল মুহতার ৪/৩৮০ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ২৯/৪৮


পাপ থেকে হেফাযত এবং পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্যে থাকার শর্তে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে পারস্পরিক সম্মতিতে দীর্ঘ সময় দূরে থাকায় শরী‘আতে কোন বাধা নেই। তবে পাপের সাথে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলে অল্প দিনের জন্য হলেও দূরে থাকা বৈধ নয়। ওমর (রাঃ) নিজ কন্যা হাফছাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করে সে সময়ে মুজাহিদদের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস বাইরে থাকার ব্যাপারে সময় নির্ধারণ করেছিলেন (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/১২৫৯৪)।

রসূলুল্লহ (সঃ) বলেছেনঃ
"তোমরা সেই মহিলাদের নিকট গমন করো না; যাদের স্বামীরা বিদেশে আছে। কারণ, শয়তান তোঁমাদের রক্তের শিরায়, উপ-শিরায় প্রবাহিত হয়।"
***তিরমিযীঃ ১৭২।

ইসলাম কি স্বামীকে স্ত্রীর সাথে জবরদস্তী সহবাস করতে উৎসাহ দেয়?

প্রশ্নঃ স্ত্রী স্বামীর সহবাসের ক্ষেত্রে সারা না দিলে ফেরেশতারা সারারাত স্ত্রীকে অভিশাপ দিবে - এটা কি প্রমান করে না যে ইসলাম একজন স্বামীকে স্ত্রীর সাথে জবরদস্তি করছে সহবাসের ক্ষেত্রে ?

উত্তরঃ হাদিস গুলি আগে পড়ে নেই আসুনঃ
ihadis.com, সহিহ মুসলিম, হাদিসঃ ৩৪৩২, সহিহ হাদিসঃ নবী মুহাম্মদ (সা) বলেছেন, কসম সেই সত্তার যার হাতে আমার প্রান । কোন ব্যাক্তি তার স্ত্রীকে যখন বিছানায় আহ্বান করে কিন্তু সে তা অস্বীকার করে, নিঃসন্দেহে যে পর্যন্ত সে তার স্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্টি না হয়, ততক্ষণ আসমানবাসী তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে ।
ihadis.com, সহিহ মুসলিম, হাদিসঃ ৩৪৩৩, সহিহ হাদিসঃ নবী মুহাম্মদ (সা) বলেন, স্বামী যখন স্ত্রীকে বিছানায় আহ্বান করে এবং সে না আসে তার স্বামী তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে রাত্রি যাপন করে , সে স্ত্রীর প্রতি ফেরেশতারা ভোর হওয়া পর্যন্ত লানত করতে থাকে।
উপরের হাদিস পড়ে আমরা যা পেলামঃ
১/ নাস্তিক অন্ধ বিশ্বাসীরা "ফেরেশতা" তারপর "অভিশাপ" এসবে বিশ্বাস করে না তাহলে উপরের হাদিস থেকে তাদের কষ্ট পাওয়াই বৃথা ।
২/ খেয়াল করুন, স্ত্রী স্বামীর ডাকে সাড়া না দেওয়ায় স্বামী মনে কষ্ট পেয়েছে কিন্তু এরপরে কি করেছে ? স্ত্রীর সাথে জবরদস্তি করেছে নাকি ঘুমিয়ে পরেছে ? হাদিসে কি এই লাইন আছে যে "স্বামী কষ্ট পেয়ে জবরদস্তী করবে স্ত্রীর সাথে" ? উত্তর হল এই লাইন নাই । আর হাদিস এই দিকে ইশারাও করছে না । তাই প্রশ্নকর্তার অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হল ।
৩/ উপরের হাদিসে স্বামীর ডাকে আহ্বান না দেয়ার ফলে স্ত্রীর সমালোচনা করা হলেও পুরুষকে কিন্তু জোর জবরদস্তি করে নিজ অধিকার আদায়ে উৎসাহিত করা হচ্ছে না ।
৪/ ফেরেশতাদের লানত যেহেতু নাস্তিক অন্ধ বিশ্বাসীরা বিশ্বাস করে না তাই ফেরেশতাদের লানতে কষ্ট পাওয়া নাস্তিকদের জন্য অযৌক্তিক ।
৫/ স্ত্রী যদি অসুস্থ থাকে বা অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ কারন থাকে তাহলে এই হাদিসের সমালোচনা স্ত্রীর জন্য প্রয়োগীয় নয় । কারন সুরা বাকারা ২:২৮৬ এবং সুরা মুমিনুন ২৩:৬২ = আল্লাহ্‌ কোন ব্যাক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে কাজ দেন না ।
ইসলাম আইনে যেমন স্ত্রীদেরকে স্বামীর যৌন চাহিদার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছে কিন্তু স্বামীকেও কিন্তু নিজ চাহিদার জন্য উগ্র হবার অনুমতি দেয় নি। স্বামীকেও স্ত্রীর যৌন চাহিদার প্রতি যত্নবান হবার নির্দেশ দিচ্ছে , দিয়েছেঃ
* সুরা নিসা ৪:১৯ = তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন কর। আর তোমরা তাদের অপছন্দ করো তবে এমনও হতে পারে যে, তোমরা কোন কিছুকে অপছন্দ করছ আর আল্লাহ্‌ তাতে অনেক কল্যাণ রাখবেন ।
ihadis.com, সুনানে তিরমিজি হাদিসঃ ১১৬২, হাসান সহিহ হাদিসঃ রাসুল (সা) বলেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যাক্তি উত্তম যে তার নিজের স্ত্রীর কাছে উত্তম ।
ihadis.com, সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩৫৫৯ এবং ৬০৩৫, সহিহ হাদিসঃ
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন নবী (সা) স্বভাবগত ভাবে অশালীন কথা বলতেন না,ইচ্ছা করে তিনি অশালীন কথা বলতেন না,অশ্লীল ভাষী ও অসদাচরণের অধিকারী ছিলেন না । তিনি বলতেন, তোমাদের মধ্যে যার স্বভাব চরিত্র উত্তম সেই তোমাদের মধ্যে সর্ব উত্তম।
ইসলামের শিক্ষা হলঃ
(ক) মুমিন স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি বিদ্বেষ রাখতে পারবে না ।
(খ) ভাল ব্যাবহারকারী হওয়া এবং স্ত্রী-পরিবারের প্রতি কমল ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া মুমিনের পরিচয় ।
(গ) কোন পুরুষ যদি উত্তম হতে চায় অবশ্যই তার নিজ স্ত্রীর কাছে উত্তম হতে হবে।
এখন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলামঃ
+ যে স্বামী তার স্ত্রীর যৌন চাহিদার প্রতি এমনকি তার ইচ্ছার প্রতি লক্ষ্য রাখে না , সে কি উত্তম স্বামী হতে পারে ?
+ যে স্বামী তার স্ত্রীর সুবিধা অসুবিধা প্রতি লক্ষ্য না রেখে যখন তখন স্ত্রীর সাথে সহবাস লিপ্ত হয় সে কি স্ত্রীর কাছে উত্তম হতে পারে ?
উত্তর সহজঃ না ।
ইসলামী উপদেশঃ একজন ভাল মুসলিম স্বামী যেমন স্ত্রীর জৈবিক চাহিদার প্রতি যত্নবান হবেন তেমনি নিজ চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি করবে না যে তার নিজ স্ত্রীর কাছে কষ্টকর । স্ত্রীর প্রতি খারাপ আচরণ করে কেউ তার স্ত্রীর কাছে উত্তম ও পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারে না।
স্ত্রীর জৈবিক চাহিদা পুরনে স্বামীর দায়িত্বঃ
* মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিসঃ ১০৪৬৮, সহিহ হাদিসঃ নবী মুহাম্মদ (সা) বলেন, যখন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তখন সে যেন পরিপূর্ণ (সহবাস) করে ।আর যখন তার চাহিদা পূরণ হয়ে যায় অথচ স্ত্রীর চাহিদা অপূর্ণ থাকে তখন সে যেন তাড়াহুড়ো না করে ।
* সুরা তওবা ৯:৭১ = মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু । তারা ভাল কাজের আদেশ দেয় আর অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে ।
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্বঃ
* সুরা নিসা ৪:১৯ = তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন কর। আর তোমরা তাদের অপছন্দ করো তবে এমনও হতে পারে যে, তোমরা কোন কিছুকে অপছন্দ করছ আর আল্লাহ্‌ তাতে অনেক কল্যাণ রাখবেন ।
* সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬০৩৯, সহিহ হাদিসঃ এক লোক আয়েশা (রা) কে জিজ্ঞেস করেন, নবী (সা) নিজ গৃহে কি কাজ করতেন ? তিনি বলেন, তিনি পারিবারিক কাজকর্মে বাস্ত থাকতেন । যখন সালাতের সময় উপস্থিত হত তখন উঠে সালাতে চলে যেতেন।
* সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬০৭৯, সহিহ হাদিসঃ আয়েশা (রা) বলেন , আমার জ্ঞান হবার পর থেকেই আমি আমার বাবা-মাকে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত পেয়েছি । আমাদের উপর এমন কোন দিন যায়নি , যে দদিনের দু প্রান্তে সকালে ও বিকালে রাসুল (সা) আমাদের নিকট আসতেন না । একদিন দুপুর বেলা আমরা আবু বকর (রা) এর কক্ষে উপবিষ্ট ছিলাম । একজন বলল এই যে রাসুল (সা) ! । তিনি এমন সময় এসেছেন যে সময় তিনি আমাদের এখানে আসেন না । আবু বকর (সা) বলেন কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাঁকে এ মুহূর্তে নিয়ে এসেছে । নবী (সা) বললেন আমাকে মক্কা থেকে বহির্গমনের আদেশ দেয়া হয়েছে ।
* সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬১১৪, সহিহ হাদিসঃ রাসুল (সা) বলেন, প্রকৃত বীর সে নয় , যে কাউকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয় , বরং সেই আসল বীর যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে ।
* সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২১৪৪, সহিহ হাদিসঃ রাসুল (সা) বলেন তোমরা যা খাবে স্ত্রীদেরকেও তাই খাওয়াবে এবং তোমরা যা পরবে , তাদেরকেও তা পরিধান করাবে । তাদেরকে প্রহার করবে না এবং গালিগালাজ করবে না ।
* সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২১৪৬, সহিহ হাদিসঃনবী (সা) বলেছেনঃ যারা স্ত্রীদেরকে প্রহার করে তারা তোমাদের মধ্যে উত্তম না।
*সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৫৫, সহিহ হাদিসঃরাসুল (সা) বলেছেনঃমানুষ স্বীয় পরিবার-পরিজনের জন্য পুণ্যের আশায় যখন ব্যয় করে তখন সেটা তার জন্য সদাক্বাহ হয়ে যায়।
*সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৫৬, সহিহ হাদিসঃ রাসুল (সা) বলেছেনঃ ‘তুমি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে যা-ই ব্যয় করো না কেন, তোমাকে তার প্রতিদান নিশ্চিতরূপে প্রদান করা হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যা তুলে দাও, তারও।’
* সুনানে আন নাসায়ি,স্ত্রীকে ভালবাসা অধ্যায়, হাদিস নং ৩৯৩৯ এবং ৩৯৪০, হাসান সহিহঃ রাসুল (সা) বলেছেনঃপার্থিব বস্তুর মধ্যে স্ত্রী ও সুগন্ধী আমার নিকট পছন্দনীয় করা হয়েছে এবং নামাযে রাখা হয়েছে আমার নয়নের প্রশান্তি।
* সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩৫৫৯ এবং ৬০৩৫, সহিহ হাদিসঃ আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন নবী (সা) স্বভাবগত ভাবে অশালীন কথা বলতেন না,ইচ্ছা করে তিনি অশালীন কথা বলতেন না,অশ্লীল ভাষী ও অসদাচরণের অধিকারী ছিলেন না । তিনি বলতেন, তোমাদের মধ্যে যার স্বভাব চরিত্র উত্তম সেই তোমাদের মধ্যে সর্বউত্তম।
* সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৪১৭৭, সহিহ হাদিসঃ নবী (সা) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যাক্তি সর্বশ্রেষ্ঠ যে তার পরিবারের কাছে ভাল ।
* জামে আত তিরমিজি, হাদিস নং ২২৬৩, সহিহ হাদিসঃ নবী (সা) বলেন, সেই লোক তোমাদের মধ্যে সবচাইতে উত্তম যার নিকট কল্যাণ কামনা করা যায় এবং যার ক্ষতি হতে মুক্ত থাকা যায়। আর সেই লোক তোমাদের মধ্যে সবচাইতে নিকৃষ্ট যার নিকট কল্যাণের আশা করা যায় না এবং যার ক্ষতি হতেও নিরাপদ থাকা যায় না।
উপরের হাদিস হতে আমরা জানতে পারলাম স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব হলঃ
১/ স্ত্রীর সাথে ভালভাবে , সুন্দর ভাবে জীবনযাপন করতে হবে । স্ত্রীদের এক কাজ স্বামীর প্রতি ভাল না লাগলেও অন্য কাজ ভাল লাগবে ।
২/ স্ত্রীর কাজ কর্মে সাহায্য করা ।
৩/ নিজের শ্বশুরবাড়ির লোকদের খোজখবর নেয়া ।
৪/ স্ত্রীর কোন কাজে স্বামী রেগে গেলে অবশ্যই ধৈর্য ধারন করা । এটাই বীর হওয়ার লক্ষন ।
৫/ স্ত্রীদের খাওয়ানো, পোশাক কিনে দেওয়া স্বামীর দায়িত্ব । গালাগালি এবং প্রহার করা যাবে না স্ত্রীদের ।
৬/ যারা স্ত্রীদের প্রহার করে তারা ভাল স্বামী না ।
৭/ নিজ পরিবারের জন্য সম্পদ খরচ করা ।
৮/ মাঝে মাঝে স্ত্রীর মুখে খাবার খাইয়ে দেয়া , স্বামী স্ত্রীর রোম্যান্টিকতা ।
৯/ নবী (সা) স্ত্রীদের পছন্দ করতেন তাই তার অনুসারীরাও স্ত্রীদের ভালবাসবেন, নারীদের সম্মান করবেন, নারীদের অধিকার আদায়ে লড়বেন এটাই স্বাভাবিক ।
১০/ যে উত্তম চরিত্রের অধিকারী সেই উত্তম মুসলিম।
১১/ পরিবারের কাছে যে ভাল সেই উত্তম মুসলিম ।
১২/ যার কাছে কল্যাণ কামনা করা যায় সে উত্তম আর যার কাছে কল্যাণ কামনা করা যায় না যে নিকৃষ্ট । আর স্ত্রী তার স্বামীর কাছে কল্যাণ চাইলে সে স্বামী তার জন্য উত্তম ।
পরিশেষে কিছু কথা
উপরের প্রশ্নকর্তা যেই এঙ্গেলে প্রশ্ন করেছে তার সাথে ইসলামের বিন্দুমাত্র কি কোন সম্পর্ক আছে ? উত্তর হচ্ছে না । ভেবে দেখেছেন কখনো নাস্তিকরা আসলে যেই ইসলাম জানে সেটা আসলে ইসলাম না সেটাই নাস্তিক ধর্ম! এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই , নাই , বিন্দুমাত্র নাই । একজন স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কি দায়িত্ব এই বিশুদ্ধ তথ্য গুলা কি নাস্তিক অন্ধ বিশ্বাসীরা জানে না ? উত্তর হল জানে কিন্তু ঐ যে নাস্তিকিও বিজনেস লস হবে , বুঝেন নাই হিসাবটা ! হাহাহা
আমি একটি কথা প্রাই বলি ইসলামের সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকলে সে কখনো নাস্তিক ধর্ম গ্রহণ করতেই পারে না কারন নাস্তিক ধর্ম মানতে হলে উপরের যেই কয়টি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে একজন মুসলিমকে সেই কাজের বিরোধিতা করতে হবে। তা না হলে একজন নাস্তিক অন্ধ বিশ্বাসী, সে নাস্তিক ধর্মের অনুসারী হতেই পারবে না যেহেতু তার আসলে টার্গেট দুনিয়া থেকে ইসলাম ধর্ম ধ্বংস হয়ে যাওয়া ! এরমানে ইসলাম যাই বলুক সেটার বিরোধিতা একজন নাস্তিককে করতেই হবে , নাস্তিক ধর্মে ইসলামের বিরোধিতা করা ফরজ !
ইসলাম এবং নাস্তিক ধর্মে পার্থক্য এখানেই

লিখেছেনঃ এম ডি আলী

প্রতিদিন ৭টি আজওয়া খেজুর খেলে বিষ পান করলে নাকি কিছু হবেনা !!

সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি অসুস্থ হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দেখতে আসলেন এবং আমার বুকে তাঁর হাত রাখলেন। আমি আমার হৃদয়ে তাঁর হাতের শীতলতা অনুভব করলাম। অতঃপর তিনি বললেনঃ তুমি হৃদরোগী, তুমি সাকীফ গোত্রের হারিস ইবনু কালাদাহ্‌র নিকট যাও; কারণ সে এসব রোগের চিকিৎসা করে। সে যেন মাদীনাহ্‌র আজওয়া খেজুর হতে সাতটি খেজুর নিয়ে বীচিসহ চূর্ণ করে সেগুলো তোমার মুখে ঢেলে দেয়। [৩৮৭৫]

প্রতিদিন ৭টি আজওয়া খেজুর খেলে বিষ পান করলেও কিছু হবেনা তাই নয় কি?

জবাবঃ
প্রথমত, হাদিসে কোথাও বিষপান করলে বিষ ক্রিয়া হবে না এমন বক্তব্য নেই। আমরা এখানে কিছু প্রশ্ন রাখতে পারি যে,
১। আজওয়া কী? হাদিসটি কাদের জন্য প্রযোজ্য? এবং তৎকালীন মুসলিমরা হাদিসটি থেকে কী বুঝেছে?
২। বিষ কী? হাদিসে বর্ণিত বিষ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
৩। বিষ খেয়েই কী হাদিসটিকে সত্য প্রমাণ করতে হবে?
৪। প্রকৃতপক্ষে আজওয়া কী বিষের কার্যকারিতা নষ্ট করে?
উক্ত চারটি প্রশ্নের উত্তর পেলেই আমরা হাদিসটি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারব।
.
হাদিসটিকে মডারেট মুসলিমরা দুর্বল বা জাল বানানোর চেষ্টা করেছে। এটা নিন্দনীয়। হাদিসটি বুখারী শরিফের এবং হাদিসটি সহীহ। তবে হাদিস শাস্ত্রের একটি মূলনীতি রয়েছে যে, হাদিস বর্ণনার চেইন যদি শক্তিশালীও হয় কিন্তু হাদিসের বক্তব্য যদি বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় তবে হাদিসটি বাতিল বলে গণ্য হবে। সুতরাং উপরিক্তো হাদিস যদি সহীহও হত এবং তা যদি বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক হত, তবে তা বাতিল বলে গণ্য হত।
Al-Sakhawi Fath al-Mugeet একথাটিই বলেছেন, Every hadith you find against intellect or (find it) contradicting (well-established) principles, rest assured that it is fabricated. Therefore, you do not need to consider it i.e. do not take into account its narrators and do not look into their criticism.
.
বিষ খেলেও কোনো ক্ষতি হবে না এটা বাস্তবতা বিরোধী বক্তব্য। তবুও হাদিসের ইমামরা কেন হাদিসটিকে লিপিবদ্ধ করল? কারণ আমাদের নাস্তিক ভাইরা হাদিসের যে মর্মার্থ করছে তা ভুল। এবং তৎকালীন আরবদের কেউই হাদিস পড়ে এটা বুঝেন নি যে, বিষ (External Toxin) খেলেও কোনো বিষ ক্রিয়া হবে না। আর আজওয়া খেঁজুরের Detoxification ক্ষমতা সম্পর্কে কেবল রসূল সাঃ বলেন নি বরং আজওয়া খেঁজুর হচ্ছে আরবদের ট্যাডিশনাল হার্বাল চিকিৎসা। ৬০০০ হাজার বছর ধরে মধ্য খেঁজুরের চাষ হচ্ছে। তৎকালীন আরবরা আজওয়া খেঁজুরের গুণাগুণ জানত, কিন্তু কেউই হাদিসের এই মর্মার্থ করে নি যে, আজওয়া খেঁজুর খেয়ে বিষ পান করলেও বিষ কাজ করবে না। তারা জানত এটা Internal Toxin যা শরীরে উৎপত্তি হয়ে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে তার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করে। এবং রসূল সাঃ সেটাই বলেছেন।
এটা নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনায় আসছি।
আরবদের তৎকালীন কোনো কাফেররা তো এটা বলে নি যে,
ওহে, অমুক। শুনলাম আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ নাকি বলেছে প্রতিদিন সাতটি আজওয়া খেলে, বিষ খেলেও কোনো ক্ষতি হবে না? তো তুমি কী আজ আজওয়া খেয়েছ? যদি খেয়ে থাক, তবে এই নাও বিষ এবং বিষ খেয়ে প্রমাণ কর যে, আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ সত্য বলেছে?
.
এমন কোনো ঘটনা কী ঘটেছে? ঘটে নি। নাস্তিক ভাইরা হাদিস থেকে যে নিগূঢ় তথ্য উৎঘাটন করেছে তা তৎকালীন আরবরা কেন কাজে লাগায় নি? এটা করলেই তো মুহাম্মদ (সাঃ) কে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করা হয়ে যেত! কিন্তু তারা এমন কিছু বলেন নি কারণ তারা জানত হাদিসের মর্মার্থ এমন নয়।

এমনকি রসূল সাঃ কী কখনো বিষপান রোগীকে বলেছেন যে, তুমি আজওয়া খাও, বিষক্রিয়া নষ্ট হয়ে যাবে। বা আরব সমাজে কেউ কি হাদিসের রেফারেন্স দিয়ে এটা বলেছেন যে, আজওয়া খেয়ে বিষপান করলেও বিষ কাজ করবে না? নাস্তিক ভাইদের কাছে প্রশ্নের উত্তর চাইছি।
.
সুতরাং, বলাবাহুল্য যে, নাস্তিকরা হাদিসটির যে মর্মার্থ করেছে তা ভুল। এখন আমাদের জানতে হবে যে, হাদিসটির সঠিক মর্মার্থ কী?
.
হাসান রাঃ হতে বর্ণিত যে, রাসূল সাঃ অল্প কথা বলতেন, কিন্তু তা হত ব্যাপক অর্থ বহুল হত। (তিরমিযী)
.
আজওয়া খেঁজুরের এই হাদিসটিও ব্যাপক অর্থপূর্ণ এবং এর মধ্যে লুকিয়ে আছে মেডিক্যাল সায়েন্সের কিছু নিগূঢ় তথ্য যা বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যাপক উন্নতি সাধন করতে পারে। যেহেতু রসূল (সাঃ) এর অল্প কথায় অধিক তাৎপর্য থাকত, তাই এটা স্বাভাবিক যে, সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ ভালো করে গবেষণা না করলে হাদিসটির রহস্য উৎঘাটন করতে পারবে না। এবং ভুল ব্যাখ্যা করবে। আজওয়া খেঁজুর নিয়ে প্রচুর রিসার্চ হয়েছে এবং আমি বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত রিসার্চ পেপারে প্রকাশিত তথ্য নিয়েই আলোচনা করব।
.
১. আজওয়া খেঁজুর কী এবং কাদের জন্য প্রযোজ্য? তৎকালীন আরবরা হাদিসটি থেকে কী বুঝেছে?
.
আজওয়া অন্যান্য সাধারণ খেঁজুরের মত নয়, এটা মদিনার সবচে' উন্নতমানের খেঁজুর এবং অনেক বেশি মিষ্টি। খেঁজুরে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, সিলিনিয়াম, কপার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং খেঁজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বহাইড্রেট যা আমাদের তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। পবিত্র কুরআনেও একই কথা বলা হয়েছে:
.
সূরা মারইয়াম:(২৫-২৬) - আর তুমি নিজের দিকে খেজুর গাছের কান্ডে নাড়া দাও, তা থেকে তোমার উপর সুপক্ক খেজুর পতিত হবে। যখন আহার কর, পান কর এবং চক্ষু শীতল কর।
.
এবার, আমরা আজওয়া সম্পর্কিত বাকি হাদিসগুলো দেখি:
অন্যান্য হাদিসে প্রতিদিন এবং সকালে খেঁজুর দিয়ে নাস্তা করার কথা কথা বলা হয়েছে। এবং তা আপনার শরীরে টক্সিনে বিরুদ্ধে কাজ করার শক্তি জোগাবে এবং রসূল সাঃ এর বক্তব্য অনুযায়ী এটা সকালে খেলে সবচে' ভালো কাজ করে। এখানে Injected বা বাইরের বিষ বোঝানো হয় নি, বরং শরীরে যে টক্সিন তৈরী করে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে তার কথা বলা হয়েছে। নিচের হাদিসগুলো দেখলে বিষয়টি বুঝতে পারবেন:
.
আয়েশা( রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেন, আজওয়া খেঁজুর রোগ নিরাময়কারী এবং প্রাতঃকালীন প্রতিষেধক। (সহীহ মুসলিম)
.
উপরিক্তো হাদিস দ্বারা বিষ ক্ষতি করতে পারবে না কথাটি বোঝানো গিয়ে রসূল (সাঃ) খেঁজুরের রোগ নিরাময়কারী গুণাগুণ বুঝিয়েছেন। এবং আপনি অন্যান্য হাদিস দেখলে বোঝা যায় যে, আজওয়া খেঁজুরের সর্বোচ্চ বেনিফিট পাওয়া যায় যদি এটা রোযা অবস্থায় খালি পেটে সকালে খাওয়া যায়। এবং সাহাবীরা এটাই বুঝেছেন, যেমন Bacterial toxins মারাত্নক হার্টের অসুখ তৈরী করতে পারে।[1] একদিন সাহাবী সাদ (রাঃ) এরও এমন হার্টের সমস্যা হয় এবং রসূল (সাঃ) তাকে আজওয়া খেঁজুর খাওয়ার পরামর্শ দেন।

(আবু দাউদ ৩৮৩৫) ইসহাক ইবন ইসমাইল (রহঃ) - - -সা'আদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি পীড়িত হলে রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাকে দেখার জন্য আসেন। এ সময় তিনি তাঁর হাত আমার বুকের উপর রাখলে আমি তাঁর শৈত্যতা আমার হৃদয়ে অনুভব করি । এরপর তিনি বলেনঃ তুমি হার্টের রুগী । কাজেই তুমি ছাকীফ গোত্রের অধিবাসী হারিছা ইবন কালদার নিকট যাও। কেননা, সে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক । আর সে যেন মদীনার আজওয়া খেজুরের সাতটা খেজুর নিয়ে, তা বীচিসহ চূর্ণ করে তোমার জন্য তা দিয়ে সাতটি বড়ি তৈরী করে দেয়।
.
এতে বোঝা যায়, বিষ বলতে রাসূল (সাঃ) Internal toxin বুঝিয়েছেন। কারণ আজওয়া খেঁজুর যদি External Toxin এর জন্য হত, তাহলে রাসূল (সাঃ) হার্টের রোগের জন্য কেন আজওয়া নেওয়ার কথা বললেন? আজওয়া খেঁজুর Internal toxin উপর ইফেক্টিভ বলেই তো তিনি হার্টের অসুখের জন্য আজওয়া নিতে বললেন, তাই নয় কি?
.
ব্যাকটেরিয়াল টক্সিন থেকে হার্ট ডিজিজ সৃষ্টি হতে পারে, কোলেস্টরল নিজেই একপ্রকার টক্সিন এবং এটাও অনেক হার্টের রোগ সৃষ্টি করে এবং তার চিকিৎসা হিসেবে আজওয়া খেঁজুর দেওয়া যেতে পারে। উক্ত হাদিস থেকে কী এটা বোঝা যাচ্ছে না যে, রাসূল (সাঃ) বিষ বলতে External toxin নয় বরং Internal Toxin কে বুঝিয়েছেন এবং বিভিন্ন রিসার্চে তা প্রমাণও হয়েছে যে, খেঁজুরে Detoxification ক্ষমতা রয়েছে। রসূল সাঃ হাদিসে Internal Toxin এর কথা বুঝিয়েছেন তার জন্য অারো অনেক প্রমাণ দেওয়া যায়। যেমন একটি Toxic Liver কে Detoxification করার জন্য আজওয়া খেঁজুর ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ আজওয়ার Detoxification ক্ষমতা রয়েছে তা প্রমাণিত। এবং লিভার ডিজিজের জন্য আজওয়া বেশ উপকারী।
.
আলী (রাঃ) বলেন, “যে প্রতিদিন সাতটি খেঁজুর খায়, এটা তার পেটের রোগ গুলোকে মেরে ফেলে। (Kanzul Ummal, Hadith 28472)
.
তাহলে এটা স্পষ্ট যে, হাদিসে বাইরের টক্সিন বা External টক্সিনের কথা হচ্ছে না। বরং দেহের অভ্যন্তরের টক্সিন যা আমাদের দেহে রোগ সৃষ্টি করে, সেগুলোর প্রতি প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করে।
,
২.
কিন্তু নাস্তিকদের সাথে হাদিসটি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে তারা বারবারই External Toxin এর কথা বলেছে। যা একটি ভুল ব্যাখ্যা। টক্সিন কী যদি আমরা সঠিক ভাবে না বুঝি তাহলে হাদিসটির মর্মার্থ আমরা উদ্ধার করতে পারব না।
.
তারা টক্সিন বলতে বোতলে পাওয়া যায় বিষাক্ত তরলকেই মনে করে। কিন্তু আমাদের মানবদেহ যে একটা আশ্চর্যের জায়গা তারা মনে হয় তা জানে না। এটা নিজেই বিষণ হয়, আবার নিজেই প্রতিরোধ করে। আমাদের শরীর অবিরত টক্সিন উৎপন্ন করে। আমাদের শরীরে অনবরত শক্তি বার্ন করে টিস্যু পুনর্নিমাণ, মৃত কোষের প্রতিস্থাপন করার জন্য এবং এটা করতে গিয়ে শরীর ভালো পরিমাণে Internal Toxin তৈরী করে। যেহেতু আমাদের শরীর অনবরত টক্সিন তৈরী করে, তাই এটা তা চিহ্নিত করার জন্য কোনো বিরত পায় না। এবং এটা তখনই মারাত্নক আকার ধারণ করে যখন এগুলো স্তূপীত হয় এবং আশেপাশের সেল এবং অঙ্গকে ডেমেজ করে।
.
তাই আমাদের বডির Detoxification এর প্রয়োজন হয়। ইন্টারনেট সার্চ দিয়ে এমন অনেক খাবার পাবেন যেগুলো Detoxification এ সাহায্য করে। আর আমাদের নবী (সাঃ) এর প্রস্তাব হচ্ছে সকালে সাতটা আজওয়া খেঁজুর খাও, এটা তোমার শরীরকে detoxify করে বিষ থেকে রক্ষা করবে। আলহামদুলিল্লাহ। রিসার্চও এটা মেনে নিচ্ছে।
.
কিন্তু নাস্তিকরা বার বার External toxin এর কথা বলে হাদিসের মূল ব্যাখ্যাকে অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা করছে। হাদিসে কোথায় বলা হয় নি যে, বিষ খেলে বিষ ক্রিয়া হবে না। হাদিসে বলা হয়েছে, আজওয়া খেঁজুর খেলে Internal toxin থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। সুতরাং বিষ খেয়ে হাদিসের সত্যতা প্রমাণ করার প্রশ্নই আসে না।

৩.
আমরা প্রমাণ করেছি, হাদিসে বাইরে থেকে ইনজেক্ট করা কোনো External toxin নয়, বরং শরীররের অভ্যন্তরে যে Internal toxin উৎপন্ন হয়, তার প্রতিষেধক হিসেবে আজওয়া খেঁজুরের কথা বলা হয়েছে।
বাইরে থেকে কোনো বিষ পান করলে বিষ পানকারী মারা যাবে। আজওয়া খেলেও। আর আমাদের নাস্তিক ভাইরা তো সেচ্ছায় বিষ পান করার কথা বলেছেন। বিষ পান করে প্রমাণ করতে হবে যে, আজওয়া তার কাজ দেখাচ্ছে! এ দাবি করাটাও বোকামি। আমাদের নাস্তিক ভাইয়েরা হয়ত ভুলে যাচ্ছেন যে, সেচ্ছায় বিষ খেলে সেটা আর ঈমানী পরিক্ষা থাকবে না, বরং সেটাকে বলা হবে আত্মহত্যা। এই ঈমানী পরিক্ষা দিয়ে জান্নাত না পাওয়া গেলেও জাহান্নাম নিশ্চিত পাওয়া যাবে। আত্মহত্যা মহাপাপ। এবং বলাবাহুল্য যে, আজওয়া খেঁজুরের মত আধ্যাত্মিক খাবার আপনাকে আত্মহত্যা থেকে বাঁচাবে না। বিসমিল্লাহ বলে ব্যভিচার করে আল্লাহর রহমত আশা যেমন বোকামি, তেমনি বিষ খেয়ে আজওয়া খেঁজুরের মত আধ্যাত্মিক খাবার আপনাকে বিষ ক্রিয়ামুক্ত করবে এটা আশা করাও বোকামি।
.
তাই উক্ত হাদিসে যদি External বিষের কথাও থাকত, তাহলেও নাস্তিকরা আমাদের কাছে বিষ খেয়ে পরীক্ষা দেওয়ার দাবি জানাতে পারে না। কারণ আত্মহত্যার মত মহাপাপে আজওয়ার মত বেহেশতি ফল তার কাজ করবে না এটাই স্বাভাবিক।
.
৪.
খেঁজুর যে টক্সিনের প্রতি নিবারক ভূমিকা পালন করে তা বেশকিছু জার্নালে রিসার্চ পেপার প্রকাশিত হয়েছে। আমি সেগুলোর সার-সংক্ষেপ প্রকাশ করছি:
.
Antioxidant Activity: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হল একটি মলিকিউল যা অক্সিডাইজেশনে বাধা প্রদান করে। অক্সিডাইজেশন হল এক প্রকার রাসায়নিক বিক্রিয়া যা ফ্রি রেডিক্যাল তৈরী করে সেল ড্যামেজ করে। অক্সিডেন্ট stress এর কারণে toxic effect সৃষ্টি হতে পারে। যা হাদিসের বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। কারণ খেঁজুরে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন C,A,E আছে। ডিএনএ তে অক্সিডেটিভ ড্যামেজের কারণে ক্যান্সার, হার্ট ফেইলারসহ নানা রোগ হতে পারে। এবং রিসার্চে খেঁজুরের এন্টিক্যান্সার কার্যক্রমও লক্ষ্য করা গেছে।সুতরাং খেঁজুরের এন্টিঅক্সিডেন্ট কার্যক্রম ক্যান্সার এর মত কঠিন রোগ নিয়াময়ে এক নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।[2]

Hepaprotective Activity: Ochratoxin A (OTA) Aspergillus and Penicillum genera থেকে প্রস্তুতকৃত একটি মাকোটক্সিন। এটি বহুল ব্যবহৃত দূষক। এটা টক্সিন ইফেক্ট প্রদর্শন করে। এটা hepatoxicity প্রণোদিত করে। যা Liver toxicity সৃষ্টি করি। এবং রিসার্চে দেখা গেছে আজওয়া খেঁজুরের hepatoxicity কমানোর ক্ষমতা রয়েছে। এটা hepatoxicity বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষণের ভূমিকা পালন করে।[3] আলী (রাঃ) বলেন, “যে প্রতিদিন সাতটি খেঁজুর খাই, এটা তার পেটের রোগ গুলোকে মেরে ফেলে। (Kanzul Ummal, Hadith 28472)।
.
এর রয়েছে Nephroprotective activity[4], Neuroprotective activity[5], Gastrointestinal protective activity[6], Anti-diabetic activity[7] যা হাদিসের সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ। জার্নালগুলোর রিসার্চ পেপারগুলো দেখলে Internal Toxic এর উপর আজওয়া খেঁজুরের অসাধারণ প্রতিরক্ষণ ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারবেন।[8] যা হাদিসের সত্যতার প্রমাণ। আলহামদুলিল্লাহ।
.
আল্লাহ্‌ নাস্তিকদের মিথ্যাচার ও অপব্যাখ্যা থেকে ঈমানদারদের হেফাজত করুন,আমিন!
তথ্যসূত্র:
1. Bacterial toxins cause deadly heart disease-Science daily
2. World Journal of Dairy & Food Sciences 9 (2): 308-316, 2014: Nutritional Value, Cytotoxicity, Anti-Carcinogenic and Beverage Evaluation of Roasted Date Pits
3. Ahmed MB, Hasona NaS, Selemain HAH (2008) Protective effects of extract from dates (Phoenix Dactylifera L.) and ascorbic acid on thioacetamide-induced hepatotoxicity in rats. Iran J Pharm Res 7: 193-201
4. 280-289. 28.Al-Qarawi AA, Abdel-Rahman H, Mousa HM, Ali BH, El-Mougy SA (2008) Nephroprotective action of Phoenix dactylifera in gentamicin induced nephrotoxicity. Pharm Biol 46: 227–230
5. Zangiabadi N, Asadi-Shekaari M, Sheibani V, Jafari M, Shabani M, et al. (2011) Date fruit extract is a neuroprotective agent in diabetic peripheral neuropathy in streptozotocin-induced diabetic rats: a multimodal analysis. Oxid Med Cell Longev 2011: 976948
6. Al-Qarawi AA, Abdel-RH, Ali BH, Mousa HM, El-Mougy SA (2005) The ameliorative effect of dates (Phoenix dactylifera L.) on ethanol-induced gastric ulcer in rats. J Ethnopharmacol 98: 313-317
7. Mard SA, Jalalvand K, Jafarinejad M, Balochi H, Naseri MKG (2010) Evaluation of the antidiabetic and antilipaemic activities of the hydroalcoholic extract of Phoenix dactylifera palm leaves and its fractions in alloxan-Induced diabetic rats. Malays J Med Sci 17: 4-13
8. http://nutraceuticals.imedpub.com/date-palm-phoenix-dactyli?fbclid=IwAR1Gr2ybghnQHHqWfoOuhCWqsuDAFQTCByTIYxdQTMI8c-es9xuQKUZwGuk

বাচ্চাদের প্রাথমিক রুকইয়াহ ও বিধিনিষেধ

প্রাথমিক রুকইয়াহ পদ্ধতিঃ  ১।   মানুষ ও জ্বীনের বদনজর ও জ্বীনের আছর থেকে হিফাযত ও শিফার নিয়তে - দুরুদে ইব্রাহিম, সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি,...