Wednesday, February 19, 2020

বাধক ব্যাথা/কস্টরজ (DYSMENORRHOEA) তথা মাসিকের ব্যাথা

বাধক ব্যাথা/কস্টরজ (DYSMENORRHOEA)
~~~~~~~~~~~♦~~~~~~~~~
☆ বাধক ব্যাথা/কষ্টরজ কি? তরুণী কিংবা বিবাহিত/অবিবাহিত মহিলাদের এক পরিচিত নাম। মেয়েদের ঠিকমত ঋতু পরিস্কার না হলে এমনটি হয়।
মাসিক রক্তস্রাবের সময় নানাবিধ গোলযোগের কারনে,ডিম্বাশয়,কিংবা জরায়ুর বিভিন্ন অসুবিধায় এ ব্যাথার সৃষ্টি হয়।প্রতিমাসের মাসিকের সময় তলপেটের বাম বা ডান পাশে এবং কোমরে খুব ব্যাথা হয়।তাছাড়া জরায়ু পেশির বেশি সংকোচনের জন্যও এমনটি হতে পারে।ব্যাথার সাথে অল্প পরিমান রক্তও ভাংতে পারে
☆ লক্ষন সমুহঃ
** মাথা ভার ভার লাগা বা মাথা ব্যাথা থাকতে পারে।
** কারোও বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
** তলপেটের বাম/ডান বা উভয় পাশেই ব্যাথা হতে পারে।
** কারোও ব্যাথা তীব্র হতে পারে।
** কোমর ভার ভার লাগে।
** খাবারে অরুচি হয়।
☆ চিকিৎসাঃ
১।তলপেটের ব্যাথা কমানোর জন্য HYOSINE BUTYLE BROMIDE যুক্ত ঔষধ ভালো কাজ করে।
যেমন___TAB_ hysomide,butapen,
মাত্র___ব্যাথা থাকলে ১+১+১ করে তিন দিন সেব্য।
২।পেটে গ্যাস হলে ESOMEPRAZOLE যুক্ত ঔষধ ভালো কাজ করে।
যেমন___TAB_nexam/ Maxima -20/40mg,esoral-20/40mg.
মাত্র___ প্রত্যহ ১+০+১ করে আহারের ২০মিনিট আগে সেব্য।
৩।মানসিক দুশ্চিন্তা বা ভয়,সংকোচ থাকলে Clonazepam যুক্ত ঔষধ খাওয়া ভালো।
যেমন___TAB_Clon / Leptic 0.5 mg
মাত্রা___ প্রত্যহ ০+০+১ করে মাসিক শেষ হওয়ার দিন পর্যন্ত।
৪।হরমনের গোলযোগের কারনেও,মাসিকের সময়ে তলপেট ব্যাথা হতে পারে।তাই মোটেও হেলাফেলা নয়। যদি বাধক ব্যাথা প্রতিমাসেই এমন হতে থাকে,তাহলে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্বাবোধানে চিকিৎসা করাতে হবে।
☆ পথ্যঃ
# রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।
# দ্রুত ব্যাথা কমানোর জন্য গরম পানি বোতলে ভরে তলপেট বা কোমরে সেক দেয়া ভালো।
# উষ্ণ ও গরম খাবার খাবে।
# পুস্টিকর ও প্রোটিন জাতীয় খাবার খাবে।
☆ তলপেট বা কোমর ব্যাথা তীব্র হলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন।
(কয়েক জন বোনের অনুরুধে লিখিত ~ ডাঃ হারুনুর রশিদ)

মানুষ মোটাতাজা করন প্রোজেক্ট

মানুষ মোটাতাজা করন প্রোজেক্ট ......
খুউব কাছের এক বান্ধবী প্রায় বলে ম্যাডাম দেখ না শরীরে তো হাড় ছাড়া কিছুই নাই। কি করব? মোটা হওয়ার ঔষধ কি খাব বল?
বলি বোন মোটা হওয়ার ঔষধ নাই। আর মোটাদের দুর্গতির গল্প বলি। ও দীর্ঘশ্বাস ফেলে 
এবার বাড়ি গিয়ে দেখি। ওর শরীরে এই ২৮ বছর বয়সে অবশেষে বসন্ত এসেছে! বেশ নাদুস নুদুস অবস্থা।
আমাকে দেখেই তো অবজ্ঞাভরা হাসি।
তুই ডাক্তার হয়েও ঔষধ জানিস না আর আমাদের ফার্মেসির ডাক্তার তো ঠিক ই ঔষধ জানে!
বললাম কলিকাল বলে কথা। ঔষধ খেয়ে মোটা হচ্ছে শুনেই মনটা খারাপ হয়ে গেল।
বুঝলাম কি ঔষধ খাচ্ছে তবুও জিজ্ঞাসা করে নিশ্চিত হলাম।
ঔষুধের সাইড ইফেক্ট বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দিয়েও আমাদের দেশে চিকিৎসা চলে যাকে বলা যায় মানুষ মোটাতাজা করন প্রোজেক্ট.....
প্রায় প্রত্যেক ঔষুধের ই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। কখনো কখনো সেগুলো খুব ভয়ংকর ধরনের হয়ে হয়ে থাকে। অনেকটা কুইনিন জ্বর সারাবে বটে কিন্তু কুইনিন সারাবে কে? প্রবচণ টির মত।
আপনি জানেন কি চিকিৎসক রা সাধারনত নিজেরা রোগী হিসেবে খুউব বাজে প্রকৃতির হয়ে থাকেন  কারন তারা নিজেদের ছোটখাটো রোগ নির্ণয়ে ও সবচেয়ে খারাপ রোগগুলোর লক্ষণ খুঁজে পান আর প্রত্যেক ঔষধেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো মাথায় ঘুরপাক করায় প্রচুর টেনশন করেন 😎
মনে আছে স্টেরয়েড নামক ঔষধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পড়ার সময় A B C D...... বর্ণমালা দিয়ে মনে রাখতাম। এতগুলো সাইড ইফেক্ট ছিল যে প্রত্যেক বর্ণ দিয়ে ই একটা বা দুইটা সাইড ইফেক্ট পাওয়া যেত । তারমধ্যে একটা সাইড ইফেক্ট হচ্ছে কিডনির উপর মাতব্বরি করে শরীরে অতিরিক্ত পানি জমায়। মুখটা সুন্দর দেখায় ডাক্তারি নাম মুন ফেস বাংলায় চান্দের লাহান মুখ 😘
আর যায় কোথায়? বাংগালী ফার্মেসী ওয়ালারা খবরটা জানার পর থেকে স্টেরয়েড এর বাজার আকাশে উঠে গেছে 😡
কিন্তু এই মাতব্বরি র ফল হয় খুব খারাপ। ফার্মেসিওয়ালারা এসব পড়ে নাই বলে দেদারসে দিতে পারে। ডাক্তার রা পারে না কারন তারা জানে ঐ হাইপারন্যাট্রেমিয়া হয়ে ফ্লুইড রিটেনশন ( পানি জমা) ছাড়াও হাইপোক্যালেমিয়া, মাসল উইকনেস, হাইপারটেনশন ( প্রেসারের রোগ), মেটাবলিক ইমব্যালান্স, পালমোনারি ইডিমা ( ফুসফুসে পানি জমা) , ডিইলেইড ঔন্ড হিলিং ( ক্ষত দেরিতে শুকানো) , আলসার ( পেটে ঘা) সহ আরো কত কত সমস্যা আছে এই স্টেরয়েড এর আর কিডনি বিকল হওয়া তো আছেই।
ওরে বললাম ব্রয়লার মুরগী চিনস?
হ কেন?
দেশী আর ব্রয়লারের পার্থক্য বুঝস?
হ?
চিকন অবস্থায় দেশী মুরগীর ছিলি আর বর্তমানে একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দিয়ে তোর চিকিৎসা চলছে বাকী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো দেখা দিতে শুরু করলে তুই ব্রয়লার হয়ে যাবি।
বুঝেছিস?
না। কি বলিস মাথা ঘুরতাসে 
বললাম আপাতত ফিড খা 😏
এবার আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। ইয়াবা গুরুদের পাশাপাশি এই মোটাতাজাকরন কারী গুরুদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো দরকার। নাহলে পাপী ইয়াবাখোরদের চেয়ে অনেক বেশী মানুষ স্টেরয়েড ( সবক্ষেত্রেই ইররেশনাল প্রেসক্রিপশন এর কারনে) এর কারনে মারা যাবে অথচ জানবেও না আসল পাপী কে?
(এই সিরিজ লেখা শুরু করেছি মানুষের সচেতনতার জন্য মেডিকেলীয় রেফারেন্সের জন্য নয়।। টপিক : মোটা হওয়ার জন্য স্টেরয়েড এর কুফল ) MBBS ডাক্তার ৫ বছর পড়েযা শিখতে পারেনি, ফার্মেসির দোকানদার গুলো তা পারে আফসোস, কিছু ভদ্র লোক গুগোল হতে নিয়ে তর্ক করে, তা আরও বড় আফসোস। (ডাক্তার বুবু থেকে আনীত)

হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কতিপয় কারণ ও আমাদের করণীয়

হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কতিপয় কারণ ও আমাদের করণীয়!
নাক দিয়ে রক্ত পড়া সমস্যাটি প্রায়শয়ই দেখা যায়। সাধারণত ৬০ শতাংশ মানুষ জীবনে কোনো না কোনো সময় নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যার সম্মুখীন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও অনেক সময় এটি জটিল রোগের উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে। চলুন জেনে নিই নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কতিপয় কারণ ও আমাদের করণীয় সম্পর্কে।
রক্ত পড়ার বিভিন্ন কারণ
যে কোনো বয়সের নারী অথবা পুরুষ এ সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যাটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। শুধু যে নাক,কান,গলার সমস্যার কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়ে তাই নয় এছাড়াও শরীরের অন্য অনেক রোগের কারণেও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কিছু কারণ নিম্নে দেওয়া হলো-
ক) কতিপয় সাধারণ কারণ
১। কারও উচ্চরক্তচাপ জনিত সমস্যা থাকলে ।
২। কারও জন্ডিস বা লিভারের প্রদাহ যেমন লিভার সিরোসিসের মতো লিভারের অসুখ থাকলে।
৩। কারও রক্তনালিতে জন্মগত কোন ত্রুটি থাকলেও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।
৪। এছাড়া রক্তের বিভিন্ন রোগ, যেমন- অ্যানেমিয়া, হিমোফিলিয়া, থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া, পারপুরা ইত্যাদি থাকলেও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।
৫। মহিলাদের মাসিক এবং গর্ভাবস্থায় ও অনেকের এ সমস্যা হতে পারে।
৬। Aspirin জাতীয় ওষুধ সেবন করলেও অনেক সময় নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।
খ) অন্যান্য কারণ সমূহ
১। কোন কারণে আঘাত পেলে।
২। নাকে অপারেশন হলে।
৩। নাকের সর্দি, সাইনোসাইটিস ইত্যাদি সমস্যা হলে।
৪। নাকের মধ্যে ইনফেকশন যেমন- রাইনাইটিস থাকলে।
৫। নাকের ভিতর টিউমার থাকলে।
৬। নাকের মাঝখানের হাড় অতিরিক্ত বাঁকা হলে।
৭। নাকের মাঝখানের পর্দায় ছিদ্র থাকলে ইত্যাদি।
হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হলে প্রাথমিক চিকিৎসায় করণীয় :
১। কারও নাক দিয়ে হঠাৎ রক্ত পড়া শুরু হলে তাঁর নাকে চাপ দিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে বসাতে হবে। তারপর বৃদ্ধাঙ্গুল ও প্রথম আঙুল দিয়ে নাকের দুই ছিদ্র জোরে বন্ধ করে দিতে হবে। তাকে বলতে হবে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে এবং আনুমানিক ১০ মিনিট এভাবে ধরে রাখতে হবে। এ সময় কোন অবস্থাতেই আঙ্গুল ছাড়া যাবেনা, প্রয়োজনে হলে আরও বেশিক্ষণ চাপ দিয়ে ধরে রাখতে হবে।
২। সম্ভব হলে এ সময় তার কপালে, নাকের চারপাশে বরফ ধরে রাখুন। মুখের ভেতরে তালুর যে অংশ নাক বরাবর সেখানে বরফ চাপ দিয়ে ধরুন। এর ফলে রক্ত পড়া তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যাবে।
৩। আর যদি ১৫-২০ মিনিটের পরেও রক্ত পড়া বন্ধ না হয় তাহলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালের নাক কান গলা বিভাগে গিয়ে তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখাতে হবে।
৪। যদি রোগীর অতিরিক্ত রক্তপাত হয় তাহলে তাকে রক্ত দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসা:
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার চিকিৎসা করতে প্রথমে কী কারণে রক্ত পড়ছে সেটি কারণটি প্রথমে নির্ণয় করে তারপর রোগীকে চিকিৎসা দিতে হবে। নাকের সামনের দিক থেকে রক্তপাত হতে থাকলে তা দ্রুত বন্ধ করা যায় তবে পেছন বা ভিতরের দিক থেকে রক্তপাত হলে অনেক ক্ষেত্রে তা বন্ধ করতে বেশ সময় লাগে। নাকের এন্ডোস্কোপির মাধ্যমেও অনেক সময় রক্তপাতের কারণ নির্ণয় করা হয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে দায়ী রক্তনালিগুলো বন্ধ করে চিকিৎসা করা হয়। নাকের কারণ ছাড়া অন্যান্য কোন শারীরিক কারণে রক্তপাত হলে সংশ্লিষ্ট রোগের চিকিৎসাও করাতে হবে।
নাক দিয়ে রক্ত পড়া প্রতিরোধে কিছু সাবধানতা:
১। নাক, কান, গলার রোগকে কখনো অবহেলা করা যাবেনা।
২। এছাড়া আগে থেকেই নিজের রক্তের গ্রুপ জেনে রাখুন যাতে জরুরী মুহূর্তে রক্ত দিতে হলে ঝামেলা না হয়।
৩। নাক দিয়ে রক্ত পড়তে থাকলে শোয়া যাবেনা।
৪। অযথা নাকে হাত লাগানোর অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।
৫। নিজেদের ও শিশুদের নখ ছোট করে রাখতে হবে।
৬। শুষ্ক মৌসুমে অর্থাৎ শীতকালে নাক যাতে অতিরিক্ত শুষ্ক না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য নাকের সামনের দিকে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা যেতে পারে।
রক্ত দেখলে একটু ভয় পায়না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আর সেটি যদি হয় নিজের নাক দিয়ে তাহলে তো কথাই নেই। সব বয়সের মানুষেরই নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। তাই অস্থির না হয়ে ধৈর্য্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা উচিত।cld.

লিথাল ডোজ

"লিথাল ডোজ"
(Lethal Dose বা LD 50) বলে একটি মেডিকেল টার্ম আছে। যার মানে হচ্ছে কোন একটা পদার্থের সর্বনিম্ন যে পরিমাণ কোন প্রাণীর মৃত্যু ঘটাতে পারে।
বিশুদ্ধ পানির লিথাল ডোজ হলো ৬ লিটার।
এর মানে হচ্ছে আপনি যদি একসাথে ৬ লিটার পানি পান করেন আপনার মৃত্যু হতে পারে।
চিনির লিথাল ডোজ ২.৫ কেজি। অর্থাৎ একসাথে ২.৫ কেজি চিনি খেলে আমরা মারা যেতে পারি।
চকোলেট এর লিথাল ডোজ ২২ কেজি।
লবণের লিথাল ডোজ ২৫০ গ্রাম।
আপেল খাওয়া উপকারী, কিন্তু আপেলের বিচি খাওয়া শরীরের জন্য চরম বিপদ, আপেলের বিচি হলো বিষ। তাই আপেলের বিচি খাওয়া বাদ দিবেন।
এই পৃথিবীতে বিষাক্ত জিনিস বা পদার্থ হচ্ছে বটুলিনাম টক্সিন টাইপ এইচ
( Botulinum Toxin Type H)।
এটি এতই টক্সিক যে এই পদার্থের যদি ২ ন্যানোগ্রাম কারো রক্তে প্রবেশ করে তার মৃত্যু ঘটবে।
২ ন্যানোগ্রাম মানে হচ্ছে ১ গ্রাম এর ১০০ কোটি ভাগ এর ২ ভাগ।
অর্থাৎ বটুলিনাম টক্সিন টাইপ এইচ এর লিথাল ডোজ ২ ন্যানোগ্রাম।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৮কোটি।
এই ১৮কোটি মানুষের মৃত্যুর জন্য মাত্র ০.০৩৬ গ্রাম ই যথেষ্ট।
এই পৃথিবীর জনসংখ্যা এখন ৯০০ কোটি ছুঁইছুঁই করছে। অর্থাৎ এই পৃথিবী জনশূন্য করতে মাত্র ১৮ গাম বটুলিনাম টক্সিন টাইপ এইচ যথেষ্ট!
ভাবা যায়!!
এই টক্সিনটি তৈরি করে Closstridium botulinum নামে এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া।
যে ব্যাকটেরিয়া খালি চোখে দেখাই যায়না তা কতটা ভয়ানক হতে পারে!! cld.

আপনি কেন রক্ত দিবেন ?

#আপনি কেন রক্ত দিবেন ?

- প্রতি ৩ সেকেন্ডে একজনের রক্তের প্রয়োজন হয়।
- যাদের রক্তের দরকার হয় তাদের মধ্যে ২০%-ই শিশু।
- রক্ত দান করা ১০০% নিরাপদ।
- একজন ডোনারের এক পাইন্ট রক্ত তিন জন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।
- আমাদের মোট জনসংখ্যার ৬০% মানুষ রক্ত দানে সক্ষম হলেও প্রকৃত পক্ষে দান করেন মাত্র ৪% মানুষ।
তাই আসুন, রক্ত দিয়ে অসহায় মানুষকে সহায়তা করার জন্য হাত বাড়াই..।

#আপনার দান করা রক্ত শুদ্ধতো ?

খালি চোখে আমরা অনেকেই অনেক সুস্থ থাকি । কিন্তু রক্তে বহন করে চলি অনেক রোগে জীবানু যা রক্তের মাধ্যমে চলে যেতে পারে অন্যের দেহে । তাই অন্যকে রক্ত দানের পূর্বে অবশ্যই নিশ্চিত হওয়া উচিত আমাদের রক্ত শুদ্ধ কি না । আর নিজের শরীরের রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা একটা ভালো হাতিয়ার। স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে আপনি জানতে পারেন আপনার শরীর রক্তবাহিত মারাত্মক রোগ যেমন-হেপাটাইটিস-বি,এইডস, সিফিলিস ইত্যাদির জীবাণু বহন করছে কিনা।

#রক্তদানের নুন্যতম যোগ্যতা:

আপনার বয়স যদি ১৮-৬০ বছরের মধ্যে হয়, ওজন যদি হয় কমপক্ষে ৪৮ কেজি এবং আপনি যদি সুস্থ থাকেন, তাহলেই আপনি প্রতি ৪ মাস পর পর রক্ত দিতে পারেন।

#রক্ত দান করে সুস্থ থাকুন:

রক্ত দান স্বাস্থ্যের জন্যে উপকারি। নানান গবেষণার ফলে এটা এখন প্রমাণিত যে, রক্ত দেয়া স্বাস্থের জন্যে উপকারি শুধু নয়, রক্ত দিলে একজন মানুষ মুক্ত থাকতে পারেন বেশ কয়েকটি মারাত্মক রোগের ঝুঁকি থেকে:

#হৃদরোগ ও হার্ট এটাকের ঝুঁকি কমে :

সিএনএন পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, রক্তে যদি লৌহের পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে কোলেস্টেরলের অক্সিডেশনের পরিমাণ বেড়ে যায়, ধমনী ক্ষতিগ্রস্থ হয়, ফলাফল হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি। নিয়মিত রক্ত দিলে দেহে এই লৌহের পরিমাণ কমে যা হৃদরোগের ঝুঁকিকেও কমিয়ে দেয় কার্যকরীভাবে।
ফ্লোরিডা ব্লাড সার্ভিসের এক জরিপে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত রক্ত দেন, তাদের হার্ট এটাকের ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ৮৮ ভাগ কম এবং স্ট্রোকসহ অন্যান্য মারাত্মক হৃদরোগের ঝুঁকি ৩৩ ভাগ কম।

#ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে :

মিলার-কিস্টোন ব্লাড সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা যায়, নিয়মিত রক্ত দিলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। বিশেষ করে ফুসফুস, লিভার, কোলন, পাকস্থলী ও গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি নিয়মিত রক্তদাতাদের ক্ষেত্রে অনেক কম বলে দেখা গেছে।

#প্রাণবন্ততা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি :

রক্তদান করার সাথে সাথে আমাদের শরীরের মধ্যে অবস্থিত বোন ম্যারো নতুন কণিকা তৈরির জন্যে উদ্দীপ্ত হয়। দান করার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দেহে রক্তের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে যায়, আর লোহিত কণিকার ঘাটতি পূরণ হতে সময় লাগে ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ। আর এই পুরো প্রক্রিয়া আসলে শরীরের সার্বিক সুস্থতা, প্রাণবন্ততা আর কর্মক্ষমতাকেই বাড়িয়ে দেয়।

#ইসলাম ধর্মে রক্তদান কি বৈধ ?

মানুষের দেহে রক্তের প্রয়োজনে রক্ত গ্রহনের যেমন বিকল্প নেই, তেমনি রক্তের চাহিদা পূরণের জন্য রক্ত বিক্রয় বৈধ নয়। তবে বিনা মূল্যে রক্ত না পেলে রোগীর জন্য রক্ত ক্রয় করা বৈধ, কিন্তু এতে বিক্রেতা গুনাহগার হবে। নাবী করিম (ছ.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক রোগের ওষুধ আছে। সুতরাং যখন রোগ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা হয়, তখন আল্লহর হুকুমে রোগী আরোগ্য লাভ করে।’ (মুসলিম)

বিপন্ন মানুষের মহামূল্যবান জীবনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পবিত্র কুরআনে ঘোষিত হয়েছে, ‘আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে প্রাণে রক্ষা করল।’ (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৩২)


তাই আসুন নিজে রক্ত দান করি অন্যকে রক্ত দানে উৎসাহিত করি।

দীর্ঘদিনের অল্প অল্প জ্বর

দীর্ঘদিনের অল্প অল্প জ্বর;
রোগীকে সময় দেন, বিস্তারিত জানেন, তারপর ঔষধ দেন। রোগীর করণীয় ডাক্তারের কাছে আপনার বিস্তারিত সমস্যার কথা বলুন, বহু রোগী আছে ডাক্তারের কাছে গেলে সমস্যার কথা ভুলে যাই।
দরকার হলে কাগজে নোট করে দিবেন।
ডাক্তার আপনার কথা অনুযায়ী অনেক সময় রোগ সনাক্ত করেন, ডাক্তারের কাছে কোন কথা গোপন রাখবেন না দয়া করে।
মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হলো ৯৮.৪ ডিগ্রি। যখন শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায় তখন তাকে জ্বর (Fever) বলে। অল্প অল্প জ্বর বলতে যখন শরীরের তাপমাত্রা থার্মোমিটারে ৯৯ থেকে ১০১ ডিগ্রির মধ্যে থাকে। বিভিন্ন কারণে শরীরে দীর্ঘদিন অল্প অল্প জ্বর থাকতে পারে তা হলোঃ যক্ষ্মা (TB) লিম্ফোমা (Lymphoma) কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া এইচআইভি ইনফেকশন (HIV) শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফোঁড়া যেমন- ফুসফুসে ফোঁড়া, লিভারের ফোঁড়া কানেকটিভ টিস্যু রোগ যেমন- রিউমাটিয়েড আর্থ্রাটিস, SLE. থাইরয়েড রোগ (যেমন- Hyperthyroidism)) কৃত্রিম জ্বর (Factitious Fever). ওষুধজনিত কারণে জ্বর, আরও অন্যান্য কারণে যেমন-ফুসফুস ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, কিডনি ক্যান্সার।
দীর্ঘদিন জ্বর থাকলে তার অন্তর্নিহিত কারণ জানার জন্য রোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত ইতিহাস জেনে নিতে হবে যে, এ জ্বর কখন আসে, কীভাবে আসে (কাঁপিয়ে না আপনা আপনি) কীভাবে জ্বর চলে যায় (ঘাম দিয়ে, না এমনি চলে যায়, না জ্বর কমার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেতে হয়)।
দিনের কোন ভাগে বেশি জ্বর থাকে, জ্বরের সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে কিনা- যেমন দীর্ঘদিনের অল্প অল্প জ্বর, বিকালের দিকে আসে, রাতে থাকে, সকালে কমে যায়, ঘাম দিয়ে জ্বর ভালো হয়ে যায়, সঙ্গে ৩ সপ্তাহের বেশি কাশি থাকে, কখনো কখনো কাশির সঙ্গে রক্ত যায়, শরীরের ওজন কমে যায়, খাবারে অরুচি, যক্ষ্মা রোগীর সঙ্গে বসবাসের ইতিহাস থাকে, তাহলে সন্দেহ করা হয় তার যক্ষ্মা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের জ্বরের সঙ্গে রাতে শরীর ঘামানোর ইতিহাস, ক্ষুধামন্দা, শরীরে চুলকানি, জন্ডিসের ইতিহাস, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গ্লান্ড ফুলে যাওয়ার ইতিহাস থাকলে লিম্ফোমা (Lymphoma) সন্দেহ করা হয়।
অল্প অল্প জ্বরের সঙ্গে ডান দিকের উপরের পেটে ব্যথা, মাঝে মাঝে পাতলা পায়খানা, পরীক্ষা করে যদি জন্ডিস ও লিভার বড় পাওয়া যায় তাহলে সন্দেহ করা হয় লিভারে ফোঁড়া হয়েছে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, ঘাম দিয়ে জ্বর কমা, সবসময় দুর্গন্ধযুক্ত হলুদ রংয়ের কাশি থাকলে
সন্দেহ করা হয় ফুসফুসে ফোঁড়া হয়। cld.

Pregnancy test

#Pregnancy test:
জানতে হলে পড়তে হবে,
অনেক সময় দেখা যায় অবিবাহিত মেয়ের পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেছে। ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার বললো প্রেগনেন্সি টেস্ট করে নিয়ে আসুন । এমতাবস্থায় প্রথমে হয়তো রোগীর লোক বলবে রোগী অবিবাহিত। এখনও বিয়ে হয়নি, বাচ্চা কিভাবে হবে ডাক্তার তখন জোর দিয়ে বলবে আগে টেস্ট করে নিয়ে আসুন তারপর রোগী দেখবো, না হলে দেখবোনা। রোগী যাবে টেস্ট করাতে। এবার দেখা গেলো রোগী প্রেগনেন্সি টেস্ট পজেটিভ। বাড়ির লোক অবাক, রোগী অজ্ঞান।
তখন স্বাভাবিক ভাবেই রোগীর বক্তব্য থাকবে,
আমি কিছু করিনি। রোগীর লোকের বক্তব্য, কিছু করিসনি তো বাচ্চা কোথা থেকে এলো। রোগী কে তার মা বাবা মারবে এটাই সাভাবিক।
ডাক্তারের কাছে রোগী কাঁদতে কাঁদতে বলবে, বিশ্বাস করেন ডাক্তার সাহেব আমি কিছুই করিনি। বাচ্চা কোথা থেকে এলো আমি জানিনা।
রোগীর লোক যদি জীন বিশ্বাসী হয় তবে বলে দেবে জীনের বাচ্চা ওটা কিন্তু ডাক্তারের কেরামতি এখনও বাকি আছে।ডাক্তার তখন আলট্রাসনোগ্রাফির সাহায্য নেবে।
আলট্রাসনোগ্রাফিতে দেখা যাবে রোগী প্রেগনেন্ট না। রোগীর তল পেটে কোন ফেটাস নেই।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে রোগীর পেটে বাচ্চা নেই কিন্তু প্রেগনেন্সি টেস্ট পজেটিভ আসলো কেন।
এটা যে স্ট্রিপ দিয়ে টেস্ট করা হয় সেই স্ট্রিপ আসলে বাচ্চা ডিটেকটর না।
একজন মহিলা যখন বাচ্চা কনসিভ করে তার ৬ দিনের মধ্যে human chorionic gonadotropin (HCG) নামক একটি হরমোন নিঃসৃত হয় দেহ থেকে যা ইউরিন এর মাধ্যনে দেহ থেকে বের হয়। হরমনটি মূলত syncytiotrophoblast (প্লাসেন্টা অংশ) রক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু এই একই হরমোন অনেক টিউমার যেমন : Seminoma, choriocarcinoma, germ cell tumors, hydatidiform mole formation, teratoma with elements of choriocarcinoma, and islet cell tumor এর কারণেও নি:সৃত হতে পারে। তখন তো প্রেগনেন্সি টেস্ট পজেটিভ দেখাবে।
এইরকম পরিস্থিতিতে প্রথমেই অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেই। আত্মহত্যা করা বা অন্য কিছু ঘটানোর আগে সিউর হোন। আপনি নিজে সতর্ক হোন আর আশেপাশের মানুষকেও সতর্ক করুন। তাহলে হয়তো একটা প্রাণ বাঁচতে পারে। কে জানে এমন কিছু ঘটনা আপনার আশেপাশেই ঘটছে কিনা ।।
আমার কাজ হচ্ছে সঠিক টা আপনাদের কে জানিয়ে দেওয়া। মেয়েদের গার্জিয়ান হিসেবে আপনাদের কাজ সঠিক টি জেনে তার পর রোগী কে কিছু বলা। না জেনে রোগী কে মৃত্যুর মুখে ফেলে দিবেন না। রোগী মরলে আপনার মেয়ে যাবে, আর সারাজীবন আপনি কান্না কাটি করবেন। আফসোস আপনার আর সঠিক টি জানা হবে না।
শেয়া করে কপি করে মানুষ কে জানানোও আমাদের সকলের কাজ। একটি ভুল হতে জীবন বাঁচান। আপনি ও আপনার পরিবার কে লজ্জার হাত হতে ও বাঁচান। cld.

বাচ্চাদের প্রাথমিক রুকইয়াহ ও বিধিনিষেধ

প্রাথমিক রুকইয়াহ পদ্ধতিঃ  ১।   মানুষ ও জ্বীনের বদনজর ও জ্বীনের আছর থেকে হিফাযত ও শিফার নিয়তে - দুরুদে ইব্রাহিম, সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি,...