Tuesday, March 10, 2020

কুরআনে বর্ণিত নারীর ১০ বৈশিষ্ট্য

কুরআনে বর্ণিত নারীর ১০ বৈশিষ্ট্যঃ
পবিত্র কুরআনের একাধিক জায়গায় নারীদের আলোচনা এসেছে। আল্লহ নারীবাচক বিভিন্ন শব্দ ও গুণাবলির দ্বারা তাদের উল্লেখ করেছেন। যেমন—কন্যা, স্ত্রী, বোন, মা, নারী, যুবতি, মুমিনা, মুসলিমা ইত্যাদি। এতে যেমন নারীদের সামগ্রিক আলোচনা এসেছে, তেমনি কয়েকজন মহীয়সী নারীর প্রশংসামূলক বর্ণনাও এসেছে। এসেছে পাপী নারী ও তার পরিণতির কথাও। কোরআনে নারী আলোচনা যেভাবেই আসুক না কেন, তা অবশ্যই মানবজাতির জন্য শিক্ষণীয়। নিম্নে কোরআনে বর্ণিত নারীর ১০টি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো-
#চারিত্রিক পবিত্রতাঃ-
অশ্লীলতা, অনৈতিকতা ও অমার্জিত আচার-আচরণ থেকে বেঁচে থাকা। নারী চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষায় আল্লাহ তাদের সংযত চলাফেরা, দৃষ্টি অবনত রাখা ও লজ্জাস্থান হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘মুমিন নারীকে বলুন, তারা যেন দৃষ্টি অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করে।’
(সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)
আল্লহ শুধু নারীদের সাধ্বী হওয়ার নির্দেশ দেননি; বরং সাধ্বী নারীর সপ্রশংস উল্লেখও করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘ইমরানের কন্যা মারইয়াম—যে তার লজ্জাস্থান হেফাজত করেছে।’ (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ১২)
#লজ্জা ও শালীনতাঃ-
লজ্জা ও শালীনতা মানুষের ব্যক্তিত্বের মূল ভিত্তি। নারীর ক্ষেত্রে তা বেশি মূল্য বহন করে। শালীনতা মুমিন নারীর মর্যাদা ও সৌন্দর্যের ভিত্তি, যা তার পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে জীবনের সব ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়। পবিত্র কোরআনে আল্লহ একজন নারীর শালীন আচরণের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘তখন নারীদ্বয়ের একজন লজ্জাজড়িত পায়ে তার কাছে এলো।’
(সুরা : কাসাস, আয়াত : ২৫)
অন্য আয়াতে আল্লহ বলেন, ‘... তারা যেন তাদের গোপন আবরণ প্রকাশের জন্য সজোরে পা না ফেলে। হে মুমিনরা! তোমরা সবাই আল্লহর দিকে প্রত্যাবর্তন করো। যেন তোমরা সফল হও।’
(সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)
সুতরাং নারী এমনভাবে চলাফেরা করবে না, যা তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় এবং যা মানুষকে পাপে উদ্বুদ্ব করে।
#স্বামীর আনুগত্য ও আত্মত্যাগঃ-
ইসলামী পারিবারিক ব্যবস্থায় স্বামী পরিবারপ্রধান। পরিবারের ভালো-মন্দ প্রধানত তার ওপর বর্তায়। তাই ইসলাম পারিবারিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে স্ত্রীকে ইসলামী শরিয়ত অনুমোদিত বিষয়ে স্বামীর আনুগত্য করতে এবং সুখে-দুঃখে তার পাশে থেকে সাহস জোগাতে বলেছে। কুরআনে আল্লহ আইয়ুব (আ.)-এর স্ত্রীর প্রশংসা করেছেন—যিনি চরম অসুস্থতা ও দরিদ্রতার মধ্যেও স্বামীর পাশে ছিলেন এবং অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো, আমার বান্দা আইয়ুবকে, যখন সে তার প্রতিপালককে আহ্বান করে বলেছিল, শয়তান আমাকে যন্ত্রণা ও কষ্টে ফেলেছে। আমি তাকে বললাম, তুমি তোমার পা দিয়ে ভূমিতে আঘাত করো। এই তো গোসলের সুশীতল পানি ও পানীয়। আমি তাকে দান করেছিলাম তাঁর পরিজনবর্গ ও তাদের মতো আরো, আমার অনুগ্রহ- স্বরূপ এবং বোধসম্পন্ন মানুষের জন্য উপদেশস্বরূপ।
’ (সুরা : সাদ, আয়াত : ৪১-৪৩)
আত্মমর্যাদা বোধ মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। নারী-পুরুষ সবার ভেতর তা থাকে। তবে নারীর ভেতর তা আরো প্রবল হয়। যদিও তা অনেক সময় ঈর্ষা ও আত্মচিন্তারূপে প্রকাশ পায় এবং নারীকে ভুল পথে পরিচালিত করে। মহানবী (সা.)-এর কয়েকজন স্ত্রী এই প্রবণতার শিকার হলে আল্লাহ তাঁদের সতর্ক করে বলেন, ‘স্মরণ করো—নবী তাঁর স্ত্রীদের একজনকে গোপন একটি কথা বলেছিলেন। অতঃপর যে যখন তা অন্যকে বলে দিল এবং আল্লহ তা নবীকে জানিয়ে দিলেন, তখন নবী এই ব্যাপারে কিছু ব্যক্ত করলেন এবং কিছু অব্যক্ত রাখলেন। যখন নবী তা সেই স্ত্রীকে জানালেন, তখন সে বলল, আপনাকে এটা কে অবহিত করল। নবী বললেন, আমাকে অবহিত করেছেন তিনি, যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবগত।’ (সুরা : তাহরিম : ৩)
#মার্জিত ভাষাঃ-
আল্লহ কুরআনে নারীদের মার্জিত ভাষা ব্যবহার করতে বলেছেন। যা অস্পষ্টতা, জড়তা ও পাপের ইঙ্গিতবহ হবে না। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ন্যায়- সংগতভাবে কথা বলো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩২)
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (র.) এই আয়াতে ব্যবহৃত ‘কাওলাম-মারুফা’-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘নারীরা অনুচ্চ ভাষায় এমনভাবে কথা বলবে, যা শরিয়ত নিষেধ করেনি এবং মানুষের কাছেও তা শুনতে খারাপ মনে হয় না।’ (তাফসিরে কুরতুবি)
আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘নারীরা সুন্দর, মার্জিত ও কল্যাণবহ কথা বলবে।’
(তাফসিরে ইবনে কাসির)
বহু নারী নিজেকে অন্যের তুলনায় শ্রেষ্ঠ ভাবতে পছন্দ করে। এমনকি নিজের ও নিজ পরিবারের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়। কুরআনে এমন অহঙ্কারের ব্যাপারে নারীকে সতর্ক করা হয়েছে। মহানাবী (ছঃ) জয়নব বিনতে জাহাস (র.)-কে জায়েদ বিন হারিসা (র.)-এর সঙ্গে বিয়ে দিতে চাইলে তিনি তাতে অসম্মতি প্রকাশ করেন। কেননা তিনি ছিলেন কুরাইশ বংশের আর জায়েদ (র.) আগে দাস ছিলেন। এই জাত্যভিমানের ব্যাপারে ইরশাদ হয়, ‘আল্লাহ ও তাঁর রসুল কোনো বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা কোনো মুমিন নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না। কেউ আল্লহ ও তাঁর রসুলকে অমান্য করলে সে তো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে
’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩৬)
#মোহনীয় বাকভঙ্গিঃ-
নারীর রূপ, ভঙ্গি ও কথার মোহময়তা সর্বজনবিদিত। রূপের মতো কথার মায়াজালেও সে আটকাতে পারে পুরুষকে। দুর্বল চরিত্রের পুরুষ সহজেই মোহগ্রস্ত হয় তার কথায়। পবিত্র কুরআনে নারীর কথার জাদুময়তার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি তোমরা আল্লহকে ভয় করো, তবে তোমরা পরপুরুষের সঙ্গে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে যার অন্তরে ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হয়।
’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩২)
কুরআনের ব্যাখ্যাকারগণ এই আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, কথার এই কোমলতা ও মোহনীয় ভঙ্গি নারীর বিশেষ গুণ। যা তার স্বামী ও আপনজনের জন্য যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি দুর্বল ঈমানের পুরুষ—যার প্রলুব্ধ হওয়ার ভয় আছে তার সামনে তা প্রকাশ করা নিন্দনীয়
(তাফসিরে ইবনে কাসির ও তাফসিরে তাবারি)
#জিহ্বার ব্যাধিঃ-
ইমাম গাজ্জালি (রহ.) মানুষের জবান বা কথার ১৪টি ব্যাধি উল্লেখ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে অর্থহীন কথা, পরচর্চা, পরনিন্দা, রুক্ষতা, অশ্লীলতা, ঝগড়া-বিবাদ, অভিশাপ, ঠাট্টা-বিদ্রুপ, উপহাস, গোপনীয়তা প্রকাশ, মিথ্যা কথা ও মিথ্যা আশ্বাস ইত্যাদি।
(ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, পৃষ্ঠা ১০৪)।
এর কোনো কোনোটি নারীর ভেতর বেশি পাওয়া যায়, আবার কোনো কোনোটি পুরুষের ভেতর। তাই আল্লাহ পুরুষের সঙ্গে সঙ্গে নারীকেও এসব ব্যাধির ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো নারী যেন অপর নারীকে উপহাস না করে। কেননা যাকে উপহাস করা হয়েছে সে উপহাসকারিণীর চেয়ে উত্তম হতে পারে
(সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১১)
#দ্বীন পালনে পুরুষের সহযোগীঃ-
দ্বিন পালন এবং সমাজে দ্বিন প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় পুরুষের সহযোগী নারী। প্রত্যেক নারী ও পুরুষ নিজ নিজ জায়গা থেকে পরস্পরকে দ্বিনের ব্যাপারে সহযোগিতা করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিন পুরুষ ও নারী পরস্পরের বন্ধু। তারা সত্কাজে আদেশ করে, অসৎ কাজে নিষেধ করে, তারা ছলাত কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লহ ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করে। আল্লহ তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’
(সুরা : তাওবা, আয়াত : ৭১)
#পুরুষের মানসিক আশ্রয়ঃ-
বাহ্যত পুরুষ নারীর অভিভাবক হলেও আল্লহ নারীকে পুরুষের মানসিক আশ্রয় বানিয়েছেন এবং দাম্পত্য জীবন সুখময় করতে তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সহানুভূতি দান করেছেন। আল্লহ বলেন, ‘আল্লহর নিদর্শন হলো—তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের ভেতর থেকে সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও। তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা : রোম, আয়াত : ২১)
আয়াতে ব্যবহৃত ‘যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও’ বাক্য থেকে পুরুষের জন্য নারীর মানসিক আশ্রয় হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

Saturday, February 29, 2020

আহলে কুরআন বিভ্রান্তির কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরের পোস্ট লিংক

কিতাব কাদের দেয়া হয় নবি নাকি রাসুলদের???
https://www.facebook.com/100027723123250/posts/508908146709952/?app=fbl

কে বেশি মর্যাদাবান মুমিন নাকি মুসলিম??

https://www.facebook.com/100027723123250/posts/318361742431261/?app=fbl

ছাক্ক শব্দ নিয়ে আহলে
 কোরআনদের মনগড়া অনুবাদের জবাব।
https://www.facebook.com/100027723123250/posts/314074922859943/?app=fbl

ইফতার কখন সন্ধ্যায় নাকি রাতে??
https://www.facebook.com/100027723123250/posts/291764351757667/?app=fbl

রমজানের রোযা সংখ্যা নিয়ে আমিরুল গংদের মিথ্যাচারের জবাব।
https://www.facebook.com/100027723123250/posts/282920465975389/?app=fbl

আমরা হাদিস মানতে বাধ্য.
https://www.facebook.com/100027723123250/posts/282338552700247/?app=fbl

হাদিস দিয়েই কি কোরআন পরিপূর্ন নাকি হাদিস কোরআনের সহায়ক???
https://www.facebook.com/100027723123250/posts/281649082769194/?app=fbl

নতুন কোন রাসুলের দাবি কোরআন কি প্রত্যাখান করে???
https://www.facebook.com/100027723123250/posts/281115852822517/?app=fbl

কোরআনে যাহা নাই তাহাই কি বাতিল?তাহাই কি অবিশ্বাস্য???
https://www.facebook.com/100027723123250/posts/276486273285475/?app=fbl

কাদিয়ানিদের অপব্যাক্ষার কবলে কোরআন।
https://www.facebook.com/notes/prince-shakil-khan/%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8/244824723118297/?app=fbl

Tuesday, February 25, 2020

বাসর রাতে কি যৌনমিলন আবশ্যক? যদি তাই হয় তাহলে একজন অপরিচিতার সাথে তা কীভাবে সম্ভব?

👉 প্রশ্ন: বাসর রাতে কি যৌনমিলন আবশ্যক? যদি তাই হয় তাহলে একজন অপরিচিতার সাথে তা কীভাবে সম্ভব?
উত্তর:
বাসর রাতে যৌনমিলন করতেই হবে ইসলামে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়ে সম্মত ও আগ্রহী হয় তাহলে সহবাস করবে, অন্যথায় বিরত থাকবে।
❤ বাসর রাতে করণীয়:
বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী একসাথে আগে পিছে দাঁড়িয়ে দু রাকআত নফল সালাত আদায় করবে, স্বামী নব বধূর কপালে হাত রেখে দুআ পাঠ করবে, তাকে দুধ বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে দিবে। তাপর পরস্পরে কথাবার্তা বলবে, পরিচিত হবে, স্ত্রীর মন থেকে ভয়ভীতি দূর করে একটা আন্তরিকতা ও ভালবাসা পূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
অত:পর যদি তারা উভয়ের মধ্যে যৌন মিলনে আগ্রহ সৃষ্টি হয় তাহলে দুআ পড়ে সহবাসে লিপ্ত হবে।
--------------------------------------
❤ বাসর রাতে স্বামী স্ত্রীর কপালে হাত রেখে এই দোয়াটি পাঠ করা সুন্নত:
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا، وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ، وَإِذَا اشْتَرَى بَعِيراً فَلْيَأْخُذْ بِذِرْوَةِ سَنَامِهِ وَلْيَقُلْ مِثْلَ ذَلِكَ».
(আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা জাবালতাহা ‘আলাইহি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা জাবালতাহা ‘আলাইহি)
“হে আল্লাহ, আমি এর যত কল্যাণ রয়েছে এবং যত কল্যাণ তার স্বভাবে আপনি দিয়েছেন তা চাই। আর এর যত অকল্যাণ রয়েছে এবং যত অকল্যাণ ওর স্বভাব-চরিত্রে আপনি রেখেছেন তা থেকে আপনার আশ্রয় চাই।”
(আবু দাঊদ-২/২৪৮, নং ২১৬০; ইবন মাজাহ্‌ ১/৬১৭, নং ১৯১৮। আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ, ১/৩২৪)
❤ সহবাসের পূর্বে স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ের জন্য নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়া সুন্নত :
” ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ، ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺟَﻨِّﺒْﻨَﺎ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ، ﻭَﺟَﻨِّﺐْ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ﻣَﺎ ﺭَﺯَﻗْﺘَﻨَﺎ ”
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহ্‌। আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়তান ও জান্নিবিশ শায়তানা মা রাযাক্বতানা।
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ, আমাদেরকে শয়তান হতে বাঁচান এবং আমাদেরকে যদি কোন সন্তান দেন তাকেও শয়তান হতে বাঁচান। [বুখারী হা/ ৬৩৮৮ ও মুসলিম হা/ ১৪৩৪)]
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (আল হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

Thursday, February 20, 2020

কেন খুব দরকার ছাড়া গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাবেন না?

কেন খুব দরকার ছাড়া গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাবেন না??


প্রথমেই গ্যাস্ট্রিক শব্দটা সম্পর্কে কনফিউশান দূর করি। গ্যাস্ট্রিক( gastric) বলতে মূলত stomach বা পাকস্থলী বুঝায়। আমাদের Hyperacidity বা gastritis বা gastric ulcer হলে আমরা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে বলে থাকি।

কিন্তু আমাদের একটা প্রবণতা আছে,কিছু থেকে কিছু হলেই গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাই। এই অভ্যাস অবশ্যই আমাদের বর্জন করতে হবে। কারণগুলি আলোচনা করলেই আমরা বুঝতে পারব কেন আমরা কারণে অকারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যাতীত গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাবনা।

পাকস্থলীতে আল্লাহ ন্যাচারালি একটা এসিড দিয়েছেন, যেটা পাকস্থলীর কোষগুলি থেকেই তৈরি হয়- এর নাম হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl)। এটি বেশ স্ট্রং একটি এসিড। কিন্তু পাকস্থলীর ভেতরে এমনভাবে একটা প্রটেকটিভ লেয়ার আছে,যার জন্য সেটা পুড়ে যায়না। কিন্তু এই এসিডের দরকার কি?

➤প্রথমতঃ এসিডটি পাকস্থলীর পরিবেশটাকে এসিডিক করে রাখে,মানে pH খুবই কম থাকে; যেটা প্রোটিন জাতীয় খাবারের হজমের জন্য আবশ্যক। তার মানে এই এসিডিক পরিবেশ না থাকলে প্রোটিন হজম হবেনা।

➤দ্বিতীয়তঃ আমরা রাস্তার খাবার ও নানা আজেবাজে জিনিস খাই। একই খাবার খেয়ে আপনার হয়তো পেট খারাপ হল,কিন্তু আপনার বন্ধু দিব্যি ভাল আছে। কেন? কারণ খাবারের সাথে নানারকম জীবাণু আপনাদের শরীরে ঢুকছে। আপনার বন্ধুর পেটের এসিডিক পরিবেশের কারণে জীবাণুগুলি ধ্বংস হয়ে গেছে,তাই তার কিছু হয়নি। কিন্তু আপনি গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খেয়ে আপনার এসিডের বারটা বাজিয়েছেন, তাই জীবাণুগুলি না মরে আপনার পেট খারাপ করে ফেলেছে।

➤তৃতীয়তঃ এই এসিডটি আয়রন শোষণের(absorption) জন্য বাধ্যতামূলক। আয়রণ ট্যাবলেট যতই খান,বা যতই কচু শাক,কলা ইত্যাদি খান- সেটা শরীরে শোষণ হবেনা,বের হয়ে যাবে। ফলে আপনি রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়াতে ভুগবেন। এটি ক্যালসিয়াম শোষণেও সাহায্য করে।

➤চতুর্থতঃ এটি হজমের জন্য দরকারী অন্যান্য আরও কিছু এনজাইমের secretion এ সাহায্য করে।

গ্যাস্ট্রিকের ঔষধগুলি মূলত যেই এসিডটি ইতিমধ্যে বের হয়েছে তাকে নিউট্রিলাইজ করে(antacid) বা এসিডটিকে বের হতে বাধা দেয় বা তৈরী হতে দেয়না (omeprazole,ranitidine ইত্যাদি)।

তারমানে সামান্য কারণে ঔষধ খেলে আপনি খাবারের সাথে জীবাণুকে শরীরে ঢুকতে দিচ্ছেন, প্রোটিনকে ঠিকমতো হজম হতে দিচ্ছেন না ফলে সেটা আপনার শরীরের কোনো কাজে লাগছেনা, আয়রন আর ক্যালসিয়াম কে শোষণ (absorption) এ বাধা দিচ্ছেন এবং হজমে সহায়ক অন্যান্য এনজাইম গুলিকেও ঠিকমতো বের হতে দিচ্ছেন না।

ফলে আপনার শরীর দূর্বল হয়ে পড়বে,অল্পতেই অসুস্থ হয়ে যাবেন,রক্তাল্পতা দেখা দিবে,শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিবে-আরও নানান সমস্যা হবে।

আমি বেশ কয়েকজন রোগীকে দেখেছি,যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাওয়ার ফলে অন্য তেমন কোনো রোগ না থাকার পরেও তাদের হিমোগ্লোবিন ৮ এ নেমে এসেছে।

তবে যারা অনেকদিন ধরে নিয়মিত গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খেয়ে আসছেন,তারা এটা হুট করে বন্ধ করবেন না। তাহলে বেশি সমস্যা হবে এসিডিটির। ধীরে ধীরে কমাতে হবে,তাহলে ইন শা আল্লাহ সমস্যা কম হবে।

⏬গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ এড়াতে করণীয়ঃ
১) সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন
২) রোজা রাখা ছাড়া পেট বেশিক্ষণ খালি রাখবেন না,দুই-তিন ঘন্টা পরপর একটি বিস্কুট বা একমুঠ মুড়ি হলেও খান।
৩) প্রচুর পানি খান
৪) নিয়মিত ব্যায়াম করুন বা হাঁটুন।
৫)খাওয়ার পর সাথে সাথে শুবেন না। খাওয়ার কমপক্ষে ৩০মিনিট পরে শুবেন।
৬) সকালে ভারী খাবার খাবেন,এবং রাতের খাওয়া ৮-৯ টার মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করবেন। এরপরে ফল বা সালাদ খান।
৭)একবারে অতিরিক্ত খাবার না খাওয়ার চেষ্টা করবেন,পেট কিছুটা খালি রেখে খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
৮) ধুমপান,পান-জর্দার অভ্যাস থাকলে বাদ দিন।
৯) অতিরিক্ত ওজন কমানোর চেষ্টা করুন।
১০) অতিরিক্ত চা-কফি খাবেন না। দিনে সর্বোচ্চ ২কাপ।
১১) লবণ,তেল জাতীয় খাবার কম খান।

উপরে উল্লেখিত নিয়মগুলো কেউ সঠিকভাবে পালন করতে পারলে তার গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাওয়ার দরকার প্রায় পড়বেই না। সাথে সাথে প্রেশার,ডায়াবেটিস, হৃদরোগের সম্ভাবনাও একেবারেই কমে যাবে। তাই সব জানার পর আপনিই সিদ্ধান্ত নিবেন পরবর্তী দিনগুলোতে আপনি কেমন থাকতে চান।

আপনাদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। cld.

কিছু প্রয়োজনীয় ঔষধের নাম ও ব্যবহার বিধি

🔽প্যারাসিটামল Paracetamol
জ্বরের জন্য প্রথমে একটি প্যারাসিটামল খেতে পারেন। জ্বর বাড়লে (<১০৩F) বা ৩ দিনের বেশি জ্বর থাকলে ডাক্তার দেখান। তবে পেটে ব্যাথা, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া বা জন্ডিসের অন্য কোন উপসর্গ দেখলে প্যারাসিটামল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
🔽ট্রামাডল Tramadol
কোন প্রকার ঝুঁকি ছাড়াই ট্রামাডল পেইনকিলার হিসেবে নেয়া যায়; এমনকি অ্যাসমা রোগীরাও এটি নিতে পারবেন।
টাইমোনিয়াম সালফেট Tiemonium sulphate
যেকোন প্রকার পেটে ব্যাথার ক্ষেত্রে বিশেষ করে পিরিয়ডের প্রথম কয়েক দিনের ব্যাথার জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি ওষুধ।
🔽এসোমিপ্রাযল/ওমিপ্রাযল Esomeprazole/Omeprazole
অধিকাংশ মানুষই কোন না কোন সময় বুক জ্বলা বা গ্যাসের সমস্যায় ভুগতে হয়; বিশেষ করে ভরপেট খাওয়ার পর। এসোমিপ্রাযল/ ওমিপ্রাযল পাকস্থলীতে অ্যাসিড গঠন কমিয়ে বুক জ্বলা কমাতে সাহায্য করে। অনেক সময় গ্যাসের জন্য অনেকটা হার্ট অ্যাটাকের মত বুকে ব্যাথা হয়, এজন্য ৩০ মিনিটের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে যোগাযোগ করুন। (আরও জানতে দেখুন হৃদরোগের লক্ষণ এবং বুকে ব্যথা)
🔽অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড সাস্পেনশন Aluminum hydroxide suspension
বুক জ্বলা এবং গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য ২ চামচ করে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড সাস্পেনশন খেতে পারেন। সাস্পেনশন্টি ফ্রিজে রাখতে পারবেন এবং ঠাণ্ডা খেলেই বেশি আরাম পাবেন। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে কয়েকবার পাতলা পায়খানা হতে পারে, এতে চিন্তার কিছু নেই।
🔽ওরস্যালাইনOral Rehydration Saline
ডায়রিয়ার সময় খুব সহজেই শরীর থেকে অনেক পানি বেরিয়ে যায়। প্রত্যেকবার পাতলা পায়খানা হওয়ার পর স্যালাইন খাওয়া উচিত। শরীরে পানিশূন্যতা হলে নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনতিবিলম্বে ডাক্তার দেখান যদি। আপনার ডায়রিয়ার সাথে জ্বরও হয়।২ দিনের বেশি সময় ডায়রিয়া থাকে মুখ শুকিয়ে গিয়ে পিপাসা লাগে খুব কম অথবা একেবারেই পেশাব না হলে প্রচণ্ড পেটে ব্যাথা হলে পায়খানার সাথে রক্ত গেলে আপনার উচ্চ রক্তচাপ (hypertension) থাকলে ওরস্যালাইন খাওয়ার আগে রক্তচাপ মেপে নেয়া ভাল।
🔽ফেক্সোফেনাডিন/রুপাটিডিন Fexofenadine/Rupatadine
এই অ্যান্টিহিস্টামিনগুলো তুলনামুলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ। যাদের অ্যালারজিক রাইনিটিস (ধুলা, পরাগ, তেলাপোকা ইত্যাদির সংস্পর্শে আসলে হাঁচি হওয়া) আছে তারা রাতে একবার ফেক্সোফেনাডিন বা রুপাটিডিন নিলে হাঁচি ও নাক থেকে পানি পড়ার উপশম হবে।
🔽সিল্ভার সালফাডিয়াযিন Silver sulfadiazine
হালকা পুড়ে গেলে প্রথমে পোড়া জায়গাটি কলের পানির নিচে ধরুন। পানি শুকিয়ে গেলে যত্ন সহকারে পোড়া জায়গায় সিলভার সালফাডিয়াযিন অয়ন্টমেন্ট দিন। ফোসকা পড়লে সেটা উঠানোর চেষ্টা করবেন না। তবে বেশি পুড়ে গেলে অবশ্যই ডাক্তার এর সাথে যোগাযোগ করুন।
🔽পভিডন-আয়োডিন মলম Povidone-iodine ointment
হালকা রক্তপাত সহ ছোটখাটো কাটা-ছেড়ার ক্ষেত্রে ক্ষতটি শুকনা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চেপে ধরে রাখুন। রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে গেলে কাটা জায়গায় পভিডন-আয়োডিন অয়ন্টমেন্ট দিন। এসবক্ষেত্রে স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার না করাই ভাল। আপনি যদি কোন প্রকার ব্লাড থিনার (যেসব ওষুধের কারণে রক্ত জমাট বাধার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়) নিয়ে থাকেন অথবা অনেক বেশি কেটে গেলে বা প্রচুর রক্তপাত হলে আপনার ডাক্তারের সাহায্য লাগতে পারে।
🔽অ্যাসপিরিন Aspirin
আকস্মিক বুকে ব্যথা এবং পরবর্তীতে বাম হাত, চোয়াল বা গলার বাম দিকে ব্যথা হওয়া হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। হার্ট অ্যাটাকের যেকোন লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে ২/৩ টি বেবি অ্যাসপিরিন খেয়ে নিন এবং যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
উল্লিখিত কোন ওষুধে আপনার অ্যালারজি থাকলে সেটি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এবং গর্ভাবস্থার সময় অনেক ওষুধই খাওয়া যায় না, এ বিষয়ে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন। (ডাঃ রোকসানা ইয়াসমিন) 

Wednesday, February 19, 2020

মূখের দুর্গন্ধের কারন ও প্রতিরোধ

মুখে দুর্গন্ধ একটি প্রচলিত সমস্যা। বিভিন্ন কারণে মুখে দুর্গন্ধ হয়।এ সমস্যা কেন হয় এবং প্রতিরোধে কী করা যায়, এ বিষয়ে কথাবলেছেন ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের সহকারীঅধ্যাপক ডা. মাহমুদ আলম। ৫ নভেম্বর, এনটিভির স্বাস্থ্যপ্রতিদিনের ২১৯৬ পর্বে অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয়।

প্রশ্ন : মুখের দুর্গন্ধ তো রীতিমতো সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়মাঝেমধ্যে। যাঁর এই সমস্যা আছে, তিনি নিজেও খুব জটিলঅবস্থার ভেতর দিয়ে যান। মুখের দুর্গন্ধের প্রধান কারণ কী?
উত্তর : আমরা অনেককেই দেখি, কথা বলতে গিয়ে মুখে রুমালচেপে যাচ্ছে। অথবা দেখা যাচ্ছে হাত দিয়ে ঢেকে কথা বলছে।অথবা কথা বলতেই চাইছে না, এমনই অবস্থা! কারণ, সে নিজেনিজেই আতঙ্কগ্রস্ত যে মুখে গন্ধ হচ্ছে বা শ্বাস-প্রশ্বাসে গন্ধআসছে। একে আমরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলিহেলিটোসিস। সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ না করা হলে দাঁতেক্যারিজ হয় বা দাঁতে গর্ত হয়ে যায়। এখানে অনেক সময় খাবার
জমে থাকে। এই খাবার জমে, পচে প্লাক সৃষ্টি করে এবং জিহ্বারওপরও এক ধরনের আবরণ পড়ে যায়। এতে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়।এ ছাড়া বেশ কিছু খাবারের কারণেও দুর্গন্ধ মুখে চলে আসে। যেমন—পেঁয়াজ, রসুন। এই গন্ধ বেশ কিছুক্ষণ থেকে যায়। আবার কেউ যদি
ধূমপান করে, সে ক্ষেত্রেও গন্ধটা রয়ে যায়। পান-সুপারি বাতামাকজাত দ্রব্য সেবনের কারণেও মুখে দুর্গন্ধ হয়।
কিছু পদ্ধতিগত (সিস্টেমিক) অসুখের কারণেও মুখে সমস্যা হয়।
যেমন—রেসপিরেটরি ইউট্রাক্ট ইনফেকশন, ব্রঙ্কাইটিস বানিউমোনিয়া; সে ক্ষেত্রেও মুখে গন্ধ হতে পারে। আবারডায়াবেটিস থাকলে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। লিভারের সমস্যাথাকলেও হতে পারে। এ ছাড়া যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকে,তাঁদেরও এটি হতে পারে। অনেক কারণ রয়েছে মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার।
ডা. মাহমুদ আলম।
প্রশ্ন : কী কারণে মুখের দুর্গন্ধ হচ্ছে সেটি কি বোঝার উপায়আছে রোগীদের ক্ষেত্রে? নাকি কেবল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরকাছে গেলেই বোঝা যাবে?
উত্তর : বাইরে থেকে তো রোগী বুঝতে পারবেন না যে কী কারণেসমস্যাটি হচ্ছে। এটাই স্বাভাবিক। অবশ্যই দন্ত চিকিৎসকেরকাছে আসতে হবে। তখনই জানা যাবে আসল কারণ।
প্রশ্ন : এ জাতীয় সমস্যা নিয়ে রোগীরা আপনাদের কাছে এলেপ্রথমে কী দেখেন?
উত্তর : দেখা গেল হয়তো ব্যক্তির মুখে অনেক প্লাক জমে আছে।সে ঠিকমতো দাঁত ব্রাশ করেনি। অথবা ভুলভাবে দাঁত ব্রাশেরকারণেও এ সমস্যা হয়ে যায়। খাবার জমে থাকলে তো হবেই। এছাড়া যখন দেখা যায়, স্থানীয় (লোকাল) কোনো কারণ নেই, তখন
পদ্ধতিগত রোগের কারণে হচ্ছে কি না, সেটি দেখতে হয়। প্রধানতদেখা যায়, স্থানীয় কারণগুলোই সব সময় বেশি থাকে রোগীরক্ষেত্রে।
প্রশ্ন : যে কারণেই সমস্যা হোক না কেন, সাধারণত চিকিৎসাকীভাবে শুরু করেন?
উত্তর : প্রথমেই আমরা স্কেলিং ও পলিশিং করি। এতে মুখকেপুরোপুরি পরিষ্কার করে নেওয়া হয়। রোগীকে মাড়ি ম্যাসাজকরার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর পর রোগীকে কিছুদিন পর আবারচেকআপ করতে আসার জন্য বলা হয়।প্রথমে স্কেলিং, পলিশিং ও জিহ্বা পরিষ্কার করতে বলা হয়তাকে। এসিডিটি থাকলে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসার কথা বলা হয়,ডায়াবেটিস থাকলে সেটি নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেকসময় দেখা যায়, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের মুখ শুষ্ক থেকে
যায়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা যেহেতু স্যালাইভা উৎপন্নকরতে পারে না, তাই এ দুর্গন্ধ চলে আসে।
প্রশ্ন : আপনি বলছিলেন স্কেলিং ও পলিশিংয়ের পরামর্শদেওয়ার কথা। এর পর কি আরো সমস্যা হতে পারে? আপনারা আরকী কী পরামর্শ দেন?
উত্তর : শুধু স্কেলিং বা পলিশিং নয়, আমরা সেখানে দেখিকোনো গর্ত আছে কি না। যেখানে খাদ্যকণা আটকে থাকছে, অথচসে বের করতে পারছে না। তাই এ রকম হলে আমরা গর্তটি ঠিককরার চেষ্টা করি।
আবার অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, আক্কেল দাঁতের সমস্যা।অনেকের আঁকাবাঁকা দাঁত থাকে। যতই চেষ্টা করুক, ময়লা বাখাবারের কণা বের করতে পারে না। সে ক্ষেত্রে যদি দেখিআক্কেল দাঁত অস্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে, তখন বলি এটি তুলেফেলেন, যেহেতু আক্কেল দাঁতের তেমন কোনো কাজ নেই। অনেকরোগী আবার শুনে ভয় পায়। বলে, কেন আমি দাঁত ফেলে দেব? তখন
তাদের বলা হয়, যেহেতু দাঁতটির কোনো কাজ নেই, এখানেখাদ্যকণা আটকে মুখে আরো বেশি দুর্গন্ধ হতে পারে।
প্রশ্ন : মুখের দুর্গন্ধ প্রতিরোধে সব সময় কী করণীয়?
উত্তর : প্রথম কথা হলো, সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করতে হবে দিনেদুবার। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করে ঘুমাতেহবে এবং সকালে নাশতা খাওয়ার পর অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করতেহবে। দাঁত ব্রাশের সঠিক পদ্ধতিও জানতে হবে; গুণগত মানেরপেস্ট ব্যবহার করতে হবে।
প্রশ্ন : অনেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দাঁত ব্রাশ করছে।আবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই দাঁত ব্রাশ করছে। এ বিষয়টি নিয়েএকটু দ্বিধা রয়েছে। এ বিষয়ে আপনি কী মনে করেন?
উত্তর : আসলে সকালবেলা নাশতা খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করাঠিক। কারণ, হয়তো রাতে দাঁত ব্রাশ করে ঘুমাতে গেল সে। এক্ষেত্রে তো আর কোনো খাবার কণা আটকে নেই; ব্যাকটেরিয়াআক্রমণের আশঙ্কা নেই। তবে দেখা যাচ্ছে, সকালে উঠে আবারদাঁত ব্রাশ করছে। যদি সকালে উঠে আবার ব্রাশ করে, তবে ধীরে
ধীরে দাঁত ক্ষয়ের দিকে চলে যাবে ভুল ব্রাশ করারজন্য। এ জন্যবলা হয়, সকালে অবশ্যই নাশতা খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করবেন। এরপর অনেকটা সময় আর দাঁত ব্রাশের দরকার পড়ে না।আর যদি দেখা যায় দাঁতের ফাঁকের ময়লা বা খাদ্যকণা বের করতেপারছেন না, সে ক্ষেত্রে ডেন্টাল ফ্লস বা নাইলন সুতা সেটিব্যবহার করতে পারেন। অথবা টুথপিক ব্যবহার করতে পারে। একই
সঙ্গে মাড়ি ম্যাসাজ করতে হবে এবং মাউথওয়াশ ব্যবহার করতেহবে।
প্রশ্ন : নিয়মিত মাউথওয়াশ ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা কী?
উত্তর : মাউথওয়াশ দুর্গন্ধ রোধে ও ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনরোধে রক্ষা করবে। তবে টানা তিন মাসের বেশি মাউথওয়াশব্যবহার করা উচিত নয়।
প্রশ্ন : মাউথ ব্রেথনার বা ব্রেথ ফেশনার বলে কিছু পণ্য রয়েছেবাজারে। মুখের দুর্গন্ধ রোধে এগুলো কি ভালো ভূমিকা রাখতেপারে?
উত্তর : তেমন কার্যকর নয়। তবে হালকা সময়ের জন্য দুর্গন্ধ দূর করে।আরেকটি পরামর্শ হলো, সুগার ফ্রি চুইংগাম মুখে রাখা যেতেপারে। এতে মুখের দুর্গন্ধ কিছুটা হলেও কমে যায়।
প্রশ্ন : যদি এ জাতীয় সমস্যা বেশি দিন থাকে, তাহলে কী কীজটিলতা হতে পারে?
উত্তর : লোকাল ও সিস্টেমিক কারণে মুখে দুর্গন্ধের সমস্যা হয়।যদি লোকাল কারণে প্লাক জমে যায়, তাহলে আগে আগে দাঁতপড়ে যাবে। প্লাক জমতে জমতে একপর্যায়ে স্টোন হবে বাক্যালকুলাস হবে। দাঁত থেকে মাড়ি ধীরে ধীরে সরে যাবে। সেক্ষেত্রে দাঁত নড়ে যাবে। প্লাক, ক্যালকুলাস এবং মুখে দুর্গন্ধএকটির সঙ্গে আরেকটি জড়িত।সিস্টেমিক রোগের বেলায় ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়া—এসবেরক্ষেত্রে রোগীকে সাবধান থাকতে হবে। ডায়াবেটিস থাকলেএকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। যদি শুষ্ক মুখ হয়, যেটি
জেরোস্টোমিয়া, এর সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে।
প্রশ্ন : কী চিকিৎসা রয়েছে এ ক্ষেত্রে?
উত্তর : স্যালাইভা বা লালা আরো বেশি তৈরি হতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা টকজাতীয় খাবারও অনেক সময় পরামর্শ দিয়েথাকি। এ ছাড়া ওষুধ থাকে, কৃত্রিম স্যালাইভা থাকে—এগুলো দেওয়া হয়।
প্রশ্ন : ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে মুখে কীভাবে যত্ন নিতে হবে?
উত্তর : প্রথমে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীকে সুগার ফ্রি
সবকিছু খেতে বলি। সুগার ফ্রি খাদ্য না খেলে মুখে গন্ধটা হয়।

মানব দেহে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির পরিনতি

ক্যালসিয়াম মানব দেহের অন্যতম একটি উপাদান। এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কেননা ক্যালসিয়ামকে জিবনের উৎস বলা হয়। গবেষণা বলছে শুধু ক্যালসিয়ামের অভাবে মানব দেহে ১০০-১২০ ধরনের রোগ হতে পারে।
আপনার কয়টা রোগ দরকার?
এখানে সবগুলো রোগের বর্ননা দেয়া সম্ভব না, তাই Calcium ঘাটতি জনিত প্রধান কয়েকটি সমস্যা নিয়ে সংক্ষিপ্ত পোস্ট লিখছি।
ক্যালসিয়ামের গুরুত্ব ও অভাবজনিত প্রধান লক্ষণ সমূহ।
ক্যালসিয়াম শরীরের হাড় মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। শরীরে কোথাও কেটে গেলে রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে।
ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত লক্ষণ:
পেশী সংকোচন বা মাংসপেশির ব্যাথা।
হাড় ঘনত্ব কমে যাওয়া:
জয়েন্টে ব্যাথা:
শরীরের কাঠামো নষ্ট হওয়া,
নখের দৃঢ়তা কমে যাওয়া:
দাঁতের মাড়ির সমস্যা বা দাত ব্যথা:
মাসিক বা পিরিয়ড চলাকালীন সময় অস্বাভাবিক ব্যথা:
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
স্নায়ুবিক সমস্যা:
হার্ট দুর্বল হওয়া, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পাওয়া ইত্যাতি:
শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে তাকে হাইপোক্যালসেমিয়া বলে। এটি তখনই হয় যখন আমাদের শরীরের ক্যালসিয়ামের মাত্রা ঠিক থাকে না।
চিকিৎসকদের মতে, সুন্দর ত্বকের জন্য ক্যালসিয়ামের গুরুত্ব অনেক' তাই তারা ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খেতে বলেন । তবে তারা শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে নিজের থেকে কোন ঔষধ বা ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট নিতে নিষেধ করেন। ডাক্তারদের পরামর্শ মোতাবেক পুষ্টিকর খাবারের সাথে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট নিতে হবে।
সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পড়তে থাকে। অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম হাড়ে সঞ্চিত থাকে। বয়স বৃদ্ধি পেলে হাড় পাতলা হয়, হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। এজন্য ক্যালসিয়াম জরুরী হয়ে দাঁড়ায়। ক্যালসিয়ামের উৎস সম্বলিত খাবার খেয়ে এর অভাব পুরো করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষুধার্থ থাকা ও অপুষ্টিতে ভোগা, হরমোন জনিত সমস্যা, অপ্রাপ্ত বয়সে বাচ্চা প্রসব, ক্যালসিয়াম শোষিত না হওয়া অর্থাৎ খাবারে যথাযথ ভিটামিন ও খনিজ থাকলেও তা শরীর কর্তৃক শোষণে ব্যর্থ হওয়া, ইত্যাদি কারণে ক্যালসিয়ামের অভাব হয়।
ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত লক্ষণ সমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ননাঃ
পেশী সংকোচন:
শরীরের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক থাকা ও পর্যাপ্ত পানি পান করার পরও যদি নিয়মিত মাংশপেশী সংকুচিত হয় অর্থাৎ খিঁচুনি ধরে তবে বুঝতে হবে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি আছে।
হাড় ঘনত্ব কমে যাওয়া:
বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের মিনারেলাইজেশন জরুরী হয়ে পড়ে। ক্যালসিয়াম কম হলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। ত্বকের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। অস্টিওপরোসিস বা হাড় ছিদ্র হয়ে যায়। ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়।
নখের দৃঢ়তা কমে যাওয়া:
নখ শক্ত বা দৃঢ়তা বৃদ্ধিতে ক্যালসিয়াম অত্যাবশ্যকীয়। যদি ক্যালসিয়াম কম হয় তবে নখ নরম, ভঙ্গুর ও দৃঢ়তাহীন হবে।
দাঁতের মাড়াতে সমস্যা বা দাত ব্যথা:
আমাদের শরীরের শতকরা ৯০ ভাগ ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড়ে জমা থাকে। যদি ক্যালসিয়াম কমে যায় তবে দাঁত ও হাড় ব্যথা করতে পারে।
মাসিক বা পিরিয়ড জনিত ব্যথা:
ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে মহিলাদের মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা হয়। কারণ, মাংশপেশীর কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে ক্যালসিয়ামের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া:
ক্যালসিয়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে জীবাণু বা প্যাথোজেন মোকাবেলা করার শক্তি কমে যায়।
স্নায়ুবিক সমস্যা:
ক্যালসিয়ামের অভাবে নানা ধরনের স্নায়ুবিক সমস্যা, মাথা ব্যথা হতে পারে। ডিপ্রেশন, ইনসোমনিয়া ও ডেমেনশিয়াও হতে পারে।
হার্ট দুর্বল, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি:
ক্যালিসিয়াম হৃদপিণ্ডের সঠিক কার্যচালনার জন্য অত্যাবশ্যকীয়। এটি কম হলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাবে। ক্যালসিয়াম হৃদপিণ্ডকে রক্ত পাম্প করতে সহায়তা করে।
যদি লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় তবে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করবেন। তিনি রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দিবেন। ক্যালসিয়ামের অভাব মোকাবেলায় নিয়মিত ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার অথবা পুষ্টিকর সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।
লেখক ডাঃ মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসাইন

বাচ্চাদের প্রাথমিক রুকইয়াহ ও বিধিনিষেধ

প্রাথমিক রুকইয়াহ পদ্ধতিঃ  ১।   মানুষ ও জ্বীনের বদনজর ও জ্বীনের আছর থেকে হিফাযত ও শিফার নিয়তে - দুরুদে ইব্রাহিম, সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি,...