Monday, January 20, 2020

মৃতের লাশ ময়না তদন্ত করার বিধান

মৃতের লাশ ময়না তদন্ত করার বিধান:
-------------------------------------
মৃতের লাশ পোস্ট মর্টেম বা ময়না তদন্ত করার ব্যাপারে সংক্ষেপে কথা হল:
আমাদের জানা জরুরি যে, মুসলিম ব্যক্তির দেহ সম্মানের পাত্র জীবদ্দশায় হোক অথবা মৃত্যুর পরে হোক। তাই তো ইসলামে অতি যত্নের সাথে মৃতের গোসল, কাফন-দাফন প্রক্রিয়া সমাপ্ত করে সসম্মানে তার লাশ কবর দেয়ার নির্দেশ এসেছে। আর মৃত ব্যক্তিকে অপদস্থ করা বা শরীরে আঘাত করা বা তার হাড়-হাড্ডি ভাঙ্গার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞায় হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যেমন:
عَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ: كَسْرُ عَظْمِ الْمَيِّتِ كَكَسْرِه حَيًّا
আয়েশা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গা, জীবিতকালে তার হাড় ভাঙারই মতো।”
(আবু দাউদ, হা/৩২০৭, ইবনে মাজাহ হা/ ১৬১৬, সহীহ আত্ তারগীব, হা/ ৩৫৬৭-সনদ সহিহ)

◉ ব্যাখ্যা: এ হাদিসে মৃত ব্যক্তিকে অবজ্ঞা ও অবহেলা করতে নিষেধ করা হয়েছে।
আলোচ্য হাদিসের বর্ণনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আল্লামা সুয়ূতী (রহঃ) আবু দাঊদের হাশিয়ার মধ্যে উল্লেখ করেছেন, জাবির (রাঃ) বলেন, একবার আমরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক জানাযায় গেলাম। সেখানে গিয়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের কাছে বসলেন এবং তার সাথে সাহাবীরাও বসলেন। এমন সময় একজন গর্ত খননকারী বেশ কিছু হাড় বের করে আনল এবং সে এগুলো ভাঙ্গার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এগুলো ভাঙ্গিও না। কেননা َ كَسْرُ عَظْمِ الْمَيِّتِ كَكَسْرِه حَيًّا “মৃত অবস্থায় হাড় ভাঙ্গা জীবদ্দশায় হাড় ভাঙ্গার অনুরূপ।”
◗ আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেন: এ হাদিস দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, জীবিত ব্যক্তিকে যেমন অপমান-অপদস্থ ও লাঞ্ছিত করা যায় না ঠিক তেমনিভাবে মৃত ব্যক্তিকে অনুরূপ অবজ্ঞা ও অবহেলা করা যাবে না।
◗ ইবনে আবদুল বার বলেন, এ হাদিস থেকে এ ফায়দা গ্রহণ করা যায় যে, জীবিত ব্যক্তি যে সব কারণে কষ্ট ও ব্যথা অনুভব করে মৃত ব্যক্তিও সেসব কারণে ব্যথা ও কষ্ট অনুভব করে। (হাদিস বিডি ডট কম থেকে সংগৃহীত)
তবে বর্তমানে মানুষ হত্যা ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে তদন্তের স্বার্থে অথবা বিশেষ কোন সংক্রামক রোগের কারণ নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে মৃতের দেহের অংশ বিশেষ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এ কাজটি বৃহত্তর স্বার্থে জায়েজ বলে নির্ভরযোগ্য আলেমগণ ফতোয়া প্রদান করেছেন এবং এটি Islamic Fiqh Academy এর সিদ্ধান্ত।
আল্লাহু আলাম।
-----------------------
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

ছলাতুল ইশরাকের গুরুত্ব কতটুকু ও ফজিলত এবং এ সংক্রান্ত মাসায়েল

প্রশ্ন: সালাতুল ইশরাকের গুরুত্ব কতটুকু? ফজরের নামাজ পড়ে, মসজিদে না বসে বাড়িতে এসে ইশরাকের নামাজ পড়লে কি হবে বা এতে সওয়াবের কি কোন কমতি হবে?
উত্তর:
সালাতুল ইশরাক বা সালাতুশ শুরুক অর্থ: সূর্যোদয়ের সালাত। এর গুরুত্ব ও মর্যাদার ব্যাপারে হাদিস এসেছে।
নিম্নে হাদিস তুলে ধরে এ প্রসঙ্গে জরুরি কিছু মাসায়েল তুলে ধরা হল:
আনাস বিন মালিক রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِيْ جَمَاعَةٍ ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ
“যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে ফজরের সালাত আদায়ের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকল অতঃপর (সূর্যোদয়ের পর) দুই রাকআত সালাত আদায় করল, তার জন্য একটি পূর্ণ হজ্জ ও একটি পূর্ণ ওমরার নেকী রয়েছে।’ [[তিরমিযী হা/৫৮৬; মিশকাত হা/৯৭১। এ হাদিসটি সহিহ না কি জইফ এ বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। শাইখ আলবানি সহ কিছু সংখ্যক মুহাদ্দিস এটিকে হাসান এবং অন্য একদল আলিম এ হাদিসটিকে যঈফ (দুর্বল) বলেছেন]
যাহোক, কেউ যদি পড়তে চায় তাহলে পড়তে পারে। এতে আশা করা যায়, আল্লাহ তাকে হাদিসে বর্ণিত উক্ত সওয়াব দান করবেন।
➤ কতিপয় লক্ষণীয় বিষয়:
● এখানে ফজর সালাত জামাআতে পড়ার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং এ ফযিলত লাভ করতে হলে মসজিদে গিয়ে ফজর সালাত জামাআতে আদায় করা শর্ত।
● জামাআতে পড়ার পর থেকে নামাযের স্থানে বসে জিকির-আজকার, তাসবীহ-তাহলীল, কুরআন তিলাওয়াত, কুরআনের তরজমা ও তাফসির পাঠ ইত্যাদি নেকির কাজে লিপ্ত থাকতে হবে। (অবশ্য পেশাব-পায়খানা বা প্রয়োজনে ওযু করার জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর আবার যথাস্থানে ফিরে এসে জিকির-আজকার, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদিতে লিপ্ত হলেও কোন সমস্যা নেই।)
● এক ধনুক পরিমাণ সূর্য উদিত হওয়ার পর (সূর্য ওঠাার প্রায় ১৫/২০ মিনিট পর) উক্ত সালাত আদায় করতে হবে। কেননা, ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্য এক ধনুক পরিমাণ উদিত হওয়া পর্যন্ত (সূর্য ওঠার প্রায় ১৫/২০ মিনিট পর্যন্ত) সাধারণ নফল সালাত পড়া নিষিদ্ধ।
সুতরাং কেউ যদি বিনা প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরে এসে সূর্য উদিত হওয়ার ১৫/২০ মি: পর দু রাকআত সালাতুল ইশরাক পড়ে তাহলে উক্ত সাওয়াব লাভ করবে না। তবে দু রাকআত ইশরাকের নফল সালাতের সাধারণ সওয়াব পাবে ইনশাআল্লাহ।
অবশ্য -বিজ্ঞ আলেমগণ বলেছেন- যদি ফজর সালাতের পরে মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হয় (যেমনটি শহরের অনেক মসজিদে করা হয়) বা বিশেষ কোন কারণে মসজিদে থাকা সম্ভব না হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে যদি মসজিদ থেকে ফিরে আসে এবং বাড়িতে বসে জিকির-আজকার করা অবস্থায় সূর্য উদিত হওয়ার ১৫/২০ মি: পর উক্ত সালাত পড়ে তাহলেও যথাযথ সওয়াব পাওয়া যাবে আশা করি।

সালাতুল ইশরাকের ফযিলত এবং এ সংক্রান্ত মাসায়েল
▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰
প্রশ্ন: সালাতুল ইশরাক এর ফযিলত কি?
আমরা জেনেছি যে, ইশরাক নামাজ সূর্য উদিত হওয়ার ১৫/২০ মিনিট পরে এবং ফজর পরে একই জায়গায় বসে থাকতে হবে। আমার প্রশ্ন হল, কেউ যদি একই জায়গায় বসে না থেকে একটু হাঁটাহাঁটি বা ঘরের টুকটাক কাজ করে এবং ইশরাকের সময় হলে নামাজটা পরে নেয় তাহলে এতে কি ইশরাকের সওয়াব পাওয়া যাবে?
দয়া করে এ সংক্রান্ত মাসআলাগুলো জানাবেন।
উত্তর:
সালাতুল ইশরাক অত্যন্ত ফযিলতপূর্ণ সালাত। এ মর্মে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ، ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ
“যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাআতে পড়ে, অতঃপর সূর্যোদয় অবধি বসে আল্লাহর জিকির করে তারপর দুই রাকআত নামায পড়ে, সেই ব্যক্তির একটি হজ্জ ও উমরার সওয়াব লাভ হয়।”
বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ।” অর্থাৎ কোন অসম্পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব নয় বরং পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব। (তিরমিযী, সুনান, সহিহ তারগিব ৪৬১নং)
উল্লেখ্য যে, এ হাদিসটি অনেক মুহাদ্দিস জঈফ বলেছেন। কিন্তু মুহাদ্দিস আলবানি রহ. এটিকে সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
❑ কতিপয় জরুরি জ্ঞাতব্য বিষয়:
💠 একান্ত জরুরি প্রয়োজনে যদি কাউকে উঠতে হয় (যেমন, টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন) আর প্রয়োজন সেরে পুনরায় এসে সালাতের স্থানে বসে দুআ, জিকির, কুরআন তিলাওয়াতে মশগুল হয় তারপর সূর্য এক ধনুক পরিমাণ উদিত হওয়ার পর দু রাকআত সালাত আদায় করে তাহলে ইনশাআল্লাহ সওয়াবের ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটবে না।
💠 অনুরূপভাবে অসুস্থ জনিত কারণে যদি যদি নামাযের স্থানে বসে থাকা সম্ভব না হয় তাহলেও নিয়তের কারণে পূর্ণ সওয়াব অর্জন করবে ইনশাআল্লাহ। কেননা, হাদিসে এসেছে-
«إذا مرضَ العبدُ أو سافر، كُتب له مثل ما كان يعمل، مقيماً صحيحا».
“বান্দা অসুস্থ হলে বা সফর করলে (তার আমলনামায়) ঐ সওয়াব লেখা হবে সুস্থ ও আবাস অবস্থায় যে সওয়াব লেখা হত।”(সহীহুল জামে, হা/৭৯৯)
💠 তবে কেউ যদি একান্ত অপরিহার্য কাজ ছাড়া ঘর-সংসার, বা অন্য দুনিয়াবি কাজে লিপ্ত হয়ে যায় আর কাজ সেরে এসে দু রাকআত সালাত আদায় করে তাহলে উক্ত হাদিসে বর্ণিত সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। কিন্তু সাধারণ নফল ইবাদত হিসেবে সওয়াব পাবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহু আলাম।
-------------------
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

তুবা কি? ইউটিউব ভিডিওতে একটি গজল শুনলাম। সেখানে বলা হচ্ছে, “তুবা নামক গাছের পাতায় লেখা আছে মানুষের হায়াত।” এই কথাটা কতটুকু সঠিক?

তুবা: এক সুবিশাল জান্নাতি বৃক্ষ
(সাথে রয়েছে একটি ভিত্তিহীন কথার অপনোদন)
▬▬▬▬◢◯◣▬▬▬▬
প্রশ্ন: তুবা কি? ইউটিউব ভিডিওতে একটি গজল শুনলাম। সেখানে বলা হচ্ছে, “তুবা নামক গাছের পাতায় লেখা আছে মানুষের হায়াত।” এই কথাটা কতটুকু সঠিক?
উত্তর:
“তুবা নামের গাছের পাতায় লেখা আছে মানুষের হায়াত।” এটা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথা।
আমাদের জানা থাকা দরকার যে, সৃষ্টি জগতের আদি থেকে অন্ত যা কিছু ঘটেছে, ঘটছে আর ঘটবে সব কিছু লেখা আছে মহান আল্লাহর নিকট সংরক্ষিত ফলক লাওহে মাহফুজে; অন্য কোথাও নয়। মানুষের জীবন-মৃত্যু, জীবিকা, বিবাহ, ভালো-মন্দ কোন কিছুই এর বাইরে নয়। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَىٰ وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ ۚ وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُّبِينٍ
“আমিই মৃতদেরকে জীবিত করি এবং তাদের কর্ম ও কীর্তিসমূহ লিপিবদ্ধ করি। আমি প্রত্যেক বস্তু ‘স্পষ্ট কিতাবে’ সংরক্ষিত রেখেছি।” (সূরা ইয়াসিন: ১২)
ইমাম ইবনে কাসির রহ. বলেন: স্পষ্ট কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য হল, লাওহে মাহফুজ (সংরক্ষিত ফলক)।
তিনি আরও বলেন:
أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّـهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ۗ إِنَّ ذَٰلِكَ فِي كِتَابٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّـهِ يَسِيرٌ
“তুমি কি জান না যে, আল্লাহ জানেন যা কিছু আকাশে ও ভুমণ্ডলে আছে এসব কিতাবে লিখিত আছে। এটা আল্লাহর কাছে সহজ।” (সূরা হজ্জ: ৭০) ইবনে
আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক আতিয়া রহ. (গ্রানাডা) বলেন: এখানে ‘কিতাব’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, লাওহে মাহফুজ (সংরক্ষিত ফলক)-যেমনটি বলেছেন ত্ববারী রহ.। এ ছাড়াও এ প্রসঙ্গে একাধিক আয়াত ও হাদিস বিদ্যমান রয়েছে।
❑ তুবা কি এবং তা কাদের জন্য?
আল্লাহ তাআলা বলেন:
الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ طُوبَىٰ لَهُمْ وَحُسْنُ مَآبٍ
“যারা (আল্লাহর ওপর) বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে ‘তুবা’ (জান্নাতের বৃক্ষবিশেষ)। আর শুভ পরিণাম তাদেরই।” (সুরা : রাদ: ২৯)
তুবার ব্যাখ্যা:
উক্ত আয়াতে তুবা দ্বারা কী উদ্দেশ্য এ মর্মে হাদিস, সাহাবী ও তাবেঈদের বক্তব্য তুলে ধরা হল:
● উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আবু তালহা (রহ.) ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন فرح وقرة عين ‘তুবা’ অর্থ “আনন্দ ও চোখের শীতলতা।”
● ইবরাহীম নাখঈ বলেন: তুবা অর্থ: خير لهم “তাদের জন্য কল্যাণ।”
● সুদ্দী ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেন: তুবা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, জান্নাত।
● ইবনে জারির ত্বাবারী শাহর ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণনা করেন: طوبى شجرة في الجنة “তুবা হল, জান্নাতের একটি বৃক্ষ।”
● আবু সাঈদ খুদরি রা. হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
طوبى : شجرة في الجنة مسيرة مائة سنة ، ثياب أهل الجنة تخرج من أكمامها
“তুবা হল বেহেশতের একটি গাছ। ১০০ বছরের পথ পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। এই গাছের পাপড়ি থেকেই বেহেশত বাসীদের পোশাক তৈরি হবে।” (সহিহ ইবনে হিব্বান, হা/৭৪১৩, সহিহুল জামে-আলবানী হা/৩৯১৮)
[তাফসিরে ইবনে কাসির থেকে নেয়া]
❑ আরও যারা তুবা’র অধিকারী হবেন:
◐ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
طوبَى لِمَن وُجِدَ في صَحيفَتِه استِغفارًا كثيرًا
“তুবা (জান্নাতের তুবা নামক বৃক্ষ) ঐ ব্যক্তির জন্য যার আমলনামায় প্রচুর পরিমাণ ইস্তিগফার পাওয়া গেছে।” (সহিহ ইবনে মাজাহ হা/৩০৯৩)
◐ তিনি আরও বলেন:
طوبى لِمَنْ هُدِيَ لِلإِسْلامَ وكان عَيْشُهُ كَفَافًا ، وقَنَعَ
“তুবা (জান্নাতের তুবা নামক বৃক্ষ) ঐ ব্যক্তির জন্য যে ইসলামের পথের সন্ধান প্রাপ্ত হয়েছে, যার নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণে জীবিকার ব্যবস্থা আছে (কমও নয়; বেশিও নয়) এবং তাতে সে পরিতুষ্ট।” (সুনানে তিরমিযী, হা/২৩৪৯ সহিহ হাসান)
কোন কোন বৈশিষ্টের মানুষ তুবা’র অধিকারী হবে তাদের প্রসঙ্গে আরও একাধিক হাদিস রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সৎকর্ম করার মাধ্যমে জান্নাতের অধিবাসী হওয়ার তাওফিক দান করুন এবং তার নিয়ামতের ফল্গুধারায় আমাদের জীবনকে সিক্ত করুন। আমীন।
▬▬▬▬◢◯◣▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
fb id: AbdullaahilHadi
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

মুশরিক বিয়ে করে সন্তান হলে সে কি জারজ সন্তান হবে?

প্রশ্ন: মুশরিক বিয়ে করে সন্তান হলে সে কি জারজ সন্তান হবে?
উত্তর:
ইসলামের দৃষ্টিতে কোন মুসলিমের জন্য (চাই পুরুষ হোক অথবা নারী হোক) মুশরিককে বিয়ে করা হারাম।
মহান আল্লাহ বলেন:
وَلَا تَنكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّىٰ يُؤْمِنَّ ۚ وَلَأَمَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ ۗ وَلَا تُنكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّىٰ يُؤْمِنُوا ۚ وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ ۗ أُولَـٰئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ ۖ وَاللَّـهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ ۖ وَيُبَيِّنُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ
“আর তোমরা মুশরিক নারীদেরকে বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। একজন মুসলিম ক্রীতদাসী মুশরেক নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভালো লাগে। এবং তোমরা (নারীরা) কোন মুশরিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে। একজন মুসলিম ক্রীতদাসও একজন মুশরেকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা জাহান্নামের আগুনের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ নিজের হুকুমের মাধ্যমে আহ্বান করেন জান্নাত ও ক্ষমার দিকে। আর তিনি মানুষকে নিজের নির্দেশ বাতলে দেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।" (সূরা বাকারা: ২২১)
আর ইসলামের একটি মূলনীতি হল, “বিয়ে বৈধ হলে সন্তান বৈধ আর বিয়ে অবৈধ হলে সন্তানও অবৈধ।”
সুতরাং কোন মুসলিম যদি কোনও হিন্দু, বৌদ্ধ, অগ্নিপূজক, গাছ, মাছ, কবর পূজারী ইত্যাদি মুশরিককে বিয়ে করে তাহলে তার বিয়ে বাতিল। এভাবে তথাকথিত বিয়ে করে ঘর সংসার করলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে ব্যভিচার হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং তাদের ঔরসজাত সন্তানও হবে অবৈধ (জারজ) সন্তান।

উল্লেখ্য যে, এই সন্তানের কোনও দোষ নেই। সে নিষ্পাপ। তার প্রতি কোনও ধরণের কু ধারণা রাখা যাবে না। মান-মর্যাদা পাওয়ার ক্ষেত্রে তার প্রতি কোনরূপ বৈষম্য করা যাবে না। আলেম হলে তার পেছনে নামাজ পড়তেও কোন সমস্যা নেই।
আল্লাহ আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।
আল্লাহু আলাম।
--------------------------
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা, না কি সানা, না কি উভয়টা পাঠ করতে হবে?

জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা, না কি সানা, না কি উভয়টা পাঠ করতে হবে?
-------------------------------
প্রশ্ন: আমাদের দেশে জানাযার নামাজের প্রথম তকবীরের পর সানা পড়া হয় কিন্তু সুরা ফাতেহা পড়া হয় না। মধ্যপ্রাচ্য সানা পড়া হয় না কিন্তু সুরা ফাতেহা পড়া হয়। প্রথম তকবীরের পর সানা আর সুরা ফাতেহা উভয়টা পড়া যেতে পারে কি? এ বিষয়ে সঠিক বিধান কোনটি?
উত্তর:
বিষয়টি যদিও দ্বিমতপূর্ণ তবে অধিক হাদিস সম্মত কথা হল, জানাযার সালাতে প্রথম তাকবিরের পর কেবল সূরা ফাতিহা পড়তে হবে; সানা নয়। কারণ সূরা ফাতিহা পড়ার বিষয়টি হাদিস ও সাহাবীদের আমল দ্বারা সুপ্রমাণিত। কিন্তু সানা পড়ার কথা কোন হাদিসে বর্ণিত হয় নি। তাছাড়া জানাযার সালাতে রুকু, সেজদা, তাশাহুদের বৈঠক ইত্যাদিকে বাদ দিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে যেন, তাড়াতাড়ি দাফন করা যায়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
أَسْرِعُوا بِالْجِنَازَةِ، فَإِنْ تَكُ صَالِحَةً فَخَيْرٌ تُقَدِّمُوْنَهَا إِلَيْهِ، وَإِنْ يَكُ سِوَى ذَلِكَ فَشَرٌّ تَضَعُوْنَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ
“তোমরা দ্রুত জানাজার নামাজ পড়ে লাশ দাফন কর। কেননা যদি মৃত ব্যক্তি পুণ্যবান হয়, তবে তোমরা ‘ভালো’ কে দ্রুত কবরে সমর্পণ কর। আর যদি তা না হয়, তাহ’লে ‘মন্দ’-কে দ্রুত তোমাদের কাঁধ থেকে নামিয়ে দাও। (বুখারি ১৩১৫)
তাই তো আল্লামা উসাইমীন রহ. কে প্রশ্ন করা হয়, জানাযার সালাতে কি দুআউল ইস্তিফতাহ (বা সালাত শুরুর দুআ/সানা) পাঠ করা শরিয়ত সম্মত?
তিনি বলেন:
ذكر العلماء أنه لا يستحب ، وعللوا ذلك بأن صلاة الجنازة مبناها على التخفيف ، وإذا كان مبناها على التخفيف ، فإنه لا استفتاح " انتهى
"مجموع فتاوى ابن عثيمين" (17/119) .
“আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, এটি মুস্তাহাব নয়। তারা কারণ বর্ণনা করেছেন যে, জানাযার সালাতের ভিত্তি হল সংক্ষিপ্ত করণ। সুতরাং যদি তার ভিত্তিটা হয় সংক্ষিপ্ত করণের উপর তাহলে তাতে ইস্তিফতাহ (সালাত শুরুর দুআ বা সানা) নেই।” (মাজমু ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ১৭/১১৯)
❑ জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়ার ব্যাপারে দলিল:
◉ ১) প্রখ্যাত সাহাবী উবাদা বিন সামেত রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
« لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ »
“যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করবে না তার সালাত হবে না।” [বুখারী ও মুসলিম] আর জানাযা অবশ্যই একটি সালাত। যেমন: আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِّنْهُم مَّاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ
“আর তাদের মধ্য থেকে কারো মৃত্যু হলে তার উপর কখনও (জানাযার) সালাত পড়বেন না।” [সূরা তাওবা: ৮৪]
আল্লাহ তায়ালা এখানে জানাযার সালাতকেও সালাত বলে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং জানাযার সালাতেও সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে।
◉ ২) ইমাম বুখারী রহ. জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়ার বৈধতার ব্যাপারে একটি অনুচ্ছেদ আলাদাভাবে উল্লেখ করে তার নিচে একাধিক হাদিস উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে একটি হল:
عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ ابْنِ عَبَّاسٍ – رضى الله عنهما – عَلَى جَنَازَةٍ فَقَرَأَ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ قَالَ لِيَعْلَمُوا أَنَّهَا سُنَّةٌ
“তালহা বিন ওবায়দুল্লাহ বিন আউফ বলেন, আমি ইবনে আব্বাস রা. এর পেছনে জানাযার সালাত পড়লাম। তিনি ফাতিহাতুল কিতাব তথা সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন। অত:পর বললেন, “এটাই আল্লাহর নবীর আদর্শ।” [সহীহ বুখারী, অনুচ্ছেদ: জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা।]
আল্লাহু আলাম।
আল্লাহ তাআলা যেন, সুন্নাহ অনুসারে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমীন।
---------------------------
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

"আমি আমার একটা উম্মত রেখে জান্নাতে যাব না” এটি কি হাদিস?

প্রশ্ন: “আমি আমার একটা উম্মত রেখে জান্নাতে যাব না।” এটি কি হাদিস? আর হাদিস হলে তার রেফারেন্স কি?
উত্তর:
“আমি আমার একটা উম্মত রেখে জান্নাতে যাব না।”
এটা হাদিসের নামে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথা।”
বরং বহু সংখ্যক সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্ব প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন। যেমন:
▪ আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« آتِي بَابَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَسْتفْتِحُ، فَيَقُولُ الْخَازِنُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَأَقُولُ: مُحَمَّدٌ، فَيَقُولُ: بِكَ أُمِرْتُ لَا أَفْتَحُ لِأَحَدٍ قَبْلَكَ »
“কিয়ামতের দিন আমি জান্নাতের দরজায় দিয়ে দরজা খোলার অনুমতি চাইলে জান্নাতের রক্ষক বলবে, কে আপনি?
আমি বলব: মুহাম্মদ।
তিনি বলবেন: আপনার জন্যই দরজা খোলার অনুমতি আছে। আপনার পূর্বে কারও জন্য দরজা খোলার অনুমতি নাই।” (মুসলিম, হাদিস নং ১৯৮)

▪ অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
أَنَا أَوَّلُ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
“আমি কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করব।” [সহিহ জামে তিরমিযী ও মাজমাউয যাওয়ায়েদ। শাইখ আলবানী বলেন: سنده جيد، رجاله رجال الشيخين এর সনদটি ভালো। আর বর্ণনাকারীগণ সবাই বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকারী (সহীহাহ ১০০/৪)]
এ মর্মে আরও একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
তবে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার তাওহিদপন্থী গুনাহগার উম্মতের জন্য শাফায়াত করবেন। এটি বহু হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
আল্লাহু আলাম।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, KSA

একজন ছেলে আরেকজন মেয়েকে ভালোবাসে কিন্তু ছেলের পরিবার ঐ মেয়েকে মানতে নারাজ

একজন ছেলে আরেকজন মেয়েকে ভালোবাসে কিন্তু ছেলের পরিবার ঐ মেয়েকে মানতে নারাজ...
---------------------------------
প্রশ্ন: একজন আরেকজনকে অনেক ভালোবাসে। ছেলের পরিবার ঐ মেয়েকে মানতে নারাজ। কিন্তু মেয়ে এবং ছেলে কেউই কাউকে ছাড়া এক মুহূর্তও ভাবতে পারেনা।
ছেলেকে না পেলে মেয়ে আত্মহত্যাও করতে পারে। এমন অবস্থায় ছেলের করণীয় কি?
উত্তর:
ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহ বহির্ভূতভাবে তথাকথিত প্রেমের সম্পর্ক সম্পূর্ণ হারাম এবং শয়তানের ফাঁদ। এই ফাঁদে পড়ে ছেলে ও মেয়ে উভয়ে জিনার দিকে ধাবিত হয়। কামনা-বাসনা সহকারে কথাবার্তা, নির্জনে দেখা-সাক্ষাত, ডেটিং, চ্যাটিং, স্পর্শ, হাসাহাসি, দুষ্টামি সবই হারাম।
আল্লাহ আমাদেরকে জিনার নিকটবর্তী হতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا
“আর জিনার কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।”(সূরা ইসরা: ৩২)
তবে দয়াময় আল্লাহ বৈধ উপায়ে বিয়ের মাধ্যমে নিজেদের ভালবাসা প্রকাশ ও জৈবিক চাহিদা মেটানোর সুযোগ দিয়েছেন। মানুষের কর্তব্য, বিয়ের পূর্বে হারাম সম্পর্কের দিকে পা না বাড়িয়ে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিয়ে করা।
এ ক্ষেত্রে পুরুষের জন্য অভিভাবকের অনুমতি নেয়াকে আবশ্যক করা হয় নি। কারণ পুরুষ স্বয়ং সম্পন্ন। পক্ষান্তরে নারীর জন্য অভিভাবকের সম্মতি নেয়াকে অপরিহার্য শর্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া (অধিক বিশুদ্ধ মতানুসারে) বিয়ে শুদ্ধ হবে না। কারণ নারীরা সাধারণত: আবেগ প্রবণ হওয়ায় তারা চক্রান্তকারীদের কবলে পড়ে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকে।
সুতরাং ঐ যুবকের কর্তব্য, হারাম সম্পর্ক থেকে তওবা করে মেয়ের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাকে বিয়ে করা। এ ক্ষেত্রে ইসলামে যেহেতু তার পিতার নিকট অনুমতি নেয়াকে বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত করা হয় নি সেহেতু সে প্রথমত: তার পিতাকে এই বিয়েতে সম্মত করতে চেষ্টা করবে। কিন্তু তিনি সম্মত না হলে নিজ সিদ্ধান্তে উক্ত মেয়ের পরিবারের সাথে কথা বলে দ্রুত বিয়ে করে প্রয়োজনে আলাদা সংসার গড়তে পারে। এতে দোষের কিছু নাই।
প্রশ্ন আসতে পারে, বাবা-মার সম্মতি ছাড়া ছেলে বিয়ে করলে তো তারা কষ্ট পাবে। এতে কি সে গুনাহগার হবে?
উত্তরে বলব, ইসলাম প্রদত্ত অধিকার পালনের ক্ষেত্রে বাবা-মা যদি কষ্ট পায় এতে সন্তান গুনাহগার হবে না। কেননা সে আল্লাহর নিষিদ্ধ কোন কাজ করছে না।
এ ক্ষেত্রে বাবা-মার কর্তব্য, বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলের পছন্দকে অগ্রাধিকার দেওয়া, তাকে সুপরামর্শ দেয়া ও সহযোগিতা করা।
তবে বাবা, মা,‌ ভাই,‌ বোন সবার সাথে পরামর্শ করে যদি বিয়ে হয় তাহলে তা অতি উত্তম। এতে পারিবারিকভাবে ভেজাল কম হবে‌। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ইসলাম তা আবশ্যক করেনি।
দুআ করি, মহান আল্লাহ উক্ত যুবক ও যুবতী দ্বয়কে শয়তানের চক্রান্ত থেকে হেফাজত করুন এবং বিয়ে করার মাধ্যমে বৈধ ও পবিত্র জীবন গঠনের তাওফিক দান করুন। আমীন।

যদি মেয়ের বাবা/অভিভাবক উক্ত ছেলের সাথে বিয়ে দিতে সম্মত না হয় তাহলে পালিয়ে বিয়ে/কোর্ট ম্যারেজ করা বৈধ নয়।
তবে পিতার উচিৎ, মেয়ের পছন্দকে মূল্যায়ন করা এবং তার পছন্দনীয় ছেলের সাথে বিয়ে দেয়া যদি ছেলের চারিত্রগত দ্বীনদারীর ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না থাকে।
কেননা হাদিসে আছে:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِذَا جَاءَكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَأَنْكِحُوهُ إِلاَّ تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الأَرْضِ وَفَسَادٌ
যখন তোমাদের কাছে এমন কারো প্রস্তাব আসে যার দ্বীন ও চরিত্র তোমাদের পছন্দ হয় তাকে বিয়ে দিয়ে দিবে। তা যদি না কর তবে পৃথিবীতে ফিতনা-ফাসা’দ সৃষ্টি হবে। সাহাবীরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি তার মাঝে (কুফূ (সামাজিক, বংশগত ইত্যাদি ক্ষেত্রে সমতর ক্ষেত্রে) কিছু ক্রটি থাকে?

তিনি বললেন, যখন তোমাদের কাছে এমন কারো প্রস্তাব আসে যার দ্বীন ও চরিত্র তোমাদের পছন্দ হয় তাকে বিয়ে দিয়ে দিবে। এই কাথা তিনি তিনবার বললেন। (তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১০৮৫ [আল মাদানী প্রকাশনী] হাদিসের মানঃ হাসান}


শুধু দ্বীন কে অপছন্দ করার কারণে ইসলাম বিদ্বেষী বাবা যদি কোন ছেলেকে ফিরিয়ে দেয় তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে তার অভিভাবকত্ব রহিত হয়ে যাবে। তখন বাবার পরিবর্তে দাদা, ভাই, চাচা প্রমূখদের উপর পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব অর্পিত হবে। তারা কেউ দায়িত্ব পালন না করলে তখন কোর্ট ম্যারেজ বৈধ হবে।

এই প্রক্রিয়া অবলম্বন ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হবে না। এটাই অধিক বিশুদ্ধ কথা।
আল্লাহু আলাম।

---------------------
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

বাচ্চাদের প্রাথমিক রুকইয়াহ ও বিধিনিষেধ

প্রাথমিক রুকইয়াহ পদ্ধতিঃ  ১।   মানুষ ও জ্বীনের বদনজর ও জ্বীনের আছর থেকে হিফাযত ও শিফার নিয়তে - দুরুদে ইব্রাহিম, সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি,...